ইদানিং বাবা দিবস
কন্যাবিদায়ের সময়ে আমায় জড়িয়ে ধরে একদমই কাঁদেননি বাবা
ভাবলাম, বাবা বোধহয় বড় বাঁচা বেঁচে গিয়েছেন
পরে জেনেছি, আমার বিদায়ের পর খালি ঘরে হাউমাউ করে কেঁদেছেন তিনি।
হেলুর মা বলেছেন,
‘ আফা, আফনজন মইরা গ্যালে মাইনসে যেরুম বুকভাঙ্গা কাঁন্দন কাঁন্দে, আফনে যাওনের ফর খালুজি হেমনে কানসে।’
অথচ তার আগ অব্দি ধারণা ছিল আমার কপট রাগী প্রকৃতির বাবা
অনেক কঠোর-কঠিন
মায়াদয়াহীন দূরের মানুষ।
আসলে সব ক্ষরণ তো আর বাইরে থেকে দৃশ্যমান নয়!
বাবার বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে অধিকাংশ কন্যারই মৃত্যু ঘটে।
জীবনমৃত।
জগতে স্বাধীনতা শব্দটি আর তাদের থাকে না
দু’চোখ ভরা স্বপ্নেরা মুখ থুবড়ে পড়ে গহীন বালুচরে
যেদিন বাবা মারা গেলেন, সেদিন কর্পূরের মতো উবে গেলো সকল শখ
তুমুল এক স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে গেলো অচিন ঘাটে
সেদিন থেকেই চারিদিকে কথা শোনানোর মানুষের আনাগোনা।
বলুন, সকলের মন যুগিয়ে চলা কি চাট্টিখানি কথা ?
অথচ তার আগেও মাথার উপরে ছিল বিশাল ছায়া
সেই থেকে নিজস্ব জগতে আমার একান্তবাস
সেখানে থাকে ঘন নীলের একান্ত আকাশ
থাকে ইচ্ছেমতো ডানা ঝাপটে ওড়াওড়ি করার প্রয়াস
থাকে ইচ্ছে, সাধ
ইদানিং বাবা দিবস মানে অসীম এক নস্টালজিয়ায় ডুবে থাকা দিন।
রিমি রুম্মান
১৮ই জুন, ২০২০
কুইন্স, নিউইয়র্ক
মোট পড়েছেনঃ ৭৭৫জনআজ পড়েছেনঃ ০জন


১২টি মন্তব্য
প্রত্যেক বাবাই তার সন্তানের মাথার উপর ছায়া হয়ে থাকে। মেয়ে শ্বশুর বাড়ি গেলে হঠাৎ যে হাহাকার ওঠে তার মনে সেটি আপনার কবিতায় চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। সকল বাবার জন্য শুভকামনা রইলো।
এই প্রথম আমি আপনার কবিতা পড়লাম। এক কথায় অসাধারণ! ভালো থাকবেন আপু।
প্রথমেই কবিতার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে। বাবাদের অন্তরদহন কেউ দেখে না কারণ তাদেরটা বাহ্যিক রূপ পায়না। প্রতিটি বাবার কাছে মেয়ের জন্য ভালোবাসা টা বেশী ই থাকে। মেয়েদের মাথার বটগাছটা এই বাবারাই হয়ে থাকে, বাবা চলে যাওয়া মানে মেয়েদের জন্য অনিশ্চয়তার ছায়া নেমে আসে। খুব ভালো লাগলো বাবাকে নিয়ে কবিতা। নিরাপদে থাকুন সুস্থ থাকুন
অসাধারণ উপস্থাপন । চমৎকার ভাবনার প্রকাশ। ভালো লাগলো।
সব ক্ষরণ আসলেই বাইরে থেকে বোঝা যায় না। কাউকে দেখানো যায় না। লাভার স্রোতের নীচে কতটা পুড়তে থাকে তা শুধু মৃত্তিকাই জানে।
আপনার বাবার জন্য প্রার্থনা করি। তিনি ভালো থাকুন ওপারে। সকল বাবারা ভালো থাকুন তাদের সন্তানদের ছায়া হয়ে।
শুভ কামনা 🌹🌹
চমৎকার লেখছেন আপু, ভালো লাগছে।
জগতের সকল বাবারা ভালো থাকুক।
শুভকামনা দিদি।
যথার্থ উপস্থাপন।
সব বাবা ভালো থাকুন
বাবা মানে বটবৃক্ষ। বাবাকে নিয়ে সুন্দর লেখা। শুভ কামনা রইল।
আসলেই সব ক্ষরণ বাইরে থেকে দৃশ্যমান নয়!
জগতে স্বাধীনতা শব্দটি আর তাদের থাকে না
দু’চোখ ভরা স্বপ্নেরা মুখ থুবড়ে পড়ে গহীন বালুচরে
যতটা বুঝতাম তখন
এখন আরও বেশি অনুভব করি তাকে হারিয়ে_
যেখানেই থাকুক যেভাবে থাকুক
ভালো থাকুক দুনিয়ার সকল বাবা
ভালো লেগেছে।
মেয়েদের জগৎটা সত্যিই জটিল। শ্বশুর বাড়িতে যদি দজ্জাল শ্বাশুরি থাকে সেই মেয়ের জীবন ছ্যাড়াবেড়া। আবার সেই মেয়েও নিজে শ্বাশুরি হলে অন্যজনকে একই রকম ব্যবহার শুরু করে। তাই বলি মেয়েদের জগৎ জটিল। হুমায়ুন আহমেদের একটা উক্তি প্রায় সময়ই আমার মনে পড়ে “পৃথিবীতে খারাপ মানুষ থাকতে পারে, কিন্তু খারাপ বাবা একটিও নেই।”
বাবাদের ক্ষরন বুঝা যায়না বাইরে থেকে।
বাবার স্মৃতি নিয়ে চমৎকার কবিতাটি ভালো হয়েছে খুব।
চলে যাওয়া সব বাবাদের আত্মার শান্তি কামনা করি।