মূল লেখায় যান

ফিরাইয়া দে

নিতাই বাবুএকান্ত অনুভূতি৩০টি মন্তব্য

যেসুম গেরামের বন্ধুগো লগে উড়াইছি ঘুড়ি,
খেলছিলাম ফুটবল, গোল্লাছুট, কানামাছি।
আইস্বা খেইল্লা দিনগুলা কাডাই দিছি!

যেসুম হগলতে মিল্লা সাদাকালা টেলিভিশন দেখতে যাইয়া মাইষের আতে খাইছি কত মাইরগুতা।
ইশকুলে খাইছি মাস্টারের বেতের গুতা!

যেসুম চারআনা দিয়া বুটভাজা, বাদাম, লেবনচুষ, আইসক্রিম, মালাই খাইছি মনে অনন্দ লইয়া।
হারা দুপুর কাডাই দিছি নদীতে হাতরাইয়া।

যেসুম বড়দা’র কান্দে চইড়া মেলায় যাইয়া কিন্না আনতাম, নিমকি, জিলাপি বাতাসা সন্দেশ।
হেই দিনগুলা অহনে অইয়া গেছে নিরুদ্দেশ!

যেসুম মজা খাওনের লাইগা বাবার পকেট থেইক্কা পাঁচপাই, দশপাই চুরি কইয়া রাখছি পলাইয়া!
হেই দিনগুলা কই গেলগা আরাইয়া?

যেসুম ঘুদারা পাড় অইয়া, পাঁচপাই বাঁচানের লাইগা, পরনের হাপপেন্ট খুইল্লা আন্দা-গুন্দা দৌড়াইছিলাম।
দশপাই লগে লইয়া টাউন দেখতে গেছিলাম!

যেসুম চলছিল সিনামা হলে দি রেইন ছায়াছবি। অভিনয় করছিলো, নায়ক ওয়াসিম ওলিভিয়া।
হেই সিনামা দেখছি বই কিননের টেকা দিয়া।

যেসুম বাবার কান্দে চইড়া ঘরতাম! মা’র কোলে আর বড় দিদিগো কোলে কোলে থাকতাম হারাদিন।
সময়, তুই আমারে ফিরাইয়া দে হেইদিন?

যেসুম মা আমারে ছাড়া থাকতে পারতো না, আমিও থাকতে পারতাম না! মা’র গলেই থাকতাম হারাদিন।
সময়, তুই আমারে ফিরাইয়া দে হেইদিন!

মোট পড়েছেনঃ ১৫৮৪জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

৩০টি মন্তব্য

    1. ফেলে আসা সেসব দিনগুলো কখনো আর ফিরে আসবে না জানি। তবুও প্রাণের সোনেলায় স্মৃতি করে রেখে দিলাম, সেসব দিনগুলো।
      সুন্দর গঠনমূলক মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি, শ্রদ্ধেয় দাদা।

  1. “যেসুম চারআনা দিয়া বুটভাজা, বাদাম, লেবনচুষ, আইসক্রিম, মালাই খাইছি মনে অনন্দ লইয়া।
    হারা দুপুর কাডাই দিছি নদীতে হাতরাইয়া”
    নষ্টালজিক লেখা। শুভেচ্ছা জানবেন!

  2. সোনালী দিনের স্মৃতি সোনেলায়।
    স্বর্নালী শুভেচ্ছা আপনাকে।

    যেসুম” শব্দটা আমাদের ওইদিকে শুনিনি, বাদবাকি প্রায় শব্দগুলির সাথে আমি পরিচিত।

    চমৎকার হইছে।

    1. যেসুম মানে ‘যে-সময়’। কোনসুম মানে ‘কোন সময়’। হেসুম মানে ‘তখনকার সময়’। অহন মানে ‘এখন’। তহন মানে ‘তখন’।
      এবার হয়তো বুঝতে আর অসুবিধা হবে না নিশ্চয়।
      মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি, শ্রদ্ধেয় দাদা।

    1. আমি ফিরে যেতে চাইছি ১৯৭১-৭২ সালে। সেদিন আরও হবে না নিশ্চয়! তবুও স্মৃতি করে রেখে দিলাম সোনেলার উঠোনে সবার মাঝে।
      সুন্দর মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি, প্রিয় কবি দাদা।

  3. সেই সময় আর নেই, গোল্লাছুট, ছি বুড়ি, দাঁড়িয়াবান্ধা এসব আমাদের প্রিয় খেলা ছিলো। এখন সবাই মোবাইল টেপাটিপিতেই ব্যস্ত।

    খেলার মাঠেরও বড্ড অভাব দাদা। দারুণ একটি বিষয় নিয়ে লিখলেন।

    1. তা আর হবে না নিশ্চয়! তবুও আজকাল ছেলেপুলেদের খেলা দেখে সেইসব স্মৃতিতে ফিরে যেতে মন চায়, দাদা।
      সুন্দর গঠনমূলক মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি, শ্রদ্ধেয় তৌহিদ দাদা।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।