হ্যাকার

নীরা সাদীয়া ৪ অক্টোবর ২০১৯, শুক্রবার, ১১:২৯:৪৬অপরাহ্ন গল্প ২৫ মন্তব্য

আমি একজন হ্যাকার। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন, আমি হয়াকার। এ পর্যন্ত অনেকের আইডি হ্যাক করেছি। এটা আমার একটা নেশা বলা যেতে পারেন।
“আমি হ্যাকার হতে পারি তবে লোভী নই চউধু…রী সাহেএএএব!”
বাংলা সিনেমার এই রকম কিছু ডায়লগ আমিও দিতে পারি নিঃসন্দেহে, কারন আমি আইডি হ্যাক করলেও কারো কাছে টাকা চাই না! কিভাবে হ্যাক করি সে বর্ননা দিয়ে পাঠককে আর বিরক্ত করতে চাই না, বরং কেন হ্যাক করি সে প্রসঙ্গেই আসি। আসলে মানুষের ভেতরটাকে জানার ইচ্ছে আমার বহুদিনের। একসময় ইচ্ছে ছিলো সাইকোলজি নিয়ে পড়বো,মানুষকে জানবো। কিন্তু তা আর হলো কই? মনের সুপ্ত বাসনা মনেই রয়ে গেলো। ফেসবুকে যখন প্রথম এলাম, দেখলাম মানুষ কত-শত নীতি বাক্য লিখে নিজের প্রোফাইল ভরিয়ে রাখে! তখন ভাবতাম তারা বোধহয় আসলেই তেমন সাধু, যেমন তারা লিখে! কী বোকাই না ছিলাম! ধীরে ধীরে আবিষ্কার করলাম এসবের বেশিরভাগই ভেজাল। যাই হোক, একটা সময় এসে মনে হলো, একজন মানুষ তার স্ট্যাটাসে পরিপাটি হলেও ইনবক্সের ছোট্ট কুঠুরীতে নিশ্চই নিজেকে মেলে ধরবে। কোথাও না কোথাও তাকে আসল রূপে দেখা যাবেই। তাই আমি শুরু করলাম আইডি হ্যাক করা। তবে আমি যাদের আইডি হ্যাক করি, তারা সাময়িক সময়ের জন্য এই ধরুন ২/১ দিনের জন্য লগ ইন করতে গিয়ে সমস্যায় পরে, অতঃপর আইডি আগের মত করে তাদেরকে ফেরত দিয়ে দেই, অনেকে বুঝতেই পারে না৷ ধরে নেয় নেট প্রবলেম।

এবার চলুন আপনাদের সাথে আমার কিছু অভিজ্ঞতা বর্ননা করা যাক। পরিপাটি স্ট্যাটাসের আড়ালে কী থাকে তাদের গহীনে তা জেনে নেওয়া যাক!

পর্শিয়া পিয়া
এই আইডিটা গত বছর আমাকে বন্ধুত্বের আহবান জানিয়েছিলো। তাকে গ্রহণ করে রেখে দিয়েছিলাম। তার সুন্দর সুন্দর চোখ, আঙুল, নখ দেখে দেখে আমি পুলকিত! হতে পারি আমি মেয়ে, কিন্তু যা কিছু সুন্দর তা সবার চোখেই সুন্দর। একদিন কেন যেন হঠাৎ করে মনে হলো একেই হ্যাক করি! যা ভাবা, তাই করলাম। করে দেখি, সুন্দর সুন্দর রোমান্টিক সব অণুকাব্য ”অনলি মি” করে লেখা, তাও আবার মিতা নামে এক মেয়েকে নিয়ে! আারে, এ কি করে হয়? মিতাও মেয়ে, পর্শিয়াও মেয়ে…ভাবতে ভাবতে ম্যাসেঞ্জারে গেলাম। দেখি মিতালী মিশুকে পাঠানো কতশত ম্যাসেজ! মিতা সম্ভবত এসব দেখেও না। সবগুলোই অদেখা রয়ে গেছে। এর মাঝে সে নিজের পরিচয়ও দিয়েছে!
“মিতা, আমি নয়ন, তোমার সেই নয়ন। সেইযে তালদিঘী গ্রামের পুকুরপাড়টায় নীল জামা পরে তুমি বসেছিলে। স্কুল পালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তোমার সাথে আমার প্রথম দেখা…”
সাথে নিজের একটা ছবিও দিয়েছে। একটা ১৬/১৭ বছরের কিশোরের ছবি! কে জানে, ম্যাসেজগুলো হয়ত মেয়েটার আউটবক্সেই জমা হচ্ছে। সে মেয়ে হয়ত জানেই না আউট বক্স/ফিল্টার ম্যাসেজ বলে কিছু আছে! নয়নের আকুতি কোনদিন কি পৌঁছাবে তার কাছে?

মিনুর আম্মু
আইডির কি আজব নাম! এই ভদ্রমহিলাকে পাই পশুপাখির একটি গ্রুপে। সেখানে দেখতে পাই ওনার বিড়ালের নাম মিনু এবং বিড়ালটিকে তিনি নিজ সন্তানের মতই লালন পালন করেন। বিড়ালের মাথায় মুকুট পরিয়ে সানন্দে জন্মদিনের কেক কাটছেন, বিড়ালের জন্মদিন উদযাপন করছেন। অতিথি হিসেবে রয়েছেন আাসপাশের বিড়াল মালিকরা। এবার ম্যাসেঞ্জারে ঢুকে দেখি, তিনি নিজের সাথে বিড়ালের গলাগলি, কোলাকুলি করা ছবি সবাইকে প্রেরণ করছেন। আমাকেও পাঠিয়েছিলেন, আমি একটা লাভ ইমোজিও দিয়েছিলাম। বিড়াল বিষয়ক কথপোকথন ছাড়া এখানে আর কিছুই পেলাম না। তবে দেখলাম অনেকেই আমার মত ওনাকে লাভ ইমো দিয়েছেন। তাদের ভিতরে মিসেস ডালিয়া একজন। যিনি বিড়ালকে শুধু লাভ ইমো দিয়েই থেমে থাকেন না, বরং বিড়ালটির লেজ,কান,মাথা নিয়েও প্রশংসায় পঞ্চমুখ! এসব দেখে ওনাকেও আমি বিড়ালপ্রেমীই ধরে নিয়েছি। সত্যি বলছি, ওনার আইডি নিয়ে আমার কোন মাথাব্যথা ছিলো না, যদি না ওনি আমাকেও রিকোয়েস্ট পাঠাতো।

মিসেস ডালিয়া
ওনার ইনবক্সে বান্টি মিলনের সাথে কথপোকথন চোখে পরলো। ঢুকে দেখি, তিনি মিনুর আম্মুর চ্যাটিং এর স্ক্রিনশট দিয়ে যা সব লিখে রেখেছেন!

:দেখ মহিলার কান্ড! রোজ এসব ছবি পাঠায়। কত করে নিষেধ করি, তবু এসব পাঠায়। আরে একটা বিলাই ই তো, মানুষের বাচ্চা তো আর না! আদিক্ষেতা দেখলে গা জ্বালা করে! কোনদিন যে আমি মহিলাকে ব্লক দেই, কে জানে।

বান্টি: বেবী, তুমি মহিলাকে এড করছো কেন?

: আরে, ওনি আমার পাশের বাসার ভাবি, তোমার ভাইয়ের কলিগের স্ত্রী!

বান্টি: তার মানে তুমি বিবাহিত? ও মাই গড!

ব্লক…

বান্টি আমার লিস্টে নাই, তবু মনে হলো, তার আইডিটাও একবার দেখি। রাত শেষ হয়ে ভোর হতে চললো। এখন নিশ্চই সবাই ঘুমে। যা ভাবা তাই করা। মিসেস ডালিয়ার ইনবক্সে দেয়া ফোন নম্বর জোগার করে শুরু করে দিলাম কাজ৷ খুব বেশি নিরাপত্তা দপয়ার কারনে এই আইডিটা হ্যাক করতে আমার আধা ঘন্টা লেগে গেলো। অবশেষে ঢুকলাম এটাতে। দেখি, নীল অপরাজিতার সাথে একটু আগের কথপোকথন :

: দেখ নীল, মিসেস ডালিয়া যে সত্যিই মিসেস, তা আমাকে আগে বলতে পারতো।
: তুমি নিজেও তো বিবাহিত। এটা ওনি জানতেন?
:তোমরা মেয়েরা আর কিছু পারো না পারো, তর্কটা জানো বেশ। আরে আমিতো পুরুষ মানুষ। এরকম দু চারটা না থাকলে হয়?
: বাহ্, একেই বলে পুরুষত্ব!!! হাহাহা

এরপর আর কিছু নেই। বের হয়ে গেলাম বান্টির আইডি থেকে৷ এবার একটু ঘুমুবো৷ দুচোখে রাজ্যের ঘুম।…

পর্ব:১
চলবে…

২৭৬জন ২৬জন
31 Shares

২৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য