মূল লেখায় যান

আমার দেশ

দেবজ্যোতি কাজলএদেশ৯টি মন্তব্য

আমাকে বসিয়ে রেখে
আসি ব’লে না-ফিরে “আমার দেশ” ।

অপেক্ষাবদ্ধ চোখ , স্ফুলিঙ্গ সূর্যাস্ত-
গড়িয়ে যখন ঠারেঠোরে অন্ধকার
তখন আমি বুঝতে পারি
আমার দেশ আমার বুকের বিছানায় ঘুমিয়ে গেছে ।

আমি আলতু আগুন স্পর্শ করি বর্ষবলয় রোমাঞ্চে ।
ক্ষয় আর পবিত্র মনে ।

অপেক্ষার ঘুম ততক্ষণে চোখ বুজে-

রোমাঞ্চিত হয় ।

পাঁচটা ভারত আমার দেশ । দু’টি নদী তারাও আমার দেশ । ঋতু ও শিশুগাছগুলোও আমার দেশ । রহস্যের রোদন আর স্বরলিপি হাসি সেও আমার দেশ ।

রাজনীতিতে ধর্ম অধর্ম বুকবাজিয়ে যারা আমায় শাসন করে

সেও আমার দেশ । ধর্মিয়তোষণ সেও আমার দেশ ।

বৈধব্যের কাপড়ে কাশেমালি চোখ মুছে বলে ,
“ এত কেনো ঘৃণা….”
চাচা যে সংখ্যালঘু , ভারতীয় নয়, নেতার কলমে ।

কাশেমালি বলো , এটা আমার দেশ । নৈতিকতার আমার দেশ ।

হাইপার সিৎজোফ্রেনিয়া সেও আমার দেশ
পাকিস্তান জিন্দাবাদ , সেও আমার দেশ
পাকিস্তান মুর্দাবাদ রক্তজবা শ্লোগান সেও আমার দেশ
পূর্ব পশ্চিম ভাগ হয়ে যাওয়া দ্বিজাতি সত্তা আমার দেশ । জয় বাংলা , সেও আমার দেশ ;

আমার দেশের ভগ্নাংশ ,তৃতীয় নয়ন ,
প্রেমিক সকাল
মনুমেন্ট দুপুর
পঙক্তি বিকেল
আমার দেশের সপ্তমাশ্চার্য অন্তর নয়ন
পাহাড় । সমুদ্র । তীর্থ । মুগ্ধ ভ্রমন ।
বিশ্ব বাউলার তাপ্তি আলখাল্লায়-
সাত রঙের রাজ্য-ভাগ আমার দেশ ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন চুমু চুমু স্নেহ ঠোঁট
সে যেনো কেও পর্নোগ্রাফি বলা আমার দেশ
উড়ান ঈশ্বরকে হাতের মুঠোয় চেপে
নারীকে আকাশে উড়িয়ে দেওয়া আমার দেশ
আমার দেশ মহান । আলবাত মহান ।
মোল্লা পুরোহিতের এদেশ নয় বলছি ,
এ দেশ ভারতীয়দের । সিন্ধুবাসির ।

এদেশ তবুও কাঁদে । লজ্জায় নত ।
পুঁজিবাদের ২০৬ খানা হাড়ে বুক ঘামে
শ্রমিক , কৃষকের শ্রমের দগ্ধ তমিস্র বুকে ।
গোধুলির আশ্চর্য সুদূর ছাতিম ছায়ার-
মায়া ছড়ায় সেও তো আমার দেশ ।
আমার অপেক্ষা ভাঙে
বিনোদনীর মায়াবী ঠোঁটে ,
কে যেনো গান গেয়ে বলে , কবি ওঠে পড় তীর্থে যেতে হবে । অপেক্ষারত আমার দেশ ।

মোট পড়েছেনঃ ১৩১৮জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

৯টি মন্তব্য

  1. দেশ বন্দনা ভালো লেগেছে। সত্যিই পাকিস্তান মুর্দাবাদ , পাকিস্তান জিন্দাবাদ সেও আমার দেশ আবার হাইপার সিৎজোফ্রেনিয়া সেও আমার দেশ। ধন্যবাদ দাদা। শুভ কামনা রইলো আপনার জন্য

  2. ভারত সরকার সম্প্রতি নাগরিকত্ব আইন (সিএএন) সংশোধন করে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের হিন্দুসহ কয়েকটি ধর্মাবলম্বীদের তাদের দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ করে দিলেও, ভারতে থাকা সংখ্যালঘুরা তা বুঝতে পারছে না। তাই দিন দিন এই আইনের বিরুদ্ধে ভারতের জনগণ সোচ্চার হচ্ছে। এতে প্রতিবাদ আরও বাড়বে ছাড়া কমবে না বলে মনে হয়।
    তবে আমার মতে এই আইন সংশোধন করাটা কোনও দরকার ছিল না।

    1. তবে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের জন্য এ আইন বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতন কমাতে সাহায্য করবে । অলরেডি এই আইনের সুবাদে বাংলাদেশের সররার বিব্রতের মুখে পড়েছে । আশা করি পৃথিবীর সব সংখ্যালঘু সুখে থাকুক । যদিও ধর্মকে টিকিকে এই আশা করা ভুল