মিডনাইট ফ্যানটাসি

মহানন্দ ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২০, শনিবার, ১০:২০:১৩পূর্বাহ্ন অণুগল্প ১৬ মন্তব্য

আজকে বাবা,জামাই , ভাসুরদের জন্য পান্জাবী আর মেয়েদের জন্য জামা কিনব…গুলশান আড়ংয়ে যাবো …কাছাকাছি থাকলে চলে এসো একসাথে লান্চ করা যাবে।

– তোমার ফ্লাইট আজকে না?

সেটাতো রাত দুটায়…রাত ১১ টায় এয়ারপোর্ট গেলেই হবে।

– তুমি বললে না করার সাধ্য আমার নেই ..কাছাকাছি এসে কল দিও।

প্রিয়তা আজকে চলে যাবে। দেখা করা জরুরী ছিলনা কিন্তু মন চেয়েছে বলেই আমাকে কল দিয়েছে…হয়ত কিছু বলবে..যাবার আগে হয়ত পুরানো কোন কথা বলবে যেগুলোর এখন তেমন মূল্য নেই। লালন সাঁই  বলে গেছেন  “সময় গেলে সাধন হবেনা”।

আড়ংয়ে দেখা হবার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যে পান্জাবী গুলো কেনা হয়ে গেল । মেয়েদের জন্য পোষাক কেনার পর শাড়ী সেকশনে কিছুক্ষন থাকলাম..ওকে একটি শাড়ী পছন্দ করতে বললাম …কোন ভাবেই রাজী হলো না।আড়ংয়ের ভেতরে ছোট একটা ফুড কর্নার আছে ওখানেই লান্চ করে নিলাম। এরপর নর্থ গুলশান গেলাম কফি খেতে। খুব কাছাকাছি দুজন বসা কিন্তু তেমন কোন কথা বলছেনা প্রিয়তা।জানতে চাইলাম চুপ করে আছো কেন। বললো….দেশে বাবা-মা রেখে এতদূর থাকি ..কাছে পেলে উনারা কেমন করতে থাকে …মনে হয় পরেরবার আসলে যদি কেউ একজন না থাকেন … মনটা ভারী হয়ে যায়।কফি খাবার সময় একটা পরিচিত গন্ধ পেলাম …..

-জানতে চাইলাম তুমি কি Midnight Fantasy by Britney Spears (perfume)ব্যাবহার কর।

  ..হাঁ ,কেন তোমার পরিচিত কেউ ব্যাবহার করে।

-হ্যাঁ ,আমার ওয়াইফ এটা ব্যাবহার করে…।

আমাকে একটু মিরপুর নামিয়ে দিয়ে এসো…..আরও কিছুক্ষন কথা বলা যাবে। গাড়ীতে উঠার পর প্রিয়তা ..বললো …..অনলাইনে এতদিনের পরিচয় ,আজকে মাত্র দ্বিতীয় বার দেখা..যদি তোমার আপত্তি না থাকে … আমার হাতটা একটু ধরবে।

-তোমার বাসার কাছে পরিচিত কেউ আমাদের দেখলে কোন প্রবলেম হবে না?

প্রিয়তা অনেকক্ষন হেসে উত্তর দিলো…কেউ দেখলে বলবো উবার ড্রাইভার তুমি…উল্টা-পাল্টা চালাচ্ছিলে তাই সামনের সিটে বসে গাইড করছিলাম।

ওকে নামিয়ে দিয়ে বাসায় আসার সময় খেয়াল করলাম আমার হাতে মিডনাইট ফ্যানটাসির গন্ধ লেগে আছে ,তীব্র গন্ধটা সহজে যাবেনা।

বাসায় আসার পর বার বার ঘড়ির দিকে চোখ যাচ্ছে রাত ৯টা ….১০টা…।

ঠিক ১১ টায় ইন্টারন্যাশনাল ডিপার্টচারে টিকিট কেটে ভেতরে নজর রাখছি কখন প্রিয়তা আসে। ১০ -১২ মিনিট পর দেখলাম প্রিয়তা কান্নাভেজা চোখে একটা ট্রলি নিয়ে ভেতরে আসছে । আমি একটু আড়ালে পেছন থেকো প্রিয়তার চোখ ধরে বললাম …বলতো কে? 

তোমার হাতে এখনও গন্ধটা আছে…একটু অবাক হয়ে বললো ..এখানে আসবে আমাকে বলনি কেন।

কাউন্টারে লাগেজ দিয়ে বোর্ডিং কার্ড নিয়ে  আমরা চেয়ারে বসলাম।প্রিয়তা বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নেগেটিভ কথা বলা শুরু করলো….শেষে বললো …এই দেশের কোন ভবিষ্যৎ নেই…।তোমরা দেশে থেকে ভুল করেছো…। মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল । বললাম….আমি এসেছি তুমি খুশী হওনি?

কান্না লুকিয়ে বললো ..পরের বার আসলে তোমাকে আবার হারিয়ে ফেলবো নাতো।প্রিয়তা ওর ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে সুন্দর একটা midnight fantacy সেন্টের প্যাকেট আমাকে দিয়ে বললো…এটা তোমার ওয়াইফের জন্য!

প্রিয়তাকে বিদায় দিয়ে মধ্যরাতে ঢাকার নিয়ন আলোতে মাতালের মতো গাড়ী চালিয়ে বাসায় ফেরার সময় ..একটা চিন্তায় মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকলো……এই শহর আমার…এই দেশ আমার।।

১৮৮জন ৬০জন
0 Shares

১৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য