জীবন যুদ্ধ ১০-ম পর্ব

 লিখেছেন on নভেম্বর ৭, ২০১৭ at ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন  গল্প  Add comments
নভে. ০৭২০১৭
 


স্যারের কলটা রেখেই চিন্তা করতে লাগলো মাত্র তিন মাস বাকি এইচ এস সি পরীক্ষার ফেল করলে চলবে না। উচিৎ জবাব দিতে হবে যারা আমাকে মারছে, যারা সাধের স্কুলটা ধ্বংস করে দিলো সব্বাইকে এই ভাবতে ভাবতে কখনযে ঘুমিয়ে পড়েছে মনে নেই। ডাক্তারের আলতো ছোয়ায় জেগে উঠলো নাবিল।
– না না উঠবেন নাই নাবিল ভাই, ঘুমান রেষ্ট নেন। আপনি অনেকটা ই সুস্থ। যে অবস্থা থেকে ফিরে আসছেন আসলে ফিরে আসার পরে অনেক খারাপ সিনটম থাকে কিন্তু আল্লাহ্‌র রহমতে আপনার কোনো সমস্যা নাই তেমন। কিছুদিনের মধ্যেই রিলিজ দিয়ে দিবো চিন্তা করবেন না ভাই। রেষ্ট নেন আমি এখন যাই একটু পরে নার্স এসে ইঞ্জেকশন ও ট্রিপ্স দিয়ে যাবে। আশা করি তিন দিনের মধ্যেই হালকা ও নরম খাবার মুখে খেতে পারবেন।
– আহহ শান্তির একটা কথা শুনালেন ভাই, কত্তদিন ফুসকা, হালিম শিক কাবাব, নেহারী খাই নাই রে ভাই বলেই মুচকি একটা হাসি দিলো নাবিল।
– হা হা হা না না নাবিল সাহেব এত তাড়াতাড়ি এগুলো কিছুই খেতেই পারবেন না। ভেজিটেবল স্যুপ, চিকেন স্যুপ ছাড়া আপাতত কিছু এলাও করছি না ভাই সরি ফর দ্যাট। কিন্তু সপ্তাহ খানেক পরে সবই খেতে পারবেন আশাকরি।
প্রায় দেড় সপ্তাহ হয়ে গেছে নাবিলের জ্ঞ্যান ফিরেছে, এখন একটু একটু হাটতে পারে নাবিল ছড়ি ধরে ধরে। অনেক দিন শিক কাবাব খায়না ভাবতে ভাবতেই ফোনটা হাতে হসপিটালের কেবিনের বারান্দায় এসে দাঁড়ালো। মহরের দোকানের নাম্বার বের করে শিক ও সুতি কাবাব, নান রুটি অর্ডার করে বললো হসপিটালে পাঠিয়ে দিতে। কলটা রেখে নাম্বার চেক করতে লাগলো অনেক দিন যাবত কারো সাথে কথা হয় না। নাম্বার দেখতে দেখতে হঠাৎ একটা নাম্বারের দিকে চোখ গেল নাম হৃদিতা। নাবিলের কলেজ ক্লাসমেট ছিলো। হয়তো এখন মাস্টার্স করছে বা বিয়ে করে ফেলেছে অনেক বছর যোগাযোগ নেই। কল দিবে নাকি দিবে না চিন্তা করতে করতেই খাবার চলে এলো। মহর নিজে এসেছে অনেক দিন নাবিলকে দেখে না। কুসল বিনিময় শেষে খাবারের দাম নিয়ে চলে যাওয়ার সময় বলে গেল রাতের জন্য স্পেশাল হালিম নিয়ে আসবে।
তাজকে কল দিলো আসতে বলবে একসাথে লাঞ্চ করবে এ জন্য কিন্তু তাজ কল রিসিভ করেই বললো ভাই ভর্তির সব রেডি হয়েছে আমি রিকশায় আছি হারপাতালেই আসছি সব পেপারস আর কিছু বই নিয়ে, সাথে একজন গেস্ট ও আছে ভাই। আচ্ছা আয় সমস্যা নাই খাবার অর্ডার করেছি তোকে আসতে বলতাম লাঞ্চের জন্য, আয় তাহলে বলেই কল কেটে দিলো। ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে দেখে তাজ বসে আছে।
– কিরে তোর সাথে বলে গেস্ট আছে কোথায় রেখে এলি?
– বারান্দায় দারায়া আছে ভাই, ডরাইতাছে দেখা করতে যদি বকেন তাই। আজব বকবো কেন বলেই বারান্দার দিকে গেল নাবিল। দেখেই থমকে গেল একটু আগেই হৃদিতার কথা ভাবতে ছিলো অনেক দিন বাঁচবে মেয়েটা। একটু অবাক হয়েই নাবিল জিজ্ঞাসা করলো হৃদি না !
– নামটা মনে আছে তাহলে ওয়াও।
– থাকাটাই কি স্বাভাবিক না আপনি ই যে প্রথম কোনো মেয়ে যে আমার কাছে মার খেয়েছে হা হা হা।
– তারপর কেমন আছেন আপনি ?
– কি বেপার নাবিল সাহেব আপনি তো আমাকে আপনি-আপনি করে কথা বলতেন না! হঠাৎ কি হলো?
– না কিছু হয়নি এমনি। কেমন আছেন বলেন।
– আগের মত করে কথা না বললে আমি চলে যাবো কোনো প্রশ্নের ই জবাব দিবো না কিন্তু হুম…
– আচ্ছা হৃদি কেমন আছিস বল? বাবা-মা কেমন আছেন? কি করছেন এখন?
– সবাই ভাল আছে। আপনার এই কিভাবে বলেন তো?
– হুম্মম্ম কিভাবে যেন হয়ে গেল। বাদ দে…
ভাই খাবার সব রেডি করে ফেলছি ঠান্ডা হইয়া যাইবো তাড়াতাড়ি আসেন ভাই…
চল তাজ ডাকতেছে খুদাও লাগছে চল চল খেয়ে নেই তারপর কথা বলবো।
মোটামুটি নিরবেই লাঞ্চ শেষ হলো সবার। খাওয়া শেষে হৃদি ই সব পরিষ্কার করে বসে বললো সবাই এত চুপ-চাপ কেন? কিরে তাজ তোর কি হয়েছে কথা বলিস না কেন?
না আপু এমনেই আপনারা বসেন আমি নিচ থেকে আসছি বলেই তাজ চলে গেল সিগারেট খেতে।
– তো হৃদি কেমন চলছে দিন কাল? It’s being long time we never meet?
– yeah seven years two months nine days আমাকে থাপ্পর মারার পর আপনি আর দেখা করেন-নি আমার সাথে।
– সাহস ছিলো তোর বলতে হবে তা না হলে কেউ প্রপোজ করে এভাবে সবার সামনে? ষ্টুপিড মেয়ে একটা…
– দেখো নাবিল ষ্টুপিড বলবে না আমাকে হয়তো ছোট ছিলাম কিন্তু আমার ক্রাশ তুমিই ছিলা। সুযোগ থাকলে এখন ই প্রোপজ করতাম।
– বাহ চাঞ্চ পেয়ে ড্যাঞ্চ মেরে দিলা। আপনি থেকে তুমি? ভাল-ভাল… যাইহোক এখনো কি ভালবাসিস?
কিরে চুপ করে রইলি কেন বল উত্তর দে।
– বাদ দেও এই টপিক।
– কেনরে বিয়ে করে ফেলেছিস বলে?
হৃদিতা চমকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো তুমি কিভাবে জানো আমার বিয়ে হয়েছে? – হা হা হা তুমি হয়তো ভুলে গেছো কার সাথে কথা বলছো এখন বলেই চুপ করে গেল!
– হুম বিয়ে করেছি প্রায় তিন বছর হলো, হাসবেন্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ার ছোট্ট একটা মেয়ে আছে দুই বছরে পরবে ডিসেম্বরে। নাম রেখেছি নাবিলা বলেই চুপ করে অন্য মনষ্ক হয়ে গেল দুজনেই।
নাবিল আন্দাজে ঢিল ছুরেছিলো নাবিল লেগেও গেছে, মনে মনে নাবিলেও দুর্বলতা ছিলো মেয়েটার প্রতি কিন্তু…
ব্যাপার না এখনো যে নাবিলের অনেক কাজ বাকি মেয়ে,প্রেম-প্রণয় নিয়ে ভাবলে চলবে না।
এমন সময় তাজ রুমের দরজা নক করে ভিতরে ঢুকলো। নাবিল-হৃদিতা বাভনার জগত থেকে বাস্তবে ফিরে এলেও নাবিল চুপ ই ছিলো।
– আয় তাজ বোস সিগারেট খাওয়া হলো তোর বলেই হৃদিতা মাথায় গাট্টা মারলো তাজের?
– কি যে কন না আফা আমি কি খালি বিড়ি খাইতে গেছি নাকি ভাইয়ের জন্য বইগুলা নিয়া আসলাম নিচে রিসিপশনে রাখা ছিলো। নাবিল ভাই একটু এইদিকে আসেন কথা আছে। নাবল এলে সব বই নোট বুঝিয়ে দিয়ে বললো ভাই বাসায় জাবেন কবে?
– ডাক্তার বলছিলো দুই তিন দিনের মধ্যেই রিলিজ দিয়ে দিবে।
– হুম্ম ভাল হবে তাহলে আপনার জন্য হিসাব বিজ্ঞানের শিক্ষীকা পাওয়া গেছে।
– ওই তোকে না বলছি ছেলে টিচার খুজতে!!
– ভাই আপনি বলার পর অনেক খুজেছি সবাই বলে ব্যাচে গিয়ে পড়তে হবে বাসায় এসে পড়াতে পারবে না। এমন সময় হৃদিতা আপুকে সামনে পেয়ে সব খুলে বললাম আপু ই রাজি হলো আপনাকে পড়াবে।
– কি!! তুই পড়াবি তাহলেই হইছে হুহ…
– কি মনে করো আমাকে হিসাব বিজ্ঞানে মাস্টার্স করছি ফাইনাল ইয়ারে আছি। কলেজে পড়াচ্ছি তোমার ইচ্ছার কথা শুনে আমি অনেক খুশি হয়েছি তাই পড়াতে চাই। কি পড়বে নাকি অন্য টিচার দেখবে?
– নাহ্‌ থাক তুই ই বাসায় আশিস সমস্যা নেই। পণ্ডিত স্যারের বাসায় থাকবো নভেম্বর মাস টা, হৃদি তুই ডিসেম্বর থেকে আশিস ঠিক আছে?
– আমরা আসলে ঢাকাতেই থাকি, শ্বশুর বাড়িতেই তুমি চাইলে স্যারের বাসায় এসেই পড়াতে পারি।
আচ্ছা দেখা যাক সমস্যা নেই। তাজ একটা কাজ কর ডাক্তারকে ডেকে নিয়ে আয় যদি ফ্রি থাকেন উনি।
– আচ্ছা ভাই বলেই চলে গেল।
পাচ মিনিটেই তাজ ডাক্তার আর মা’কে নিয়ে রুমে এলো।
– মা তুমি এসেছো তোমার কথা ই ভাবতে ছিলাম। আসো এখানে বসো মা। ডাক্তার সাহেব কবে ছাড়বেন আমাকে? আআর যে দম বন্ধ হয়ে আসছে।
– আর মাত্র দু’দিন অবজারভেশনে রেখেই রিলিজ দিয়ে দিবো ভাইয়া চিন্তা করবেন না। বসুন কথা বলুন আপনারা আমি আসছি এখন বলেই ডাক্তার চলে গেল।
সন্ধ হয়ে এল মহরকে একটা কল দে তো তাজ।
– কল দেওয়ন লাগবো না ভাই আমি আইসা পরছি। চার জনের খাবার নিয়া আসছি ভাই।
– ভাল করেছএন এই নেন টাকাটা।
– না ভাই এইডা আমার তরফ থিকা খাওয়াইলাম। খান আপনেরা আমি এখন যাই পরে আইসা দেখা কইরা যামুনে।
– আচ্ছা মহর ভাই এত ভালবাসেন কেন আমাকে?
– আমার কোনো ছোট ভাই নাই আপনেরে আমার ভাইয়ের মত দেখি তাই ভালবাসি। সরল উত্তর দিয়ে চলে গেলো মহর আর সবাই মুচকি হাসি দিয়ে খেতে শুরু করলো।

গল্পের সকল স্থান, নাম ও চরিত্র কাল্পনিক কিন্তু গ্রাম-বাংলার পরিপ্রেক্ষিতে অতি সাধারণ ঘটনা, কারো সাথে মিলে গেলে নিজ গুণে ক্ষমা করবেন”

চলবে…

  একটি মন্তব্য।, “জীবন যুদ্ধ ১০-ম পর্ব”

    
  1. এভাবেই যদি সবার মন্টা ভাল হত কতই না ভালো হত………………………………।।
    -{@