প্রতিটি ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িকতা।একটি শিশু বড় হয়ে ওঠে চরম সাম্প্রদায়িক পরিবেশে । অন্য ধর্মের রীতিনীতি যে খারাপ  তা একটা শিশুকে ছোট বেলায়ই শিখিয়ে দেয় তাঁর পরিবার । এরপর স্কুল এসে ধর্ম ক্লাশের মাধ্যমে তাঁকে সমষ্টিগত ভাবে সাম্প্রদায়িকতার শিক্ষা দেয়া হয় । তাছাড়া মোল্লা বা ধরমগুরুরা একটা শিশুকে মালাউন,কাফের,ম্লেচ্ছ,মেয়া,যবন প্রভৃতি সাম্প্রদায়িক শব্দ শিখিয়ে দেয় ।এত প্রতিকুলতার মধ্যে একটা মানুষ যে ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে মানুষ হিসাবেই দেখবে তাঁর সম্ভবনা খুব কম । এজন্যই দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর বছর বছর নির্যাতনের নতুন মাত্রা যুক্ত হচ্ছে । যদি ধর্মের ভেদাভেদ মুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে হয় তবে তা পরিবার থেকেই করতে হবে । সভা সেমিনারে বসে   অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ে তোলা যাবে না ।

 

মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের লেখা “আমার বন্ধু রাসেদ ” এর একটি অংশ নিচে তুলে দিলাম। এই অল্প কয়েকটি লাইন দিয়েই লেখক সামাজিক কুসংস্কার,হিন্দু-মুসলিম সমস্যা,সাম্প্রদায়িকতা এবং ক্ষমতাধর বা ধর্ম প্রচারকদের “উত্তর জানা না থাকলে” প্রশ্নকর্তা কে থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা তুলে ধরেছেন।লেখক ২ জন শিশু চরিত্রের দ্বারা জটিল বিষয় গুলো সহজ ভাবে তুলে ধরেছেন।যদিও উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা কিন্তু দেশের পরিবেশ এখনও ওইরকমই আছে ।

দিলীপ একটু হকচকিয়ে গেল, বলল , জীনটা কি?

ফজলুঃ জীন চিনিস না?জীন-ভূত শুনিস নি কখনো?

দিলীপঃশুনেছি,কিন্তু জীনটা কিরকম হয় ?

ফজলু খুব চিন্তা করে বলল, যেইসব ভূত মুসলমান তাদেরকে জীন বলে।

দিলীপ ভয়ে ভয়ে বলল, ভূতদের হিন্দু-মুসলমান আছে?

ফজলুঃমনে হয় আছে।

দিলীপঃ ওদের রায়ট হয়?কাটাকাটি হয় ?

ফজলু মাথা চুলকে বলল, নিশ্চয়ই হয় ।

দিলীপঃভূতেরা তখন কি মরে?

ফজলুকে এবারে সত্যিই চিন্তিত দেখাল।অনেকক্ষণ ভেবে বলল,কাটাকাটি হলে  কি আর মরে না, কিছু নিশ্চয়ই মরে।

দিলীপঃ মানুষ মরে ভূত হয় ।ভূত মরে কি হয়?

ফজলু হঠাৎ রেগে মেগে বলল, তুই চুপ করবি এখন?

২০৯জন ২০৯জন
0 Shares

৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য