মূল লেখায় যান

সাবধান আসছে কোভিড-১৯ করোনার দ্বিতীয় ঢেউ

ইঞ্জাসমসাময়িক২৫টি মন্তব্য

কোভিড-১৯ করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসছে, তাও প্রথমবারের চাইতেও ভয়ংকর রূপে সে আসছে।
হয়ত আপনাদের জিজ্ঞাসা থাকতে পারে, কিভাবে তা ভয়ংকর হতে পারে?

তা বলার আগে জেনে নিই বর্তমান কোভিড-১৯ এর অবস্থা কি?

কোভিড-১৯ রোগ বিস্তারের পর থেকে গত ১১ মাসে বিশ্বজুড়ে ১২ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে এক-চতুর্থাংশের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ইউরোপে, সবচাইতে বেশি মৃত্যু হয়েছে আমেরিকায়।

মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ নিয়ে দেশে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬ হাজার ১৫৯জনে। নতুন করে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৭৬৭ জন।

মোট শনাক্ত ৪ লাখ ২৮ হাজার ৯৬৫ জন।

নতুন করে পৌনে ৭ লাখ মানুষের শরীরে মিললো কোভিড নাইনটিন, সবমিলে শনাক্তের সংখ্যা এখন ৫ কোটি ৩০ লাখের ওপর, মৃত্যু আর সংক্রমণের শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্রই, দেশটিতে আরও ১১শ’ মৃত্যুতে মোট প্রাণহানি ছাড়ালো দু’লাখ ৪৮ হাজার, সংক্রমিত এক কোটি ৮ লাখের বেশি মানুষ।

আপনারা সবাই জানেন পৃথিবী ব্যাপি কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়ে গেছে, ফলশ্রুতিতে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশে লকডাউন দিতে বাধ্য হয়েছে তাদের সরকার, তাও কঠোরভাবে পালন করা হচ্ছে লকডাউন, প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা।

এই দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রধান কারণ শীত হানা দিয়েছে, আপনারা জানেন শীতকালীন সময়েই সর্দি, হাঁচি কাশি, জ্বর, হাঁপানি সবচাইতে বেশি আক্রান্ত হয় মানুষ, এইসব রোগই ঠান্ডা জনিত, আর করোনা তো এই শীতেই শক্তিশালী হবে উল্লেক্ষিত কারণে।

এই শীতে আপনি বুঝবেনই না কখন আক্রান্ত হচ্ছেন, এছাড়া করোনা রোগীদের সর্দি, হাঁচি কাশি থেকে সৃষ্ট ব্যাকটেরিয়া অধিক সক্রিয় থাকবে।

আপনারা সবাই জানেন মানুষের হাঁচির গতিবেগ ঘন্টায় ২৪৫ কি.মি. তাহলে বুঝতেই পারছেন করোনা আক্রান্ত কেউ হাঁচি দিলে আসেপাশে কি হতে পারে, বিজ্ঞানিরা বলছেন হাঁচির মাধ্যমে ছড়ানো ব্যাকটেরিয়া প্রায় ১২ মিনিট বাতাসে ভেসে থাকে, তাহলে বুঝুন অবস্থা কি হতে পারে।

করণীয়ঃ

আমি আগেও করোনা আসার আগে লিখেছিলাম এবং বলেছিলাম করণীয় কি, আবারও বলছি।

সরকারের উচিত নিম্নলিখিত ব্যবস্থা নেওয়াঃ

১) এই মুহূর্তেই সকল ইন্টারন্যাশনাল বিমান উড্ডয়ন এবং অবতরণ বন্ধ করা।

২) সকল হাসপাতালকে ইমারজেন্সি ইকুইপমেন্ট দিয়ে রেডি করা।

৩) সকল ডাক্তার, নার্সদের স্ট্যান্ডবাই করে রাখা।

৪) ডাক্তার, নার্স এবং সংস্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মিদের থাকার জন্য উন্নতমানের হোটেল রুমের ব্যবস্থা করা, যেন তাদের মাধ্যমে তাদের পরিবার আক্রান্ত না হয়।

৫) প্রত্যেকটা হাসপাতালে গতবার রোগীদের উন্নতমানের খাবার সরবরাহ করা হয়নি, এইবার যেন সেই ব্যবস্থা করা হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

৬) সকল ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মিদের প্রটেকশন ড্রেস পিপিই এবং এন-৯৫ মাস্কের ব্যবস্থা করা।

৭) সকল প্রাইভেট হাসপাতাল গুলোতে করোনা আক্রান্তদের ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে, দরকার হলে সরকার জরুরি আইনের আওতায় সকল প্রাইভেট হাসপাতালকে সরকারের আওতায় আনতে হবে।

৮) করোনা আক্তান্তের হার বাড়তে শুরু করলে দ্রুত সকল ধরণের পরিবহন বন্ধ করতে হবে।

৯) কোভিড-১৯ টেস্টের জন্য পাড়ায় পাড়ায় টেস্ট সেন্টারের ব্যবস্থা করা উচিত।

১০) বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান করানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

১১) উপযুক্ত সময়ে জরুরি অবস্থা জারি করতে হবে এবং লকডাউনের আওতায় আনতে হবে সারা দেশকে।

১২)  সরকারের উচিত এখনই সব বিষয়ে এলার্ট জারি করা এবং স্বাস্থ্য বিভাগকে তৈয়ার রাখা। 

আমাদের করণীয়ঃ

আমাদের উচিত এখনই প্রস্তুতি নেওয়া, সকল ধরণের প্রটেকশন নেওয়া, মাস্ক পরিধান করা, সবসময় হাত, নাক পানি দিয়ে পরিস্কার রাখা, সাবান দিয়ে ঘন ঘন হাত ধোয়া।

কারো কোনো ধরণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতাল, নতুবা নিজেকে আইসোলেটেড করা। 

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের রক্ষা করুন। 

 

সমাপ্ত। 

ছবিঃ গুগল।

মোট পড়েছেনঃ ১৮৮৫জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

২৫টি মন্তব্য

  1. সব ঠিক আছে সরকার শুধুই বাস্তবে পালিন করতে বাধ্য করবে মাস্ক পরিধান করার জন্য।

    আর এতে পুলিশের ইনকাম বাড়বে তাই পুলিশ সজাগ থাকবে। ইনশাল্লাহ।

      1. ভাইজান আপনার কথাই আস্থা আছে কিন্তু এই গুল বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব সরকারের , তাই আমাদের দেশের সরকার তা বাস্তবায়ন করার স্বদিচ্ছা বা তাগিদ কতটুকু রাখে সেটার উপর আমার বিশ্বাস নাই।
        কারণ গত করোনা আক্রমনের সময় গ্রামে ছিলাম কোন কোন দোকান চলছে আবার কোন কোন দোকান বন্ধ। সেখানে থেকে যা দেখেছি তাই বললাম।

  2. আপনার মূল্যবান পোস্ট এর অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া। দেখা যাক কি হয়। মানুষ কিছুই মানছে না। পরিস্থিতি এবার আরো খারাপ হবার ই কথা। সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্বে থেকে সাবধান থাকতে হবে। একরাশ শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইলো। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন

  3. আসছে ধেয়ে দ্বিতীয় ঢেউ
    করোনা নামক অভিসাপ।
    সবাই যদি মাস্ক পড়ে ভাই
    করোনা পালাবে বাপরে বাপ।
    আসুন সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি
    ধন্যবাদ সুন্দর পোষ্ট। শুভ কামনা।

  4. আমারা যতই চিল্লাফাল্লা করি আমজনতা এখনো সচেতন হয়েছে বলে মনে হয়না। অথচ করোনা ভয়ঙ্করী হয়ে উঠছে। আমরা সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মানছিনা অনেকেই।

    নিজের সচেতনতাই জরুরি হয়ে পড়েছে এখন। চমৎকার পোষ্ট দাদা।

  5. প্রথম ঢেউয়ে বাঙালী জাতিকে যেহেতু কাবু করতে পারেনি তাই দ্বিতীয় কোভিডের ঢেউয়ে কিছু হবে না এই জাতির। কারন এই জাতির শরীর যত না বড় তা চেয়ে বড় ভিটামিন ডি। যার কারনে কোভিড হার মানতে বাধ্য। আমরা পরিশ্রমী জাতি। যারা এলিট তারাই আছেন সংকটে। সময়োপযোগী লেখা।

  6. সাবধানে থাকা ছাড়া বিকল্প ব্যবস্থা নেই। যত দিন যাচ্ছে করোনার ভয়াবহতা কেবলই বিস্তৃত হচ্ছে, কিন্তু মানুষ নির্বিকার হয়ে আছে। খুব দুশ্চিন্তায় আছি।
    ধন্যবাদ ভাইজান সময়োপযোগী পোস্ট দেয়ার জন্যে।
    ভালো থাকুন, নিরাপদে থাকুন।
    শুভ কামনা 🌹🌹

  7. সরকারের পদক্ষেপের ভরসায় না থেকে নিজেরা যতটা সম্ভব সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। দেশে লক ডাউন আর সম্ভব না। গত লকডাউনের অভিজ্ঞতা- যারা বাসা থেকে বেড় হবার তারা বেড় হবেই, কোনো ভাবেই তাকে আটকে রাখা যাবে না।
    আমাদের দেশে সংক্রমন কম উন্নত দেশের তুলনায়। ভেজাল খেয়ে আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে সম্ভবত। নইলে করোনাকে আমরা যেভাবে উপেক্ষা করছি, তাতে সংক্রমন এ কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু হবার কথা।
    সরকার করোনা উপলক্ষে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছেন যার অধিকাংশই পিপড়া খেয়ে ফেলেছে।
    আপনার সমস্ত প্রস্তাবের সাথেই একমত।
    এমন পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ প্রিয় ব্লগার।
    শুভ কামনা।

    1. সত্যি ভাইজান, এই দেশের মানুষ করোনাকে খুবই অবহেলা করেছে এবং করছে, আমি ভয় পাচ্ছি এই শীতে করোনা না আবার প্রতিশোধ নিয়ে নেয়, শীতে ১৮° তাপমাত্রায় করোনা ভাইরাস ২৪ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে, তাহলে কি যে হবে তা ভেবেই আমি আতংকিত হচ্ছি।
      সরকারের ব্যাপারে বলে আর লাভ নেই, যেখানে অর্থব একজন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আছে, সেখানে ভালো আর কিই বা হতে পারে?
      ধন্যবাদ ভাইজান।