পর্বতকন্যের ইতিকথা

প্রদীপ চক্রবর্তী ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার, ০৭:১৩:৩৪অপরাহ্ন উপন্যাস ১২ মন্তব্য

#পর্ব_৪৮

কত অজস্র স্বপ্ন বুনেছি আপন নীড়ের তীরে বসে নিরন্তর। দেখেছি তারে চন্দনের বনে নীলো লোহিত স্বপ্নের কাননে। বেসেছি তাহারে ভালো আমি উদাসী শরতের মেঘমল্লার সাঁজে।
কলকাতার নিস্তব্ধ পথ অতিক্রম আর গোটাকতক শহরে পার্বতীর ন্যায় দ্বিতীয় পার্বতী খুঁজে বেড়ানো আমার কাছে যে দুরূহ হবে তা আমি প্রথমে পার্বতীকে দেখেই ভেবেছিলাম। বুকে অজস্র নদী আর পহাড়সম ভালোবাসা নিয়ে কলকাতার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলছি আমি বহুকাল থেকে।
একমুঠো ভালোবাসা দুজনের কাছে প্রাণের দোসরে বন্ধনে গ্রথিত।
সোনালি রৌদ্রতেজে শহর আজ সুবর্ণ রূপে ঢাকা।
যার আলোছায়াতে আধো আধো রূপে ললাটের টিপ আর কালোকেশে বাঁধা রজনীগন্ধা।
প্রেমময়ী যে মৌনব্রতে মৌনদেহে মেখেছে শরতের শেষ রবির আলোকচ্ছটা। তাহা দেখে ভাবুক কবি লিখে যাচ্ছে কত ভাবের কবিতা। তাহাতে আমি হয়েছি তাহার পিপাসাতপ্ত প্রেমিক। যেমন করে বহমান নদীর বুকে বয়ে চলে কত অজানা গুপ্তচর। আকাশের উন্মাদ তারারত্ন আর মৌন মিছিলে ক্রমাগত উদীয়মান ফুলের অঙ্কুরিত ভ্রূণে রয়েছে মৃগ কস্তূরীর অপার মুগ্ধতার গন্ধ।
পৃথিবীর শেষপ্রান্তে সূর্যের রূপমা আখ্যায়িত করা হলেও আমাদের দুজনের সন্দিহান সেখানে কিছুটা ঢেউ লেগেছিলো কিন্তু ভূতলে যে নিমগ্ন জলরাশি সেটা আমাদের আত্মমগ্নে পূর্ণতা হেনে দিয়েছিলো।
যেমন করে ষোড়শীর গায়ে পূর্ণিমার আলোকিত জ্যোতির্ময়তা। পৃথিবীর গোটা প্রেমিক জানে চাঁদের গায়ে রয়েছে অজস্র কলঙ্কের অসম্পূর্ণতার আলো।
তবুও গোটাকতক ভাবুক প্রেমিক,ভাবুক কবি মাখতে চায় গায়ে চাঁদের আধো আলো। আমিও এক ভাবুক প্রেমিক সেজে ভেসেছিলাম ভালো থাকে কোন এক পূর্ণিমার আলোকিত রাত্রিতে। কখনো দেখেছিলাম  স্বপ্নাবেশে অন্তর্যামী রূপে । শরতের গায়ে তখন প্রেম জাগে যখন কাশফুল ফুটে। তেমনি করে আমাদের প্রেমের ছোঁয়া আর নির্যাস ভালোবাসা জেগেছিলো কোন এক শরতের শিউলি ঝরা অভিসারের শেষে।
অপার ক্লান্তি দূর করে অপার মুগ্ধতার পথ অতিক্রম করে বারবার ছুটে চলি তার ভালোবাসার কাছে।
যেমন করে নদী তাহার পূর্ণতা আনে শ্রাবণের বয়ে চলা গতিপথে।
শহরের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যে কাননের সমারোহ আর প্রজাপতির ছড়ানো অপার মুগ্ধতা রোজ আমাকে মোহিত করে তুলে। ফুলের গায়ে প্রজাপতির ছোঁয়া না লাগলে ফুল পুরো শহরের কাছে হীন হয়ে ঝরে পড়ে বিকেলের শেষে একাকীত্বের নির্বাকে।
সকল কিছু উপেক্ষা করে শেষ বিকেল আলোছায়া নিয়ে ফিরছে ঘুমিয়ে পড়া সূর্যের নীড়ে।
কতোটুকু নির্মাণের,কতোটুকু হবে সেথায় আমার নতশির,স্তব্ধ মাঠে সোনালি বিকেল শেষে কবে জমবে আবার ভোরের শিশির।

#পর্ব_৪৯

আজ শরতের শেষ প্রহর। কাশফুল কুয়াশায় নিমজ্জিত। ভোরের হাসনাহেনা সুশোভিত সুগন্ধিতে ভরপুর। পাখির কলরবে তরুলতা নব আনন্দে নব গুন্জনে আহরিত।
কাননে কাননে কত ফুল আর মৌমাছির গুনগুন শব্দে হেমন্তের নবযাত্রা। গাছে গাছে কুয়াশার ধূসর নির্যাস প্রলেপ। ভোরের আকাশে প্রাণ খুলে হাসিছে প্রাণের সুবর্ণ রবি। হিজলের ডালে বসে কত ডাহুক ডানা মেলে পোহাচ্ছে রৌদ্রতাপ। জীবন যেখানে যেমন ভাটিয়ালি গান আর বইঘরে অপার জ্ঞানের ছোঁয়া নিয়ে আমার হেমন্তে সুপ্রভাতের যাত্রা। মিষ্টি সকাল,মিষ্টি রৌদ্রতেজ দুইই মিলে চায়ের কাপে আমেজতার রেশ।
পাশের ঘর থেকে মিষ্টি কন্ঠে পাখির কলরবে ধেয়ে এসেছে শুভ সকাল দীপ। তাৎক্ষণিক প্রতিত্তরে বলে উঠলাম শুভ সকাল পার্বতী। গায়ে চাদর মুড়িয়ে একের পর এক কথা বলে যাচ্ছি অনায়াসে না দেখে।
মিষ্টি সুরে একের পর এক উত্তর আসছে পাশের কামরা থেকে।
ধীরে ধীরে দুপুর গড়িয়ে অপরাহ্ণে চলমান বেলা।
সূর্য উদয় হতে অস্তকালীন দুজনের মনে বহে চলে কত অজানা অদেখা স্বপ্ন। আর এসকল স্বপ্নের ব্যূহ রচনা করতে হয় দুজনের রোজ অমানিশা শেষে অভিসারের দিকপ্রান্তে। গোধূলি কাটিয়ে আলো আঁধারের পথে ছুটছি আমি।
একদিকে হেমন্তের হিমেল হাওয়া বহিছে অন্যদিকে কৃষ্ণপক্ষ রাত্রি। দুটি মিলেই এক অনন্য।
কৃষ্ণপক্ষ রাত্রিবেলা প্রদীপ জ্বালিয়ে নিজেই নিজের জীবনবৃত্তান্ত লিখিতে বসেছি। শীতার্তভাব তাই চাদর দিয়ে মুখ মুড়িয়ে আছি।
হেমন্তের হিমেল হাওয়া ধূ ধূ করে কুটিরে প্রবেশ করছে। হেমন্তের ধূ ধূ হিমেল হাওয়াতে আমার প্রদীপ শিখার  তৈল ফুরাচ্ছে অন্যদিকে নিভতে শুরু করছে।
কৃষ্ণপক্ষ রাত তারমধ্য জনশূন্য গ্রাম দুটিই আমার মনকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। বাধ্য হয়ে নিজের জীবনবৃত্তান্ত কৃষ্ণপক্ষ রাত্রিবেলা ইতি দিতে হলো।
বাড়ির আঙ্গিনার পাশে বলরাম সহস্তে লাগানো শিউলি ফু্লের গাছ। যার ফুটন্ত অববাহিকা আমার মনকে উতলা করে দিয়েছে। পুনরায় প্রদীপশিখা প্রজ্জলন করে শিউলি ফুলের গাছের নিচে একান্তভাবে বসে সৃষ্টির সৃজন নিয়ে ভাবছি।
সৃষ্টির এই অপরূপ সৃজন নিয়ে ভাবতে গিয়ে হঠাৎ করে পার্বতীর কথা মনে পড়লো। আর ভাবছি তাকে নিয়ে এই কৃষ্ণপক্ষ রাত্রিবেলা কিছু লিখব। কি লিখব না লিখব তা নিয়ে আমার মস্তিষ্কে কিছু স্মৃতিভ্রম হচ্ছে।
ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে অজস্র কবিতা,অজস্র উপন্যাস লিখলে যে তা কখনো সমাপ্তি করা যায় না।
.
ক্রমশ…

১৭৬জন ৫৪জন
37 Shares

১২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য