অর্পিতা ২

সঞ্জয় কুমার ২১ জুন ২০১৪, শনিবার, ১০:১৮:০২পূর্বাহ্ন বিবিধ ১১ মন্তব্য

বিকালে ক্লাস শেষে সদর হাসপাতালে গেলাম । কিন্তু ওকে কিভাবে খুঁজে পাব ? মোবাইলের কল লিষ্ট চেক করে কাল রাতের নম্বর টা পেলাম ।

এটাই বোধহয় রাজুর সেল ফোন নম্বর ?

হ্যালো রাজু তোমার মা কেমন আছেন ? তোমরা কোন বিল্ডিং এ আছ?

কে বলছেন প্লিজ?

তুমি আমাকে চিনবে না

আমি তোমাদের পরিচিত

ও আচ্ছা আমরা নতুন করোনারি বিল্ডিং এর পিছনে মহিলা ওয়ার্ড দ্বিতীয় তলায় আছি ।

ঠিক আছে

দ্বিতীয় তলায় আসলাম কিন্তু চিনব কিভাবে?
রাজুকে আবার ফোন দিলাম আমার পাশেই ফোনটা বেজে উঠল ।

একি তোমরা বেড পাওনি ?

না

দিদি অনেক চেষ্টা করল কিন্তু পেল না ।

রাজু যে মহিলা টার পাশে বসে আছে ওটাই সম্ভবত ঐ মেয়েটির মা এবং এরা দু জন ভাইবোন । ওনার বয়স চল্লিশের উপরে হতে পারে । এবং কপালে সিঁদুরের চিহ্ন ।

মাসিমার শরীর এখন কেমন ?

ভাল না ডাক্তার বলেছে ব্রেইন স্ট্রোক করেছে জ্ঞান না আসা পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না ।

ব্রেইন স্ট্রোকের রোগী এখনো বেড না দিয়ে ফ্লোরে রেখেছে !!!

কয়েকজনের সাথে কথা বলে বুঝলাম সরকারি হাসপাতাল তদ্বির ছাড়া কাজ হবে না ।

আমার বন্ধু মিলনের কোন এক মামা নাকি সদরে চাকুরি করে । মিলনকে ফোন দিলাম
দোস্ত বড় একটা বিপদে পড়েছি ।

কি হয়েছে বল

আমার এক দূরসম্পর্কের মাসিমা ব্রেইন স্ট্রোক করেছেন

বলিস কি?
এখন কি অবস্থা ?

যশোর সদরে আছে কিন্তু বেড পাইনি একটা বেডের ব্যাবস্থা করতেই হবে

চিন্তা করিস না আমি মামাকে বলে দিচ্ছি তারপর তুই উনার সাথে কথা বল
আর আমি সকালে আসছি
ঠিক আছে
রাখছি ।

ওর মামার দৌলতে দ্রুত বেড পেয়ে গেলাম । কিন্তু সে কই ?

রাজু

তোমার দিদি ?

দিদি তো সকালেই বেরিয়ে গেছে আমার কাছে কিছু বলেনি
আরে ঐ তো দিদি আসছে

রাতের বেলা সে আর এখনকার সে এর মধ্যে অনেক পার্থক্য

বোঝাই যাচ্ছে সারারাত তার উপর দিয়ে ওনেক ঝড় বয়ে গেছে

রাতের বেলা দেখা হয়েছিল এখন চিনতে পারলে হয়

চলবে……..

৩৮৭জন ৩৮৭জন
0 Shares

১১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ