হিমুর হাতে রংপেন্সিল

নৃ মাসুদ রানা ১৩ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার, ০৯:১৫:৫৫পূর্বাহ্ন গল্প ১৮ মন্তব্য

 

উমা! গাল দুটো সদ্য তেলে ভাজা লুচির মতো ফুলে ফেঁপে উঠেছে। বাম গালে মিষ্টি হাসির টোল পরেছে। সেকি মিষ্টি মিষ্টি হাসি। যেন সুঁইয়ের ছোঁয়া পেলেই রসের ঠসঠস শব্দে বালতি ভরে যাবে।
হিমুকে আগে কখনো এতো খুশি হতে দেখিনি। এই প্রথম সে মেয়েলি ব্রতগুলির সব-কটি খাঁটি করে শুধু মুচকি মুচকি হাসছে।
হলুদ পাঞ্জাবি চুনট-করা ধুতির এখানে সেখানে রং পশলা। নাকের ডগায়ও লাল রঙের ভিড়। আর চোখে ঠোঁটে, হাতের কব্জি কিংবা বুক অবধি আঁকড়ে ধরে আছে বাহারি রঙের ধর্ষণের চিহ্ন। সে ধর্ষণে তাকে যে আরও বেশি মিষ্টি সুলভ আচরন দেখবো ভাবিনি কখনো।
“ভালোবেসে সখী নিভৃতে যতনে, আমার নামটি লিখ তোমার মনের মন্দিরে।” গুনগুনিয়ে গান গাওয়া। এই হেমন্তে এর চেয়ে বড় উপহার আর কিইবা হতে পারে। প্রেমে পড়েছি। চাহনির ঠোঁট সমুদ্রে ডুবে যাচ্ছি। মিষ্টি কথার প্রলোভনে লোভী হয়ে যাচ্ছি। হিমুর আচরণে বোবা হয়ে যাচ্ছি।
আয়না। দু’হাতে মুখ লুকানো। চোখ বন্দী দশ আঙুলের কারাগারে। দৃষ্টি! সে-তো আয়নার কাঁচে বাঁধা। চোখে চোখ পড়লেই মুখখানি অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণে সন্দিগ্ধ। সামনাসামনি দাঁড়ালেই ব্যাসবাক্যে বাস করে। দেহ থেকে কথাগুলো উধাও হয়ে যায়। হিমু ক্ষণে ক্ষণে হতভম্ব হয়ে যায়।
ছবি। কাগজে মোড়ানো প্রিয়জন। কপালে লাল টিপ। ঠোঁটে হালকা গোলাপি লিপস্টিক। চুলের খোঁপায় বেলীফুলের গোছা। গলায় হাসনাহেনার মালা। আর পরনে আকাশী-নীল রঙের শাড়ি। কল্পনার ক্যানভাসে রূপবতী কিশোরী পরী। হিমু ভাবনার স্মারক।
প্রেমে পড়েছি। প্রথম দর্শনেই হৃৎপিণ্ডে গুলি খেয়েছি। পিছুপিছু ঘুরঘুর করে শ্যাম্পুর গন্ধও দেহে তুলে নিয়েছি। জুতোর শব্দটাকেও শ্রবণশক্তিতে আমাদানি করেছি। ঠিকানা! ঠোঁটস্থ মুখস্থ। হিমু পাগলের প্রলাপ বকছে।
হিমু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে এক নিমেষেই বলে উঠলো।
হিমু,
প্রেমে পাগল,
হট্টগোল দেহপিঞ্জর নাড়িভুড়ি।
চোখে চশমা হাতে ঘড়ি
বুকপকেটে আতর চিরুনি।
হিমু রংপেন্সিল নিয়ে আর কোন ছবি আঁকেনি।

২২৫জন ১জন
63 Shares

১৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য