সাল ৩০৯৪ (চন্দ্র)

ইঞ্জা ৬ জুন ২০১৬, সোমবার, ০১:১৩:২৯অপরাহ্ন বিবিধ ১৫ মন্তব্য

সাল ৩০৯৪

বেশ আসতেই হাটছে A462 ভাবছে বাসায় গিয়ে নিজেকে কিভাবে একলা মানিয়ে নেবে যেখানে গতকালও ওর সঙ্গি ছিল D666 যাকে সে মন প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতো, তারা একসঙ্গে জীবনের অনেকটা সময় কাটিয়েছে আজ তার প্রিয়তমা D666 নেই গতকালই ওকে যেতে হয়েছে ঘর ছেড়ে অন্য গ্রহে যাওয়ার প্রস্তুতির জন্য, D666 একজন নামকরা জীব বিজ্ঞানী যার কারনে সে টিকেট পাই স্পেস শীপে চড়ে বসার, সে কোন ভাবেই যেতে চাই ছিলোনা ওকে ছেড়ে যেতে কিন্তু A462 ওকে বুঝালো যে সে যেহেতু যেতে পারবেনা অন্তত D666 যাক যা মানুষের কল্যাণের জন্য হলেও কারণ বিশ্বে জীব বিজ্ঞানী বলতে গেলে খুবই কম। নিজেকে খুব টায়ার্ড মনে হচ্ছে যেন পা আর চলতে চাইছেনা এরই মধ্যে বাসার সামনে চলে এলো, দরজায় দাঁড়িয়ে সে দুইবার চোখ বড় করে খুললো আর বন্ধ করলো আর সাথে সাথে চিইউউউ করে ছোট্ট এক শব্দ করে দরজা খুলে গেল আর সে ভিতরে পা দিয়েই চমকে উঠলো সামনে D666 কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে, D666 আর কাল বিলম্ব না করে ওর বুকে ঝাপ দিলো সাথে কান্নার শব্দ, A462 হতবম্ভ হয়ে রইল কিছুক্ষন তারপর আসতে করে বলল “তুমি এইখানে কেন, তোমার না আগামী ভোরের শীপ” তখন D666 কাঁন্নার বেগ সামলে বলল “আমি তোমাকে ছেড়ে কিভাবে যায় বলো, তুমি ছাড়া আমার তো আর কেউ নেই, আমি তোমাকে ছাড়া আরো ২০০০ বছর বেঁচে থাকার চাইতে তোমার সাথে মৃত্যুর স্বাদো যে অমৃত হবে আমার জন্য”। A462 রেগে গেলো আর চিৎকার করে বলল “এ তুমি কি করলে, এখন মৃত্যুত দূত দুয়ারে হাজির, আমি চেয়ে ছিলাম তূমি বেঁচে থাকলে আমার ডিএনএ দিয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধর জম্ম নেবে আর তুমি এইভাবে আমার সব সপ্ন ধুলিসাত করে দেবে, এ আমি কোন ভাবেই মেনে নেবোনা” বলেই সে রাগে দুঃখে কান্না শুরু করে দিলো, অনেকক্ষন দুজনে কান্না করলো আর একসময় দুজনে শান্ত হয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে গেলো। পরদিন সকাল সকাল ঘুম ভাঙ্গলো দুজনের এক সাথে, ফ্রেস হয়ে A462 ডাইনিংয়ে যখন এলো তখন D666 দুজনের ব্রেকফাস্ট নিয়ে রেডি, কিছু লাল, সাদা, হলদ, নীল আর সবুজাভ টেবলেট যা আজকাল খাদ্য শৃংখলের উপরে অবস্থান করছে যা প্রচুর ভিটামিন, ক্যালরি, প্রোটিনে সমৃদ্ধ আর মানুষ এখন এই সবই তাদের প্রাতরাশ, দুপুর আর রাতের খাওয়ার হিসাবে গ্রহণ করছে গত কিছু শতক ধরে যার কারনে এখন মানুষের আয়ু বেড়ে গিয়ে ৩০০০ বছরেরও বেশি হয়ে গেছে আর বর্তমান সময়ে মানুষ রোগ, শোক মৃত্যুকে জয় করে এগিয়ে চলছিলো কিন্তু হটাৎ ঐ চাঁদটাই সব বিগড়ে দিলো, এই মুহুর্তে পৃথিবীতে যত মানুষ ছিলো তার এক চতুর্থাংশ এস্পেস শীপে চড়ে নতুন গ্রহ আল্ট্রো মেডিয়ার পথে আর বাকিদের নিয়ে যাওয়ার মত এস্পেস শীপ ও সময় সল্পতার কারনে সম্ভব হয়নি বলেই রয়ে গেছে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণে।

দুজনে বেড়িয়ে পড়লো সমুদ্র দেখার জন্য, শুনেছে সমুদ্র নাকি বেশ ভয়ানক রুপ ধারণ করেছে আর এই দৃশ্য ভবিষ্যতে আর কেউ দেখবেনা। হটাৎ তারা খেয়াল করলো আশে পাশের সবাই কেমন যেন সচকিত আর আকাশের পানে চেয়ে দেখছে, তারও দেখল চাঁদ এই সকালেও দেখা যাচ্ছে আর চাঁদের সেই সুন্দর রুপ নেই, চাঁদের গর্ত গুলোও বেশ দেখা যাচ্ছে, একদিকে চাঁদ আর অন্যদিকে সূর্য যেন এক ভয়ংকর রুপে তাকিয়ে আছে এ পৃথ্বীর দিকে। সবাই তাড়াহুড়ো করে যার যার ঘরে ফিরে যেতে লাগলো যেন কেউ মৃত্যুর এই রুপ দেখতে চাইনা।

চলবে…….

১০৭জন ১০৭জন
0 Shares

১৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য