আধুনিক বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের তত্ত্ব। তাদের ধারণা, মানুষের বয়স ৩ লক্ষ বছর।

পৃথিবীতে বসবাসের শুরুতে হোমো সেপিয়েন্স লম্বায় অনেক খাটো ছিল, চার ফুটের চেয়ে কম। আমাদের পূর্বপুরুষেরা কুঁজো হয়ে হাঁটত, তারা হাত-পা সমান ভাবে ব্যবহার করত।

লক্ষ লক্ষ বছর ধরে আমাদের অস্থি বিকশিত হল। চার পায়ের একটি কাঠামোকে সোজা হয়ে দুই পায়ে চলতে সাহায্য করেছিল এই বিকশিত অস্থি। বিবর্তনের শুরুটা এভাবেই ঘটেছিল। এখানেও আমাদের সাথে গভীর পার্থক্য হয়ে গেল শিম্পাঞ্জিদের সাথে। শিম্পাঞ্জি ও মানুষ: একই শারীরিক গঠনে যেন দুই ভিন্ন সত্তা।

আদিকালে পশুপাখিরা বৃহৎ আকৃতির ছিল। অক্সিজেন জটিলতায় জীবতাত্ত্বিক গঠনে তাদের ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। টিকে থাকার সংগ্রামে প্রাণীদের নানারকম কৌশলের আশ্রয় নিতে হয়েছে। পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে তাদের শারীরিক বিন্যাস ছিল বিশালাকার। প্রকৃতির সবকিছুতেই বিবর্তন ঘটেছে। অদ্ভুত ব্যাপার হল; আমরা বিবর্তিত হলেও উচ্চতায় কিংবা আকারে কেন অন্যদের মত হেরফের হল না ? এটি বৈজ্ঞানিক মহলে আজও বিতর্কিত অধ্যায়।

শেষ করছি আবূ হূরায়রা থেকে বর্ণিত একটি হাদিস দিয়ে। হযরত মুহাম্মদ সা: বলেন, আল্লাহ আদমকে সৃষ্টিকালে উচ্চতায় ছিলেন ৬০ কিউবিট, লম্বায় প্রায় ৯০ ফুট, এবং মানুষ বেহেশতে প্রবেশকালে আদম আ: এর আকার লাভ করবেন। অধিক জ্ঞানীগুণীরা এখন ইসলামিক তত্ত্বকেই বিশেষ আমলে নিচ্ছেন।

১৬৫জন ৪১জন
0 Shares

৮টি মন্তব্য

  • সাবিনা ইয়াসমিন

    বিবর্তনবাদ নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। পৃথিবীর কত রহস্য আমাদের অজানা। সেসব বাদ দিয়ে এই বিতর্কিত বিষয়টা নিয়েই মানুষ এত তর্কে জড়ায় কেন বুঝি না। আমি দেখিনি কোন বানরকে (পালিত) হাটতে হাটতে মানুষ হয়ে যেতে, কোন মানুষকেও দেখিনি জীবনের শেষ পর্যন্ত (অশীতিপর বৃদ্ধ) গিয়ে বানরে রুপান্তরিত হতে।
    স্রষ্টা একদিন সকল বিভ্রান্তি দূর করে দিবেন।

    অনেকদিন পর লিখলেন। নিয়মিত আসুন।
    শুভ কামনা 🌹🌹

    • সাফায়েতুল ইসলাম

      আইনস্টাইন একবার বলেছিলেন মানুষ সমগ্রের অংশ, যাকে আমরা মহাবিশ্ব বলে থাকি। এই অংশটি সময় এবং স্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এবং যখন কোনও ব্যক্তি নিজেকে আলাদা কিছু মনে করে, তখন তা আত্ম-প্রতারণা। মানুষ এবং প্রকৃতির মধ্যে আন্তঃসংযোগ সর্বদা দুর্দান্ত ব্যাপার এবং তার একটি ক্ষুদ্র অংশ বিবর্তন তত্ত্ব। আমরা জ্ঞান হবার পর থেকে নিজেদের পরিচয় খুঁজে বেড়াচ্ছি। প্রতিনিয়ত নিজেকে প্রশ্ন করি- আমি কে ? আমি কি ? আমি কত্থেকে আসছি ? আমি কিছুই জানি না। মাঝে মাঝে নিজেকে শূন্য মনে হয়। মনের অজান্তেই নিজেকে ভাবায়, এই জগৎ সংসার কেমন করে সব শূন্য থেকে শূন্যে মিলে যায়। নিজেকে জানার জন্য জেনে যাচ্ছি। যেদিন সম্পূর্ণ ভাবে নিজেকে জেনে যাব সেদিন সর্বজ্ঞানে সমাপ্তি।

      সাবিনা ইয়াসমিন- এতো সুন্দর গঠনমূলক মন্তব্যের জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

    • সাফায়েতুল ইসলাম

      অধ্যাপক ফোলি বলছেন, “কথা হচ্ছে একধরনের শ্বাস প্রশ্বাস নেওয়া। এটা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই আমরা শব্দ তৈরি করে থাকি।” অধ্যাপক টলারম্যান বলছেন, কথার সাথে ভাষার তফাৎ আছে। তবে কী কারণে কথা একসময় ভাষা হয়ে উঠে সেটা জিনগত তথ্যপ্রমাণ থেকে নির্ণয় করা কঠিন। আরেকটি তত্ত্ব হচ্ছে প্রথম দিককার শব্দগুলোর মধ্যে এমন শব্দগুলোই ছিল যেগুলো আমরা এখন সবসময় ব্যবহার করি। যেমন: ইশ, হেই, ওয়াও, থ্যাংকস, গুডবাই- এধরনের শব্দ।

      এসব শব্দ প্রায় সব ভাষাতেই আছে। কিন্তু এগুলোর মধ্যে মিল হচ্ছে যে এসবের কোন সিনটেক্স বা ব্যাকরণ নেই।

  • মোঃ মজিবর রহমান

    চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদের তত্ত্ব তার মানসিকশক্তি ব্যয় করে ধারনা করে লিখা মাত্র। বিজ্ঞান ও কখনই স্থায়ী নয় পরিবর্তনশীল। তাই আসুন পবিত্র কুরআনে কোন কিছুই পরিপর্তন হইনি আজও পর্যন্ত কিন্তু বিজ্ঞানীদের ভুল আবিষ্কার সঠিক হচ্ছে এই মহান আল্লাহ্‌র বাণী কোরান এর বানীর সাথে মিল থাকছে।
    তাই মহাবিশ্ব মহান আল্লাহ্‌র সৃষ্টি তাতে কোন সন্দেহ নেই। আর মানুষ মানুষ রুপেই সৃষ্ট তাতে নিঃসন্দেহ বলা যায়।

    • সাফায়েতুল ইসলাম

      গবেষণা ও নিরীক্ষণের মাধ্যমে যে জ্ঞান অর্জিত হয়, তাকে ইউরোপীয়রা ধর্মীয় জ্ঞান হিসেবে বিবেচনা করেন না। এমনকি অতি প্রাকৃতিক কোনো কিছুই তাদের কাছে জ্ঞান বিবেচিত নয়। কিন্তু ইসলামে মানুষের চিন্তা, গবেষণা ও অভিজ্ঞতার আলোকে অর্জিত ‘জ্ঞান’ হিসেবে স্বীকৃত। মুসলিম সমাজে চিকিৎসা, প্রকৌশল, আইন, জ্যোতির্বিজ্ঞান, পদার্থবিদ্যা চর্চাকারীরা জ্ঞানী হিসেবে মর্যাদার অধিকারী। যেসব মুসলিম বিজ্ঞানী জাগতিক এসব জ্ঞানচর্চা করে খ্যাতিমান হয়েছেন, তাঁদের বিদ্যার্জন শুরু হয়েছিল ধর্মীয় জ্ঞানের মাধ্যমে। জাগতিক জ্ঞানচর্চা অবশ্যই দ্বীনের অংশ। তাই বলছি; ইসলাম ও বিজ্ঞান কোন সংঘাত নয়, বরং সমন্বয় করে মুসলিম উম্মাহর প্রয়োজন ও ব্যক্তির নিষ্ঠা জাগতিক জ্ঞানকে ধর্মীয় জ্ঞানের স্তরে উন্নীত করাই হোক আমাদের প্রধান লক্ষ।

  • হালিমা আক্তার

    ডারউইনের বিবর্তনবাদ তত্ত্ব বিতর্কিত। মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি সেরা জীব। প্রকৃতির অনেক কিছুরই বিবর্তন আছে, থাকবে। সেটা প্রাকৃতিক নিয়মে ঘটে। শুভ কামনা রইলো।

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য