ফেব্রু. ১০২০১৮
 

“একটি কাল্পনিক কিশোর সাইন্সফিকসন গল্প”

পিতা পুত্রের কথোপকথন।পিতা দেশের একজন সন্মানীত গুণী ব্যাক্তি আবিষ্কারক হেদায়েত উল্লাহ।পুত্রের বয়স সবে মাত্র বারো তের বছর।সিদ্ধিরগঞ্জ রেবতী মোহন হাই স্কুল এন্ড কলেজ এর ক্লাশ এইট এ পড়ুয়া ছাত্র।ছেলে টিভিতে নাসার পৃথিবী ও সৌর জগৎতের একটি প্রতিবেদন দেখে অবাক হন “এ আবার কি!এ পর্যন্ত অনেকেই প্রশ্ন  করেছে সে কিন্তু মন মতন তেমন কোন উত্তর না পেয়ে অবশেষে বাবাকে লক্ষ্য করে।পিতা নতুন এক আবিষ্কারে খাতা কলম স্কেল নিয়ে কাজে মত্ত ঠিক সে সময় তার উপস্থিতি সে চিন্তিত।কাজের সময় ছেলেটি থাকা বা আসা মানে হচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে হাজারো প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে নতুবা তার এখানে বসে নিশ্চিন্তে কাজ করা সম্ভব হবে না।তাই ছেলেকে দেখেই হেদায়েত সাহেব একটু ঘুরে ছেলের মখোমুখি বসে সহজে ছেলেকে বিদায় করার প্লান।
-কি খবর আব্বু তোমার পড়া নেই?
-না সব শেষ করে ফেলেছি।
-ও আচ্ছা তাহলেতো ভাল কথা তবে এখানে কেনো এসেছো?কোন প্রশ্ন?
-এইতো!এই না হলে কি আমার আব্বু!
-বলো,তবে দ্রুত?
-কেনো?দ্রুত কেনো?
-আমার যে অনেক কাজ আছে আব্বু।
-তোমার কাজ অর্ধেকটাই কমে যাবে যদি আমাকে তোমার মতন গড়ে তুলতে পারো আর সে জন্যেইতো তোমাকে এতো প্রশ্ন করি।

ছেলে এমন বুদ্ধি দৃপ্ত বুঝ হদায়েত সাহেব অবাক!এ কি আমারই ছেলে!সে কাগজ পত্র সব রেখে ছেলের প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত হলেন।ছেলেও একটু নড়েচড়ে পিতার মুখোমুখি বসল।
-এবার বলো কি বলবে?।
-টিভিতে দেখলাম আমাদের এ পৃথিবী ছাড়াও আরো অনেক জগৎ আছে সেগুলো কি?
-সেগুলো হলো গ্রহ  উপগ্রহ আর নক্ষত্ররাজি।
– এ গ্রহ উপগ্রহ নক্ষত্র বা কি?সেখানে কি আমাদের মতনই কোন মানুষ জন থাকে?
-এই যে এই পৃথিবীটা দেখছো  তা কিন্তু গোলাকার একটি গ্রহ।এছাড়াও আকাশেঁ ভেসে বেড়াচ্ছে পৃথিবীর চেয়ে আরো বড় বড় গ্রহ উপগ্রহ।ঐ সব গ্রহ উপগ্রহ গুলো প্রত্যাকটিরই একটি করে নাম আছ,আছে বিচিত্র বৈশিষ্ট।পৃথিবীর মানুষ প্রায়,এ সব  গ্রহ উপগ্রহে গিয়েছেন আবিষ্কার করেছেন বিভিন্ন অজানা তথ্যাদি।মানুষ চাদেঁও গেছেন কিন্তু সৌরজগতে সূর্য্য নামক যে গ্রহটি আছে তার নিকটবর্তীও কেউ আজ পর্যন্ত যেতে পারেননি।আর ভবিষৎতে যেতে পারবেন বলে মনে হয় না।
-কেনো?
-এইতো চালাক বুদ্ধিমান ছেলে আমার বোকার মত প্রশ্ন করলে।তুমিতো জানোই বা অনুভব করছো সূর্য্য আমাদের অন্ধকার রাতকে আলোকিত করে সুতরাং আলো মানেই কোন না রশ্মি বা আগুন আর আগুনতো বুঝোই কেমন তার স্বভাব।তোমার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হলো না সেখানে এখনো কোন মানবের অস্তিস্ত খুজে পাওয়া যায়নি।তবে মঙ্গল নামে এক বিশাল গ্রহ আছে যেখানে বর্তমানের বিজ্ঞানীরা গবেষনা চালিয়ে এ যাবৎ এটাই প্রমানীত হয়েছে যে সেখানে মানুষ বসবাসের চিন্তা ভাবনা চলছে,অনেকটা বলা যায় আবিষ্কারকরা জীবের অস্তিত্ব খুজেঁ পেয়েছেন।
-ওটা কি পৃথিবীর চেয়ে অনেক বড়?
-হ্যা কয়েকগুণ বড়।
-তাহলেতো ভালই হয় পৃথিবীর চাপ কিছুটা কমবে।আচ্ছা আব্বু! তুমি তোমার কাজ করো আমি আবার আসবো।
-ঠিক আছে তবে আজকে আর না।
-যদি মাথায় নতুন কোন চিন্তা আসে?
-তবুও না।আমি আজ একটি সিরিয়াস কাজ হাতে নিয়েছি।
-ঠিক আছে,কি কাজ আব্বু বলবে?
-রোবট নিয়ে কাজ।
-ও ঐযে টিভিতে দেখাইছিল সোফিয়া রোবট?
– হ্যা ঐ আর কি,ঐরকমই।
-আচ্ছা আব্বু!রোবটরাতো দেখতে আমাদের মতই,কাজও করতে পারে তাহলেতো  আমরা মানে তোমরা রোবট বানিয়েই জগতের সব কাজ করাতে পারো!
-হ্যা পারি।
-তবে বানাচ্ছো না কেনো?সমস্যা কোথায়?
ছেলের আবারো এমন প্রশ্ন শুনে দুষ্টুমির ছলে ওর এক কান মচকিয়ে ছেলেকে আদুরী শাষন করলেন।
-ওরে দুষ্ট, তুমি না বললে চলে যাচ্ছো এ আবার প্রশ্ন কেনো?
-এই একটাই শেষ….
-এই একটার উত্তর দিতে দিন শেষ হয়ে যাবে।অন্য একদিন বলবো নে।তুমি এখন যাও বাবা আমি কাজ করব।
-ঠিক আছে,কিন্তু বন্ধু অজয়তো এলো না,,,,,
ঠিক এ সময় বন্ধু অজয়ের ডাক….জীবন,,,জীবনরে ঘরে আছিস।দৌড়ে সে পিতার ঘর হতে বাহির হলেন।

ওরা পাচ বন্ধু অজয় নয়ন-অয়ন মেয়ে বন্ধু স্মৃতি ও আলো।এক সাথে পাঠশলায় যাওয়া আসা থেকে শুরু করে খেলাধুলায়ও একত্রে বাড়ীর আশে পাশে।তখন সবে মাত্র সন্ধ্যা গ্রামের স্কুল হওয়াতে দুরে বিলে একটি পুরনো ইটের বিল্ডিংয়ে স্কুলটি। দেখে মনে হবে কোন এক আমলে পরিত্যাক্ত সংরক্ষিত রাজকীয় প্রাসাদ।আশপাশ প্রায় মাইল খানিক কোন বাড়ীঘর নেই।রাত বাড়তে থাকে তবুও কি মনে করে যেন ওরা পাচ বন্ধু স্কুল প্রাঙ্গনের দিকে এগিয়ে হঠাৎ থেমে গেল।নিস্তব্ধ পৃথিবীর মৃদু অন্ধকারে কেবল মাত্র দূর আকাশেঁ তারাদের খেলা ধূলা আর ধোয়ার কুন্ডলিগুলো বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে!এক কথা মুহুর্তেই সেখানে একটি ভুঁতুরে পরিবেশে হঠাৎ আলোর বিচ্ছুরন সৃষ্টি হয়।ওরাতো ভয়ে জড়ো সরো হয়ে স্কুল মাঠের এক কোণে একটি কড়ুই বৃক্ষের নীচে বসে পড়ল ঠিক সে সময়  রোবটদের মত কথা গ্যাঙ্গর গোঙ্গর ভেসে আসছে তাদের কানে।অজয় সাহসী এবং বৈজ্ঞানীক বাবা ছিল বলে এ সব বিষয়ে মোটামোটি ভাল জ্ঞান  ছিল তার তাই তার সাথীদের অভয় দিল।
-এই ভয় করিস না…এ ডাক রোবটদের।
ফিস ফিস করে অয়ন বলছে।
-মানে এটা কি ভুতেরও বাপ!~
-আরে না।এটা ভিন গ্রহ থেকে আসা কোন এক আজব যন্ত্র।
-মানে!
-তোরা এখন বুঝবি না,পরে আমি তোদের বুঝিয়ে দেবো।এখন চুপচাপ থাক দেখি রোবটটির দেখা পাই কি না।

চলবে////

  ৯টি মন্তব্য, “খোকার দেশপ্রেম-১ম পর্ব”

    
  1. বাহ,সাইন্দ ফিকশন লেখা আরম্ভ করেছেন? অভিনন্দন ভাই।
    অপেক্ষা করছি ভিনগ্রহের রোবটদের আগমনের।

  2. 
  3. 
  4. আমার প্রিয় বিষয় নিয়ে লিখছেন দেখে খুব ভালো লাগলো ভাই, পরবর্তীরর অপেক্ষায় রইলাম।

  5. 
  6. আমিও পরে বুঝবো মনির ভাই। চালিয়ে জান সাইন্স ফিকশন।