১৫ই আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ যে মানুষটির ডাকে লাখো বাঙালি হাতে অস্ত্র তুলে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এদেশ স্বাধীন করেছিলেন সে স্বাধীন বাংলাদেশেরই বিপথগামী কিছু সেনা সদস্য এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের ব্যক্তিগত চক্রান্তের শিকার হয়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে নিজ বাসভবনে নির্মমভাবে শহীদ হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সদা হাস্যজ্জ্বল ও নির্মল ব্যক্তিত্বের অধিকারী, বাংলার আদর্শ নেতা এবং দেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সফল কাণ্ডারি, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সেদিন নৃশংসভাবে হত্যা করে দেশ এবং জাতিকে এক অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত করতে চেয়েছিলো স্বার্থলোভী কিছু মানুষ। আজ ১৫ই আগস্ট জাতির জনকের ৪৪ তম শাহাদাত বার্ষিকী।

১৯৭৫ এর এই দিনে বঙ্গবন্ধুর সাথে শহীদ হন তার প্রিয় সহধর্মিনী বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল, শেখ জামাল এবং ১০ বছরের শিশু সন্তান শেখ রাসেলসহ দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল। প্রবাসে থাকায় সেদিন রক্ষা পান দুই মেয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা।

সেদিনের সেই হত্যাকাণ্ডে আরো প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, সুকান্ত বাবু, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, শহীদ সেরনিয়াবাত, আব্দুল মঈন খান, নঈম খান এবং বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

১৯৭৫ এর ১৪ই আগস্ট অন্যান্য দিনের মতোই রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান রাত ৮টা নাগাদ ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে ফেরেন। খাওয়া-দাওয়া শেষে রাত বারোটার মধ্যে বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে যায়। বাড়ির নীচতলায় বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহকারী এফ এম মুহিতুল ইসলামকে রাত ৩ টায় ফোন দেন বঙ্গবন্ধু।

তিনি বলেন- মহিতুল, সেরনিয়াবাতের বাসায় আক্রমণ হয়েছে। একথা শুনে মুহিতুল পুলিশকে ফোন করেছিলেন। এরপরে বঙ্গবন্ধু গেঞ্জি গায়ে লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় উপর তলা থেকে নীচে নেমে আসেন। তিনি নিজেই পুলিশের সাথে কথা বলতে চেয়ে ছিলেন। ফোনে- হ্যালো, আমি প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিব বলছি এ কথা বলার সাথে সাথেই বৃষ্টির মতো গুলি আসা শুরু করে। গোলাগুলির সময় তার বাসার কেউ এ ঘটনা আঁচ করতে পারেনি। তিনি গাড়ি বারান্দায় দাঁড়িয়ে বলেছিলেন- পুলিশ সেন্ট্রি আর্মি সেন্ট্রি এত গুলি চলে তোমরা কী করো? এ কথা বলে তিনি উপরে চলে যান।

শেখ মুজিবুর রহমানের ছেলে শেখ কামাল গোলাগুলির আওয়াজ পেয়ে নীচে নেমে আসলে তাকে বাড়ির নিচতলায় গুলি করে হত্যা করা হয়। গুলি করার আগ মুহূর্তে কয়েকজন আর্মি কেউ কালো পোশাকধারী কেউ খাকী পোশাকধারী এসে শেখ কামালকে বলেছিল- হ্যান্ডস আপ!

তিনি বলেছিলেন আমি প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবের ছেলে শেখ কামাল। এ কথা বলার পর পরই তাকে ব্রাশফায়ার করা হয়।

৩২ নম্বরের সেই বাড়িতে সেদিন কোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছিলোনা। হত্যাকারীরা পুরো বাড়ি নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। রাষ্ট্রপতির বাড়িতে হামলার সময় কোন তরফ থেকেই কোনরকম সাহায্য আসেনি। সেদিন শেখ কামালকে হত্যার পর হত্যাকারীরা গুলি চালাতে চালাতে উপরের দিকে উঠে তাণ্ডবলীলা শুরু করে দেয়। তাদের কেউ একজন চিৎকার করে বলতে থাকে- পাইছি পাইছি!

বঙ্গবন্ধু থমথমে কন্ঠে বলেন- তোরা আমাকে কোথায় নিয়ে যেতে চাস?

এরপরেই ব্রাশফায়ার করে নির্মমভাবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। একে একে এই নির্মমতার শিকার হন বাড়ির সকলেই।

সবশেষে হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুর ছোট ছেলে শেখ রাসেলকে। হত্যাকারীদের বর্বরতার ভয় পেয়ে সেদিন মুহিতুল ইসলামের কাছে ছুটে এসে তাকে জড়িয়ে ধরেন। ছোট্ট রাসেল বলেন- ভাইয়া আমাকে মারবে না তো? একথা বলার সাথে সাথেই এক ঘাতক এসে রাইফেলের বাঁট দিয়ে মহিতুলকে ভীষণ মারে। তাকে মারতে দেখে রাসেল মুহিতুলকে ছেড়ে দেন। রাসেল সেদিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেছিলেন- আমাকে ছেড়ে দাও আমি মায়ের কাছে যাব। তার কথা শুনে একজন ঘাতক এসে বলে- চল তোকে তোর মায়ের কাছে দিয়ে আসি।

মায়ের কাছে নিয়ে যাবার নাম করে তারা রাসেলকে ভেতরে নিয়ে যায় এবং ব্রাশফায়ার করে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরিবারের সব সদস্যকে হত্যার পর ঘাতকেরা একে অপরকে সেদিন বলেছিল- সবাই শেষ, অল আর ফিনিশড!

৭৫ এর ১৫ই আগস্ট ঘটিত সেই নির্মম হত্যাকান্ডের শহীদরা

পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে এই মুহিতুল ইসলামই শেখ মুজিব হত্যা মামলার বাদী হয়েছিলেন। তিনি ২০১৬ সালে মারা যান।

১৯৭৫ সালে ১৫ই আগস্ট এই আক্রমনের খবর বঙ্গবন্ধু তার সামরিক সচিব কর্নেল জামিলকে ফোনে জানিয়েছিলেন। কর্নেল জামিল ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই সামরিক অভ্যুত্থানে জড়িত সৈন্যরা সোবহানবাগ মসজিদের সামনে তার গাড়ি রোধ করে এবং তাকে গুলি করে হত্যা করে।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনার কথা তৎকালীন সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান এই হত্যাকাণ্ডের ৫ মাস পূর্বেই জেনেছিলেন। হত্যাকান্ডের অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী মেজর ফারুক (পরবর্তীতে কর্ণেল পদন্নোতি প্রাপ্ত) কাছে ক্যু’ হতে যাচ্ছে- এই খবর শুনে জেনারেল জিয়া বলেছিলেন- আমি দুঃখিত! এরকম জংলী কিছু করতে পারবোনা। তবে তোমরা ইয়ং অফিসার যা খুশি করো।

সাংবাদিক এন্থনি ম্যাস্কারেনহাস এর কাছে এক সাক্ষাৎকারে কর্নেল ফারুক এসব বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন- জেনারেল জিয়া আমাকে লনে নিয়ে গিয়ে কথা বলেন। আমি সরাসরি প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবকে উৎখাতের কথা বললে হয়তো জিয়া আমাকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠাতেন। তাই আমি ঘুরপথে দেশের দুর্নীতি, সবকিছু বিশৃংখল এসব জিয়ার সামনে তুলে ধরেছিলাম। জেনারেল জিয়াকে ফারুক আরও বলেছিলেন – সেনাবাহিনী, সিভিল সার্ভিস, সরকার সব কিছুই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমাদের এগুলো পরিবর্তন করতে হবে। আমরা জুনিয়র অফিসাররা অগ্রসর হয়েছি, আপনার সমর্থন এবং নেতৃত্ব প্রয়োজন।

জেনারেল জিয়া তখন বলেছিলেন- আমি দুঃখিত, আমি এসব ব্যাপারে জড়াতে চাই না। যদি তোমরা কিছু করতে চাও তাহলে এটা জুনিয়রদেরই করা উচিত।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরের দিন ১৬ই আগস্ট আর্মি ডেপুটি চিফ মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান অফিসে এসে খুব স্বাভাবিক ছিলেন যেন কিছুই হয়নি। তার মধ্যে কোনো পরিবর্তন ও প্রতিক্রিয়া ছিলোনা। এর পরে আসেন সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ। মেজর ডালিম, মেজর রশীদ আসার পরে তারা সবাই শফিউল্লাহর রুমে যান। কিছুক্ষণ পরে সবাই বেরিয়ে আসেন, সবার পিছনে আসেন জিয়াউর রহমান।

জিয়াউর রহমান একটু এগিয়ে এসে মেজর ডালিমকে বলেন- কাম হিয়ার। আবেগি কণ্ঠে তিনি বলেন- ইউ হ্যাভ ডান এ গ্রেট জব। কিস মি! কিস মি! বলে মেজর ডালিমকে জিয়াউর রহমান পরম উষ্ণতায় জড়িয়ে ধরেছিলেন সেদিন।

মেজর ডালিম জিয়াকে বলেছিলেন- নো স্যার, থ্যাঙ্ক ইউ ভেরি মাচ। ইউ আর মেজর জেনারেল এন্ড আই এম এ সিম্পল মেজর। আদারওয়াইজ, ইউ আর দা হিরো অফ ইন্টায়ার শো। সো প্লিজ এলাউ মি টু মাই জীপ। (সূত্রঃ ফ্যাক্টস এন্ড ডকুমেন্টস -পৃষ্ঠা ১৩৬,১৩৭)

১৬ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরেরদিন- আর্মি হেড কোয়াটার্স এর মিটিংয়ে সেনাবাহিনীর প্রধান জিয়াউর রহমান, ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ, ব্রিগেডিয়ার সি আর দত্ত, ব্রিগেডিয়ার মীর শওকত আলী, কর্নেল শাফায়াত জামিল, কর্নেল নাসিম, কর্নেল হুদা, কর্নেল আমজাদ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সেদিন রুমের ভেতর কর্নেল জামিল ক্ষোভের সাথে বলেন- এটা আর্মি ক্যু হলে আমরা জানিনা কেন? আর এটা টোটাল আর্মি ক্যু না হয়ে থাকলে আমি মনে করি যারা এ জঘন্য কাজ করেছেন তারা খুনি এবং দে শুড বি পানিশড্। তার এ বক্তব্যকে কর্নেল হুদা এবং ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ সমর্থন দিয়েছিলেন।

শাফায়াত জামিলের এমন তীক্ষ্ণ এবং তীব্র আক্রমণের ভাষা শুনেও জেনারেল জিয়া নিশ্চুপ ছিলেন তখন। এরপর সিগারেট জ্বালিয়ে জিয়া বলেন- শাফায়াত জামিল, ইট ইজ নট এ ম্যাটার অফ সেন্টিমেন্ট, এটি এখন জাতীয় সমস্যা। আমরা কোন এ্যাকশন নিলে এটা একটা গৃহযুদ্ধে পরিণত হবে। শুধু তাই নয়, ইন্ডিয়ান আর্মি আবারো বাংলাদেশে আসবে এবং আমরা আমাদের স্বাধীনতা হারাবো।

জিয়ার বক্তব্য মীর শওকত আলী খান এবং আমজাদ হোসেন সমর্থন দিয়েছিলেন সেদিন। ব্রিগেডিয়ার দস্তগীর নিশ্চুপ থেকে পরবর্তীতে মেজর জেনারেল প্রমোশন পান।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে এ অভ্যুত্থানের নায়করা ক্ষমতায় বসেন। দেশে এক অস্থির পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের তিন মাসের মাথায় খালেদ মোশারফ ক্যু করেন। এ সময় বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের সবাই বিদেশ পাড়ি জমায়। তারা প্রথমে ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় চায় কিন্তু ব্রিটিশ সরকার এতে অস্বীকৃতি জানালে তারা লিবিয়ায় গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় নেয়। দেশে খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থান এর তিন দিনের মাথায় কর্নেল তাহের পাল্টা অভ্যুত্থান করেন, এতে খালেদ নিহত হন এবং জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করেন। ক্ষমতা দখল করেই তিনি অভ্যুত্থানের নায়ক তাহেরের ফাঁসি দেন।

জিয়া বিদেশে অবস্থানরত বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ১২ জনকে বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশি দূতাবাসে চাকরি দেন। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে হত্যাকারীদের বিভিন্ন রকম সুযোগ-সুবিধা দিয়েই শেষ করেননি। তিনি সংসদে মুজিব হত্যার বিচার করা যাবে না মর্মে পঞ্চম সংশোধনী বিল পাস করান। তার এমন আচরণে মনে হয় তিনি সবসময়ই চেয়েছেন যাতে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার না হয়।

বঙ্গবন্ধু হত্যার ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের ১২ই নভেম্বর আওয়ামীলীগ সরকার দায়মুক্তি আইন বা ইনডেমনিটি আইন বাতিল করে। ১৯৯৬ সালের ২ অক্টোবর ধানমন্ডি থানায় বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহকারী মুহিতুল ইসলাম বাদী হয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে মামলা করেন। ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল তৃতীয় বিচারক মোহাম্মদ ফজলুল করিম ২৫ কার্যদিবস শুনানির পর অভিযুক্ত ১২ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিশ্চিত করে রায় দেন। সর্বশেষ আপিল বিভাগ ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন। এই রায়ের মাধ্যমে ১৩ বছর ধরে চলা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের আইনি এবং বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়। ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর হয়; বাকিরা বিদেশে পলাতক রয়েছে। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার জন্য আওয়ামীলীগ সরকারের জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চলমান রয়েছে।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে তাঁকে নিয়ে আন্তর্জাতিক নেতারা বাণী দিয়েছিলেন।

ফিদেল কাস্ত্রো বলেছেন- আমি হিমালয় দেখিনি কিন্তু শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব এবং সাহসিকতায় তিনিই হিমালয়।

ইয়াসির আরাফাত বলেছেন- আপোষহীন সংগ্রামী নেতৃত্ব আর কুসুম কোমল হৃদয় ছিলো মুজিব চরিত্রের বৈশিষ্ট্য।

উইলিবান্ট বলেছেন- মুজিব হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায়না। যারা মুজিবকে হত্যা করেছে তারা যে কোন জঘন্য কাজ করতে পারে।

বঙ্গবন্ধু জনমানুষের নেতা ছিলেন। চোখ বন্ধ করলেই মনে ভেসে ওঠে সেই অঙ্গুলি আর বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তিনি দেশের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। তার মধ্যে এক নজরে মানুষকে আপন করে নেবার ক্ষমতা ছিল প্রবল। আর এ সবকিছুর সার্বক্ষণিক সাহচর্য ছিলেন বঙ্গববন্ধুর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব।

বঙ্গবন্ধুকে সবসময় উৎসাহ দিতেন শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব।

বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুতে এই দেশ জাতি এবং বিশ্ব হারিয়েছে এক মহান নেতাকে। বঙ্গবন্ধু এই বাংলা এবং বাংলার মানুষকে এতটাই ভালোবাসতেন যে তিনি কখনোই বিশ্বাস করতেন না তাদের কেউ তার সাথে বেইমানি করতে পারে। শুধু কয়েকজন বিপথগামী মানুষের ঘটানো নির্মম এই হত্যাকাণ্ড বাঙালি জাতি হৃদয় থেকে বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলতে পারেনি আর পারবেওনা কখনো। যদি কখনো সুযোগ থাকতো সৃষ্টিকর্তাকে বলতাম – আমাকে শেখ মুজিব করে এই প্রিয় বাংলার মাতৃভূমিতে আর একবার জন্ম নেবার সুযোগ দিন।

শেখ মুজিব একটি প্রেরণার নাম একটি আদর্শের নাম। আজ ১৫ই আগস্ট গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তানকে। আবহমান বাংলার আপামর জনসাধারণের মনে একজন অবিস্মরণীয় নেতা হয়ে সারা জীবন বেঁচে থাকবে একটি নাম – বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

“কোন জেল জুলুম কোনোদিন আমাকে টলাতে পারেনি কিন্তু মানুষের ভালোবাসা আমাকে বিব্রত করে ফেলেছে- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।”

সূত্রঃ

* ফ্যাক্টস এন্ড ডকুমেন্টস -অধ্যাপক আবু সাঈদ।
* বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহকারী মুহিতুল ইসলামের সাক্ষ্য, বিবিসি নিউজ।
* উইকিপিডিয়া

৩৫৯জন ৩৮জন
77 Shares

২৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য