এই ভাবে আমার সাথে সাজেদের হিমু হওয়ার যাত্রা শুরু হয়। রেইল লাইনে একসাথে বসে অনেকক্ষণ গল্প করে এর পর সাজেদ ও হেঁটে বেরাতে থাকে আমার সাথে। সে নিজে একটা হলুদ পাঞ্জাবী জোগাড় করেছে, সাজেদ ও আমার মত খালি পায়ে হয়ে যায় হেঁটে হেঁটে আমরা দুজনে ঢাকা শহর ঘুরে বেড়ায় , সে আমার সাথে মেসে থাকা শুরু করলো। একদিন সকাল বেলা হাঁটছি হাঁটতে দুপুর হয়ে গেছে এদিকে পেটে ইদুর বিড়াল মারামারি শুরু করে দিয়েছে। এমন সময় সাজেদের এক বান্ধবির সাথে দেখা হয়, ঐ বান্ধবির সাথে আরেকটা মেয়ে ছিল যাই হোক, সে বান্ধবি সাজেদের এর অবস্থা দেখে, খালি পায়ে হাঁটছে অচেনা একজন এর সাথে, হয়তো মেয়েটা ভেবেছিলো সাজেদ ছ্যাকা খেয়ে নেশা করে পাগল হয়ে গিয়েছে, সে জানতো সাজেদের ব্যাপারটা। পরে সে সাজেদ কে জিজ্ঞেস করলো কিরে তোর এই অবস্থা কেন আর এই পাগল টা কে ??
সাজেদ ওকে ধমক দিয়ে বলল চুপ এইটা হিমু দা। আমার গুরু আর আমি তার শিষ্য, আমরা দুজনে মহাপুরুষ হবার সাধনা করছি। এই কথা শুনে মেয়েটির এবং তার বান্ধবীর দুজনের চোখ ইয়া বড় ইয়া বড় হয়ে গেল মনে হচ্ছিলো কোঠর থেকে বের হয়ে টুপ করে রাস্তায় পড়বে। পরে তারা আমার দিকে একদম চিড়িয়াখানার পশু যেভাবে দেখে অবাক হয়ে আমাকে সে ভাবে দেখছিলো আমি এই সব পাত্তা না দিয়ে আমার মত আমি সিগারেট খাচ্ছি। সাজেদ তার বান্ধবীকে বলল ঐ আমাকে কিছু টাকা দে তো খুব খিদে পেয়েছে কিছু খাবো। মেয়ে টি টাকা দিতে যাবে তার বান্ধবী তাকে বাধা দিয়ে কানে কানে ফিস ফিস করে কি যেন বলেছে, আমি মেয়েটির ঠোঁট নাড়ানোর ভঙ্গিমা দেখে বুঝে গেলাম মেয়েটি বলেছে খবরদার টাকা দিস না এই টাকা দিয়ে ওরা নেশা করবে তুই পেপার পত্রিকায় টিভি তে দেখিস না। একবার টাকা দিবি তারপর বার বার তোর কাছে আসবে তুই ঝামেলায় পড়বি , তার থেকে নিজে গিয়ে খাইয়েদে দেখবি কোন সমস্যা করবে না পরবর্তীতে । তারপর মেয়েটি টাকা না দিয়ে সাজেদ কে বলল চল আমিও খাবো আমার ও ভীষন খিদে পেয়েছে। তিনজন মিলে একসাথে খাই। সাজেদ সাথে সাথে বললো তিনজন মানে কে কে ওর বান্ধবী বললো আমরা দুজন আর তুমি, সাজেদ রেগে গিয়ে বলেদিলো তিন জন না চারজন আমি হিমু দা আর তোরা দুজন বুঝলি এখন খাওয়াবি নাকি বল না হলে টাকা দে আমরা দুজন খাবো ? পরে সাজেদের বান্ধবী বললো আচ্ছা আমরা চারজনই খাবো চল যাই। একটা ভাল রেস্টুরেন্ট এ নিয়ে আমাদের খাওয়ালো আর কিছু টাকা সাজেদ কে দিয়ে যাওয়ার সময় বলে গেলো দেখ এই সব আজেবাজে জিনিষ বাদ দিয়ে আবার পড়াশুনা শুরু কর। তুই খুব মেধাবী তোর কথা স্যাররা প্রায় বলে। তুই জীবনে ভালো কিছু করতে পারবি। আর ঐ মেয়ে ছেড়ে গেছে তোকে তুই তখন ওর প্রতি খুব বেশি ঝুকে ছিলি আর তোর আশেপাশের কেউ যে তোকে খুব ভালোবাসতো কিন্তু বলতে পারেনি বন্ধুত্ব নষ্ট হবার ভয়ে বা আরো অন্য কিছু হিংসা হচ্ছে এই সব কিছুর ভয়ে বলেনি মেয়েটি কিন্তু সে তোকে এখন ও ভালোবাসে এখন ও চাই। সাজেদ ওর কথা পাত্তা না দিয়ে বলে আমার ভেতর কোন প্রেম ভালোবাসা নেই আমি এখন এই সব কিছুর বিপরীত দিকে। আমি মেয়েটির কথা গুলো বলার সাথে সাথে বুঝতে পারলাম মেয়েটি সাজেদ কে খুব ভালোবাসে যেমন টা রুপা আমাকে ভালোবাসে ঠিক তেমন। আর তাই আমি চিন্তা করে তখনি সিদ্ধান্ত নিলাম আমি সাজেদকে আজ বিকেলে বাসায় দিয়ে আসবো। ও ভালো ভাবে ভালো মানুষের মত বাঁচুক আর এই মেয়ে কে নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করুক। আর আমি মেয়েটির চোখে সাজেদের জন্য গভীর মায়া , ভালোবাসা দেখেছি। পরে মেয়েটি চলে যাবার সময় আমার দিকে করুন ভাবে এক নজর তাকিয়ে চলে গেল। আর তার সেই নজর বলে দিচ্ছিলো আমায়। আপনি পারবেন আমার সাজেদ কে আমার কাছে ফিরিয়ে দিতে। প্লিজ ফিরিয়ে দেন।আমি আর সাজেদ হাঁটছি হাঁটতে হাঁটতে সাজেদদের বাসার সামনে এসে দাঁড়িয়েছি আর তখন তাকে বলেছি। সাজেদ তুই যদি সত্যি আমাকে গুরু মেনে থাকিস তবে আজ তোকে একটা কথা বলবো। তুই এখন বাসায় ফিরে যাবি এবং তুই বাসায় গিয়ে বাবা মায়ের কাছে ক্ষমা চাইবি। আর আবার পরীক্ষা দিবি আর যে মেয়েটি তোকে আর আমাকে আজ দুপুরে খাওয়াছে তাকে মন থেকে ভালোবাসবি দেখবি তুই এই পৃথিবীর সব চেয়ে সুখি মানুষ হবি। যা ফিরে যা। সাজেদ তো যাবে না আমি তাকে আবার বললাম তাহলে কি তুই আমাকে গুরু মানিস না ??? সাজেদ তখন বলল এক শর্তে যাবো জোছনা রাতে শুধু আমি তোমার সাথে হাঁটবো। আমি তখন ওকে বললাম না জোছনা রাতে তুই ঐ মেয়েটার সাথে জোছনা বিলাস করবি।যা ফিরে যা। ওকে বিদায় দিয়ে আমি হাঁটা ধরলাম গন্তব্যবিহীন পথে। একটা সিগারেট ধরিয়ে টানতে টানতে হেঁটে যাচ্ছি……… আর মনে মনে এই কামনা করছি ভালো থাকিস সাজেদ……… মহাপুরুষ হবার সাধনা তোর জন্য নয় এইটা এই পৃথিবীতে মনে হয় শুধু আমার জন্য আর তার কারন আমার কোন পিছুটান নেই………………

বিঃদ্রঃ উৎসর্গ হুমায়ুন স্যার কে।
আর পৃথিবীর সকল হিমু এবং হিমুর জন্য অপেক্ষা করা রুপাদের।
আজ স্যারের জন্মদিন। শুভ জন্মদিন।

আজ হিমু দিবস তাই এই কাল্পনিক গল্পটা লিখলাম। জানি না কেমন হয়েছে। তবে সবাই কে অনুরোধ রইলো মন্তব্য করবার জন্য। ধন্যবাদ ভালো থাকবেন। আর আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যেন হিমু হতে পারি।

আর একটি কথা ইন্টারনেটের সংযোগ নেই তাই দুটি পর্ব একসাথে পোষ্ট করার জন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।

আমায় ক্ষমা করবেন দয়া করে। ধন্যবাদ ভালো থাকবেন সবাই।

১৯৭জন ১৯৭জন
0 Shares

১০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য