মূল লেখায় যান

বাবা’র হাতখানি

রিমি রুম্মানএকান্ত অনুভূতি২০টি মন্তব্য

11169852_857063354363715_397438550533279473_n
আমার সাঁতার শেখা লেক। বাবার হাতে আমার ছোট দুটি হাত শক্ত করে ধরা। হাত-পা ছুঁড়ছি, ভেসে থাকার প্রাণপণ চেষ্টায়। একদিন, দু’দিন। অতঃপর একদিন হাত দু’টি ছেড়ে দিয়ে একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকেন বাবা। আমি হাবুডুবু খেতে খেতে, তলিয়ে যেতে যেতে ভেসে উঠি। প্রাণপণ চেষ্টায় বাবার হাত দু’টি ধরে ফেলি। বাবা হাসেন বিজয়ীর হাসি। আমি অঝোরে কাঁদি। বাড়ি ফিরে মা’কে অনুযোগ করি__ ডুবে যাচ্ছিলাম, মারা যাচ্ছিলাম, তবুও বাবা হাত বাড়িয়ে টেনে তোলেনি, বাঁচায়নি…

বাবা’রা পরম মমতায়, যত্নে, আদরে আগলে রাখা কন্যাদের হাত জীবনে একবারই ছেড়ে দেন। সানাইয়ের করুণ সুরের সাথে সাথে, হাত দু’খানি ছেড়ে দিয়ে একটু দূরে দাঁড়িয়ে অসহায় চাহনিতে বাঁধভাঙা জল ঝরান সকলের অগোচরে…

জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতে ডুবে যাওয়া থেকে একা একা বেঁচে উঠা শিখিয়ে,
অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা নির্ভরতার হাত দু’খানি, প্রিয় মুখখানি কেমন দ্রুততার সাথে হারায়, হায় !

মোট পড়েছেনঃ ৬২৬জনআজ পড়েছেনঃ ০জন
ঘরে বসেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

২০টি মন্তব্য

  1. সানাইয়ের করুণ সুরের সাথে সাথে, হাত দু’খানি ছেড়ে দিয়ে একটু দূরে দাঁড়িয়ে অসহায় চাহনিতে বাঁধভাঙা জল ঝরান সকলের অগোচরে————–এমনটা ভাবতেই জানি কেমন লাগছে 🙁

  2. আপনার স্মৃতিময় জীবনের কথা গুলো এমন ভাবে লিখেন যে পড়তে গেলে নিজেকে সামলে নিতে পারি না হঠাৎ গা শির শির করে উঠে।সত্যি পিতার নীরব দরদের কোন তুলনা নেই।প্রকাশে কাদলে মন হালকা হয় যা সাধারনতঃ নারীরা করেন পুরুষের কষ্টগুলো নীরব কষ্টের মাঝেই মরে।ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর লেখার জন্য।

    1. কন্যা সন্তানের বাবা’রা বড় বেশি অসহায়। আদরের কন্যাটিকে একজন পাত্রের হাতে তুলে দিয়ে বলেন, “বাবা আমার মেয়েটি অনেক আদরে মানুষ করেছি, তুমি তাঁকে কষ্ট দিও না।” কিন্তু একথা ক’জন মনে রাখেন ?

  3. আপু আপনি সাতার জানেন?আমি জানিনা 🙁 আব্বু আমার হাত এখনো ধরে রেখেছেন,কবে যে ছাড়বেন?আপনার লেখায় খুব মায়া আপু।

  4. বাবা’রা ভালোবাসা দেখাতে পারে না। কিছু হৃদয় চিরে দীর্ঘশ্বাস নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন অদুরেই। অনেক বাবা আবার নিজেকে , আবেগকে সামলাতে পারেন না, তাই সবার সামনেই জল ঝরান।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।

অনলাইনে ডাক্তার দেখাতে চান?