মূল লেখায় যান

একজন স্বপ্নবাজের স্বপ্নের সোপান

ইসমাইল জসীমবিবিধ১৫টি মন্তব্য

নিজে কখনো ভাবি নি আমার আরেকটি পরিচয় নিয়ে এগিয়ে যাবো। লেখালেখি করতাম সেই কিশোর বয়েস থেকেই। কিন্তু আঁকাআকিঁ? আমাকে দিয়ে হয়নি কখনো। চিন্তাও করিনি কোনদিন আমিও আঁকতে পারবো। ‘রঙ তুলিতে চুপচাপ’ আমার রঙ তুলি সবসময় চুপচাপই ছিলো । কখনো দৌড়ঝাপ করেনি। কম্পিউটারে হাতখড়ি হওয়ার পর থেকেই ফটোশপ বিষয়টি বেশ কয়েকবার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো। কিনতু আপন আলয়ে, আপন আঙিকে কিছুটা এগিয়ে যায়, আবার চুপচাপ। বেশ কবার নিজে্ নিজেই চেষ্টা করেছি রপ্ত করার। বই দেখে দেখে। কাজটার প্রতি মনোযোগী হতে গিয়ে বেশ কবার ভাত পুড়েছি, হাত পুড়েছি। সেই ২০০৪/৫ সালের কথা। ২০০২ সালেও একবার শেখার বেশ আগ্রহ হয়েছিলো । একজন ভিনদেশি গুরুও ঠিক করেছিলাম কিন্তু চাকরিত যোগ দেয়ার কারণে আর হয়ে উঠেনি।

২০১৯ সাল আবার সে সুযোগ এলো । এবার কোন বই কিম্বা সরাসরি গুরু নয়, অনলাইন । আমার অনেকদিনের ফেবু বন্ধু মিস জাকিয়া জেসমিন যুথী। তিনি একজন কবি, গল্পকার, ব্লগার, শিক্ষিকা ডিজাইনার। বহুমুখী প্রতিভার একজন মানুষ। শিক্ষাজীবন শেষ করে গতানুগতিক চাকরির তোয়াক্কা না করে, নিজে যা জানেন তা অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে প্রতিজ্ঞা করলেন। হাতে কলমের পাশাপাশি বেছে নিলেন অনলাইন মাধ্যমকে। একদিন ফেবুতে তার দেয়া এক পোস্টে আমার চোখ। অনলাইনে গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখাতে চান। বিষয়টা আমার কাছে বেশ মজার মনে হলো। তাকে নক করলাম। বিষয়টার প্রতি আমার আগ্রহের কথা জেনে তিনি আমাকে তার ‘অনলাইনে গ্রাফিক্স ডিজাইন’ কোর্সে আমাকেও শামিল করে নিলেন।

মানুষ স্বপ্ন দেখে জেগে জেগে, ঘুমের মাঝে। যে স্বপ্ন জেগে জেগে দেখে সে বাস্তবায়ন করা মানুষের হাতে। জাকিয়া সে রকম একজন স্বপ্নবাজ মানুষ। তিনি স্বপ্ন দেখেন স্বপ্ন দেখান। তার স্বপ্বের প্রথম সোপান “ Max learn IT institute” তিনি সাথে পেয়েছেন উদ্যামী, মনের দিক দিয়ে তরুণ একদল শিক্ষার্থী। সবাই পুর্ব পরিচিত হলেও কোর্সটি সম্পর্কে ছিলো সবাই অপরিচিত মুখ। একজন মেন্টরের যেসব গুণাবলী থাকা প্রয়োজন তার সবকটি গুণ আছে তার। যাদের হাতে কখনো তুলি আর রঙ উঠেনি তাদের মাউসে এখন শেপ ও ব্রাশটুল। আনাড়ি আঁকিয়ে সব আজ ভবিষ্যৎ ডিজাইনার।

মোট পড়েছেনঃ ১৬২০জনআজ পড়েছেনঃ ০জন

১৫টি মন্তব্য

  1. অনেক সময় নিজের স্বপ্নকে দেয়ার মতো সময় থাকে না। আপনি ধন্য যে স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছেন। অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি আপনার শিক্ষিকা কে। অবশ্যই আমার সাধুবাদ জানিয়ে দিবেন। এমন লিখনি নারীদের আরো অনুপ্রেরণা দিবে।

  2. স্বার্থক আপনার অদম্য ইচ্ছা ও স্বার্থক একজন প্রকৃত শিক্ষক যে সব শিখিয়েই ছাড়ে। শিক্ষক তো শিক্ষকই তাঁর প্রতি রইল অশেষ শ্রদ্ধা, আর আপনারদের প্রতি রইল অভিনন্দন। আমার শিখার অনেক ইচ্ছা। কিন্তু এখন নাই কম্পিউটার। সময় শুধুই রাত্রি।
    শুভেচ্ছা অবিরত।

  3. এত সুন্দর করে আমাকে এত গুণী কপ্রে তুলেছেন, আমি আসলে খুব সাধারণ মানুষ। আপনারা অসাধারণ কিছু মানুষ এসে আমাকে সমৃদ্ধ করেছেন। আপনাদের সাফল্যের মধ্য দিয়ে আমার এগিয়ে চলা।
    আমিতো শুধু পেনসিল ধরতে শিখাই, আর আপনারা সেই পেনদিল দিয়ে অভূতপূর্ব সব উদাহরণ সৃষ্টি কপ্রে চলেছেন।
    আপনারা নিজেরাই গুণী। গুণগুলোতে খানিকটা ঘষামাজার প্রয়োজন ছিলো। সেই ঘষাটা পেয়েছেন আমার কাছে।
    এগিয়ে যান সফল্যের পথে। এই শুভকামনাসব সময়

  4. সময় সুযোগ সবার হয় না সে ক্ষেত্রে আপনি সফল। এগিয়ে যান এ প্রতিষ্ঠানটির শুরু হতে আজ অব্দি আমার বা আমাদের সোনেলা পরিবারে শুভ কামনা ছিলো আছে এবং থাকবে।
    অভিনদন আপনাকে।

  5. ল্যাপটপে ফটোশপ নিয়ে আমারও আগ্রহ অনেক। কিন্তু সময় আর সুযোগ এখানে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। তারপরও নিজের সখ। আমি শিখবো। তারপরও থেকে যায় কিন্তু…! কিন্তু মানে এই বুড়ো বয়সে হাতের কাছে মনোমতো কোন শিক্ষক বন্ধু পাই না। তাই নিজের ইচ্ছেটাকে সফল করতে পারছি না। ইউটিউবে এ-বিষয়ে অনেক ভিডিও দেখেছি। চেষ্টাও করেছি। পারি না, তো আর চেষ্টাই করি না। নিজের ইচ্ছেটা যেন মাটি হয়ে গেল। আপনি সফল হয়েছেন শুনে খুবই ভালো লাগলো শ্রদ্ধেয়। আমি যদি শিখতে পারতাম! আহা আফসোস!

  6. যুথী ম্যাডামের গ্রাফিক্স এর আমিও একজন ছাত্র আপনার মতই। আপনি, আমি, রুমন আশরাফ, সুপর্ণা ফাল্গুনী, স্বপ্নীল রায় পিংকি এবং যুথী ম্যাডাম নিজে এই সোনেলা ব্লগের সাথে যুক্ত আছেন। ম্যাডামের ইন্সটিটিউটের সাথে যুক্ত ছয়জনই সোনেলায়, এটা আমাদের জন্য গর্বেরও।
    যুথী ম্যাডাম যে কত ভালো একজন শিক্ষক, তা আমি এবং আমরা জানি। তার স্বপ্নপুরন হবেই ইনশ আল্লাহ।

  7. স্বপ্নে বাঁচি, স্বপ্নে বাঁধি । যুথী মেন্টর হিসেবে, মানুষ হিসেবে অসাধারণ। অন্যকে আলোর পথ দেখায়, নিজেও আলোকিত হয়। ইসমাইল ভাই সতীর্থ হিসেবে , বন্ধু হিসেবে অতুলনীয়। সবার জন্য শুভ কামনা রইলো

মন্তব্য করতে লগিন করুন অথবা নিবন্ধন করুন।