মূল লেখায় যান

পড়শী মোর

হালিমা আক্তারকবিতা২৫টি মন্তব্য

বেশকিছু দিন ধরে কলমে নতুন লেখার সৃষ্টি হচ্ছে না। হয়তো কলমের ধার কমে গেছে। তাই ডায়রি খুঁজে অনেক পুরানো লেখা পোস্ট করলাম। কিছু এডিট করা।

জন্মের পর থেকেই
হয়ে যাই মোরা অসহায়,
চোখ মেলেই দেখতে পাই
জমেছে মেঘ
বাবা মার মুখ খানায়।

সাথে আছে প্রতিবেশীর
না না ভাবনা,
সোনাদানা টাকা পয়সা
জমিয়ে রাখো বাক্স কয়খানা।

এভাবেই যায় কেটে দিন
হতে থাকি বড়
যদিও আদর যত্নের
কমতি ছিল কিনা
হিসাব করিনি কখনো।

মাঝে মাঝে শুনি
পাড়া পড়শীর কথা,
মেয়েতো বড় হয়ে গেছে
এবার দিয়ে দাও বিয়ে থা।

মনে মনে হাসি
যার মাথা তার নাই ব্যথা
পড়শীর নির্ঘুম ভাবনা।

কেউ কেউ বলে
মেয়েমানুষ করবে
আর কত লেখা পড়া?
বয়স হয়ে গেলে
ভালো পাত্রের পাবেনা দেখা।

হায় হায় এতো ভালো প্রতিবেশী
কত তাদের ভাবনা,
অন্যের চিন্তায় মশগুল সারাবেলা।

তারিখ –৩০/১২/৯২

মোট পড়েছেনঃ ৮৯৬জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

২৫টি মন্তব্য

  1. মেয়ে জন্মে বাবা মাও খুশি হয়না। অথচ সন্তান হিসেবে বড় করে তুললে কোন চিন্তাই থাকার কথা না।
    আর ঐ প্রতিবেশী হলো ‘গায়ে মানে না আপনি মোড়ল’। সেধে হলেও আপনাকে সুপরামর্শ দেবার জন্য ওঁত পেতে থাকে।
    ভালো সময়ের প্রত্যাশায় ,, শুভকামনা।

    1. আপা একদম সত্যি বলেছেন। অনেক বাবা-মা ও মেয়ে সন্তান জন্মে খুশি হয়না। আর কিছু প্রতিবেশী থাকেন যারা বিনা পয়সায় উপদেশে দিতে কার্পণ্য করেনা। সুন্দর মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ও শুভকামনা রইলো।

  2. এ যেন চিরন্তর জ্বালা
    আধুনিক সভ্যতায় যদিও প্রভাব কিছুটা কমেছে
    তবুও অভ্যন্তরে যেন বয়ে চলে বাক্য বাণের কর্কশ ধারা।
    আন্তরিক শুভ কামনা রাখলাম পাতায় নিরন্তর।

  3. হেঁকে যাওয়া ধারওয়ালাকে ডেকে একটু ধারিয়ে নিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়!!
    আমাদের পড়শিরা আসলেই পড়শি, অন্যের চিন্তায় মশগুল। এটি ই আমাদের সমাজ, এভাবেই সামাজিকতা আমাদের।

  4. পাড়া পড়শী , আত্মীয়-স্বজন দের এমন আচরণের জন্য বাবা-মা ও মেয়ের আগমনে থাকে চিন্তিত তাই তারা কন্যাশিশুর জন্মে আনন্দিত না হয়ে ম্লান হয়ে যায়। বাস্তবতা এটাই। শুভ কামনা রইলো

  5. আমার যখন লেখা আসেনা তখন আমি লেখা থেকে বিরতি নেই। আপনিও এরকমটা করে দেখতে পারেন, এতে মস্তিষ্কের বিশ্রাম হয়। আমাদের আশেপাশে এরকম অনেক লোকই থাকে যাদের কোন কাজ নেই শুধু অন্যের কাজ নিয়ে সমালোচনা করা ছাড়া। তাদের ইগনোর করুন আপু। শুভকামনা।

  6. কিছু পড়শী এমন থাকে, যারা মনে করে মেয়েদের জনম-জীবন যেনো বিয়েতেই সমাপ্ত। যদিও এইসকল সমালোচক পড়শিদের মাঝে নারী পড়শির সংখ্যা বেশি। আবার কিছু পুরুষ পড়শীও থাকে, যাদেরকে কারো বিপদে-আপদে পাশে পাওয়া যায় না, কিন্তু পরের ঘরের মেয়েদের নিয়ে তাদের উৎকন্ঠিত হতে দেখা যায়। আমাদের বিচিত্র সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো এইসব বৈচিত্র্যময় পড়শী।

    শুভ কামনা 🌹🌹

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।