প্রস্তাবনা : আমি কখনোই ধারাবাহিকভাবে ডায়েরি লিখিনি। সব সময় ফাঁকি দিয়েছি। সেই সব ফাঁকিবাজির কিছুটা এখানে দেয়া হল। লেখকদের ডায়েরি অনেকে আগ্রহ নিয়ে পড়েন। আমার ডায়েরি কেউ পড়বেন বলে মনে হয় না। তারপরেও ইচ্ছে হলে লিখি। কবি শামসুর রাহমানের বিখ্যাত একটা কবিতা : স্বাধীনতা তুমি। এই কবিতার শেষ লাইন :  ‘যেমন ইচ্ছে আমার কবিতার খাতা’। ডায়েরি লেখার ব্যাপারটা ঠিক এইরকম। যেমন খুশি তেমন সাজো টাইপ লেখা। যেন কোনো দায়বোধ নেই। বিষণ্ণ অলসতা নিয়ে শুধু নিজের কথা বলা। আমি এই লেখাগুলোর নাম দিয়েছি  ‘২৫৬, নবাব সিরাজউদ্দৌলা রোড’। কারণ আমার কৈশোর কেটেছে এই ঠিকানায়। 

১/ শুধু কথাসাহিত্য আর কবিতা দিয়ে আনিসুল হককে দেখলে বিপদ আছে। আমি যতটুকু বুঝি, এই মানুষটা বাংলাদেশের ফাইনেস্ট স্ক্রিনরাইটারদের একজন। হুমায়ূন আহমেদের ‘আজ রবিবার’ আর আনিসুল হকের ‘দৈনিক তোলপাড়’—এই দুইটা সিরিজ রীতিমত কাল্ট। এগুলো যখনই দেখবেন, আপনার মুখে হাসি ফুটবে। হিউমার নিয়ে এত ভালো কাজ খুব কম আছে আমাদের। যারা টম অ্যান্ড জেরি দেখে আনন্দ পান, তারা দৈনিক তোলপাড়ের মাসুদ আর বাবুর কর্মকাণ্ড দেখতে পারেন। এদের মধ্য দিয়ে আনিসুল হক পত্রিকা জগতের পুরোটাই তুলে এনেছেন। এর বাইরে তার লেখা ৫১বর্তী, ৬৯’—এই সিরিয়ালগুলো দেখলে একটা জিনিস আলাদাভাবে লক্ষ্য করা যাবে। ঘরভর্তি বোন, ভাবী বা শিশুচরিত্র। গত এক যুগে আমাদের ভিডিও ফিকশন থেকে এই চরিত্রগুলো হারিয়ে গেছে। ফলে গল্পের প্রতি এখন আমাদের মায়া জন্মায় না।

৫ মার্চ, ২০২০

২/ আমার জেনারেশনের সবচেয়ে বুদ্ধিমান অভিনেতা হলো লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। ব্লাড ডায়মন্ড, শাটার আইল্যান্ড ও ইনসেপশন—তার এই তিনটা সিনেমা আমি অজস্র রাত দেখেছি। আমি এখনো ভেবেই পাই না, মার্টিন স্করসেসের মত পরিচালক, যিনি রবার্ট ডি নিরো ছাড়া ভাবতেন না, তিনিও কীভাবে ক্যাপ্রিওকে নিয়ে চার-পাঁচটা সিনেমা বানিয়ে ফেলেন!

উডি এলেন, এডয়ার্ড জুইক, স্টিভেন স্পিলবার্গ, ড্যানি বয়েল, জেমস ক্যামেরুন, কুয়েন্টিন তারান্তিনো, ক্রিস্টোফার নোলান, আলেহান্দ্রো ইনারিতু, ক্লিন্ট ইস্টউড … মাত্র ৪৫ বছরের জীবনে এই হল লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর ডিরেক্টরস প্রোফাইল!

আমি সবসময় বিশ্বাস করি, একজন অভিনেতাকে চিনতে হবে তার ডিরেক্টরস প্রোফাইল দিয়ে। তিনি কতগুলো সিনেমায় ভালো অভিনয় করেছেন, পুরস্কার পেয়েছেন—এগুলো অত্যন্ত তুচ্ছ ব্যাপার।

১১ নভেম্বর, ২০১৯

৩/ শুধু সায়েন্স ফিকশনগুলো ধরলেই হুমায়ূন আহমেদ বাংলা ভাষার মহান লেখকদের একজন।

১৮ জুলাই, ২০১৯

৪/ রাজকুমার হিরানি তার প্রথম সিনেমা বানাচ্ছেন। মুন্না ভাই এমবিবিএস। প্রডিউসার তাকে সিনেমায় একটা প্রেমের গান ঢেলে দিতে বললেন। কথাটা শুনে হিরানি খুবই অবাক হলেন। তার বিস্ময়, মুন্না ভাইয়ের মত একটা গুণ্ডা লোক, যিনি না পড়ে এমবিবিএস হয়েছেন, তিনি কীভাবে প্রেমের গান গাইবেন? কীভাবে সম্ভব এটা?

উত্তর খুঁজতে গিয়ে হিরানি বিশাল সমস্যায় পরলেন। তিনি তখন পুরো সিনেমা বানিয়ে ফেলেছেন, কিন্তু প্রেমের গান কীভাবে ডিরেক্ট করে তা শিখেননি। কে উদ্ধার করবে তাকে?

শেষ পর্যন্ত শ্রেয়া ঘোষালের গাওয়া গানটা ডিরেক্ট করতে এগিয়ে এলেন প্রদীপ সরকার। হিরানি শান্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। যাক, বাঁচা গেল। কিন্তু আসলেই কি তিনি বেঁচে গেছেন? আমার তো মনে হয়, এখনো তিনি একা হলেই নিজেকে প্রশ্ন করেন, মুন্না ভাই কীভাবে প্রেমের গান করবে? কীভাবে সম্ভব এটা? আমি নিশ্চিত, এই উত্তরটা জানা তার জন্য জরুরি।

১৫ জুন, ২০১৯ 

৫/ সৃজিত মুখার্জি জয়া আহসানের সঙ্গে ডেট করতে চাইছিলেন। জয়া আহসান পাত্তাই দেন নাই। সৃজিত আনন্দবাজারের এক সাক্ষাৎকারে এটা নিয়ে কান্না করছিলেন। সাক্ষাৎকারগ্রহীতাকে বলছিলেন,—আমি কিন্তু ওরে বিয়ে করবো ভেবেই ডেট করতে চাইছিলাম। … ওইদিন থেকেই সৃজিত মুখার্জিকে আমার বাপ্পারাজ মনে হয়। তিনি বোধ হয় বুঝতে পারেন নাই—জয়া আহসান বিয়ে, সংসার এসব মাথা থেকে ফেলে দেয়ার পরেই বড় অভিনেত্রী হয়েছেন।

২৯ মে, ২০১৯ 

৬/ নজরুলসংগীত শিল্পী খালিদ হোসেন চলে গেলেন। এই রমজান মাসে। তার যাওয়াতে আমি একটু আপসেট। আপসেটের কারণ উনার ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। অথচ একসময় রমজান মাসে ইফতারের আগে-পরে টিভিতে উনাকে অনেক হামদ নাত গাইতে দেখেছি। চাচাকে তার সিডি কিনতে দেখেছি। বোরিং সব প্রচ্ছদ থাকত রেকর্ডগুলোতে। দেখা যেত, প্রচ্ছদে খালিদ হোসেন মন খারাপ করে বসে আছেন। গম্ভীর তার চশমার ফ্রেম। এখন তো কোথাও তাকে দেখা যাবে না। ভুলে যাওয়া যাবে। এত জেন্টেল বাড়াবাড়ি না করা গায়কী ছেলেবেলায় গিয়ে ডুব না দিলে আমার মনে পড়বে না। খালিদ হোসেনের মৃত্যুতে আমার উনার জন্য না, শুধু নিজের জন্য খারাপ লাগছে।

আহ, রমজান,—তুমি তাকে মনে রেখো।

২২ মে, ২০১৯

৭/ সকালে ওয়াসার মোড়ে ছিলাম। শুরু হল ঝড়। প্রচুর বাতাস। ত্রিশ সেকেন্ডে পুরোপুরি ভিজে গেলাম। ঠান্ডায় কাঁপছি। উদ্ধার পাব কিনা বুঝতে পারছি না। এই সময় খেয়াল করলাম, পকেটের ভেতর সেলফোন আওয়াজ করছে। হাতে নিয়ে দেখি সরকারি মেসেজ। মেসেজে লেখা—’আপনার জেলার সর্বশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি জানতে BMDCW <স্পেস> জেলার প্রথম চারটি অক্ষর (ইংরেজিতে) লিখে পাঠিয়ে দিন ৩৩৩ নম্বরে।’

সত্যি বলছি, বিপদের সময় এমন রসিকতা ভালো লাগেনি।

৪ মে, ২০১৯ 

৮/ কী দিন আসছে, ফেসবুক পোস্টে হা-হা দিতেও ভয় লাগে। পোস্টদাতা কমেন্টে ট্যাগ করে জানতে চান, ভাই, এখানে হা-হা’র কি হইল? সঙ্গে-সঙ্গে আরও অনেকেই চ্যাতে আসেন। যেন কয়েকজন্ম ধরে তারা আমার ওপর রাগ পোষণ করতেছেন। এবারই শোধ নেয়ার সুযোগ পাইছেন। আমি বলতে গিয়েও পারি না—ভাই, কেন প্রথমেই বলে দেন না হা-হা দেয়া যাবে না? তাছাড়া হা-হা দিলে কী হয়? সিরিয়াসনেস কমে যায়? নাকি আপনার দুঃখ মানেই সবার দুঃখ?

আর এরকম মনে করার মানে কী? ফেসবুকের এত সুন্দর একটা অপশন অব্যবহৃত থাকবে, এটা তো হতে পারে না। অথচ এরকমই হয়। হা-হা দেয়ার অপরাধে আমি অনেককে গ্রুপ থেকে ব্যান হতে দেখেছি। এডমিনরা বোঝে না, মানুষ একমাত্র প্রাণী, যারা যেকোনো অবস্থায় বিনোদিত হতে পারে। কেবল আমি বুঝি, এইজন্য আমার পোস্টে যে কেউ নির্ভয়ে হা-হা দিতে পারে।

হা-হা দিলে আমি রাগ করি না। কারণ আমি বিশ্বাস করি, লাইক ছাড়া থাকা যায়, হা-হা ছাড়া যায় না। আর যেই পোস্টে হা-হা নেই, সেই পোস্ট অসহায়। গরীব, লাঞ্চিত ও বঞ্চিত। মানে পুরাই শাবানার অভিনীত কমন চরিত্রের একটি।

২৭ মার্চ, ২০১৯ 

৯/ শাহনাজ রহমতুল্লাহ অনেক বড় রকস্টার ছিলেন। আমি যতবার তার গান শুনেছি—ততবারই রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিনদের ম্লান লেগেছে। ওভাররেটেড মনে হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি আজম খানকেও শাহনাজ রহমতুল্লাহর চেয়ে কম রকস্টার মনে করি। স্ট্যান্ডার্ট মেইন্টেইন করতে পারা আর্টিস্ট সব দেশেই বিরল। যাই হোক, সম্রাজ্ঞীকে বিদায় জানাচ্ছি। একই সাথে মনে পড়ছে—ইন্টারমিডিয়েটে থাকতে তার গান শুনে আমি কতবার মন খারাপ করেছি! আজ তার জন্য আমার কান্না নেই। আমি আনন্দের সঙ্গে বলতে চাই—শাহনাজ রহমতুল্লাহ রান্না ঘরে আমাদের মায়ের হঠাৎ গেয়ে উঠা গানে থেকে যাবেন।

২৪ মার্চ, ২০১৯ 

১০/ বাংলাদেশে যেসব রোহিঙ্গা থাকেন—তাদের সঙ্গে মাইলস ব্যান্ডের একটা মিল আছে। তারা সকলেই ভূমিহীন। মাইলস সারা জীবন দেশে বসে বিদেশি মিউজিক করে গেছে। তাদের নিজের ভূমি নেই। হ্যাঁ, তারা অনেক ভালো বাজাতে পারেন। বেশ কিছু জনপ্রিয় গানও তাদের আছে। কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না। মাইলস বাংলাদেশের একমাত্র জনপ্রিয় ব্যান্ড—যারা তিন দশক ধরে থার্ড ক্লাস লিরিক প্রেফার করে আসছে। শরীফ উদ্দিনের ‘বোরকা পরা মেয়ে পাগল করেছে’র সঙ্গে মাইলসের ‘চাঁদ-তারা-সূর্য নও তুমি’ কিংবা ‘নিঃস্ব করেছো আমায় কী নিঠুর ছলনায়’-এর তেমন কোবো পার্থক্য নেই। তাদের গায়ক শাফিন আহমেদের নিজের সিগনেচার নেই।

শাফিন আহমেদ ভালো বেজিস্ট—কিন্তু তার মা ফিরোজা বেগমের স্টাইলে গান করেন। সতর্কতার সঙ্গে মাইলসের গান শুনলে তাই বিরক্তির সৃষ্টি হয়। মনে হয়, কেউ যেন গান গাইতে এসে শ্রোতাকে ভেঙাচ্ছে।

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ 

১১/ পাবলিক লাইব্রেরিতে একবার একটা আলৌকিক বই পেয়েছিলাম। একসময় পুলিশে ছিলেন—এমন একজন তার অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছিলেন। সেই বইয়ের নাম বা লেখকের নাম আমার মনে নেই, কিন্তু একটা আলৌকিক লাইন এখনো মনে আছে। তিনি লিখেছিলেন, ‘কর্তব্যরত অবস্থায় আমি কোনোদিন আদর্শ থেকে একটুও বিচ্যুত হইনি—আবার ডিপার্টমেন্টের নির্দেশও অমান্য করিনি।’

সেদিন এই বাক্য চোখে পড়ার পর দুই-আড়াইশ পৃষ্ঠার বইটি আমি আর পড়তে পারিনি। যতোটা সম্ভব ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। যার কারণে বইয়ের নাম, লেখকের নাম মনে নেই। আমার কাছে এখনো মনে হয়—সৃষ্টিকর্তা ওই লেখককে পৃথিবীতে নতুন একটা ধর্ম প্রচার করতে পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি পুলিশে যোগ দিয়ে ভুল করে ফেলেছিলেন। প্রতিভার কী নিদারুণ অপচয়!

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

১২/ জুলিয়াস সিজারের সঙ্গে সাথে সংবাদপত্রের একটা সম্পর্ক আছে। তার আমলে রোমে কিছু লোক সংবাদ লেখক হিসাবে কাজ করত। তারা ঘুরে ঘুরে দিনলিপি সংগ্রহ করতেন। তাদের এই ধারাবাহিক লেখাগুলার আদি নাম acta-diurna. জুলিয়াস সিজার সেসব রোমের প্রকাশ্য স্থানে ঝুলাবার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই সূত্রে আরো একটা কথা বলা যায়। দেয়ালে সংবাদপত্র দিয়ে চিকা মারার প্রচলন জুলিয়াস সিজারই শুরু করেছিলেন।

২৪ জানুয়ারি, ২০১৯ 

১৩/ মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বাংলাদেশে না জন্মাইলে ভালো হত। বাংলাদেশি হওয়ায় তিনি বিরাট সমস্যায় পরেছেন। এখন তিনি যদি কোনো মাস্টারপিস সিনেমাও বানিয়ে ফেলেন, বাংলাদেশের কিছু মানুষ কমেন্ট করবে, ‘এগুলা কী বানাইছে, সিনেমার নামে তো নাটক দেখলাম’। আমি জানি না, এরকম মুখস্ত অডিয়েন্স পৃথিবীর অন্য কোনো দেশের ইন্ডাস্ট্রি বানাইতে পারছে কী-না!

জয়, এফডিসির জয়!

১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ 

১৪/ এই যে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলা ছাত্র-ছাত্রী বা অভিভাবকদের উঠতে-বসতে টিসি দেয়ার ভয় দেখায়—এক ধরনের ব্ল্যাকমেল করে, তাতে আমার কোনো আপত্তি নাই; অনাপত্তির কারণও পরিস্কার—আমি জানি, শুধু এই একটা জিনিসই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলার ক্ষমতার মধ্যে আছে। যেটা তারা চাইলেই দিতে পারে। সো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলার উচিত ঘন-ঘন টিসি দেয়া। যাতে বাংলাদেশের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলা দ্রুত খালি হয়ে যায়। এমনিতেও যেই দেশে টাকা হলেই মা-বাপের নামে স্কুল-কলেজ দেয়া যায়—সেই দেশে পড়াশুনা করা অরুচিকর।

৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ 

১৫/ সম্প্রতি গ্যাবোর (গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ) একটা উপন্যাস পড়লাম। উপন্যাসটার অরজিনাল নাম memoria de mis putas tristes. এই নামটা পড়তে কষ্ট হয়, তাই অনেকগুলা ভেজাল নাম পাওয়া যাচ্ছে—ইংরেজিতে ‘মেমোরিজ অব মাই মেলানকলি হোরস’, আর বাংলাতে ‘আমার স্মৃতির বিষাদ গণিকারা।’ চট্টগ্রামের ভাষায় একটা নাম পাওয়া গেলে ভাল হত। যাই হোক, নব্বই বছর বয়স্ক একটা লোক তার জন্মদিনে একজন কুমারী মেয়েকে ভালবাসাবাসির জন্য চাইলেন—সাধারণ পাঠকদের জন্য এটাই উপন্যাসের ইউএসপি। গ্যাবোর লেখা নিয়ে নতুন কিছু বলা সম্ভব না। তবে এটা পড়ার পর আমি আবিস্কার করলাম—গ্যাবো যদি একই গল্প তিনবারও লিখেন, পাঠক সেটা ধরতে পারবেন না।

২৫ নভেম্বর, ২০১৮

১৬/ সকালে ঘুম থেকে ওঠে দেখলাম— ইলেক্ট্রিসিটি নেই, বাইরে প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া। আমার জানালা থেকে যে দুটো তাল গাছ দেখা যায়, তাদের ঘাড় বেঁকে গেছে—যেন একটু পরেই মাটিতে শুয়ে পড়বে। রাস্তার দিকে তাকিয়ে একটা মজার দৃশ্য দেখলাম। তিনজন মেয়ে বৃষ্টি থেকে বাঁচতে ছাতা খুলেছে— এমন সময় প্রচণ্ড বাতাসে তাদের ছাতা উল্টে গেল। এছাড়াও জোয়ারের পানি রাস্তায় এসে উঠেছে। আমি পুরোপুরি ঘরবন্দী। মাথার মধ্যে একটা গল্প ঘুরছিল, সেটা লেখার জন্য ডায়েরি খুললাম। তিন পাতা লেখার পর বুঝতে পারলাম—আমার মাথায় যা নেই, তাই লিখছি। এটা অবশ্য দীর্ঘদিন কাগজে না লেখার ফসল, আর কিছু না।

২১ মে, ২০১৬ 

১১৭জন ১১৫জন
10 Shares

৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য