পর্বতকন্যের ইতিকথা

প্রদীপ চক্রবর্তী ১৯ আগস্ট ২০১৯, সোমবার, ০৫:০৯:১৩অপরাহ্ন উপন্যাস ১৭ মন্তব্য

#পর্ব_২৬

পানকৌড়ের দিগন্ত আর পত্ররন্ধ্রে জলধারা যখনতখন মৃগতৃষ্ণা খুঁজতে খুঁজতে হারিয়ে যায় কোন এক লোকালয়ে। তবুও যে যেতে হবে ভ্রমণের শেষান্তে আর নিজ নিজ নীড়ে।
শতাব্দীর প্রাচীরে যাদের নাম আজও লেখা শুধু তারা স্মরণীয় নয় বরণীয় বটে। দিকপালের পরিবর্তনে মোহনীয়তার ঘোরে জমেছে কত অনুরাগ। গানের সুরে কত রাগরাগিণী বেমানান হলেও তানপুরাতে যে তাদের ছন্দমিল। পার্বতীর ভাবাবেশে আনমনা হলেও সে যে আমায় বড্ড ভালোবাসে। ভূপৃষ্ঠের ধূলিকণাতে থেকে শুরু করে যে সমপরিমাণ স্পর্শতার নির্যাস ছোঁয়া থাকে। আর সে স্পর্শতা নির্যাস ভালোবাসা পার্বতীকে নিয়ে যে আমার। কত স্বপ্ন আর কত ঘুমহীন রাত কেটে যায় একাকীত্বের নির্বাকে পার্বতীর স্বপ্নছোঁয়া ভালোবাসায়। এ যেন তাহাকে ঘিরে আমার আমৃত্যু অবগাহন।
দিগন্ত ছোঁয়া বিকাল,ডাহুকের ঘরমুখো যাত্রা।
আর প্রেমময়ী পার্বতীর বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে চললাম বলরাম দাদার বাড়িতে। ক্ষণিকের মাঝে কত স্বপ্ন কত অজানা কথা একান্তে ভাবতে ভাবতে আজ আমি ভাসছি চোখেরজলে। এ যে স্মৃতির স্রোতে চোখেরজলে কত যমুনা বহে।
পদ্মার এপারওপার আর গঙ্গার মত বহমান রক্তিম আত্মীয়তা আর ভালোবাসার স্পর্শতা কখন যে নিমিষে শেষ হয়ে যাবে তা বলা যে দুরূহ।
খানিকটা পথ অতিক্রম করে বলরাম দাদার বাড়ি। বলরাম দাদা আমার বড়ভাইয়ের ন্যায় আমার কর্ণদ্বার। ওনার কথামত আমার চলতে হয় এই তিলোত্তমা নগরী কলকাতায়। যেখানে স্বপ্ন আকাশ ছোঁয়া আর গন্তব্য বহুদূর। তাও উপেক্ষা করে সকল প্রান্তে চলতে হয়।
শৈশব থেকে আমার রক্তের শিরা উপশিরায় ভবঘুরে স্বভাব এ যে এখনো অব্ধি কাটছে না।
এই তিলোত্তমা শহর ভালোবাসতে জানে,কাঁদাতে জানে এমনকি একাকীত্বটা কি জিনিস তাও শিখিয়ে দেয়।
তবুও যে এই শহরে নিজের অসাধ্য কে সাধন করতে হয়। তা সবাই পারলেও আমার পথটা যে সবসময় ব্যতিক্রম। আর এই ব্যতিক্রম পথ আমাকে অনেক অনেকবার চোখেরজলে ভাসিয়েছে।

স্মৃতি যে ভুলে যাওয়ার নয়।
ভালোবাসা যে এক স্পর্শতার ছোঁয়া। তাই থাকে ছেড়ে যাওয়ার নয়। তবুও যে একদিন আমায় থেকে বিদায় নিবে অনায়াসে কত স্বপ্ন আর কত স্মৃতিময় ভালোবাসা।
যে ভালোবাসা জ্যামিতিকহারে পরিমাপ করা যায়না।
সমুদ্রের জোয়ারভাটায় কত অমূল্য রত্ন ভেসে গেলেও  আমার কাছে যে সমুদ্রের বালুকণা যেমন অমূল্য তেমনি করে পার্বতী নামক কোন এক প্রেমময়ী আমার কাছে আরাধ্যময়ী।
.
#পর্ব_২৭

পূর্বে নিজ মাতৃভূমিতে কত ঋতু কাটিয়ে এসেছি। কত ঋতুরাজে প্রকৃতিকে বেসেছি ভালো। দিগন্তের একপাশ থেকে অন্যপাশে ছুটে চলেছি ভ্রমণ পিপাসু হয়ে। ভোরের নির্যাস পরশে কত কলি প্রস্ফুটিত হয়েছে মল্লিকা কাননে। কাক ডাকা ভোরের অভিপ্রায়ে হাজার মৌমাছির রেণু কুড়ানো এ যে এক অরূপময়ী প্রকৃতির অপার মুগ্ধতার আহ্বান।
শীতবসন্ত,গ্রীষ্ম বর্ষা কাটিয়ে অপলকে শরত এসেছে ধরায়। একে একে দিচ্ছে আগমনীর বার্তা। নদীর তীর ঘিরে কাশফুলের দুলছে হাওয়া। স্রোতস্বিনী নদীতে ধীরে ধীরে জমছে পলি। সেই পলিতে কমছে নদীর চলার গতিপথ। আর উদ্বাস্তু কাশফুলের গায়ে ভ্রূণের আনাগোনা। আপনমনে রাজকীয় বেশে আগমনীর ছন্দে সুশোভিত শরতে ফুটে উঠবে কাশফুল।

রাত্রি প্রায় এগারোটার দিকে বলরাম দাদার সাথে বাড়িতে প্রবেশ করলাম। দেরি না করে খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। সারাদিনের ক্লান্ততা চোখের পাতায় ঘুমঘোরের আমেজতা নিয়ে আজ আর বিনোদের সাথে কথা বলা হয় নাই। বিনোদ আমার সাথে কথা বলতে মনে হয় আজ অনিহা। কেননা পার্বতীর বাড়িতে যাওয়ার পর বেশ কদিন ধরে তার সাথে কথাবার্তা হয়নি। তাই একটু আমার উপর রাগান্বিত।
যাই হোক সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে কথা হবে বিনোদের সাথে। চোখে ঘুম আসছে না। আমার পাশে মুখ মুড়িয়ে বিনোদ শুয়ে আছে। জানালার পাশ দিয়ে শরতের সুশোভিত বাতাস ধেয়ে আসছে আমাদের কামরায়। অন্যান্য ঋতুর চেয়ে আমার কাছে শরতকাল বেশ প্রিয়। কেননা শরতকাল আগমনীর আহ্বান নিয়ে আসে।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে পড়লাম। তার সাথে বিনোদকে ডেকে তুলে নিলাম। যদিও সে ঘুম থেকে উঠতে নারাজ এমনকি কথা বলতেও নারাজ।
যাই হোক তাকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে সকলকিছু বুঝিয়ে বলি তারপর থেকে কথা বলতে লাগলো আমার সাথে। এদিকে বলরাম দাদা আমার আর বিনোদের বাড়িতে ফোন দিয়ে বলে দিয়েছেন যে আমি আর বিনোদ দুর্গাপূজা পরে বাড়িতে ফিরব। এই কথা শুনার পর বেশ আনন্দ লাগছে আমার।
বাহ্!
কী আনন্দ এইবার পূজায় কলকাতায় থাকব।
এই কথা শুনে বিনোদের আনন্দের রেশ বেশ জমছে উঠছে । নিশ্চয় এইবার দুর্গাপূজায় কলকাতায় পার্বতীর সাথে দেখা হবে এবং সবাই মিলে একসাথে ঘুরব।
সনাতনধর্মের সবচেয়ে বড় পূজো হলো দুর্গাপূজা।
রামচন্দ্রের আবাহনে দেবী দুর্গা এসেছিলেন রাজবেশে রাজকীয় আগমনীতে। শরতের অকাল বোধনে প্রকৃতির সুপ্ত আমেজে কত কাশফুল ফুটে উঠেছে।
আগামীকাল দেবীপক্ষ তাই গ্রামের মন্দির সেজে উঠেছে কত রঙবাহারিতে। গ্রামের নববধূরা ললাটে রাজটীকা পরে লালপাড় বসনে দেবী দুর্গাকে আহ্বান করছে। বলরাম দাদার বাড়িতে জমে উঠেছে দেবীপক্ষের আগমনী আহ্বান। একে একে কাঁসরঘণ্টা আর শঙ্খধ্বনিতে বেজে উঠছে শরতের রাজকীয় ধ্বনি।
সবার মনে একটাই আনন্দের রেশ পূজো এসেছে।

#পর্ব_২৮

শরতের শিশির প্রলেপ ছোঁয়াতে ফুটছে শিউলি। রাতের আলো আঁধারে পাড়া শহর শিউলি ফুলে গন্ধে বিরাজ করছে এক মোহনীয়তা। শরত আসলেই প্রকৃতি যে এক শান্তির বার্তা নিয়ে আসে এই ধরাতলে। হিমালয়ের পাহাড় বেয়ে আগমনী দেবী দুর্গা আসবেন কখনো হাতিচড়ে কখনো বা নৌকায় কখনো ঘোড়ায় চড়ে।
ধীরে ধীরে অস্তাচলগামী সূর্য তার রক্তাল বিভা ছড়িয়ে দিয়েছে চরাচরে। গ্রামের নববধূরা অপেক্ষায়মান হয়ে বসে আছে দেবী দুর্গাকে বরণ করে নিবে।
আমি আর বিনোদ এক পা দু পা করে এগোতে লাগলাম রাজরাজেশ্বরী মন্দিরের দিকে গ্রামের সবাই জমা হয়েছে সেখানে। আজ গোধূলির সন্ধিক্ষণে দেবীর অকাল বোধনে বেলপাতাতে মনোলোভা।
খানিকক্ষণ পর বিনোদ আমায় কানেকানে বলতে লাগলো দাদা আগামীকাল পার্বতী একাই আসবে বলরাম দাদার বাড়িতে। এইবার না কি পার্বতী কলকাতায় পূজা দেখবে। আমি বিনোদকে বলে উঠলাম তাহলে তো বেশ ভালো জমবে। বিনোদ বলে উঠলো একদম দাদা।
গ্রামের প্রতিটি মন্দিরে কাঁসরঘণ্টা আর উলুধ্বনিতে বেশ আড়ম্বরে দেবীপক্ষেরর সন্ধ্যা আরতি শুরু হলো।
রাত্রি নয় ঘটিকার সময় দেবী দুর্গাকে চক্ষুদানে পরিপূর্ণ করে প্রাণদানে প্রতিষ্ঠিত করা হবে। প্রতিটি মন্দিরের একে একে করে পুরোহিত আসতে লাগলেন।
আর দেবী দুর্গাকে মন্ত্রমুগ্ধে পরিপূর্ণ করে তুলছেন।
মন্দিরের আশাপাশ ঘিরে মেলা বসেছে। নানান ধরণের জিনিশপত্র উঠেছে। রাত্রি প্রায় বারোটা বেজে গিয়েছে। মন্দিরে প্রসাদ খেয়ে। বাড়ি ফিরলাম আমি আর বিনোদ। তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়তে হবে কেননা আগামীকাল ভোরবেলা উঠে ফুল তুলতে হবে।
বলরাম দাদার বাড়িতে একে একে আত্মীয়স্বজনে ভরপুর হয়ে উঠছে।
ভোরবেলা উঠে আমি আর বিনোদ সাথে বলরাম দাদা মামাতো ভাই নারায়ণকে নিয়ে চলে গেলাম পাশের গ্রামে ফুল তুলতে। তখন ভোর প্রায় চারটে। অন্ধকারের আবছা আলোতে আমরা তিনজন একে একে ফুল তুলতে লাগলাম। বেশ ভালো লাগছে শরতের শিশির ভেজা হাসনাহেনা,শিউলি,জবা,গাঁধা,রজনীগন্ধা,গোলাপ ইত্যাদি ফুল তুলতে তুলতে। তিনটে ফুলের সাজি ভরপুর করে বাড়িতে ফিরলাম আমরা।
স্নান করে নিলাম কিছুক্ষণ পর অঞ্জলি প্রদান করা হবে।
তাই সকলে স্নান করে অঞ্জলি নিয়ে নিলাম।
দুপুরবেলা মেদিনীপুর যেতে হবে পূজা দেখতে। তাই আমি আর বিনোদ একটা টমটম ঠিক করে মেদিনীপুরের উদ্দেশ্য আমাদের যাত্রা শুরু করলাম।

#পর্ব_২৯

শরতের উত্তপ্ত মধ্যদুপুর আর বৈশাখের ন্যায় প্রচন্ড ভ্যাপসা গরম। মনে হচ্ছে ভানু দাদা আজ অগ্নিশর্মা হয়ে আছেন। এমন ভ্যাপসা গরম শরতকালে আর কখনো দেখিনি আমি। বিনোদ বাউলবেশে বৈরাগ্য বসন পরে বসে আছে আমার ডান দিকে। কলকাতা শহর তো তাই যে যার মত করে ভাবসাব নিতে পারে। ধরা বাঁধা নেই বলতে চলে।
একে একে মন্দির পরিক্রমা করতে লাগলাম আমি আর বিনোদ। নারিকেলের নাড়ু,কলা,বাতাসা ইত্যাদিতে আমাদের পকেট ভর্তি হয়ে গিয়েছে।
একটা বিষয় লক্ষ্য করে দেখলাম যে কলকাতা শহরের প্রতিটি ধর্মাবলম্বী লোক একে অপরের ধর্মকে অনেক সম্মান ও শ্রদ্ধা করে। তাদের এমন ধর্মীয় সম্প্রীতি দেখে আমি বেশ মুগ্ধ। আমি এমন সম্প্রীতি প্রতিটি দেশে দেখতে চাই। কেননা প্রত্যেক ধর্ম ও প্রত্যেক ধর্মের মানুষকে ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা করা আমাদের মানবধর্ম।
এতক্ষণে প্রায় ত্রিশটি মন্দির আমাদের পরিক্রমা শেষ।
এইবার মেদিনীপুর থেকে বারাসাতের উদ্দেশ্য যাত্রা নিব। তখন দুপুর প্রায় দুইটা। মেদিনীপুর রাজনাথ কালি মন্দিরের প্রসাদ খেয়ে একটু আরাম আয়েশ করে আমি আর বিনোদ বারাসাতের উদ্দেশ্য গাড়িতে উঠে পড়লাম। আজ মহাসপ্তমী। দেবী দুর্গাকে নতুন রূপে আজ আহ্বান করে পুরোহিত পূজার্চনা করবেন।
শহরের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত হতে দলবেঁধে ছুটে আসছে সবাই পূজোতে। কেউ পরেছে বাহারি রঙয়ের লালপাড় শাড়ি,কেউ পান্জাবী ইত্যাদি ইত্যাদি।
আমি কলকাতা বাঙালিওয়ালা ধূতি পান্জাবী আর বিনোদ বাউলবেশে বৈরাগ্য বসন। প্রায় এক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে বারাসাত সার্বজনীন মাতৃ মন্দির।
তাই টমটমে বসে মনের সুখে আপনছন্দে বিনোদ একের পর এক গান গেয়ে যাচ্ছে। অনেকটা পথ তাই আমি বসেবসে বিনোদের গান শুনে যাচ্ছি আর তার ফাঁকে ফাঁকে নারিকেলের নাড়ু খাচ্ছি। নারিকেলের নাড়ু আমার বেশ প্রিয়। ছোটবেলা দাদু আমায় নাড়ু বলে ডাকতেন। আর দাদু বাড়িতে অনেক নারিকেল গাছ লাগিয়েছেন। বারোমাসে তেরোপার্বণের মধ্যে নারিকেলের নাড়ু থাকতো। কলকাতায় আসার পর থেকে অনেকদিন ধরে মায়ের হাতে বানানো নাড়ু খাইনি। যদিও পূজোতে এসে অনেক নাড়ু খাচ্ছি কিন্তু মায়ের হাতের বানানো নাড়ু কী সুস্বাদু।
হঠাৎ করে টমটমওয়ালা বলছে দাদা আমরা বারাসাত মাতৃ মন্দিরে চলে এসেছি।
আমি বলে উঠলাম বেশ্ তো!
গাড়ি থেকে নেমে একে একে মন্দির পরিক্রমা করতে লাগলাম পদব্রজে। আমি আর বিনোদ ব্যতীত সবাই অপরিচিত। যারতার সাথে কথা বলতে পারছিনা। সবাই যে যার মত করে ঘুরছে ফিরছে।
কলকাতার পুরো শহরাটাই আনন্দে ভরপুর আগমনী দেবীর উলুধ্বনি আর শঙ্খধ্বনিতে। গানের তালে তাল ছন্দ মিলিয়ে সবাই নৃত্য করছে। আমি আর বিনোদ সেখানে দাঁড়িয়ে নটরাজের নৃত্য লীলা দেখছি।
সত্যিই বেশ ভালো লাগছে।

#পর্ব_৩০

বারাসাতের অলিগলিতে এতো পূজো। যেদিকে চোখ যায় সেদিকে পূজোর রেশ। পার্বতী আমাদের সাথে থাকলে আজ আনন্দের রেশ ভালো জমত।
আজ বলরাম দাদার বাড়িতে আসার কথা পার্বতীর।
মনে হয় এতক্ষণে পার্বতী ও পার্বতীর মা বাড়িতে চলে এসেছেন।
আমি আর বিনোদ প্রায় ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। তারমধ্য অনেক জায়াগায় পদব্রজে ঘুরে মন্দির পরিক্রমা করতে হয়। অচেনা শহর লক্ষ লক্ষ লোকের ভিড়ে আমি আর বিনোদ দুজনের মধ্যে একজন হেরে গেলে খুঁজে বের হওয়া বেশ কঠিন। তাই আমি আর বিনোদ হাতে হাত ধরে পরিক্রমা করতে লাগলাম। প্রায় ধীরে ধীরে সন্ধ্যা নামছে শহরের বুকে। তাই আমরা তাড়াহুড়া করে দেরি না করে গাড়িতে উঠে পড়লাম। রাত্রি প্রায় দশ ঘটিকায় বলরাম দাদার বাড়িতে পৌঁছে গেলাম।
বাড়িতে আত্মীয়স্বজনে ভরপুর। গ্রামের লোকজন প্রসাদ খেতে বসেছে । বলরাম দাদা আমাদেরকে বললেন হাত পা ধুয়ে প্রসাদ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ার জন্য। সারাদিন নারিকেলের নাড়ু খেয়ে পেটটা বেশ বড়সড় হয়ে আছে। তাই না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়লাম।
হঠাৎ করে চোখ ফিরিয়ে দেখি পাশের কামরায় পার্বতী বাড়ির আত্মীয়স্বজনের সাথে গল্প করছে।
এদিকে বিনোদের পেটের অবস্থা বেশ ভালো নেই।
একটু পরপর ঘরবারে যাচ্ছে। ইহা দেখে আমি বেশ চিন্তিত। আর পাশের কামরায় বসে পার্বতী হাসছে।
পার্বতী বলছে আজ বেশ ভালো ভূরিভোজন হয়েছে তাই না বিনোদ বাবু?
হ্যাঁ আর বলো না গো দিদি। পেটব্যথা সহ্য করতে পারছি না। যাই হোক বিনোদের উপর পার্বতীর বেশ কৃপাবর্ষণ হয়েছে। পার্বতী বিনোদের জন্য স্যালাইন বানিয়ে নিয়ে এসেছে।
রাত্রি প্রায় আড়াইটে। একদিক আগমনী অভিসার অন্যদিকে কাক ডাকা ভোরের আহ্বান।
ভোরবেলা ঘুম থেকে তাড়াতাড়ি উঠে পড়তে হবে আজ সুবর্ণ গ্রামে যেতে হবে ফুলের জন্য। মনে হচ্ছে বিনোদ আমার সাথে যেতে পারবে না। তাই বলরাম দাদাকে বলে আমাদের সহযোগী করতে হবে যেকোনো একজনকে। চোখে ঘুম নেই। এ যে অতন্দ্র প্রহরী হয়ে বসে আছি বিনোদের পাশে।
উলুধ্বনি আর শঙ্খধ্বনিতে ভোরের আহ্বানে বিছানা থেকে উঠে পড়লাম। বিনোদকে স্যালাইন,ওষুধ দিয়ে বললাম খেয়েদেয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ার জন্য।
এদিকে আমি আর বলরাম দাদা মামাতো ভাই নারায়ণ ও আমাদের সাথে ছিলেন বলরাম দাদার পাশের গ্রামের একজন। তাই তিনজন ছুটে পড়লাম ফুল তুলতে। ধীরে ধীরে ফুল তুলে বাড়িতে ফিরে স্নান করে অঞ্জলি নিয়ে পুনরায় শুয়ে পড়লাম। আজ কেন জানি বেশ ক্লান্ত লাগছে।
..
ক্রমশ…

২৪৬জন ৬৭জন
48 Shares

১৭টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য