স্মরি তব নাম ; পিতা

আগুন রঙের শিমুল ৭ মার্চ ২০১৫, শনিবার, ০২:১২:৪৫পূর্বাহ্ন মুক্তিযুদ্ধ ৯ মন্তব্য


মার্চ।
ভয়াল কালরাত্রির মার্চ।
পিতার অঙ্গুলী হেলনে জাগরণের মার্চ,স্বাধীনতার অগ্ন্যুৎসবের মার্চ।

একজন মাত্র মানুষের বজ্রকন্ঠ কাঁপিয়ে দিয়েছিল সেদিন সামরিক শাষকগোষ্ঠীর ভিত্তিমুল। শানিত চেতনাতে বাঙ্গালী জেগেছিল স্বাধীনতার জন্য। পৃথিবী অবাক তাকিয়ে দেখেছে একটা মাত্র মানুষ কেমন করে হয়ে ওঠে পুরো একটা দেশ, একটা জাতির স্বপ্নযাত্রা কেমন করে আবর্তিত হয় একজন মানুষের “এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ” ঘোষনায়।

পিতা সেদিন রেসকোর্সে মুলত ঘোষণা করেছিলেন বাংগালীর মুক্তির সনদ। অজস্র বঞ্চনা আর শোষণ এর বিরুদ্ধে বাঙ্গালীর ফুঁসে ওঠার সংগ্রামের দিক নির্দেশনা ছিলো ৭ই মার্চের ভাষন। যার সাথে তুলনা করা চলে গেটিসবার্গ এড্রেসের, একটা জাতির স্বাধীনতা তার ভবিষ্যৎ তার রক্তাক্ত জন্মের পটভূমিতে সেই ভাষন ছিলো এবং আছে পাথেয় হয়ে। পিতার সে বক্তব্য তার প্রজ্ঞা এবং রাজনৈতিক দুরদর্শীতার এক প্রোজ্বল দলিল। বাংলার স্বাধীনতার সামগ্রিক রুপরেখা।

৭ই মার্চের ভাষনে পিতা একদিকে যেমন সামরিক জান্তার প্রতি কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন “তোমরা ব্যারাকে থাক, কেউ তোমাদের কিছু বলবে না ” অপরদিকে তীক্ষ্ণ নজর রেখেছেন সন্তানসম বাঙ্গালীর যাতে কষ্ট না হয়, “ব্যাঙ্ক খোলা থাকবে, যাতে মানুষ তাদের মায়নাপত্র নিবার পারে ” আজো বাঙ্গালীর সাহস জোগানের শব্দগুচ্ছ “রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো, ইনশাআল্লাহ। “

মার্চ এলেই চোখে ভাসে, অগ্নিদগ্ধ নগরীতে হায়েনার উল্লাস, ভাইয়ের, কন্যার খন্ডিত লাশ। হাহাকারের নগরী। ধর্ষিতা জননী। সব ছাপিয়ে ওঠে, সফেদ পাঞ্জাবি আর কালো ফ্রেমের চশমায় পিতার আশাজাগানিয়া মুখচ্ছবি।” আমরা মরতে শিখেছি, আর আমাদের দাবায়া রাখতে পারবা না “

মার্চের অগ্নিস্রোত চেতনায় শুদ্ধ হোক বাংগালী প্রাণ, জেগে উঠুক পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

৩২৯জন ৩২৯জন
0 Shares

৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য