হাসতে মানা!( কতিপয় ভাইভা বোর্ড)

রোকসানা খন্দকার রুকু ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার, ০৮:২৩:৪০অপরাহ্ন রম্য ৩৩ মন্তব্য

***বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে:

প্রশ্ন-উওরের একেবারে শেষ দিকে- আপনি তো মোটামুটি জানেন জানা গেল।তো কিছু ব্যক্তিগত তথ্য আমাদের জানা দরকার।

– বিয়ের কত বছর আপনার?

– খুশি মনে উওর দিলেন।জী স্যার তিন বছর।

– বাচ্চা কাচ্চা কয়জন।

বেসরকারী জব।বাচ্চা থাকা তো ঝামেলা তাই আপনি আবার খুশিতে টগবগ করে উত্তর দিলেন

– বাচ্চা কাচ্চা নাই স্যার।একেবারেই ঝামেলা মুক্ত।

– বলেন কি? এ তো বিপদের কথা।তিন বছরে বাচ্চা নেননি।চাকরীতে ঢুকেই শুরু করবেন বাচ্চা নিয়ে ছুটি নেয়া।আমাদের চলবে কি করে।

মনটা খারাপ হয়ে গেল।চাকরী যখন হবেই না তখন এক হাত দেখে নিতে হবে।

– আপনারা এক কাজ করেন।খোঁজা , বান্জা এগুলো দেখে নিয়োগ দেন।আর আপনার বউ তো এই অর্গানাইজেশনের একজন এমপ্লয়ি।তাঁর বাচ্চা নেন নাই না অন্যকিছু অপারেশন….

যথারীতি গার্ড ডেকে আপনাকে বিদায় করলেন।

****সরকারী চাকুরী:

৫০ মিনিট ধরে প্রশ্ন করতে করতে বোর্ড সদস্যরা নাজেহাল।আটকাতে না পেরে একে অপরের মুখচাওয়া চাওয়ী করছে।কিভাবে আটকানো যায়।পরীক্ষার্থী তারপরও হাসিমুখে বসে। অবশেষে মোটা ফ্রেম চশমা-

-আপনার বাড়ি তো কুড়িগ্রাম?যে কোথাও চাকরি করতে পারবেন?

-হ্যাঁ,স্যার পারব।

মুচকি হেসে-আচ্ছা,কুড়িগ্রামের মানুষকে মফিজ বলে কেন?

মুচকি হেসে- হাসি-কান্না,সুখ-দুঃখ যেমন পাশাপাশি তেমনি মফিজ-স্মার্টও পাশাপাশি।আপনারা স্মার্ট বলেই আমরা মফিজ।

সবাই হা হা হা হা ।

-যুগ্ম সচিব আপনার মামাতে ভাই তাইনা?

-হ্যাঁ ভাই-ই তো!

-মানে কি?তিনি ফোন করেছেন।

-স্যার ভাইকে এরআগেও দুবার রিটেন  এর আগে বলেছিলাম।বারবারই বলেছে রিটেন পাশ হলে বলিস।তেলা মাথায় তেল সবাই দেয়।

আবার মুখ চাওয়া চাওয়ি।

-ধন্যবাদ আপনি আসতে পারেন।

-ধন্যবাদ স্যার। আসসালামুয়ালাইকুম।

****বিয়ের ভাইভা:

সব মেয়ের জীবনেই আসে এ কঠিন ভাইভা বোর্ড।তাও বারবার।

– মা হাসো তো! হুহু হি হি হা হা করতে করতে আপনি একদম ছেলের গায়ের উপর পড়লেন।

– মা হাঁটো তো! হাঁটতে গিয়ে পড়লেন ছেলের বাপের কোলে।

– মা চুল দেখাও তো! একদম ঐশ্বরিয়া স্টাইলে চুল ছেড়ে দিলেন হবু শাশুড়ির মুখে।মা গন্ধ সুন্দর না।আজই শ্যাম্পু করেছি।

তারপর আপনার সার্টিফিকেট, রেজাল্ট,চাকুরীর বেতন সব জানা শেষ। চরিত্রের খোঁজ আগেই নিয়েছে।বলেছে মাশাআল্লাহ।তিনটা প্রেম করেছেন জানার পরও।কারন আপনার চাকুরীটা ভালো।

এবার আপনার পালা-

বাবা-মা,জানু আমারও কিছু জানার আছে।কিছু মনে করা যাবেনা।কারন আমি ও কিছু মনে করিনি।আমরা তো একই পরিবারের সদস্য হতে যাচ্ছি।

– বিয়ের পর জানু,পানু,নুনু এসব তো ডাকবই সাথে  তোমার বড় গাইয়া নামটা ছেঁটে দিয়ে নতুন নামে ডাকতে চাই। এছাড়া আমার কিছু পছন্দ আছে।যেগুলো আমিও একটা একটা করে দেখতে চাই।তাহলে শুরু করি।

-সালমান খানের মত সিক্স প্যাক পছন্দ আমার।তোমার শার্ট তোলো দেখি কি অবস্থা।

– শার্ট তুলে দেখালো।চলছে মুখ চাওয়া চাওয়ি।

-একি এতবড় ভুঁড়ি! এ আমার পছন্দ না!

– কবিতার খবর কি? লিখতে-পড়তে

পারো?

– না পারিনা।

– তাহলে পারোটা কি? ফুটবল ক্রিকেট, দাবা এসব।

– লুডু পারি।সাপ লুডু।

– ছি! এটা কোন হল।এ তো বাচ্চাদের খেলা।যা হোক,আমি তো রান্না টান্না কম জানি।তা তোমার খবর কি রান্না টান্না পারো?

– না পারিনা তেমন?

– মানে কি? হাওয়া নিয়া আসছ।পড়াশুনা, রেজাল্ট, চাকরী সবটাতেই তো আমার থেকে পিছিয়ে। ভাবলাম এসব দিয়ে চালায় নিব।তাও নাই? গুষ্টি শুদ্ধ ইন্টারভিউ নেয়ার জন্য চলে এসেছে। কাউকে গরু ছাগল ভাবার আগে নিজের দিকে তাকাও।বিয়ে তো হবে না এতগুলা খাবার দাবার কিনতে অনেক টাকা খরচ হয়েছে।আমার মুখ দেখা টাকা বেশি করে দিও অন্তত কিছুটা শোধ হবে।আমার ভীষন ঘুম পেয়েছে যাই  ঘুমাই।কাল আবার অফিস আছে।

****সোনেলার ভাইভা:(ব্লগার বনাম এডমিন)

-কোনটা নিবেন কালাডা না সাদাডা।

-কালাডা।

-একলাখ।

-সাদাডা।

-ওই একই।একলাখ।

-তেল কম কোনডাতে হবে?

-কোনডার কথা।কালাডা না সাদাডা।

-কালাডা।

-আর সাদাডা।

-ওই একই! তেল কম।

-ফিড খাওয়াইছেন।

-কোনডারে।কালাডারে না সাদাডারে।

-কালাডা।

– খাইছে।

-আর সাদাডা।ওই একই ওডাও খাইছে।

-ওই মিয়া এত প্যাচান ক্যা।দাম দর সবটাই যদি একই হয় তাইলে না ঘুরায়া সোজা সুজি কইতে পারেন না?

-আরে মিয়া বুজেননা।আপনারে ব্লগার/লেখক কোনটাই স্বীকৃতি দিমুনা।এইজন্য প্যাচাইতাছি।যান ভাগেন গিয়া।

-হুম!(মুখ ভেংচি কেটে) যামু কিন্তু আবার আমু।

(ভাইরে ভাই যেমন অ্যাডমিন তাঁর তেমন ব্লগার)

উমম!! লম্বা হাই।যাই ঘুমাই গিয়া।ডাঃ বেশি রাত জাগতে নিষেধ করেছে।শুভ রাত্রি সোনেলা।

১৯১জন ১২জন
0 Shares

৩৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য