১৯৯৩ এর এই দিনে আমার জন্ম হয়েছিল। যতটুকু মনেপড়ে বাবা মা কোনোদিন আমার জন্মদিন পালন করেননি। মোটকথা দুবেলা দুমুঠো ভাতের জন্য যুদ্ধ করতে করতেই যেখানে হাপিত্যেশ, সেখানে আমার জন্মদিন পালন করার মত পরিবেশ বা বিলাসিতা করে সময় নষ্ট করার মত কোনোদিন বাবা মা প্রয়োজনবোধ করেন নি।

আমিও ছোট থেকে বড় হয়েছি স্কুল, মাদ্রাসা, চাকুরী, প্রবাস জীবন সবকিছুর মধ্যে আমিও কোনোদিন আমার জন্মদিন টা পালন করার প্রয়োজনবোধ করিনি।

কত জন্মদিন চলে গেছে আমার তো মনেই ছিলনা যে আজকের এই দিনটাতে আমার জন্মদিন। আর জন্মদিন পালনের পক্ষে আমি কখনো ছিলাম না। কারন আমাদের মত গরীবের মধ্যে তিন নাম্বার লোকদের জন্মদিন পালন বিলাসিতা বৈ কিছু নয়।

আমি এখন মাশাল্লাহ দুই বাচ্চার বাবা। সোনার টুকরোর মত দুইটা ছেলে বড়টার বয়স ৪ বছরেরও একটু বেশি আর ছোটটা দেড় বছরের মত। আমি ওদেরও জন্মদিন পালন করিনা। ওদের জন্মদিন যদিও আমি অন্যভাবে পালন করি। কিন্তু আমার ফ্যামিলীর কাউকে বুজতে দেইনা কারন আমি চাইনা আমাদের মত গরীবের মধ্যে তিন নাম্বার লোকদের জন্মদিনের মত বিলাসিতা পালন করার হিড়িক লাগুক। আমার ছেলেদের জন্মদিন পালন করি আমি কিছু অসহায় অনাথ মানুষদের কাছে টানার মাধ্যমে।

আমি আজ প্রবাসী আর বিদেশে পরের কাজ করতে যে কি পরিমাণ কষ্ট বা পরিশ্রম এটা একমাত্র প্রবাসীরাই বুজে। আজকে আমার জন্মদিন সকাল থেকে কাজের চাপে মনেই ছিলনা। রাত যখন ১২টায় কাজ শেষ করে বাসায় ফিরলাম তখন বাংলাদেশে ১১/১০/২০২০ অর্থাৎ রাত প্রায় সাড়ে তিনটা। রান্না করে খেয়ে ফেসবুকে ঢুকতেই মানুষের রঙবেড়ঙের পোস্ট দেখে মনে হল আজকে আমার জন্মদিন ছিল।

ফেসবুকেও জন্মতারিখটা হাইড ছিল যারফলে কেউ জানতেই পারলনা আজকে আমার জন্মদিন নয়ত ভুল করেও হয়ত অচেনা কেউ হলেও জন্মদিনের শুভেচ্ছাটা জানাতো। আর জীবনে এমন কাউকে আজ পর্যন্ত সংগ্রহ করতে পারিনি যে আমার জন্মদিনটা সে মনে রাখবে।

যাক তারপরও আমি খুশি আল্লাহ তাআলা আমাকে সুস্থ সবল এবং কাজের মধ্যে রেখেছেন। পৃথিবীতে তো এমনও লোক আছেন আমার চেয়েও অসুখী। তাদের দিকে চাইলেই আমার প্রার্থক্যটা বুজতে পারি।

এখন বাংলাদেশ টাইম ভোর ৬টা অর্থাৎ আরো ছয়ঘন্টা আগেই আমার জন্মদিনের দিনটা শেষ হয়ে গেছে। আর সারাদিনের ক্লান্ত শরীরে খুব ঘুম পাচ্ছে তাই নিজেকেই নিজে হ্যাপিবার্থডে বলে ঘুমের রাজ্যে চলে গেলাম।

৭৭জন ২জন
0 Shares

২০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য