“সুন্দরবন” ও “রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র” “বাঁচাতে হবে সুন্দর বন”
“সুন্দরবন” ও “রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র” “বাঁচাতে হবে সুন্দর বন”
সুদূর অতীতকাল থেকেই বাংলাদেশ একটি ঘন অরণ্যের দেশ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু ব্রিটিশ শাসন থেকেই এ দেশে শুরু হয় বন বা অরণ্য নিধনযঞ্জ। যা আজ পর্যন্ত মহা সমারহে চলছে। যদিও এ ধ্বংস বিপুল জনগোষ্ঠীর মানবিক প্রয়োজনে, তবুও নির্বিচারে গাছপালা কাটার ফলে উজাড় হতে থাকে এদেশের বনজ সম্পদ।
@@সাধারণ কিছু তথ্য: কোন দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য মোট ভূমির ২৫% বনভূমির প্রয়োজন থাকলেও বাংলাদেশে আছে জনপ্রতি মাত্র ০.০২% হেক্টর বা দেশের মোট ভূভাগের মাত্র ১৭%।
বাংলাদেশের মোট বনভূমির একটি বিরাট অংশ হল দেশের দক্ষিণ জেলার ( খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা, পটুয়াখালী, সাতক্ষিরা) উপকূলীয় এলাকা সমূহের সমুদ্রের লোনা পানির প্রভাবে যে ম্যানগ্রোভ বা টাইডাল জাতীয় বন গড়ে উঠেছে তাঁকে সুন্দরবন বলে।
>>যে সুন্দরবন আমাদের গ্রিন হাউস ইফেক্ট থেকে রক্ষা ( আমাদের দেশের বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইড , co2 এর পরিমাণ সহনীয় মাত্রায় রাখার জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সুন্দরবন )করছে সুন্দরবন।
>> যে সুন্দরবন আমাদের দেশের দক্ষিণে অবস্থিত বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা প্লাবন, জলোচ্ছ্বাস থেকে আমাদের মমতাময়ী মায়ের মত প্রতিনিয়ত রক্ষা করছে।
(একটা বিষয় লক্ষ্য করুন ” মহাসেন ” প্রথম আঘাত হেনেছিলে পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা অঞ্চলে আর সেখান থেকেই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সীতাকুণ্ড, ফেনী হয়ে বের হয়ে গিয়েছে। আর যেই অঞ্চলগুলোতে প্রথম আঘাত হানে সেই অঞ্চলগুলো সুন্দরবনের কাছাকাছি অঞ্চল হওয়ার ফলেই কিন্তু মহাসেন এর গতি কমে যায় এবং বৃষ্টির ফলে পরবর্তীতে দুর্বল হয়ে পরে। আর ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হাত থেকে আমরা বেঁচে যাই।এ ভাবে সিডর এর ক্ষত আজও এখনও উপকূলীয় মানুষ বহন করে চলছে।২০০৭ সালের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত আনা সিডর এর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২২০-২৪০ কিমি। সিডর এর এই গতিতে বাধা প্রদান করে আরও ভয়াভয় ক্ষতির কমিয়ে দিয়েছে আমাদের সুন্দরবন ও উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী।
>> সুন্দরবন আমাদের দেশের বায়ুমণ্ডলয় তাপমাত্রার সমতা রক্ষা এবং আর্দ্রতা বৃদ্ধিতে ( বনের গাছপালা সূর্যরশ্মি কে মাটিতে পড়তে বাধা দেয়, ফলে বনের মাটি গরম হয় না, তাই বনের বাতাস মাটির সংস্পর্শে এসে ঠাণ্ডা হয়ে যায়। এছাড়া গাছ প্রস্বেদনের মাধ্যমে বাতাসে জলীয়বাষ্প ছড়িয়ে দেয়। ফলে বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে যায় এবং বাতাসের তাপমাত্রা কমে যায়। যা বীজের অঙ্কুরোদ্গম এবং বৃষ্টিপাতে সহায়তা করে ) সহায়তা করে।
>> সুন্দরবন আমাদের ভূমির ক্ষয়রোধে ( গাছপালার শিকড় মাটিকে দৃঢ়ভাবে আটকে রাখে, গাছপালা বা ঘাস বিহীন মাটি বৃষ্টির তোড়ে বা বন্যার স্রোতে ধুয়ে যায়, এর সাথে ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান পটাশিয়াম, নাইট্রোজেন, ফসফরাস পানিতে ধুয়ে সাগরের পানিতে মিশে যায়। এক হিসেবে দেখা যায় প্রতিবছর পৃথিবী থেকে ৪ বিলিয়ন টন অজৈব এবং ৪০০ মিলিয়ন টন জৈব পদার্থ মাটির গা ধুয়ে সাগরে চলে যায়) ভূমিকা পালন করে।
>> সুন্দরবন ভূমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে ( উপকূলীয় এলাকার বনের গাছের পাতা, ডালপালা, বাকল, শিকড়, পশু ও পাখির মলমুত্র ও দেহাবশেষ মাটিতে মিশে খনিজ ও জৈব সারে পরিণত হয়। এই হিউমাস জাতিও জৈব সার মাটিতে পটাশিয়াম, নাইট্রোজেন, ফসফরাস সরবরাহ করে। উপকূলীয় এলাকার মাটিতে হিউমাস যুক্ত জৈব সার মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ফলে পানি লবণাক্ত হওয়ার ফলেও ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়) সহায়তা করে।
>> সুন্দরবন বায়ু বিশুদ্ধ করতে ( সুন্দরবন ও এর গাছপালা বায়ু থেকে ক্ষতিকারক গ্যাস যেমন-কার্বন ডাই-অক্সাইড -co2, কার্বন মনো-অক্সাইড-CO, ও ধূলি বালি অপসারণ করে নেয় এবং বাতাসে পর্যাপ্ত পরিমাণের অক্সিজেন-O2 সরবরাহ করে) সহায়তা করে।( চলবে)

৪টি মন্তব্য
সুন্দর পোষ্ট তবে আমরা এ ব্যাপারে যে যাই বলি মনে হয় আমরা বলেই যাব আর ওরা ওদের কাজ করেই যাবে।
ভাল লিখেছেন।
সুন্দরবন নিয়ে আপনার লেখা ভালো লেগেছে
সুন্দরবন শুধু আমাদের কাছে একটি বনই নয় এটি আমাদের অহংকার ।
যা আপনি এই পোস্টে লিখেন নি এখন পর্যন্ত , শিরোনামে আছে রামপাল । সে সম্পর্কে আমার চিন্তা ভাবনা আপনার পোস্টে শেয়ার করছি ।
রামপাল শুরু হয়েছিল সুন্দরবন বাঁচাও এই চিন্তা থেকে । শুরুটা হয়েছেই মিথ্যে থেকে । রামপাল থেকে সুন্দরবনের দূরত্ব । জিরো কিলোমিটার । সুতরং নামো সবাই । নামলাম । রামপালের ভুমির নীচে চাকা আছে । মানুষ দেখে লজ্জাবতী লতার মত ধীরে ধীরে সে দূরে সরে যাচ্ছে । প্রথমে ১.৯০ কিঃমিঃ , এরপর ৪ কিঃমিঃ , ৮ কিঃমিঃ , ১৪ কিঃমিঃ ।
পরবর্তী প্রচার – শেয়ার । ভারত বাংলাদেশ ৫০-৫০ শেয়ার । ৭০% লোন আনবে বাংলাদেশ , নগদ ১৫% দিবে উভয় পক্ষ । লোনের টাকা পরিশোধ করবে বাংলাদেশ । অথচ লাভের শেয়ার সমান।
এই প্রচারটি প্রথম হলো না কেনো ? শুরুটা মিথ্যে দিয়ে কেন ? উদ্দেশ্য কি মহৎ বলা যায় , যখন কোন কিছুর শুরুটা মিথ্যে দিয়ে হয় ?
পরিবেশ , বিপর্যয় এবং আনুসাংগিক বিবেচনায় রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে আন্দোলনটি হওয়া উচিৎ ছিল । কিন্তু তা হয়নি। কেন হয়নি ? কারন রুপপুর টা মানুষ ততটা খাবেনা । সুন্দরবন নিয়ে আবেগ আছে মানুষের । একনামে চিনে সবাই । ভারতের স্বার্থের কথা বলে মানুষকে উত্তেজিত করা যাবে । রুপপুরকে নিয়ে নয়।
সুন্দরবনের ক্ষতি করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র চাই না । কিন্তু ভবিষ্যতে কোন এক কালে যদি ক্ষতি হয় , এই চিন্তায় রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা যাবেনা , এটা কোন যুক্তি নয় । তাহলে আমাদের দক্ষিনাঞ্চলে ঘড় বাড়ি , ইন্ডাস্ট্রি নির্মাণ বন্ধ করে উত্তরাঞ্চলে চলে যেতে হয় । কারন ভবিষ্যতে কোন এক সময় সমগ্র দক্ষিনাঞ্চল সমুদ্রে পরিনত হবে ।
২ নম্বর , পড়ুন সব বুজবেন