আখেন্তেন এবং নেফারতিতি সমান ভাবেই মর্যাদার অধিকারী, দুজনের মাথায় শোভা পাচ্ছে ক্রাউন ।

 

 

পৃথিবীতে যে পাঁচটি প্রাচীন সভ্যতা গড়ে উঠেছিল তার একটি মিশরীয় সভ্যতা। আজ থেকে পাঁচ হাজার বছর আগে এই সভ্যতার গোড়াপত্তন হয় নীল নদের তীরে।

কেমন ছিল সে সময়ে নারীর অবস্থান?

সে সময় তাদের সমাজ ছিল পুরুষ শাসিত। এর মধ্যেও নারীরা নিজেদের মেধা  আর দূরদর্শিতা দিয়ে সেই কালে রাজ্যের প্রধানও হয়েছিলেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে সমসাময়িকভাবে গ্রীস বা ইটালীয় সমাজে নারীর কোনো ক্ষমতা ছিল না। তাদেরকে অবমূল্যায়ন করা হতো।

সে সময়ে দেখা যায় নারীর অবস্থান ছিল ঘরের ভিতরে। পরিবারের দেখভাল এর দায়িত্ব নারীর উপরে ছিল। কিন্তু মিশরীয়রা এই কাজকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করত। এই কাজকে আন্ডার মাইন্ড করত না। নারীর  হাতে টাকা-পয়সা থাকত । নিজস্ব  সম্পত্তি থাকত এবং তা ভোগ-দখল  করতে পারত। ব্যাবসা বাণিজ্য করতে পারত। কোনো কোনো নারী সেই সময়ে রাজ্য শাসন তো বটেই, রাজার উপদেষ্টা হিসাবেও কাজ করত।

আইনগত বিষয়ে নারী হিসাবে সুবিধা প্রাপ্তি :

বিবাহ বিচ্ছেদ এর উপরে নারী যে সুবিধা পেতো :

যে-কোনো দুর্বিষহ এবং  বিপদজনক বিবাহগত সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার রাস্তা সে সময়ে সমাজে চলমান ছিল এবং তার গ্রহণ যোগ্যতাও ছিল সমাজে।  বিচ্ছেদের  পর একজন নারী সন্তানসহ যেন অসহায় অবস্থার মধ্যে না পড়ে তার জন্য তাদের করা সম্পত্তি দুই জনের মধ্যে ভাগ হয়ে যেতো। বিবাহের সময়ে পাওয়া সমস্ত ধন/দৌলত  স্বামী তার স্ত্রীকে দিতে বাধ্য থাকত। তার উপরেও স্বামীকে বিবাহ বিছেদ ঘটানোর জন্য জরিমানা দিতে হতো।  যতক্ষণ পর্যন্ত এই বণ্টন সুন্দরভাবে না হতো, বিবাহ বিচ্ছেদ হতো না। কিন্তু স্ত্রী যদি বিবাহ বিচ্ছেদ  চায় তাকে এসব শর্ত পালন করতে হতো না।
বিবাহ বিচ্ছেদ এবং পুনরায় বিবাহ সহজ পন্থায় করা হতো এবং রাষ্ট্রের কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না। কোনো রাষ্ট্রীয় রেকর্ড থাকত না।

কীভাবে বিবাহ হতো :

বেশির ভাগ বিবাহ হতো একজন পুরুষের ইচ্ছা প্রকাশের মাধ্যমে। কিন্তু তাতে মেয়ের বাবার অনুমতি অবশ্যই থাকতে হতো। এও দেখা যেতো কোনো সময় যদি কোনো নারী কোনো পুরুষকে  পছন্দ করত, তবে সেই নারী তার অবিভাবককে অবশ্যই বলতে হতো  এবং তাদের অনুমতি সাপেক্ষেই বিবাহ করার অনুমতি পেত।

নারীর সম্পত্তি ভোগ দখল :

সেই প্রাচীন সমাজেও নারীকে  একজন পুরুষের মতোই সমান চোখে দেখা হতো। একজন পুরুষ যেমন সম্পত্তির মালিক হতে পারতো ঠিক সেভাবে একজন নারীও সম্পত্তির মালিক এবং তা ভোগ দখল করতে পারত। এই বিষয়টি এখনকার মহিলাদের জন্য একটা মাইল ফলক হয়ে থাকবে। কারণ এখনো অনেক সমাজে নারীকে  সম্পত্তির অধিকার হতে দেওয়া  হয় না বা হওয়ার সুযোগও নাই। হলেও তা স্বামী তার নিজের দখলে রাখতে চায়। অনেক সমাজে নারী বাবার সম্পত্তিরও  উত্তরাধিকারী হয় না। কিছু সম্পত্তি পাওয়ার অধিকার থাকলেও ছলেবলে কৌশলে তা থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয়।

জেন্ডারগত সমতা :

নারীকে  পুরুষের মতোই সমান চোখে দেখা হতো সেই প্রাচীন আমলেও। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় অনেক কবরের অঙ্কনে দেখা যায় স্বামী-স্ত্রী হাত ধরে বসে আছে। নারী তার স্বামীর মতোই একই কবরে একই মর্যাদায় সমাধিস্থ হতো। নারী পুরুষের কবর সমান আয়তনের ছিল। টিয়ে এবং Amenhotep 2 এর কবর একই আয়তনের।  রানি নেফারতিতি তার স্বামী এখেনটেনের  মতোই মাথায় মুকুট পরিধান করত। নেফারতিতির উপদেশ মতোই তার স্বামী ফ্যারো এখেনটেন দেশ পরিচালনা করতেন। নারীরা স্বামীকে সব ধরনের কাজেই সহযোগিতা করত। বিভিন্ন অঙ্কন থেকে দেখা যায় নারী পুরুষের পাশাপাশি চাষাবাদ, গবাদি পশু পালন এবং অন্য সব কিছুতেই অংশ নিচ্ছে। এর থেকে বোঝা যায় এইসব কাজে  নারীদের অংশ  গ্রহণ  একটা সাধারণ বাপ্যার ছিল এবং এর গ্রহণ যোগ্যতাও ছিল। নারী চার দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ ছিল না। প্রাচীন মিশরীয় সমাজের নারীরা আজকের আরব সমাজের নারীদের প্রভাবীত করতে পারে। তাদের জেন্ডার ইস্যুর ব্যাপারটাতে প্রতিফলন ফেলতে পারে। প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায় নারী যখন মায়ের ভূমিকাতে থাকতো তখন তাকে সন্মানের চোখে দেখা হতো এবং এই কাজকে কখনো ছোটো করে দেখা হতো না। বাইরে একজন পুরুষ একজন হাইলি অফিসিয়াল থাকতে পারে, কিন্তু ঘরে আসলে নারীই তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে মডার্ন মিশরে, মিশরীয় নারী  সমাজের উন্নতির জন্য  সরকার  ব্যাপক পরিবর্তনের প্রগ্রাম  হাতে নিয়েছে। অন্যান্য আরব দেশগুলোর তুলনায় মডার্ন মিশরীয় নারী সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিকভাবে  অনেক অগ্রসর। ২০১১ সালের UNDP এর গবেষণায় এই বিষয়টি উঠে এসেছে।

নানা রকম পেশায় নারী :

Nenofer নামক একজন নারী New kingdom এ একজন ব্যবসায়ী হিসাবে দেখা গেছে। ধর্ম যাজকের সহযোগী হিসাবে নারীকে দেখা গেছে। বাচ্চা হওয়ার সময়ে নারী mid wife হিসাবে কাজ করত। নারী  নানা কাজের মধ্যে দিয়ে সমাজকে কন্ট্রিবিউট করত। মিশরীয় tomb এ আঁকা ছবি থেকে জানা যায় মেয়েরা কাপড় বুনছে, ওভারসিয়ার, ডাক্তার, ডিরেক্টর এবং নার্স হিসাবে কর্মরত।

‘ Lahum’ 1800 BC  tomb এর  এক লেখনীতে দেখা যাচ্ছে ৬ জন নারী কাপড় বুনন কারীর কথা।

ওল্ড কিংডমে Nefertiabet ( ২৫৯০-২৫৬৫ BCE ) নামক একজন মহিলা যাকে দেখা গেছে গিজাতে তার Tomb এর দেয়ালে আঁকা ছবিতে Vizier পদে। যা কিনা রাজা বা ফ্যারোর পরেই গুরুত্বপূর্ণ এক পদ। বর্তমানে এই ছবিটি আছে ফ্রান্সের মিউজিয়ামে, যা কিনা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আর্ট মিউজিয়াম। দেয়ালে আঁকা আর্ট থেকে দেখা যাচ্ছে মেয়েরা নাচ করছে, বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে গান করছে। তার মানে এই পেশায় কাজ করা গর্হিত কিছু নয়, সমাজে তার গ্রহণ যোগ্যতা ছিল। এর থেকে বোঝা যায় নারী তখন চার দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ  ছিল না।

Nefertiabet (  নেফারতিয়াবেত ) একজন Vizier, অর্থাৎ উচ্চপদের একজন উপদেষ্টা ঃ 

নারী দেবতা :

প্রাচীন মিশরীয় দেবদেবীর মধ্যে অনেক দেবদেবী নারী ছিল। যেমন Isis এবং তার বোন  Nephhys , তারা ছিল জীবন এবং উর্বরতার দেবী। ওসিরিস ছিল মৃত্যুর দেবী। তা ছাড়া Isis ম্যাজিকের দেবী, Hathor ভালোবাসার দেবী, Bastet গৃহ রক্ষার দেবী। নারীকে সন্মান দেওয়া হতো বলেই তাকে দেবীর আসনেও বসানো হতো।

রাজ ক্ষমতায়  নারী :

প্রাচীন মিশরীয়রা পছন্দ করত শাসন কাজ পরিচালনা হবে রয়াল বংশ দ্বারা। সেটা যদি মেয়ে হয় তারা সেটা মেনে নিতো । একটা পুরুষ যদি রাজ বংশের না হতো তাকে তারা মেনে নিত না। যদি পুত্র সন্তান না থাকতো বা ছোটো থাকতো তখন মা কিংবা বড় বোন রাজ্য চালনার দায়িত্ব নিতো। নারীর কাজ ছিল উত্তরাধিকারীর জন্ম দেওয়া। যদি কোনো সন্তান না থাকতো তবে ক্ষমতা যেতো কাজিন অথবা চাচার হাতে।

মিশরের প্রাচীন ইতিহাসে দেখা যায় বেশ কিছু শক্তিশালী মহিলা শাসক, যা কিনা সে সময়ের সামাজিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে একটা সাধারণ ব্যাপার ছিল না। কারণ পুরুষ শাসিত সমাজে একটা মেয়ে শক্তি অর্জন করে শাসকের ভূমিকাতে আসা স্বাভাবিক ব্যাপার নয়। এটাকে একটা আশ্চর্য ব্যাপার বলা যায়।

এরা হলেন :
১) Merneith ২) Sobeknefru ৩) Khenkaus ৪) Nefertiti ৫ ) Hatshepsut ৬ ) Twosret ৭ ) ক্লিওপেট্রা

মেরনেইথ ( Mermeith)

তার শাসনকাল ছিল 2970BC প্রথম ডাইনেশটি । বিবাহ সূত্রে তিনি রানি ছিলেন। কিন্তু কিছুদিনের জন্য তিনি শাসকও ছিলেন। তার অধিকার বলেই হয়ে ছিলেন। গিজাতে তিন পিরামিডের পাশেই তার কবরে তাকে সন্মানের সাথেই সমাধিস্থ করা হয়। কবরের বিশালত্ব বলে দেয় তিনি ক্ষমতাধর ছিলেন। কবরে বিরাট একটা চেম্বার ছিল চাকর-বাকরের চেম্বার। তার ছেলের কবরের দেয়ালের লেখনীতে প্রথম দিককার রাজাদের লিস্টে তার নাম ছিল। টাইটেল ছিল “কিংস মাদার“ । তিনি যদি অধিকার বলে রাজা হন তবে তিনিই প্রথম মহিলা শাসক।

Khenkaus ১ ( খেঙ্কাউস ১ )

তিনি  চতুর্থ Dynasty এর একজন শক্তিশালী রানি ছিলেন। তিনি ফ্যারও Menkaure এর কন্যা ছিলেন। তার tomb নাম্বার LG ১০০ এবং ৮৪০০ । গিজায় যে তিনটি পিরামিড আছে তার মধ্যে যেটি  সবচেয়ে ছোটো তার পাশে ছোটো ছোটো তিনটি সারিবদ্ধ  পিরামিড আছে, তার একটি হলো এই রানি খেঙ্কাউস এর ।

নেফেরতিতি ( Nefertiti ) ১৫৫০-১২৯২ BC

তিনি একজন শক্তিশালী নারী শাসক ছিলেন। বিভিন্ন জায়গাতে নানা অঙ্কনের মাধ্যমে দেখা যায় তার স্বামী  আখ্যা নটেন ( Akhenten) এক সঙ্গে বসে হয় রাজকার্য পরিচালনা  করছেন বা সুর্জ দেবতার পূজা করছেন , বা পরিবারের সাথে বসে সময় কাটাচ্ছেন। তার মাথায় সবসময় দেখা যায় ফ্যারর ক্রাউন। তার সেই বিখ্যাত ক্রাউন মাথায় বুক অবধি পাথরের বাসটি জার্মানের বার্লিনে বিখ্যাত মিউজিয়াম “The Nenes Museum in Barlin” এ শোভা পাচ্ছে। যা দেখতে প্রতি বছর ৫০০,০০০ ( পাঁচ লক্ষ ) টুরিস্ট এর আগমন হয়। যা পাওয়া গিয়েছিল Akhennaten এর বিখ্যাত আমারনা প্রোজেক্ট এ । যদিও তিনি রাজার রানি ছিলেন, কিন্তু তিনি সন্মানিত ছিলেন এবং তার মতামতের দাম ছিল।

Hatshepsut ( হাতস- হেপ – সুট ) ১৪৭৩- ১৪৫৮ BC

তিনি ছিলেন প্রাচীন মিশরীয় ইতিহাসকে পরিবর্তনকারী একজন শক্তিশালী নারী শাসক। তিনি ছিলেন একজন লিডার, পলেটেসিয়ান এবং revolutionary. অর্থাৎ রাজনৈতিকভাবে  ব্যাপক পরিবর্তনকারী । তিনি ছিলেন তুথমাস ১  এর কন্যা । তুথমাসের মৃত্যুর পর ক্ষমতা তার পুত্র তুথমাস ২ এর কাছে যায়, কিন্তু তার হঠাৎ মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারী হন তুথমাস ৩, কিন্তু তিনি  প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়ার জন্য ( hats-hep-sut)  হাতস-হেপ-সুত  ক্ষমতায় আসেন। তার নামের মানে “Foremost Of Noble Women”

‘The Oxford History Of Ancient Egypt‘ এ ইতিহাসবিদ Betsy Bryan লিখেছেন এবং তিনি প্রমাণও পেয়েছেন যে, হাতস-হেপ-সুত নিউবিয়া এবং সিরিয়া  দখল করে রাজ্য বিস্তার করেছিলেন । তিনি যে রাজ্য বিস্তার করেছিলেন তাই নয়, তিনি অনেক বিল্ডিং প্রোজেক্ট হাতে নিয়ে তা শেষও করেছিলেন । যেমন তার বিখ্যাত স্থাপত্য শিল্প হলো “The Temple Of Hatsshepsut”। যা দেখতে লক্ষ লক্ষ টুরিস্ট মিশর যায়।
অন্যান্য স্থাপনাগুলো হলো Qasribrim, Semna, Faras এবং Buhen।

The Temple Of Hatsshepsut

বিখ্যাত Karnak Complex এ তিনি একাধিক অবিলিক্স স্থাপন এবং ‘ প্যালেস অব মাট ‘ স্থাপন করে গেছেন। UCLA এর গবেষকগণ এই “ ডিজিটাল কারনাক “ নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে এই সব খুঁজে পান।

“ Art Through The Age” এবং “ The Western Perspective”-তে  “লেখক হেলেন গার্ডনার”  এবং “ Fred Kleiner “ গবেষণা করে পেয়েছেন হাতস-হেপ-সুট এর বিখ্যাত টেম্পল, The Temple Of Hats-hep- sut এর দেয়ালে আঁকা ছবিতে তার বাবা টুথমাস ১ তাকে ক্রাউন পরিয়ে উত্তরাধিকারী করে যাচ্ছেন। যখন আরকেওলজিরা 19th সেঞ্চুরিতে এই মন্দিরটি excavated করে ছিলেন তারা আবিষ্কার করলেন দুটো অঙ্কন। একটাতে হাতস-হেপ-সুট স্ফিংক্স এর উপরে বসে তার শত্রু দেরকে তাড়িয়ে দিচ্ছেন । আর একটাতে দেখা যাচ্ছে পুন্ত (Punt) এ বাণিজ্য করতে যাচ্ছেন।

তার আমলে তিনটি উল্লেখ যোগ্য জিনিস তিনি  করেছিলেন। ১) রাজ্য জয়, ২) বাণিজ্য বিস্তার, ৩) বিল্ডিং প্রোজেক্ট  ।

Twosret ( ত্বওস্রেট ) ১১৯১- ১১৮৯ B.C

প্রথমে তিনি ছিলেন সেটি ২ এর স্ত্রী । তার উত্তররাধিকারি ছিল তার পুত্র Siptah (সিপ্তাহ) । পুত্রের মৃত্যুর পর তিনি নিজেকে ফ্যার ঘোষণা করেন।

ক্লিওপেট্রা :

ক্লিওপেট্রা ছিলেন গ্রীক অরিজিন Ptolemaic যুগের। তিনি অরিজিন্যাল মিশরীয় বংশগত ছিলেন না। বাবার ইচ্ছা অনুযায়ী তিনি ১৮ বছর বয়সে আপন ভাই Ptolemy XIII-কে বিয়ে করতে বাধ্য হন। বাবার মৃত্যুর পর ক্ষমতা নেয়ার পর ঘোষণা দেন ভাইয়ের সাথে ক্ষমতা ভাগা ভাগি করবেন না এবং মুদ্রা থেকে ভাই এর ছবি মুছে ফেলেন । 48 B.C-তে ক্লিওপেট্রাকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয় এবং তিনি সিরিয়াতে পলায়ন করেন। পড়ে জুলিয়াস সিজার এর সাথে মিলিত হয়ে Allies গঠন করে তার ভাইকে সরিয়ে ফেলে আবার ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেন। তিনি ছিলেন একজন বড় ডিপ্লোম্যাট। অনেক ভাষায় কথা বলতে পারতেন।

প্রাচীন মিশরীয় নারী আজকের নারীদের প্রভাবিত করতে পারেঃ  

এই ছিল প্রাচীন মিশরের নারী সমাজের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সামাজিক চিত্র। প্রাচীন মিশরীয় সমাজের নারীরা আজকের সমাজের নারীদের প্রভাবিত করতে পারে ।

বর্তমানে বিশ্বে  নারী সমাজ উন্নয়নে কী কী  বাবস্থা নেয়া হয়েছে । কোন  দেশে কী অবস্থায় আছে নারী সমাজ ।

U.N. নারী উন্নয়ন নিয়ে অনেক কাজ করে। প্রত্যেকটা দেশ কীভাবে নারীকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, কী নীতি নির্ধারণ করবে, কীভাবে নারীকে অধিকার দিয়ে ক্ষমতাবান করা যায়, তাদের জীবনকে উন্নত করা যায় তা বের করা, গবেষণা করা এবং দরকার মতো অর্থ দিয়ে সাহায্য করা হলো এর কাজ।

নারী অধিকারই  হলো মানব অধিকার। একটা দেশের অর্ধেক মানুষই যদি নারী হয় তারাকে পেছনে ফেলে দিয়ে একটা দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। একজন নারী প্রথমে একজন মানুষ, তাই তার অধিকার আছে যে-কোনো ধরনের অত্যাচার এবং ডিস ক্রিমিনেসান থেকে রক্ষা পাওয়া। আর যা কিনা একজন মানুষকে শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতা দান করে।

নারীর অধিকার আছে শিক্ষার, সম্পত্তি ভোগ দখলের, উপার্জন করার এবং চিকিৎসা পাওয়ার। কিন্তু পৃথিবীর অনেক দেশে মেয়েরা এগুলো থেকে বঞ্চিত। তাদেরকে পুরুষের সমকক্ষ মনে করা হয় না। অনেক মেয়েকে নিজ পরিবারে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। যৌন নির্যাতনের সম্মুখীন হতে হয়। নিরাপত্তার অভাবে থাকতে হয়।

বাল্য বিবাহ এবং  অনাকাঙ্ক্ষিত সন্তানের বোঝা টানা কতখানি কষ্টকর তা ভুক্ত ভোগীই জানে। সমস্ত জীবন ধরে অপরের উপর আসম্মানজনকভাবে নির্ভরশীল হয়ে জীবন কাটানোই হয় তাদের জীবন।

Phumzile Mlambo Ngcuka, Executive Director,U N Womeno

শান্তি, সন্মান এবং সমতা :

U.N. এই ব্যাপারে গবেষণা করে নীতি নির্ধারণ করে এবং প্রত্যেক দেশের সরকারের সাথে  দেশ পরিচালনার  ব্যাপারে এই নীতি কীভাবে প্রয়োগ করা যায় তা চিন্তা ভাবনা  করে। Advocacy, Campaigning জনসাধারণকে সচেতন করা এর আর একটা দায়িত্ব।

U.N. এর গবেষণায় দেখা গেছে “ Gender equality and the empowerment of women and girls is not just a goal in itself but a key to sustainable development economic growth and peace and security.”
একটা দেশ বা  সমাজ তখনি উন্নত হয় যখন সেই দেশের নারীকে সঠিক অধিকার দেওয়া হয় এবং এই ব্যাপারটিকে সিরিয়াসলি নেওয়া হয়। কারণ এর মধ্যে নিহিত আছে শান্তি এবং নিরাপত্তা।

Sustainable Development

একটা দেশের উন্নতির জন্য নারী পুরুষ এর মধ্যে সমতা দরকার। কিন্তু তা এখনো তা সব দেশে গোড়ে উঠেনি।

একটা বড়  সংখ্যক আরব রাজ্যের  দেশ গুলোতে, ভারত,  পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান এ মেয়েরা  অনেক পেছনে পড়ে আছে।

 মেয়েরা ভালো   আছে নরওয়ে ,সুইডেন, জার্মান, নেদারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া , নিউজিল্যানড , ফিনল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক এবং কানাডায় ।

আফ্রিকার চাদ যেখানে ২৯% মেয়ে ১৫ হওয়ার আগেই বিয়ে হয়। গুয়ানা তে ৯৬% মেয়ে Genital Mulilation এর স্বীকার। মালী এবং নাইজারে ৫০% মেয়ে ১৫ বছর হওয়ার আগেই বিয়ে হয় এবং যা কিনা একজন মেয়ে শিশু অবস্থা থাকার কারনে শারীরিক এবং মানসিক দুই অবস্থার জন্য খুব খারাপ। নারী ধর্ষণ এর সমস্যা সবচেয়ে বেশী কঙ্গো তে।

বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ায়    সরকার অনেক নিয়ম  নীতি চালু করেছে নারী উন্নতির  জন্য।

এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া । মানুষের মন কে পরিবর্তন করতে হবে। নিয়ম গুলো ঠিক মতো পালন হচ্ছে কিনা তা দেখতে হবে। সরকারের একটা সদিচ্ছা থাকতে হবে।

কারন  এখনো অনেক দেশে মালালার উক্তি টি চালু আছে। আর সেটা হলঃ ” I was a girl in a land where rifles are fired in celebration of a son, while daughters are hidden away behind a curtain. Their role in life simple to prepare food and give birth to children.”

অর্থাৎ ” আমি এমন একটা স্থানে জন্ম নিয়েছি যেখানে ,  একটি ছেলে জন্ম হোলে বন্দুক ফুটিয়ে আনন্দ প্রকাশ করা হয় কিন্তু মেয়ে জন্মালে তাকে পর্দার আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয় এবং তার জীবন কাটে রান্নাবান্না আর সন্তান উৎপাদনের মাধ্যমে।”  আর এই কাজের মূল্যায়নও হয়না ।

তথ্য সূত্র

Women’s Legal Rights Egypt, Janet H, Johnson, Egyptology, University of Chicago

Hatsepsut, Powerful Female Pharaoh, Owen Jarus

Status Of Ratification of  18 international Human  Rights Treaties , United Nations

Women Rights and international law, Amnesty International

লেখকের নিজস্ব ভ্রমণ অভিজ্ঞতা থেকে

Photo: Wikipedia

৪৬৪জন ২জন
0 Shares

১০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য