মূল লেখায় যান

কৃষ্ণচূড়ার হাতছানি-১

মুক্তা ইসলামগল্প৩০টি মন্তব্য

সােহিনী খুব তাড়াহুড়া করে পেঁয়াজ কুচি করছেন । এক চুলায় এক পাতিল চাল ফুটছে , অন্য চুলায় মসুরের ডাল ফুটে চুলার উপরে ডালের হলদে ফেনাগুলাে বারবার গরিয়ে পড়ছে। মুহুর্তেই খচ করে সােহিনীর ডান হাতের মধ্যমা আঙ্গুলটি কেটে গেল ধারাল বটির আঘাতে। সােহিনীর আঙ্গুল থেকে ক্রমাগত রক্ত গড়িয়ে পরছে মেঝেতে। সে খুব জোরে জোরে তার স্বামী হাসনাত সাহেবকে ডাকছেন,“ এই শুনছাে! এই শুনছাে! আমার আঙ্গুল কেটে গেছে!” সােহিনীর চিৎকার শুনে তার স্বামী হাসনাত সাহেব দ্রুত ছুটে এলেন হাতে এক বােতল স্যাভলন,তুলার একটা প্যাকেট আর এক পিছ ওয়ান টাইম প্লাষ্টার নিয়ে। কাটা আঙ্গুল নিয়ে স্ত্রীকে মূর্তির মত দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে হাসনাত সাহেব মুচকি হেসে বললেন “ এটা কিছু না, ঠিক হয়ে যাবে। ” এই বলে খুব দ্রুত তুলায় স্যাভলন মিশিয়ে রক্তগুলাে পরিষ্কার করে আঙ্গুলের ক্ষত স্থানটিতে প্লাষ্টার করে দিলেন। সােহিনীর ব্যস্তময় চেহারা দেখে হাসনাত সাহেব আবারও মুচকি হেসে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “ এই তুমি এত ব্যস্ত হয়ে সকাল সকাল রান্না করছাে কেন? আমি তাে সকালে ভাত খাই না। সেটা তো তুমি জানােই! আজও কি তুমি বইমেলায় যাবে নাকি? নাকি আজ মিরপুর যাবে, তােমার বাবার বাড়িতে? মা’কে কি দেখতে খুব মন চাচ্ছে? এই তুমি কথা বলছ না কেন? সােহিনী, সােহিনী! রাগ করেছ আমার উপর? “

মোট পড়েছেনঃ ১৩০৩জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

৩০টি মন্তব্য

  1. হাসনাত সাহেব দেখছি সোহিনীকে অনেক ভালোবাসেন!!

    দীর্ঘদিন পর তোমাকে ব্লগে দেখে খুব খুশি হয়েছি মুক্তা। এটা যেহেতু প্রথম পর্ব, তারমানে তুমি পরবর্তি পর্ব নিয়ে আবার আসছো 🙂
    তাড়াতাড়ি এসো। আমরা পরের পর্বের অপেক্ষায় আছি। শুভ কামনা ❤❤

    1. হুমমম আপু এ গল্পে হাসানাত সাহেব সোহিনীকে সত্যিই অনেক ভালবাসে। ২য় পর্ব নিয়ে খুব শীর্ঘই আমি হাজির হচ্ছি ভালবাসার সোনেলার উঠোনে। সে পর্যন্ত অপেক্ষায় থেকো। ধন্যবাদ আপু তোমাকে।

  2. সোহিনী রাগ করেনি। করেছে অভিমান। ধরেছে বায়না। যার কারণেই সোহিনী কথা কয় না।
    সোহিনীকে নিয়ে সিঙ্গাপুরে মার্কেট করতে যাবে বললেই, সোহিনী হাসি দিয়ে হাসনাত সাহেবকে বুকে জরিয়ে ধরবে।
    বড়লোকের মেয়েরা দেশবিদেশের বড়সড় মার্কেটে যাবার জন্য এমনিতেই বায়না ধরে।

    1. একদম সঠিক বলেছেন দাদা। এটা রাগ না অভিমান। তবে কিসের অভিমান সেটাই দেখার পালা। সে পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকুন। অশেষ ধন্যবাদ দাদা সেই সাথে শারদীয় দূর্গা পূজার শুভেচ্ছা….

  3. আপুটি নীড়ে ফিরে এসেছে খুব শান্তি লাগছে তাও আবার সিরিজ লেখা নিয়ে। গল্পের শুরুটা মনে হল উভয় একে অন্যকে বেশ ভালবাসে।সামান্য আঙ্গুল কেটে যাওয়াতে স্বামীর যে আকুতি তা অনন্য। খুব ভাল লাগছে শুরুটা। শুভেচ্ছা শারদীয় দূর্গাৎসব।

    1. অবশ্যই ভাইয়া আপনাদের সকলের ভালবাসার টান কি উপেক্ষা করার যায়? যায় না। তাই চলে আসলাম। এবং আর যাবও না আপনাদের ছেড়ে। আপনাকে ধন্যবাদ আর শারদীয় দূর্গা উৎসবের শুভে..

    1. হাহা আপনার পিচ্চি আপু চলে আসছে ভাইয়া আপনাদের কাছে। সে নাকি আর যাবে না আপনাদের ছেড়ে। অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাকে আর শারদীয় দূর্গা উৎসবের শুভেচ্ছা।

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।