হাসির উৎস

খাদিজাতুল কুবরা ১৩ জুলাই ২০২০, সোমবার, ১১:৪০:২২পূর্বাহ্ন কবিতা ৩০ মন্তব্য

 

একদা জীবন পরিক্রমায় তন্বী তরুণীর হৃদয় হয়েছিল শতধা!
হাসতে ভুলে গিয়েছিল সে, কঠিন পৃথিবীর ঘুর্ণিপাকে!
বিমূর্ত রূপের বিমর্ষ চেতন ন্যুজ্ব প্রায় স্ব ভারে,
তারপর কেটে গেছে বহুদিন, মাস রাহু গ্রাস।

পুনরায় হাসতে শিখেছিলো সে,
সেই ভিখিরী বুড়ি দিদার কাছ থেকে,
হাড় জিরজিরে শরীর হদিস নেই দাঁতের পাটির,
প্রায়শই দরজার কড়া নেড়ে যেতো অনর্গল,
দরজা খুলতেই একগাল নির্মল হাসি!
শুধায় __”কিছু দিবি মা?”

তরুণীর  নিজের দুঃখ বুড়ি দিদার দুঃখের কাছে হেরে
যায়!

হাসতে শিখেছিলো সে,
পাড়ার মোড়ে উদোম গায়ে সেই বুড়ো রসিক ঝালমুড়ি ওয়ালার কাছ থেকে,
আলুর চপ, ডালমুটের চচ্চড়ির সাথে
কাঁচা মরিচ,ধনিয়াপাতা,পেঁয়াজ কুচো,
সরিষার তেল দিয়ে মুড়ি মাখিয়ে কি যেন অমৃত বানায়,
ছেলে পুলেদের লাইন পড়ে যায়!

বুড়োর গায়ের কমপক্ষে ছত্রিশ খানা হাঁড় বাধা দেয়,
তবুও বুড়ো থামেনা,
সালাদ কাটে আর নিজের বাঁধা ছড়া কাটে __
“ক খ গ ঘ ঙ মাস্টর বেটা ঘুমো”
বুড়ো ঝালমুড়ির ডিবা ঝাঁকায় আর ভাটিয়ালী গায়,
জগতের সব সুখ যেন ঝালমুড়ির কৌটায়…..

তাই দেখে তরুণীর দুঃখরা লজ্জাবতী’র মতো চুপসে যায়।

হাসতে শিখেছিলো সে,
চৈতালী দুপুরে তীর্যক রোদে পুড়ে
বুড়ো রিক্সাওয়ালা যখন হেলেদুলে প্যাডেল চেপে তরুণীকে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়,
রেট ভাড়া হাতে পেয়ে হাসি হাসি মুখে আবার হাত বাড়িয়ে বলে __
“আর কিছু দিবেন নি আম্মা?
দেখছেন ত রোদের কি তেজ!”

তরুণীর দুঃখ তখন পড়ি কি মরি করে পালায়…

তরুণী হাসতে শিখে যায়….
এ হাসি থামবার নয়…
এ হাসি বিধাতার অকৃপণ দান…
এ হাসিতে মেতে উঠে সকল মহৎ প্রাণ।

১২/০৭/২০২০ইং

১৭৫জন ৪৯জন
0 Shares

৩০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য