হেফাজত সমাচার!

মারজানা ফেরদৌস রুবা ৫ নভেম্বর ২০১৮, সোমবার, ০৯:৪০:৪৮পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি, এদেশ ১২ মন্তব্য

রাজনীতিতে দাবার চালে যে যতো পরিপক্ক, খেলা তার পক্ষেই যায়। মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে পুরো ব্যাপারটা বিপরীতমুখী অবস্থানে গিয়ে দাঁড়িয়েছে! রাজনৈতিক ক্যারিশমাটা এখানেই।
যদিও আপাত দৃষ্টিতে এই অবস্থানের নেগেটিভ দিকটাই আমরা চোখেচোখে দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু পজিটিভ সুফলটা ভোগ করতে আমাদের বোধহয় আরও ১০/১৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে। আমি নিশ্চিত এই কটা লাইন পড়েই আপনারা আমার উপর ফুঁসে উঠেছেন।

অনেককেই বলতে শুনি, শেখ হাসিনা ভোটের রাজনীতি করতেই এই হেফাজত তোষণ নীতিতে হাটছেন। কথাটা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছি না। ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতারোহন যেখানে বাস্তবতা, সেখানে ভোটের রাজনীতি তো আসবেই। কিন্তু এটাও জেনে রাখুন, আপনি বা আমি কেনো? স্বয়ং শেখ হাসিনাও জানেন, কওমি ভাবধারায় বেড়ে উঠা ভোটার কেউ ‘নৌকা’ মার্কায় ভোট দেবে না। অথচ তারপরও তিনি তাদেরকে ফেবার করছেন। কেনো করছেন? কারণ, কওমি মাদ্রাসা কেন্দ্রিক বড় একটি গোষ্ঠীকে একপাশে হেলায় ফেলে রেখে দেশকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব না। হয়তো সুদূরপ্রসারী এ চিন্তা থেকেই তাদেরকে ধীরেধীরে মূলধারার কাছাকাছি একীভূত করার চিন্তা থেকেই এ পথ হাটা তাঁর। চিন্তায় যারা দুর্বল, ভাবনায় যারা ধর্মান্ধ তাদেরকে নিয়ন্ত্রণে রেখে আগামী দিনে বৃহত এই অংশটিকে মূলধারার পথে টেনে আনতে কিছুটা কৌশলী তো হতেই হবে। ঠিক এই জায়গাটাতেই আমি আলোকপাত করতে চাই।

এছাড়া আরো একটি ব্যাপার আছে, বিশাল এই অংশটির ধর্মান্ধতার দুর্বলতাকে ব্যবহার করে বিরুদ্ধ একটা গ্রুপ বরাবরই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে তৎপর থাকে। নিয়ন্ত্রণে রেখে এ পথটিও বন্ধ রাখা যায়। এই ব্যাপারটা একটা রাজনৈতিক অর্জন বটে! ২০১৩ সাল আর ২০১৮ সালকে সামনে রাখলেই হিসাব মিলে যাবে।

এবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে বলতে চাই, অনেক তো দিয়েছেন, এবার কিছু নিয়ে আসুন। শুকরানা মাহফিলে নাকি আবদার এসেছে হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফীকে ‘স্বাধীনতা’ পদক দেওয়ার। তা দাবীটির উৎসমূলে শফী হুজুরের আস্থা আছে তো? স্বাধীনতাউত্তর বাংলাদেশে স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাস করেন তো তিনি? জাতীয় সঙ্গীতে দেশাত্মবোধ জাগ্রত হয় তো? ‘স্বাধীনতা’ পদক এর সাথে এ ব্যাপারগুলো কিন্তু জড়িয়ে আছে। এই কয়েকটি পয়েন্টে হেফাজতের অবস্থান স্পষ্ট না হলে ‘৭১ এর রক্তস্নাত স্মারক ‘স্বাধীনতা’ পদকটি অহঙ্কার হারাবে। গর্বের এ পদকটির মর্যাদা ক্ষুন্ন হোক, আমরা তা চাই না।
সময় এসেছে এখন হেফাজতকে বাস্তবতার মুখোমুখি করানো। দাবীর পাশাপাশি দায়টাও বর্তায়। দায়হীন দাবী মেটাতে থাকলে তা সুফল নয়, কুফলই বয়ে আনবে। দাবীর মাত্রা সীমা ছাড়াতে থাকবে। ফ্রাংকেনস্টাইনের দানব হয়ে উঠতে সময় লাগবে না।

যাহোক, পরিবর্তনের বাংলাদেশে আপনার হাত ধরেই হেফাজতি মোকামে পরিবর্তনটা আসুক। বৃহত এই অংশটিতে পরিবর্তন আসলে ধর্মান্ধতার কানাগলি থেকে কিছুটা হলেও আলো আসবে।
শুভকামনা রইলো।

৫৬৯জন ৫৬৬জন
0 Shares

১২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ