এক মুঠো ভালোবাসা (২৩তম পর্ব)

ছায়া কিছুক্ষণ পরপর উঁকি দিয়ে দেখছে অনিকদের গাড়ী আসছে কিনা দেখেতে।
ওদিকে অনিকরা এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে আসলে অনিক সবাইকে অপেক্ষা করতে বলে নিজে গেলো পার্কিং থেকে গাড়ীটা নিয়ে আসার জন্য।
কিছুক্ষণের মধ্যে গাড়ী নিয়ে ফেরত এলো অনিক, সবার লাগেজ গাড়ীতে তুলে নিজেরা উঠে বসলো গাড়ীতে।
অনিক ড্রাইভ করছে, পাশের সিটে আফরিন এবং পিছনে অনিকের বাবা মা।
আফরিন বললো৷ আমাকে সেন্ট্রালের কোথাও নামিয়ে দিলে আমি বাসায় চলে যাবো।
অসুবিধে নেই অনিক তোমাকে নামিয়ে দেবে, কি বলিস অনিক, অনিকের মা বললেন।
হাঁ মা, আমি ড্রপ করে দেবো।
ঘন্টা খানেক লাগলো আফরিনকে ড্রপ করতে, আফরিন ঘরে আসতে বললে, অনিক বললো, আজ না, আরেকদিন আসবো।
তাহলে আগামীকাল আমার বাসায় আপনাদের সবার দাওয়াত রইলো, ছায়াদেরও নিয়ে আসবেন।
না করতে চেয়েছিলো অনিক, ওর মা দাওয়াত কবুল করলেন সন্ধ্যার পর আসবেন বলে, এরপর বিদায় নিয়ে অনিকরা রওনা হলো।
মা কি দরকার ছিলো দাওয়াত নেওয়ার, অনিক বিরক্তির সাথে জিজ্ঞেস করলো?
মেয়েটা এমন করে বললো যে না করতে পারিনি বাবা, বলেই মুচকি হাসলেন উনি।
ছায়া আবার জানালা দিয়ে উঁকি দিলো, হতাশ হয়ে ফিরে এলো ড্রয়িংরুমে।
কি মা এরা তো এখনো এলোনা?
বাবা আপনি চিন্তা করবেন না, ওরা পথেই আছে, যদিও ওরও চিন্তা হচ্ছে এতো দেরি দেখে, ভাবছে ফোন দেবে কিনা?
কলিংবেলের শব্দ শুনে দৌড়ে গেলো দরজা খুলতে, দরজা খুলে চোখ হতাশ হলো লেভিনকে দেখে।
হাই ছায়া কেমন আছো? (ইংরেজিতে)
জ্বি ভালো, প্লিজ ভিতরে আসুন।
না আমি আসবো না, অনিক কি এসেছে?
না এখনো এসে পোঁছেনি।
ওকে তাহলে এই এনভেলপটা ও আসলে দিও, আমার তাড়া আছে ফ্লাইট ধরতে হবে, বাই।
ছায়া বাই বলে দরজা বন্ধ করে ফিরে গেলো ড্রয়িংরুমে।
কিছুক্ষণ পর ছায়া জানালা দিয়ে উঁকি দিলে দেখতে পেলো অনিকের গাড়ী নিচে, তারমানে অনিকরা এসে গেছে, ইতিমধ্যে কলিংবেলের শব্দ হলো।
ছায়া দরজা খুলে ধরলে অনিক বললো, ভালো আছো?
হাঁ।
ইনি আমার বাবা আর উনি আমার মা।
ছায়া এগিয়ে গিয়ে কদমবুচি করলে অনিকের মা জড়িয়ে ধরলেন।
অনিক সবাইকে নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলে রওশনের বাবা এগিয়ে এলেন।
সালাম আনকেল।
ওয়া আলাইকুম আসসালাম বলেই উনি অনিকের বাবা এগিয়ে গিয়ে অনিকের বাবাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, ভাই কেমন আছেন আপনি, অনেকদিন পর দেখছি আপনাকে।
আলহামদুলিল্লাহ ভাই আমি ভালো আছি, আপনার শরীর কেমন এখন?
জ্বি ভাই খুব ভালো আছি, আসুন আসুন, ভাবী আসসালামু আলাইকুম।
অনিকের মা হাসি মুখে সালাম নিলেন।
অনিকের বাবা মাকে নিয়ে রওশনের বাবা ড্রয়িংরুমে বসলে অনিক আর ছায়া সবার ব্যাগ গুলো যথাস্থানে রেখে এলো।
ছায়া এসে অনিকের মা বাকে বললো, আন্টি আসুন আপনি ফ্রেস হয়ে নেবেন, আনকেল আপনার জন্য বাবার সাথে এক রুমে ব্যবস্থা করেছি, অসুবিধা হবে নাতো?
না মা কিসের অসুবিধা, বরঞ্চ ভালোই হলো, দুই ভাইয়ের সময়টা ভালোই কাটবে।
ছায়া অনিকের বাবাকে রুম দেখিয়ে দিয়ে নিজের রুমে অনিকের মাকে নিয়ে গেলো।
আন্টি দিন আমি আপনাকে হেল্প করি, বলেই নিজে ব্যাগ খুলতে শুরু করলো, সব কাপড় অনিকের মার হাত থেকে নিয়ে ওয়াল আলমিরাতে সাজিয়ে রাখতে লাগলো, ওদিকে অনিকের মা খেয়াল করছিলেন ছায়ার কাজ গুলো।
আন্টি আপনি কাপড় ছেড়ে ফ্রেস হয়ে নিন, আপনি রেডি হয়ে এলে ডিনার দেবো।
ঠিক আছে ছায়া, বলেই মাথায় হাত ভুলিয়ে দিলেন অনিকের মা।
আন্টি আপনি যেকোন বিছানায় শুতে পারবেন, আমি একদম ফ্রেস বেডশিট, পিলো কাভার দিয়ে রেখেছি।
তুমি কোনটা ইউজ করো?
আন্টি আমার কথা চিন্তা করবেন না, আমি যেখানে সেখানেই থাকতে পারি, বলেই মিষ্টি হাসি উপহার দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।
ঘন্টা খানেক পর সবাইকে ডেকে নিলো ছায়া ডিনারের জন্য, অনিক ছায়াকে হেল্প করতে চাইলে ছায়া না করলো, বললো আজ আমাকে করতে দিন প্লিজ।
অনিক চোখ বড় বড় করে অবাক হয়ে তাকালে ছায়া ইশারা করলো ওর বাবা মার দিকে।
অনিক রণে ভঙ্গ দিয়ে ডাইনিং টেবিলের চেয়ারে বসে পড়লো।
ছায়া সবাইকে বেড়ে দিতে লাগলে অনিকের মা বললেন, এতো কিছু করতে গেলে কেন, সব খেতে পারবো তো?
ছায়া হেসে বললো, আন্টি ধীরেধীরে খান।
অনিকের বাবা গলদা চিংড়ি খেতে খেতে রান্নার সুনাম করলেন, এতো দেখছি খুবই সুস্বাদু।
ছায়ার রান্নার হাত বেশ ভালো বাবা, অনিক জবাবে বললো।
………. চলবে।
ছবিঃ গুগল।




৩৫টি মন্তব্য
ভালো লাগছে ভাইয়া। চলুক গল্প। ভালো থাকবেন সবসময়
ধন্যবাদ আপু, পাশে থাকার অনুরোধ রইলো।
অবশ্যই পাশে থাকবো
😁 ধন্যবাদ আপু।
ভালো, ভালো রান্নার কথা লিখবেন না,আমি মেসে থাকি।
ভালো লাগলো।
মেসে থাকেন বলেই তো রান্নার কথা লিখছিনা, লিখলে তো আপনার পেট ব্যাথা করবে। 😂
না পড়েই গেলাম। অনেক দিন পর পর্ব। অনিক ও তাঁর পুর্বের বন্ধুদের শুভেচ্ছা।
ভাই গল্পের ধারা বঝায় রেখেছি, মাঝে অনেক মাস লিখিনি, তা প্রায় ৪ মাস তো হবেই, সুতরাং মিস করেননি মনে হয়, সাথে থাকুন প্রিয়জন।
সেই জন্যই গল্পের চরিত্রের শুভেচ্ছা দিয়েছিলাম।
ধন্যবাদ ভাই। 😍😍
ভাই, শুনুন,
আর যা যা বলেন সব ঠিক আছে, শুধু গলদা চিংড়ির কথা বাদ দিয়ে বলবেন।
মনে থাকে যেন!
চলবে এবং চলবে।
গলদা আবার কি দোষ করলো, এতো আমার খুব পছন্দের।😁
আমার ভীষণ পছন্দের খাবার, কিন্তু এখন নিষিদ্ধ,
তাই খুব লোভাতুর হই, এ জন্য মজা করে বলি, নো গলদা।
আপনি খাবেন, তবে গোপনে।
হি হি হি হা হা হো, ভাইজান আমাকে হাজার নিষেধ করলেও মানবোনা। 😄
বেশ কিছুদিন পর পেলাম মনে হচ্ছে
জ্বি ভাই, বেশ অনেক গুলো পর্ব লেখা হয়নি দীর্ঘ কয়েক মাস, এখন আবার লিখছি, পাশে থাকবেন ভাই, ধন্যবাদ।
গল্পের সাথে রান্নার রেসিপিটা মন্দ না।
গলদা চিংড়ি খারাপ না।
শুভ কামনা।
ধন্যবাদ অনিঃশেষ দাদা, গল্পের খাতিরেই মাঝে মাঝে দিতে হয় দাদা।
গলদা খাওয়া শেষ, এখন আফরিনদের বাসায় দাওয়াতে কি কি খেতে দেয় দেখার পালা 🙂
চলুক, সাথেই থাকবো। দাওয়াত না খেয়ে যাচ্ছি না।
শুভ কামনা রইলো ভাইজান 🌹🌹
আফা আফনেরে দাওয়াত দিইয়াই খাওয়াইতে ফারি নাই, এহন আফনে আমেরিহার দাওয়াত হাইতানি? 😂
বেশ ভালো কমেন্টের উত্তর একটু ফানি করলাম আপু।
ধন্যবাদ।
খাওয়া পর্ব পড়েই গেলাম খাওয়া হল কই???
অনেক দিন পর পেলাম পর্ব। আপনার সুন্দর ও আরও ভাল লেখা অপেক্ষায় রইলাম।
ভাই বেশি বেশি খাওয়ার লেখা পরবর্তীতে পাবেন। 😁
অনেকদিন নয় ভাই, কদিন আগেও এর আগের পর্ব দিয়েছিলাম, পাশে থাকবেন।
তাহলে গপর্ব ছোখ এড়িয়ে গেছে। যাচ্ছি।
আপ্লুত
চমৎকার লাগল
অনেক শুভেচ্ছা রইল—————–
ধন্যবাদ, ভালো থাকুন সবসময়।
সবেতো এলো-খাওয়া দাওয়া করছে।খাওয়ার সময়তো কথা বলা ঠিক না তাই দেখি খাবারের পরই কথা (কমেন্টস)বলবনে।
ওকে ভাই, খাওয়া দাওয়ার পরে কথা হবে নিশ্চয়, ধন্যবাদ। 😊😍
মা কাকে চাই দেখি ছায়া না আফ্রিন। পছন্দ !!!!
হাঁ এখন সেটাই দেখার।
আমি অনেক পর্ব ফাকি দিয়েছি দাদা।
করণীয় কী?
না হয় সমাপ্ত পর্যায়ে প্রথম থেকে পড়বো।
দাদা আমার পেইজে যান, সব পটে নিন। 😊
পড়ে নিন★
অনিকের মার পছন্দ হবে কাকে তাই ভাবছি।
আফরিন না ছায়া ?
দেখা যাক গল্প কোনদিকে যায় 🙂
ভাল হচ্ছে লেখা।
এইখানে আরেটা বিষয় থেকেই যাচ্ছে ভাইজান, ছায়া বিধবা, তাও নিশ্চয় বিবেচনায় আসবে?