অপু এবং তার কথা

অনুশঙ্কর গঙ্গোম্যাক্সিম ১৭ নভেম্বর ২০১৩, রবিবার, ০১:৪১:৫১পূর্বাহ্ন গল্প ১২ মন্তব্য

রাত নয়টা, সরকারি ডাকবাংলোর একেবারেই পশ্চিম কোণের ছোট্ট রুমটায় বসা অপু ও তার কিছু সাঙ্গপাঙ্গ। সিগারেটের ধোঁয়াতে আচ্ছন্ন পুরো রুম, টেবিলের উপর রাখা হোয়াইট লেভেলের বোতল পাশে স্বচ্ছ গ্লাস। বোতলের স্বচ্ছ তরল গিলে নেশায় টালমাটাল সবাই। নিস্তব্ধতা ভেঙে অপু বলে ওঠে আরেক প্যাক লাগবে এখনো ফিলিংস আসেনি। কিছুক্ষণ পর পিস্তলটা কোমরে গুঁজে ঢুলঢুলে বাড়ির পথে হাটতে শুরু করে।মাথার মধ্যে গুরপাক খাচ্ছে পুরনো সে কথা। সরকারি কলেজ থেকে এমএ পাশ করে বন্ধুরা যখন ঘুষ দিয়ে বিভিন্ন চাকরিতে যোগদান করে অপুর স্বপ্ন তখন রাজনৈতিক নেতা হওয়া। প্রথমে গ্রাম পর্যায়ে রাজনীতিতে যুক্ত হয়। উপজেলা পর্যায়ের বড় নেতাদের তোষামোদ করে সহজেই দাপুটে নেতা হয়ে যায়এলাকায়।বালুরমহাল,হাটবাজার ইজারা, খাসজমিন দখল, টেন্ডারবাজি সবকিছুতেই মোটা অংকের চাঁদায় পকেট সবসময় পূর্ণ থাকতো। ইউএনও,ওসি, গুদাম মাষ্টার সবার সাথে ভালো সম্পর্ক ছিল। প্রতিরাতে মাতাল হয়ে ঘরে ফিরে দেখে সবাই তখন ঘুমিয়ে, পরিবারের কেউ তেমন তার সাথে কথা বলে না। সকালে হয়তো দেখে মা কাঁদছে, অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক বাবা নীরব। ফ্যামিলির নিষেধ আছে যেন কেউ তার টাকা স্পর্শ ও না করে। প্রতিদিন এলাকার শিক্ষিত তরুণ তদবিরের জন্য তার কাছে আসত কিন্তু টাকা ছাড়া সে কোন কাজ করে না।
ছোট বেলায় পাশের বাড়ির মিতুর সাথে বিয়ে ঠিক করেছিল মা,কিন্তু তার চরিত্র দেখে বিয়েতে রাজি নয় মিতু।তারপর ও মা চেষ্টা করেছিল এ আশায় হয়তো বিয়ের পরে ভালো হবে। কিছু দিন পর পাশের গ্রামের মামার বাড়িতে নিয়ে বিয়ে দেওয়া হয় মিতুকে,বর প্রবাসী।
চাইলেই বিয়ের রাতে মিতুকে হয়তো তুলে আনতে পারতো,কিন্তু জোড় করে তো আর ভালোবাসা হয় না। কিছু দিন পর বাবাও অসুস্থ হয়ে মারা যায়, যাওয়ার আগে বলা শেষ কথাটি আজ মনে পড়ে অপুর। একা অন্ধকার রাস্তায় বিরবির করে বলতে থাকে “চরিত্র মানুষের অমূল্য সম্পদ, যা হারালে আর জীবনে কিছুই থাকে না “।

২০২জন ২০২জন
0 Shares

১২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য