মূল লেখায় যান

মাইরের মধ্যেও ভালোবাসা!

পুষ্পিতা আনন্দিতাএকান্ত অনুভূতি৪টি মন্তব্য

এরে বলে ভালবাসার ঠেলায় মারবেল কান্ধে উঠে যাওয়া, ইনি আবার মহিলা, মারবেলের বদলে কি উঠেছে সেই জানে। এইটা ফেইক আইডি হইতে পারে, তবে এমন ভাবনার আপার অভাব নেই। আমি নিজেই চিনি কয়েকজনকে। এছাড়া গার্লস গ্রুপে কমেন্ট দেখলে বোঝা যায়। এবিউসিভ রিলেশনের কথা বললেই অনেকেই যেমনে ধর্মকর্ম আর ভালবাসা দিয়ে  স্বামীরে ঠিক  করে দিতে বলে আর একটু আধটু এমন হয় বলে জ্ঞান দেয় যে দেখলেই অস্বস্তি হয়।

 

শুনেন আপারা প্রথম দিন মারার পরে হাউমাউ করে কাঁদছে, পরেরদিন একটু কাঁদবে, এরপর একটু নাক টানবে, এরপর কান্না বন্ধ, উল্টা গালি দিতে দিতে আনন্দের সাথে মারবে, ভাববে ভাল শিক্ষা দিচ্ছে। একসময় এই মার দেওয়া তার রেগুলার কাজ হবে। এখন তুই বলার জন্য মারছে, এরপর চোখ তুলে তাকালে গুতা দিবে, তরকারিতে লবণ কম হলে জুতাইতে জুতাইতে মা$গী বলে গালি দিবে। আপনার হয়তো তখনও সেইটারে ভালবাসা মনে হবে, পুরুষমানুষের একটু রাগ থাকে ভাববেন।

কিন্তু আপনি এইটা ভাববেন না যে এতো যন্ত্রণার পরেও আপনার তো রাগের মাথায় হাত ওঠাতে ইচ্ছে করেনা! তার মানে এইটার পিছনে কি কারণ রাগ নাকি অন্য কিছু? এইযে আজকে হাত তুললো এইটা হলো সূচনা, সামনে পুরো রচনা অপেক্ষা করছে। বন্ধ করতে চাইলে ওইযে ভেউভেউ করে কান্দার সময়ে জায়গামতো আপনিও একটা দিয়ে এরপর উনার চেয়ে আরও বেশি  কান্দাকান্দি করে বোঝায়ে দেন যে আপনার গায়ে হাত তোলার অধিকার কারও নেই।

আর যদি তা না পারে তাইলে ফেবুতে এইসব মধুর ভালবাসা বলে গ্লোরিফাই করে অন্য মেয়েদের সর্বনাশ কইরেন না। আপনার কাছে গু রে ফালুদা মনে হইতে পারে, কিন্তু গু যতোই ডেকোরেট করেন না কেন তা গু ই থাকে, খাদ্য  হইতে পারে না। প্লিজ দুর্গন্ধ ছড়াইয়েন না।

পুস্পিতা আনন্দিতা,

নিউইয়র্ক, আমেরিকা।

মোট পড়েছেনঃ ৭২১জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

৪টি মন্তব্য

  1. আমাদের দেশের সামাজিক অবস্থায় কোনো কিছুই নারীর পক্ষে নয়। স্বামী মাতাল, নেশাখোর, কথায় কথায় স্ত্রীকে নির্যাতন করে, এখেত্রেও দেখা যায় স্ত্রীকে অনেকে নছিয়ত করে যে পুরুষ কিছুটা এমনি, তাদের ভালোবেসে ঠিক করতে হয়। অনেক নারী এই ব্রত ঠিক রেখে জীবন অতিক্রম করে। মাইরের মধ্যেও ভালোবাসা খুঁজে।
    স্ক্রিন শট এর লেখা পড়ে চউক্ষে পানি এসে গেলু 🙂

  2. আমাদের সমাজে এটাই সমস্যা ভালবাসা বুঝে না
    ভালবাসা বলতে বুঝে টাকাপায়সা সোনা গয়না কাপড়চুপড়
    আত্মবিলাসী আর কত কি? কিন্তু ভালবাসা বা মানুষকে
    বুঝাই হলো সচেয়ে বড় ভালবাসা—–
    তাহলেই রাগারাগি ঝগড়াঝাটি থাপ্পড় মারা লাগবে না
    অনেক শুভ কামনা জানাই

  3. সোস্যাল মিডিয়ায় যা খুশি বলা যায় কিন্তু বাস্তবে কে কেমন তার দেখা ক’জনা পায়!
    তবে এই মিডিয়ার প্রভাব পড়ে সমাজে-সংসারে। অনেকে জেনে না-জেনেও বিভিন্ন কায়দা কসরত অনুসরণ করে নিজস্ব জীবন ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।
    মজা করার উদ্যেশ্য দেয়া পোস্ট গুলোও দেয়ার সময় সচেতনতা রক্ষা করা জরুরী।

    শুভ কামনা 🌹🌹

  4. ভাবছি লিখে ফেলবো। সম্প্রতি প্রেমিক, স্বামী নয় কিন্তু। প্রেমিক তার গফকে তার বাসায় গিয়ে বেধরক পিটিয়েছে। কালো ছোপ ছোপ দাগ নিয়ে মেয়ে বলেছে- আমি তবুও তাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না।
    ছ্যাচড়া, সাইকো এসব। আত্মসম্মান বলতে কিছু নেই। পুরুষের তলায় পরতেই হবে। যেন এটাই জীবন।।
    ও, মেয়েটি ঢাকা ভার্সিটি থেকে ইংলিশ এবং ব্যাংকে চাকুরী করে।