‘ গরডন ‘  নামে এই  স্লেভ কে সুপারভাইজারের   নিষ্ঠুর মারধোর এবং তার  চিহ্ন  (  ১৮৬৩)

স্লেভারি বা ক্রীতদাস প্রথার ইতিহাস অনেক দীর্ঘ অনেক পুরানো এবং যা  বলার মত নয় । কারন এই দাস প্রথা  অনেক নিষ্ঠুরতা এবং দুঃখে পরিপূর্ণ। যা চলছিল শতাব্দী থেকে শতাব্দী ধরে এবং এক মহাদেশ থেকে আর এক মহাদেশে ।  

এটা  বলা কঠিন ব্যাপার যে ঠিক কখন থেকে  স্লেভারি বা ক্রীতদাস প্রথার আরম্ভ হয়েছে। ইতিহাসবিদ  দের মতে গত ১১ হাজার (১১০০০) আগে থেকে এই অমানবীয় ব্যাপারটি মানব জাতী প্র্যাকটিস  করে আসছে। 

প্রাচীন পৃথিবীতে ক্রীতদাস প্রথাঃ  

ক্রীতদাস প্রথা ব্যাবহারের উৎপত্তি ঠিক কবে থেকে,  এটা উৎভাবন করা একটি কঠিন ব্যাপার। কারন এটা কোথাও লেখা নাই। 

তবে এটা বলা যায় ‘হান্টার এবং গ্যাদারার’  যুগের সমাজ দাস প্রথার অংশ ছিলনা। তবে মেসোপটিয়াম সভ্যতায় দাস প্রথার চালু ছিল। তাদের লিখিত তথ্যে দাসপ্রথার উল্লেখ আছে। যা হাজার বছর ধরে চলেছিল। 

যখন থেকে পৃথিবীতে মানুষ সভ্য হতে থাকে,  মানুষ শহরবাসী হতে থাকে  এবং শহর একটা  অরগানাইজ স্থান হতে লাগলো এবং কৃষি কাজের উন্নতি হতে আরম্ভ হলো ,   প্রাচীন পৃথিবীতে তখন থেকেই দাস প্রথারও জন্ম হতে লাগলো। 

‘সুমেরিয়ান সভ্যতা’র  যুগটিকে দাসপ্রথার চালুর প্রথম সময় হিসেবে ধরা হয়। তারপর তা  আস্তে আস্তে  গ্রীসে এবং প্রাচীন মেসপটিয়াম সভ্যাতারও অংশ হয়। চীন এবং ভারতবর্ষে তখনও দাস প্রথার চালু ছিলনা। চীনে কুইন (Qin Dynasty 221 BC)   ডাইনেসটিতে  দাস প্রথার চালু থাকার কথা শুনা যায়। ভারতে তখনও চালু ছিলনা। কারন প্রাচীন সংস্কৃতী ভাষায় এমন কোনো শব্দ নাই যার  অনুবাদ করলে তাকে ‘ক্রীতদাস’ বলা যাবে। 

তবে অনেক পরে ‘কেনা গোলাম’ বা  ‘বান্দি’ এই শব্দ গুলো আসে। 

প্রাচীন সময়ে দাসদের জীবন  এবং 

দাস হওয়ার কারনঃ 

১) দাসদের পরিবার ঋণ নিতো । যখন তা  পরিশোধ করতে পারতোনা তখন সেই পরিবারের সন্তান ‘দাসে’ পরিণত হতো । 

২)  কোনো পরিবার যখন তাদের সন্তানকে পালন  করতে  বা ভরনপোষণ দিতে পারতোনা টাকার অভাবে তখন তাকে অন্য মানুষকে দিয়ে  দিতো , সেই বাচ্চাটি দাসে পরিণত হতো  । 

৩) যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতিতে অনেক মানুষ দাসে পরিণত হয়। পরাজিত দেশের সাধারণ মানুষ এবং পরাজিত সৈন্য সামন্তকে গ্রেপ্তারের পর দাসে পরিণত করা হতো । 

৪) অপরাধঃ অপরাধীকে শাস্তি স্বরূপ তাকে দাসে পরিণত করা হতো । 

তবে এটা বলা যায় দাস ব্যাবস্থা কোনো সময় জনপ্রিয় ছিলনা এবং কখনও বুমিং ব্যাবসায় পরিণত হয়নি। 

এক মাত্র ইওরপিয়ান দের  দ্বারা আফ্রিকান স্লেভ  যা এক সময় অনেককে  তারা নিয়ে গিয়েছিল তাদের নুতন করা উপনিবেশ আমেরিকায়   এবং বর্বর ভাবে  নিষ্ঠুরতা চালিয়ে ছিল । ইতিহাসে এটা একটা ‘কালো অধ্যায়’   

মধ্য প্রাচ্য সহ কিছু দেশে , অনেক সময় দাসের  মধ্যে কোনো ভালো স্কিল থাকলে তা মালিক পক্ষ খুঁজে বের করতেন এবং তা কাজে লাগিয়ে তাকে সে ভাবে ব্যাবহার করতেন। ইতিহাস থেকে দেখা যায় দাসরা তুলনামূলক ভাবে,  কৃষি কাজে সমসাময়িক  নিয়োজিত  লেবার হয়ে থাকার চেয়ে  দাস হয়ে থাকা ভালো মনে করত । কারন তাদের থাকার জায়গা থাকতো, পরিধেও কাপড়ের অভাব থাকতো না অথবা তাদের খাবারের চিন্তা করতে হতো না। দাসরা খুব কমই পালিয়ে যাওয়ার চিন্তা করতো । যদি তাদের মালিক খুব খারাপ ব্যাবহার করতো তখন পালিয়ে যেতো।  

মধ্য যুগের বর্বরতা এবং  জবরদস্তি করে অন্য দেশ দখলের যুগঃ 

৫০০ AD থেকে ১৫০০ AD পর্যন্ত সময় টিকে মধ্যযুগ বলা হয়। পৃথিবী জুড়ে এই  সময় টিতে যুদ্ধ এবং জোর জবরদস্তি করে দেশ দখল বৃদ্ধি পায় সমস্ত মহাদেশে। 

ইউরোপে মেডিভ্যাল স্লেভারিঃ 

দাস প্রথা বা স্লেভারি ব্যাবসা রমরমা হয়েছিল মেডিভ্যাল ইউরোপে রাজা চারলেম্যাগ্যানের(Charlemagne)ম্যাধ্যমে । যুদ্ধ এবং দখলের মাধ্যমে পশ্চিম এবং মধ্য ইউরোপকে এক করে একটা বিরাট রাজ্য স্থাপন করেছিলেন তিনি। সবকিছুতেই জড়িত ছিল নিষ্ঠুরতা । 

এই রাজা অধিকৃত রাজ্যে সাধারণ মানুষকে জোরপূর্বক দাস বানিয়ে উচ্চমূল্যে বিক্রি করতো। দাস বিক্রির করার জন্য বিড  ডাকা হতো  । যে  সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতো তার কাছে বিক্রি করা হতো। তার আমলে ইউরোপিয়ান স্লেভ মুসলিম দেশ সমুহে খুব জনপ্রিয় ছিল । এবং তখন থেকেই স্লেভ ব্যাবসার শুরু। 

ইতিহাসের এই একই সময়ে স্পেনে এবং পর্তুগালে মুসলিম এবং খ্রিস্টান দের মধ্যে সবসময় যুদ্ধ লেগেই থাকতো। যার ফলস্বরূপ প্রচুর নারী এবং ছোট ছোট বাচ্চা স্লেভে পরিণত হতো। 

অটোম্যান সম্রাজ্যে যুদ্ধে পরাজিত সৈন্য এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষকে দাস বানানো হতো। এবং তারাকে নিজেদের আর্মিতে যোগ করানো হতো এবং নারীকে কঙ্গুবাইন বানানো হতো। ১৪থ সেনচুরি তে সুলতান মুরাদ ১ এবং সুলতান মাহমুদ ২ স্লেভের মার্কেট করে। আনাতলিয়া, বুল্কান এবং রুমেনিয়া দাস বেচা কেনা হতো এবং সুলতানের ২.৫ মিলিয়ন দাস ছিল। 

মেডিভ্যাল স্লেভারি এশিয়াতেওঃ 

মধ্যযুগে এশিয়াতে যখন মুসলমান রাও  ভারতবর্ষে  আক্রমণ চালায় তখন  হাজার হাজার ভারতীয় স্লেভে পরিণত হয়। মুহাম্মাদ গজনী ১০০১ সালে তার আর্মি যখন পেশওয়ার দখল করে তখন অনেক মানুষকে ‘গোলাম’  বা ‘দাসত্বে’   পরিণত করে প্রায় এক লাখ মানুষকে। 

 চীনের ট্যাং ডাইনেসটিতে তারা  অনেক ইউরোপিয়ান জুইস স্লেভ কিনে নায়। 

চার জেনারেশন ধরে স্লেভারি করা এক ফ্যামিলি

আমেরিকায় স্লেভারির  উৎপত্তি  

আমেরিকায় স্লেভ নিয়ে আসা হয় ১৬১৯ সাল থেকে। আফ্রিকা থেকে ২০ জন মানুষ আনা হয় জেমসটাউনে। এটায় স্লেভারির সূচনা আমেরিকায় কলোনি করার সময়। 

স্লেভ ব্যাবসার অফিস , আটলান্টা ১৮৬৪

রেকর্ড থেকে দেখা যায় “রয়াল আফ্রিকান স্লেভ কোম্পানি” নামক এক কোম্পানি গঠন  করা  হয় শুধু মাত্র আফ্রিকা থেকে স্লেভ নিয়ে আসার জন্য। যখন আমেরিকায় ব্রিটিশরা কলোনি করতে যায় তখন থেকেই বৃহৎ আকারের সংখ্যায় স্লেভ নিয়ে আসা শুরু হয় আফ্রিকা থেকে। 

উপনিবেশকারি আরম্ভ করে স্লেভের বুমিং ব্যাবসা। 

স্লেভ অকসান ১৮৫৩

এটা থেকে প্রমাণিত হয় যে সে সময় তাদের কাজ করার জন্য যতো মানুষ দরকার তা যথেষ্ট পরিমাণ না থাকার দরুন তারা আফ্রিকা থেকে এই স্লেভ নিয়ে এসেছিলো । 

ক্রমান্বয়ে সমস্ত আমেরিকায় স্লেভদের দরকার পড়তে থাকে। 

আফ্রিকা থেকে যাত্রা আরম্ভ   

আফ্রিকা থেকে আমেরিকা যাওয়ার পথে স্লেভ বা সস্তা শ্রমিকদের যাওয়ার ব্যাপারটা তাদের জন্য ছিল আত্যান্ত কঠিন এবং নির্মম। একটা জাহাজের ডেক ভর্তি করে তাদেরকে উঠানো হতো । গাদাগাদি করে তারা থাকতো। ঠিক যেমন ট্রাক ভর্তি   গরু নিয়ে যাওয়া হয় হাটে। হাজার হাজার মানুষ থাকতো এক জায়গাতে, যেখানে তারাকে কোনো খাবার দেয়া হতনা, থাকতো না টয়লেট। আটলান্টিক সাগর পাড়ি  দেয়ার সময় টিতে তারা নানান অসুখ যেমন আমাশয় ,ডাইরিয়া, স্মল পক্সে  আক্রান্ত হতো । মৃত্যু বরন করলে লাস ছুঁড়ে ফেলা হতো সমুদ্রে । অথচ আফ্রিকার প্রথা অনুযায়ী একজন মৃত ব্যাক্তি কে সন্মানের সাথে কবর দেয়া উচিৎ। 

রেকর্ড থেকে দেখা যায় ১০ থেকে ২০ মিলিয়ন আফ্রিকানকে এভাবে নিয়ে আসা হয়েছিল। পুরো জার্নিটি ছিল কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসের এবং এভাবে অমানবিক ভাবে তাদেরকে আনা হতো। ১৫% মারা যেতো অসুখ,অপুষ্টি এবং মেরিটাইম অসুস্থতাই । আটলান্টিক পার হওয়ার আগেই মারা যেতো । পশ্চিম আফ্রিকা এবং ইকয়েটর থেকে নেয়া হতো কারন আমেরিকা থেকে কাছে ছিল বলে। ইতিহাস বীদ D, Cartin এবং কানাডার ইতিহাস বীদ Paul E Lovejoy এর  মতে ২০% এই এলাকার লোক চলে যাওয়ার ফোলে সেখানকার অর্থনীতির উপরে চাপ  পড়ে ।

সমস্ত যুবক শ্রেণী চলে যাওয়া তে কৃষি কাজে শ্রমিকের অভাব হয়, নারী চলে যাওয়াতে বাচ্চা না হওয়া তে নুতুন জেনারেশন আসায় বাধা প্রাপ্ত হয়। পেছনে পড়ে থাকে শুধুমাত্র বৃদ্ধ এবং প্রতিবন্ধী  শ্রেণী যারা  অর্থনীতিতে কিছু অবদান রাখতে পারবেনা।  

ট্রান্স আটলান্টিক স্লেভ ট্রেড  অর্থাৎ তিনটি ধাপ ব্যাবহার করে ব্যাবসা ঃ 

এই ব্যাবসাটি চলতো তিনটি ধাপে। 

১) আর্মস, টেক্সটাইল এবং মদ ইউরোপ থেকে আফ্রিকা আসতো 

 ২) আফ্রিকা থেকে ক্রীতদাস নেয়া হতো আমেরিকায় 

৩) স্লেভ রা সেখানে সুগার,কফি উৎপাদনে লেবার খাটতো এবং সেগুলো নিয়ে আসা হতো আমেরিকা থেকে ইউরোপে। 

  

১৪৮০ সালে সর্ব প্রথম  পর্তুগীজ থেকে জাহাজ আফ্রিকা আসে এবং সেখান থেকেই জাহাজ ভরে ক্রীতদাস নিতো এবং তারাকে নিয়ে পূর্ব আটলান্টিকের ‘কেপ ভারডে’ এবং ‘ম্যাডেরিয়া’ দ্বীপে  সুগারকেন লাগানো এবং তা কাটার চাষ  বাসের   কাজে ব্যাবহার করতো। 

আখ খেতে কর্মরত স্লেভ ,পেছনে সুপারভাইজারের নিষ্ঠুর খবরদারি

১৫০২ সালে স্প্যানিশরা আফ্রিকা থেকে স্লেভ নিয়ে গিয়ে ক্যারাবিয়ান আইল্যান্ডে কৃষি কাজ করার জন্য  নিয়ে গিয়েছিলো। 

পর্তুগীজরা দেড় শত বছর ধরে এই স্লেভ ব্যাবসা করে। তারাকে প্রধানত আনা হয়ে ছিল আফ্রিকার পশ্চিম কঙ্গো এবং এঙ্গোলা থেকে 

ডাচরা স্লেভ ব্যাবসায় যোগ  দায় ১৬০০ শতাব্দীতে । তার পরের সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্স এই স্লেভ ব্যাবসায় যোগ  দায় এবং পরে তাদের কন্ট্রোলেই ছিল অর্ধেক স্লেভে ব্যাবসা। সেনেগাল এবং নাইজার নদীর মধ্যবর্তি স্থান থেকে এই সব স্লেভ কে যোগাড় করা হতো। 

১৭১৩ সালে স্পেন এবং ব্রিটেনের মধ্যে একটি চুক্তি হয় এবং যার মাধ্যমেই ব্রিটেন স্পেনের করা কলোনি থেকে একচেটিয়া ভাবে স্লেভ কেনার ব্যাবসা বুঝে পায়। 

পরবর্তী ৩০ বছর ধরে ব্রিটেন প্রতি বছর ৪,৮০০ স্লেভ আফ্রিকা থেকে তাদের করা 

কলোনিয়ান দেশ গুলোতে চালান করতো এই ঘৃণ্য স্লেভ ব্যাবসার মাধ্যমে। 

১৬০০ শত শতাব্দীতে হাজার হাজার স্লেভ আমেরিকায় নেয়া হয়। সব চেয়ে বেশি তারা কাজ করতো সুগার কেন এবং তামাক চাষে ।সবচেয়ে বেশি স্লেভ যায় ১৮ শতাব্দীতে, যা বছরে ৪৫,০০০ ।  

স্লেভ ব্যাবসার সময় কাল এবং ‘আটলান্টিক স্লেভ ট্রেড’  

আফ্রিকা থেকে স্লেভ নিয়ে যাওয়ার সময়টিকে বলা হয় ‘ স্লেভ ব্যাবসার সময়’  । ‘আটলান্টিক স্লেভ ট্রেড’ নামক ব্যাবসা প্রথিসটান খোলা  হয়েছিল । যার উদ্দেশ্য ছিল স্লেভ সরবরাহ।

অধিকার ছাড়া জীব জন্তুর মতো ব্যাবহার এবং ধর্ষণঃ  

 তারা কে মানুষ হিসাবে মনে করা হতো না। জীবজন্তুর  মতো মনে করা হতো। তারাকে মানব জাতির অংশ  হিসাবে ধরা হতোনা । তাদের কে মজুরী দেয়া হতোনা, সংসার করতে দেয়া হতো না। তাদের কোন অধিকার ছিলনা। 

পোষা গাই গরু  দিয়ে যেমন প্রতিবছর বাচ্চা গর্ভ ধারণ এবং জন্ম দান করানো  হয়,   ঠিক সেইরকম ভাবে আফ্রিকান নারীদের ফ্যামিলি ছাড়া গর্ভ ধারণ এবং সন্তান প্রসব করানো হতো নুতুন স্লেভ পাওয়ার জন্য। নিজেদের পরিবার করার জন্য নয়। 

এই বাচ্চা গর্ভে ধারণ জোর  পূর্বক করানো হতো শুধু মাত্র নুতুন স্লেভ বৃদ্ধি করার জন্য। নারী স্লেভ ছিল বাচ্চা উৎপাদনের ফ্যাক্টরি বা ব্রিডিং মেশিন। 

 

পুরুষরা শুধু শ্রম দিতো মজুরী ছাড়া কিন্তু তাদের  পরিবার গড়ার অধিকার ছিলনা

সূর্য উদয় থেকে সূর্য অস্ত পর্যন্ত তাদের কে খাটনো  হতো। মাথার উপর থাকতো নিষ্ঠুর সুপারভাইজার । যার কাজ ছিল তাদের কাজের দেখভাল করা এবং একটু ভুল হলেই মারধোর। 

স্লেভদের পড়াশুনা ছিল আইন বিরুদ্ধ । কেউ যদি তাদের পড়াশুনার ব্যাবস্থা করতো তবে তাদের শাস্তি ছিল কঠিন।  ৫০০ ডলার জরিমানা  অথবা জেলে যাওয়া । 

স্লেভ দের জন্য  কোনো রকমের সভা সমিতি বা একত্রে আলোচনা করা নিষিদ্ধ ছিল। একসঙ্গে আলোচনায় বসতে চাইলে তাদের সঙ্গে একজন ‘white man’  থাকতে হবে। তারা ষড়যন্ত্র করছে কিনা তা নজরদারি করার জন্য বা প্রতীবাদের ঝড় যেন তুলতে না পারে। 

কোনো কালো স্লেভ গান বা বন্ধুক রাখার অধিকার রাখতে পারতোনা এবং তা ছিল আইন বিরুদ্ধ। 

একজন স্লেভ যদি কোনো সাদা নারীকে রেপ করতো বা ষড়যন্ত্র করতো তার মাস্টারের প্রতিশোধ নেয়ার তার শাস্তি হতো মৃত্যু দণ্ড। 

চাষবাসের জায়গায় রেপ ছিল একটা কমন বা সাধারণ ব্যাপার। খুব কমই তার রিপোর্ট হতো। কোন white man যদি স্লেভ মেয়েকে রেপ করতো তবে তার শাস্তির কারন রেপ নয় শাস্তি হতো অনধিকার চর্চা হিসেবে। অর্থাৎ সেই নারী স্লেভ তার প্রোপার্টি নয়।তা হতো  অন্যায় ভাবে সীমা লঙ্ঘন । 

এই ভাবে একজন মাস্টার শুধুমাত্র তাদের পরিশ্রমকেই কন্ট্রোল করতো না কন্ট্রোল করতো তাদের জীবনের সব ক্ষেত্র । 

তারাকে যখন কালেক্ট করা হতো হাত পেছনে বাঁধা থাকতো, পায়ে থাকতো সেকল, গলায় দড়ি । 

আমেরিকায় এসে পালানোর কোনো সুযোগ থাকতো না। সমুদ্র পাড়ি দিয়ে নিজ দেশে ফেরা কথি ব্যাপার তাদের জন্য। আমেরিকায় পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিলনা কেউ পালালে চেহারা দেখে তারা সহজেই ধরা পড়তো। যা স্থানীয় দের পক্ষে সহজ  নয়। তারা জানত কোথায় নিজেকে লুকাতে হয়। 

স্লেভারির  এর সূচনাঃ 

স্লেভ বিক্রির আরম্ভ হয় আফ্রিকার স্থানীয় রাজাদের মাধ্যমেই ‘Nzinga Mbsnde’ একজন আফ্রিকান কুইন যার আমলেই তিনি নিজেই  সবচেয়ে বেশি স্লেভ বিক্রি করেছিলেন পর্তুগীজদের কাছে এবং তিনি নিজেই স্লেভ ট্রেড কন্ট্রোল করতেন। 

স্থানীয় রাজারা নিজস্ব এলাকার লোকবলকে গরু ঘোড়ার মতো নিজস্ব সম্পত্তি মনে করতো। কার কত লোক আছে তার প্রতিযোগিতা চলতো নিকটবর্তী রাজা বা স্থানীয় প্রধানের সাথে।কারন এই লোকবল দিয়েই তাদের কৃষি কাজ চলতো। 

কিন্তু পরবর্তীতে যখন মূল্যবান রিসোর্স এর সন্ধান পাওয়া গেল তখন তারা দেখল মানুষের চেয়ে সেই রিসোর্স বিক্রি করেই বেশি অর্থ উপার্জন করা যায় তখন তারা সেই মানুষ গুলোকে বিক্রির ব্যাবস্থা করে সর্ব প্রথম পর্তুগীজ দের কাছে । তখন থেকেই ইউরোপিয়ানরা পণ্যের মতো তারাকে কিনা আরম্ভ করলো। তবে পার্থক্য এইখানেই নিজ দেশে তারা সংসার করতে পারতো বা তাদের জীবন সব দিক দিয়ে কন্ট্রোল হতো না। 

এই ভাবে স্লেভের কেনা বেচা চলেছিল ১৬০০ সাল থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত। 

দাস প্রথার সমাপ্তিঃ 

১৮০০ শতাব্দীড় শেষ ভাগে পশ্চিম ইউরোপ এবং আমেরিকার মধ্যে একটা আন্দোলন আরম্ভ হয় এবং তার ফলশ্রুতিতেই দাস প্রথার সমাপ্তি ঘটে। 

৫ম শতাব্দীতে রোমান সাম্ম্র্যজের ক্রীতদাস প্রথার জনপ্রিয়তা হ্রাস পায় এবং এগারো শতাব্দীতে পশ্চিম ইউরোপ থেকে সম্পূর্ণ উঠে যায়। ১৪২০ থেকে ১৯০০ শতাব্দী পর্যন্ত ১ কোটী ২০ লক্ষ স্লেভ আফ্রিকা থেকে বলপূর্বক  নিয়ে যাওয়া হয় এবং ক্রীতদাস হিসাবে ব্যাবহার করে। 

‘ন্যাট টারনার’  যার  হাত ধরে প্রতিবাদ শুরু হয়

পশ্চিম ইউরোপে ১৫০০ সালে প্রথম এই প্রথা বন্ধের বিরুদ্ধে সোচ্চার আরম্ভ হয়। ইউরোপের অনেক দেশ নিজ 

হোমল্যান্ডে ক্রীতদাস রাখা বন্ধ রাখে। কিন্তু তাদের করা উপনিবেশে ক্রীতদাসের উপর নির্ভর ছাড়া চলছিল না। তবে ক্রমাগত ভাবে ক্রীতদাস প্রথা অবলুপ্তের জন্য বিদ্রোহ চলতে থাকে। তারপর আস্তে আস্তে আইনের মাধ্যমে এটা বন্ধ করা হয় এবং  এই ব্যাবসার মুল উৎপাটন করা হয়। তারপর সমস্ত  ক্রীতদাসকে স্বাধীন করে দেয়া হয় ।  

আমেরিকার গৃহযুদ্ধ এবং ক্রীতদাস বিদ্রোহঃ   

কি  ভাবে স্লেভ দের মুক্ত করা যায় তার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে লিডার ‘ন্যাট টারনার’

আমেরিকায় গৃহযুদ্ধ চলাকালীন সেখানে ৪ মিলিয়ন ক্রীতদাস ছিল। তার মধ্যে ৯৫% নারী দক্ষিণের রাষ্ট্র গুলোতে ছিল। উত্তরের ক্রীতদাস বিরোধী বিদ্রোহ ক্রমান্বয়ে ছড়তে থাকে সারা আমেরিকায়। উত্তরে প্রথমে বিলুপ্ত হয় তখন দক্ষিণের স্লেভ্র উত্তরে চলে আসে এবং দাসের বন্ধন থেকে মুক্তি পেয়ে আর্মি তে যোগ দিয়ে এক মর্যাদা পূর্ণ জীবনে প্রবেশ করে। ক্রীতদাস প্রথা কোনমতেও একটি স্বাভাবিক নিয়ম হতে পারেনা। 

রেসিয়াল  ইকুইলিটী নিয়ে যুদ্ধের আরম্ভঃ 

যদিও  তারা স্বাধীন হল কিন্তু ‘ ব্ল্যাক আমেরিকান রেসিয়াল ইকুয়ালিটী’   নিয়ে যুদ্ধ শুরু হল। আর এই রেসিয়াল ইকুয়ালিটী স্মরণ করিয়া দায় স্লেভ দের নিষ্ঠুর ইতিহাস এবং ‘দগদগে ঘা’ যা থেকে বের হওয়া কঠিন ব্যাপার। 

আধুনিক বর্তমান যুগে দাসত্ব  বা স্লেভারিঃ 

মডার্ন স্লেভারি

বর্তমান সময়ের  ক্রীতদাস যা এখনো চলমান । দুঃখের সাথে বলা যায় ক্রীতদাস প্রথার অবসান হলেও নূতন ধরনের ক্রীতদাস এখনো চলমান। এখনো সারা পৃথিবী জুড়ে ৪০.৩ মিলিয়ন ক্রীতদাস রয়েছে। 

স্লেভারির সংজ্ঞা হল কাউকে দিয়ে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করানো। তাকে ‘ Piece of property’ ভাবা হয়। সে  তার মালিকের কাছ থেকে চলে যেতে  পারবেনা। তাকে দিয়ে যোর  করে কাজ করানো এবং কাজ করতে না চাইলে শাস্তি দেয়ার  ভয় দেখানো হয়। 

আজকের দিনে স্লেভারি মানে 

১) মানব পাচার

2)  জোর পূর্বক খাটানো

3)  জন্ম গত ভাবে দাসত্ব

4)  শিশু শ্রম

5)  জোর পূর্বক বিয়ে দেয়া এবং অপ্রাপ্ত বয়েসে বিবাহ  

6)  গৃহ বন্দী দাস

  • এই ধরনের স্লেভারি এখনো চলমান। এর মধ্যে পড়ে পতিতাবৃত্তি    গবেষক রা গবেষণা করে দেখেছেন সারা বিশ্বে ২৫ মিলিয়ন পতিতা আছে যারা নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এই কাজে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। তারা পরিস্থিতির শিকার এবং যা থেকে বের হওয়া কঠিন ।৪.৮ মিলিয়ন সেক্সুয়াল এক্সপ্লয়টেসান আছে পৃথিবীতে। 
  • ১৫.৪ মিলিয়ন লেবার আছে যারাকে যোর পূর্বক কাজ করানো হয়। 
  • জোরপূর্বকবিয়ে  এবং অপ্রাপ্ত বয়েসে বিয়ে দেয়া যা আইন বিরুদ্ধ অনেক দেশে। কিন্তু ভারতীয় উপমহাদেশে এই রীতিনীতি এখনো চলমান।একজন নারী কি চায় , বা তার চাওয়া পাওয়া কি ,তার ইছা অনিচ্ছা সব কিছু জলাঞ্জলি দিতে হয় বাবামার ইচ্ছার কাছে। বিবাহিত জীবন কি , কি আছে তার সাথে জড়িত , কত বড়ো এই দায়িত্ব , প্রেগনেন্সি , child birth কত কষ্টকর সেগুলো বুঝে উঠার আগেই তাকে ঠেলে দেয়া হয় সংসারে। অপ্রাপ্ত বয়স যখন তার শরীরের এবং মনের পরিপূর্ণতাই আসেনি তাকে ঠেলে দেয়া হয় বিবাহিত জীবনে।  আধুনিক সময়ে এগুলো সবই স্লেভারির মধ্যে পড়ে। 
  •   শিশু শ্রম এটাও স্লেভারি। দরিদ্র বাবামা নিজের সন্তান কে স্কুলে না পাঠিয়ে তাদের কে দিয়ে পরিশ্রম করিয়ে টাকা উপার্জন করায় । ১০ মিলিয়ন শিশু শ্রমিক হিসাবে কাজ করে সারা পৃথিবীতে ।  

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় নারী এবং শিশু অলটারনেটিভ কিছু না থাকার জন্য ব্যাধ্য হয়ে দাসত্বের শেকোলে বাঁধা পড়ে যায়। সমাজে এমন কিছু থাকেনা যে তারা স্বাধীন ভাবে জীবন নির্বাহ করবে। নারী এবং শিশু তারা ফ্যাইট ব্যাক করতে পারেনা। ক্ষমতাও থাকেনা। অনেক দেশেই   নারী এবং শিশু বান্ধব নয়। সেখানে আইন নাই বা আইন থাকলে তার কড়াকড়ি প্রয়োগ নাই। 

তা ছাড়া অবিবাহিত থাকা, তালাক প্রাপ্ত হওয়া সমাজে গ্রহণ যোগ্যতা  না থাকা, বাবার বাড়িতে আশ্রয় না পাওয়া কিম্বা নিরাপদ নারী আবাসন না থাকা নারীকে আরও অসহায় করে দায়।ব্যাধ্য  হয় দাসত্বে বন্দী থাকতে  । 

  

অসহায়ত্ব, ভয়াবহতা এবং নির্মমতা এই হল অনেক নারী এবং শিশুর জীবন। 

অনেক সময় রিফুজি এবং মাইগ্রেনট মানুষ ব্যাধ্য হয় স্লেভের মতো কাজে জরিয়ে পড়তে বাধ্য হয় । যেহেতু তাদের বৈধ কোন কাগজ পত্র থাকেনা সেই দেশে। তৃতীয় বিশ্বের গরিব দেশ গুলো থেকে আগত এসাইলাম সিকারের মানুষ ধনী দেশ গুলোতে গিয়ে এই রকম পরিস্থিতির কবলে পড়ে।

থাইল্যান্ডের মাছের খামারে ,থাকার পারমিসান ছাড়া অনেক রোহিঙ্গা এই ভাবে স্লেভের মতো কাজ করে। 

যে সমস্ত দেশে মানুষ স্লেভের মতো কাজ করেঃ 

গবেষণায় দেখা যায় নর্থ কোরিয়া, উজবেক স্থান, কম্বোডিয়া, ইন্ডিয়া এবং কাতার এই দেশ গুলোতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ এই ভাবে স্লেভের মতো কাজ করে।

যে দেশ যতো বেশি দরিদ্র সে  দেশে নারী এবং শিশু  বেশি ভুক্তভোগী । কারন তখন তারা বেশি অসহায়ত্বের মধ্যে পড়ে। 

উত্তর কোরিয়ার ৪.৩৭% দাসত্বের মধ্যে আছে এবং সে দেশের সরকারই জোরপূর্বক দাসত্বের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। 

এমনকি উত্তর কোরিয়ায়  মানুষকে বিক্রি করে বিদেশে কাজ করার জন্য। তারাকে পাঠানো হয় রাশিয়া,চীন এবং আমেরিকায়। এই দাসত্বের পেছনের কারন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পারিবারিক লোন পরিশোধ। হয়তো তার নিজের নয়তো বাবামার ঋণের বোঝা। 

স্লেভারির অবসান 

১৭৪০ সালে যখন স্লেভ ব্যাবসা তুঙ্গে তখন থেকেই মানুষ মানবিক কারনে এর বিরুদ্ধে যেতে  থাকে। ১৭৭৬ সালে হাউস অব কমন্সে তর্ক উঠে ‘ That the slave trade is contrary to the laws of god and the right of men’ .

এটা প্রচারের প্রথম এবং প্রধান ব্যাক্তি ছিলেন “Ignatius Sancho”  নামক একজন কালো মুক্ত মানুষ 

( Ignatius Sancho ) ইগ্নেতিয়াস সানচো যখন দুই বছর বয়স তখন সে এতিম হলে গ্রিন উইচ এর তিন বোনের কাছে দেয়া হয়। সেখানে ডিউক অব মাউনট  ( ১৬৯০-১৭৪৯)  এর সাথে তার পরিচয় হলে তার জীবনের পরিবর্তন হয়। তিনি তাকে স্কুলে ভর্তি করে দেন । মাউনটে র মৃত্যুর পর তার বিধবা পত্নী তাকে মালিকের কাছ থেকে মুক্ত করে বাটলারের চাকুরী দেন। তার সাপোর্টে সে ওয়েস্টমিনিস্টারে একটি দোকান খুলেন এবং তার লাভ দিয়ে বাড়ি কিনে ভোটাধিকার  পান।   প্রপার্টি থাকলে একজন তখন ভোট দেয়ার অধিকার পেত।

নিজে কম্পোজার হওয়ার ফলে লন্ডনের বুদ্ধিজীবী দের সাথে পরিচয় হতে থাকে একজন মুক্ত মানুষ হিসাবে। তারপর ক্যাম্পেনে সোচ্চার হন স্লেভারির বিরুদ্ধে। 

স্লেভারি ট্রেড শেষ হয় ১৮০৭ সালে এবং ১৮৩৩ সালে স্লেভারির সমাপ্তি হয়

আমেরিকা বা ব্রিটেনের স্কুল গুলোতে স্লেভারি নিয়ে যখন পড়ানো হয় তখন ‘ তারা  মানবিক’  তাই এটা বন্ধ হয়েছে বলতে থাকে । কিন্তু এর পেছনে স্লেভ রিভোল্ট এর কথা বলা হয়না।  

Nat Turner, Denmark vesey, Gabriel Prosser এরা  হলেন বিখ্যাত কিছু রিভোল্ট বা বিদ্রোহ কারীর নাম। সে খুব ধার্মিক ছিলেন তার অনুসারীরা তাকে প্রফেট হিসেবে তাকে মানত এবং তার বক্তব্য ছিল ‘ আমরা সবায় সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি’ । 

Nat Turner অস্ত্র যেখানে থাকে তা লুট করে , নিজেদের কিছু বিশ্বস্ত লোক যোগাড় করে রাতের অন্ধকারে তার মাস্টার এবং তার পুরো পরিবারকে ঘুমন্ত পরিবার কে হত্যা করে। ফলস্বরূপ দুই রেসের মধ্যে মারামারি হয় অনেক নিরীহ  স্লেভ কে মৃত্যু দণ্ড দেয়া হয় turner পরে ধরা পড়লেও তাকেও ফাঁসি দেয়া হয়। 

এই রকম আরও রিভোল্ট বা বিদ্রোহ  হয়েছিল 

ক্রমান্বয়ে ১৮০৩ সালে নরওয়েয়ে ১৮৪৮ সালে ডেনমার্কে, ১৮০৪ সালে ফ্রান্সে, ১৮৩৪ সালে কানাডা, ১৮৩৪ সালে ব্রিটেনে স্লেভারির সমাপ্তি হয়।

১৯৯৮ সালে হিউম্যান রাইট পাস হয়। এই অধিকার গুলো হল ১) দাসত্ব থেকে মুক্তি, ২) শিক্ষার অধিকার, ৩) নারী পুরুষে কোনো বিভেদ না করা, ৪) অমানবিক ব্যাবহার থেকে বিরত, ৫) চলাফেরার স্বাধীনতা, ৬) মত প্রকাশের অধিকার, ৭) Discrimintion সেটা  যে ব্যাপারেই তা না করা ৮) শিক্ষার অধিকার ৯) শিশু শ্রম অবৈধ  ,১০ )অবৈধ  জোরপূর্বক বিয়ে দেয়া বা আন্ডার এজ বিয়ে। 

১৯৪৮ সালে United  Nations General Assembly ঘোষনা আসে  ‘ All Equal All Human’ । To treat everyone equally .with fairness, dignity and respect.

অর্থাৎ ‘সব মানুষ সমান, সবাইকে সমান ভাবে সন্মানের সাথে, তফাৎ না করে এবং মানুষ হিসেবে মূল্য দিয়ে ব্যাবহার করতে হবে ” ।

 

তথ্য সূত্রঃ

The slave trade era,Britannica

Modern day slavery statistics

Present day slavery in the world

NatTurner AnEmblem of Freedom Arthur Ashe legacy

Slave rebellions ,History examples and facts Britannica

How did the slave trade end ,Royal museum,  Greenwich

Slave life and slave trade codes, Amirican History us history org

American Slavery History. Christopher Klein

Visual Record Of The African Slave, Edmundollier,London Vol 2, p 493

Illustration from History of American Conspiracies ,1760- 1860

উইকিপেডিয়া থেকে কিছু তথ্য

ফটো ক্রেডিট

উইকিপেডিয়া

৪০৯জন ৩৪জন
0 Shares

৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ