স্বামী

মাছুম হাবিবী ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার, ০৪:১৩:১৯অপরাহ্ন গল্প ১৩ মন্তব্য

আজ আরিফের বিয়ে! চারিদিকে সানাইয়ের সুর, হৈহুল্লোড়ে কেঁপে উঠছে বাড়ির উঠুন। পছন্দের প্রেয়সী শেলির সাথেই আরিফের বিয়ে হচ্ছে। আরিফ আর শেলির পরিবার খুব সহজেই মেনে নিয়েছে তাদের সম্পর্কটা। ভার্সিটির প্রথম থেকেই শেলির জন্য উন্মাদ ছিল আরিফ। একটু ভদ্র টাইপের ভীষণ লাজুক ছেলে। বন্ধুদের দ্বারাই প্রেম অবধি পৌছে ছিল অারিফের ভালো লাগাটা। আরিফ খুব ভালো ছেলে। বর্তমানে সে একটি বেসরকারি ক্ষুদ্র ব্যাংকে ম্যানেজার হিসাবে জব করছে। মাসে মোটা অংকের টাকা দিনশেষে পরিবারের মুখে হাসি সবকিছুই ঠিকঠাক।

 

খুব ধুমধামের সাথে আরিফ আর শেলির বিয়ে হয়। শেলির পুরো নাম হেলেনা আক্তার শেলি, একটু দুষ্টু টাইপের হলেও কথায় কথায় হুহু করে হেসে উঠা তার কাজ। অারিফ মূলত শেলির তুলতুলে দুষ্টুমি আর হাসির প্রেমেই পড়েছিল। শেলি আজ খুব খুশি, পছন্দের মানুষের সাথে বিয়ে হলে সব মেয়েরাই খুশি থাকে এটাই স্বভাবিক। শেলির গায়ে অনেক গয়না! হাতে গোল্ডের চুড়ি, গলায় চকচকে নেকলেস। দেখতে একদম ফুলপরীর মত লাগছে শেলিকে।

 

আরিফ বাসর ঘরে ঢুকে প্রথমে মুচকি হেসে শেলির পাশে বসলো! কি এক অজানা লজ্জায় ছুঁতে পারছেনা শেলিকে। এদিকে শেলিও আরিফের হাবাগোবা ভাব দেখে মিটমিট করে হাসছে। দুজনই লজ্জায় গোল পাতা হয়ে গেছে আজ! তার কিচ্ছুক্ষণ পর আরিফ গলা কাশি দিয়ে শেলির হাত ধরে। আরিফ শেলির হাত ধরতেই শেলি কেঁদে উঠে। আরিফ অবাক হয়ে জিজ্ঞাস করে আরে বাবা কাঁদছো কেন? কি হয়েছে তোমার? আজতো আমাদের সুখের দিন। শেলি অারিফকে জড়িয়ে ধরে বলে আমি সুখেই কাঁদছি। কোনোদিন ভাবিনি এতটা সহজে তোমাকে পাব। আরিফ একটু কুঁচ হেসে বলে হয়েছে ঢং করতে হবেনা এবার একটু ভালোবাসো!

 

অারিফের কথা শুনে শেলি হাই তুলতে তুলতে বলে ‘একদম হবে নাহ আগে শর্ত পূরণ করো তারপর আদর, ভালোবাসা। আরিফ চিন্তিত হয় বলে কিসের শর্ত শুনি। শেলি আরিফের হাতে চিমটি কেটে বলে বিয়ের অাগে যে বলেছিলে বাসর রাতে ইস্পেশাল গ্রিপ্ট দিবে সেটা কই? আরিফ এবার হেসেই দিল! হেসে’ হেসে বলে তোমার এখনো মনে অাছে সে কথা? অামিতো ভুলেই গেছি প্রায় কি গ্রিপ্ট দিব। তারপর আরিফ আস্তে করে পকেট থেকে এক জোড়া দুল বের করে। দুলদুটি শেলি হাতে দিতেই শেলি চমকে উঠে আরে এটাতো ডায়মন্ড রিং তুমি এটা কোথা থেকে আনলে? আরিফ ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে চোরি করে এনেছি হাহাহা…! শেলি রেগে বলে ঢং করবা না, বলো কোথা থেকে এনেছো? আরিফ শেলির চোখের দিকে তাকিয়ে বলে ‘যেদিন তোমার হাত ধরে বলেছিলাম বিয়ের পর বাসর রাতে তোমাকে ইস্পেশাল গ্রিপ্ট দিব সেদিন থেকে টাকা জমিয়ে এটা কিনেছি। আরিফের কথা শোনে শেলি আরিফকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। তারপর চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলে তুমি শুধু আমার!  বড্ড ভালোবাসি এই গাধাটাকে।

 

অারিফের বিয়ের আজ সপ্তমদিন। বিয়ের ছুটি কাটিয়ে অফিসে অাসতেই সব কলিগরা ফুলের শুভেচ্ছা জানায় অারিফকে। অারিফ তাদের সূক্ষ্ম ভালোবাসা দেখে মহাখুশি! অফিসে কাজের ফাঁকে অারিফ শেলিকে কল দেয়। নতুন বউয়ের মিষ্টি কথায় মাঝে মধ্যে সবার সামনেই হুহু করে হেসে উঠে অারিফ। খুব সুন্দর চলছে তাদের নব্য বিবাহিত জীবন। একজন আরেক জনের প্রতি ভালোবাসার সীমানেই! অফিস শেষে আরিফ বাসায় যেতেই শেলি আরিফকে গোসল করা পানি সহ যাবতীয় সাহায্য করে। অারিফও মাঝে মধ্যে দুষ্টুমির ছলে শেলির কাজে সাহায্য করে। তাদের এই সুন্দর সংসার দেখে অারিফের মা -বাবা সহ আত্বীয়স্বজন সবাই খুশি! তাদের উপর কারো কোনো অভিযোগ কিংবা অনুযোগ নেই!

 

অারিফ ও শেলির বিয়ের প্রায় এক বছর পূ্র্ণ হল। অাজ তাদের প্রথম বিবাহ বার্ষিকী। বাড়ি জুড়ে রান্না-বান্নার অায়োজন। শেলি অারিফের পছন্দের সব খাবার রান্না করেছে অাজ। এদিকে অারিফও শেলির জন্য নীল শাড়ি আর একগাদা গোলাপ কিনে এনেছে। খুব হাসি মুখে বাড়ি ফিরছে আরিফ।।

 

তারপর, নীল শাড়ি পড়ে অদ্ভুত এক বাহারি সাজে সেজেছে শেলি। আরিফ শেলিকে দেখে বিয়ের প্রথম দিনের কথা মনে করে। বিয়ের দিন শেলিকে ঠিক একই রকম সুন্দর লাগছিলো।

 

শেলিকে নিয়ে অারিফ কেক কাটছে! সবাই হাত তালি দিয়ে উইশ করছে দুজনকে। তাদের মাঝ থেকে একজন মধ্যবয়সী মহিলা হেসে উঠে বলে বিয়ের তো একবছর হল একটা ছেলেপেলের মুখতো দেখান। এভাবে আর কতদিন, সবাইতো চায় একটা সন্তানের মুখ দেখতে। মহিলাটির কথা শুনে শেলির মুখ কালো হয়ে যায়। শেলি আরিফকে কেক খাইয়ে রুমে চলে যায়। আরিফ কিছুতেই বুঝতে পারছেনা হঠাৎ শেলির কি হল? তারপর অনুষ্ঠান শেষ করে আরিফ শেলির কাছে যায়। শেলির দিকে তাকিয়ে আরিফ লক্ষ্য করলো শেলির চোখে জল!

 

আরিফ একটু রেগেমেখে বলছে কি হইছে তোমার? এভাবে সবাইকে রেখে ঘরে এসে কাঁদছো কেন? শেলি চোখ মুছতে মুছতে বলে আমার কিছু হয়নি এমনি কাঁন্না করছিলাম! আরিফ শেলিকে বুকে জড়িয় বলে আমি সব বুঝি। কেন কাঁদছো সেটাও জানি। আরে বাবা আমার তো সন্তান চাইনা! কে কি বললো তাতে কান দিতে হবে নাকি? আল্লাহ্ যখন চাইবে তখনই আমাদের ঘরে সন্তান আসবে। তা নিয়ে কান্না করার কি অাছে?

 

আরিফের কথা শুনে শেলি অনেকটা স্বস্তি পেলো। তারপর কোনো কথা না বলে দুজন এক সাথে খেতে বসে। খাবার টেবিলে আরিফের মা সুফিয়া খাতুন বলেন পাশের বাসার মহিলাটি ভুল কিছু বলেনি। আমাদের তো শখ নাতি-নাতনির মুখ দেখার! বিয়ের একবছর হয়ে গেল এখনো একটা সন্তান হয়নি কেমন মেয়ে কে জানে। শ্বাশড়ির কথা শোনে শেলি বিড়বিড় করে কাঁদছে। আরিফ তার মাকে ধমক দিয়ে বলে মা তুমি এসব কি শুরু করছো? আমি কি বলেছি আমার সন্তান লাগবে? আমি এখন সন্তান চাইনা! এসব নিয়ে আর কোনোদিন যেন কোনো কথা না শুনি। এসব বলে আরিফ খাবার রেখে রুমে চলে যায়।।

 

তারপর শেলি চোখ মুছে বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে অাছে। হালকা বাতাসে উড়ে যাচ্ছে শেলির কালো কালো চুল! শাড়ির আঁচলটা বারান্দার গ্রিল ছুঁয়ে ছিটকে পড়ছে মাটিতে। অারিফ রুম থেকে এসে শেলির পাশে এসে দাঁড়ায়! শেলি কথা বলছে নাহ, চারিপাশ যেন মৃদু ফাল্গুন। সবকিছু যেন নীরবতা পালন করছে। আরিফ শেলির হাত ধরে বলে প্লিজ মন খারাপ করো নাহ! মা এমনি মজা করে বলেছেন। আরিফের মুখের উপর শেলি বলে উঠে এভাবে কতদিন? আজ মা বলছেন কাল তুমি বলবে! আসলেই আমি একটা অপায়া মেয়ে! আমার কপালটাই খারাপ এতদিন হল মা হতে পারিনি। আরিফ শেলির গালে কষে একটা চড় মেরে বলে আর কোনোদিন যেন এসব কথা না শুনি!!

 

শেলি মন খারাপ করে শুয়ে অাছে। আরিফ অফিস থেকে এসে ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে বসা। শেলি খাবার দিয়ে চলে যায়। আরিফ জিজ্ঞাস করে তুমি খেয়েছো? শেলি বলে হ্যাঁ, তুমি খেয়ে নাও। আরিফ মজার ছলে বলে আজ এত তাড়াতাড়ি খেয়ে নিলে যে? খুব খিদে লাগছিলো বুঝি? শেলি কথা না বলে রুমে চলে যায়। অারিফ কিছুক্ষণ পর রুমে অাসে। শেলি অারিফকে বলে এত দ্রুত খাওয়া শেষ? আরিফ মাথা নেড়ে বলে হুমম শেষ। তারপর দুজন চুপ হয়ে বসে অাছে। শেলি বাসন গোছাতে গিয়ে দেখে আরিফ না খেয়ে ভাতগুলো ঢেকে রেখেছে। শেলি রেগেমেখে অারিফকে বলে কি শুরু করছো তুমি? ভাত খাওনি কেন? অারিফ শেলিকে বলে তুমি খাওনি কেন? শেলি মাথা নিচু করে বলে এমনি খাইনি, আর ইচ্ছে করছিলো নাহ!

 

শেলির মুখের উপর আরিফও বলে অামারো ইচ্ছে করছে নাহ খেতে। শেলি কাঁন্না জুড়ে দেয়, আরিফ শেলিকে জড়িয়ে ধরে বলে আরে পাগলি আমি তো জানি তুমি খাওনি। যে মানুষটা আজ অবধি আমাকে রেখে একটি রাতেও খাবার খায়নি সে অাজ সবার অাগে খেয়ে নিলো! অামি এতটাই গাধা নাকি কিছু বুঝি নাহ।।

 

তারপর অারিফ অার শেলি এক সাথে ডিনার শেষ করে। অারিফ শেলিকে খাইয়ে দেয় অার শেলি অারিফকে। দুজন খাওয়া শেষ করে গল্প করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ে।

 

আজ ২২ শে ফেব্রুয়ারি। গতকাল বই মেলা থেকে আরিফ শেলির জন্য একটি গল্পের বই কিনেছে। শেলির পছন্দের লেখক হুমায়ূন আহমেদের বই। শেলি বই পেয়ে মহাখুশি!

 

খুব ফুরফুরে মেজাজে অফিসের কাজ করছে অারিফ। হঠাৎ বাসা থেকে কল আসে। আরিফের মা অস্থির হয়ে বলেন বাবা আরিফ বউমা কেমন জানি করছে তুই তাড়াতাড়ি বাসায় আয়! আরিফ অফিস থেকে দ্রুত বাসায়  চলে আসে। তারপর শেলিকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন অারে অারিফ সাহেব আপনি একদম টেনশন করবেন নাহ! আর মাত্র ছয় মাস পর আপনি বাবা হতে চলেছেন। ডাক্তারের কথা শোনে আরিফের চোখ ছলছল করছে! এসব যেন কাল্পনিকতা। আরিফ বিশ্বাস করতে পারছে আজ এরকম একটা নিউজ তার জন্য অপেক্ষা করছিলো। আরিফ মৃদু হেঁটে শেলির কাছে যায়। শেলির কপালে চুমু খেয়ে বলে আর মন খারাপ করতে হবে না, আল্লাহ্ আমাদের সব ইচ্ছে পূরণ করবেন। শেলি জানতে চায় কি হয়েছে? আরিফ হাস্যউজ্জ্বল মুখ করে বলে তুমি মা হতে চলেছো আর আমি বাবা!

 

আরিফের কথা শুনে শেলি আরিফকে জড়িয়ে ধরে কাঁন্না জুড়ে দেয়। আরিফ মৃদু হেসে বলে পাগলি মেয়ে এটা তো খুশির খবর কাঁন্না করছো কেন? শেলি আরো জুড়ে জুড়ে কাঁন্না করতে লাগলো। শেলি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেনা সে মা হতে চলেছে।

 

তারপর আরিফ শেলিকে নিয়ে বাসায় চলে যায়! আজকাল আরিফ খুব যত্ন নিচ্ছে শেলির। এদিকে আরিফের মা -বাবাও শেলির প্রতি অনেক খুশি। শেলিকে কোনো কাজ করতে দেন নাহ। সব কাজ শেলির শ্বাশড়ি একাই করেন। শেলির প্রতি সবার ভালোবাসার সীমা ছাড়িয়েছে! বাড়ি জুড়ে নতুন মেহমানের আগমনে সবাই যেন হৈহুল্লোড় খুশি। আরিফ অফিস শেষে বিভিন্ন খেলনা কিনে আনে তার আগত সন্তানের জন্য। ইতিমধ্যে অারিফ একটি নামও ঠিক করে নিয়েছে তার সন্তানের জন্য।।

 

আজ ২৫ শে জুন শেলির প্রেগনেন্সি টেস্ট অনুযায়ী আজ সে মা হবে! বাসায় নরমালি সন্তান না হওয়ায় আরিফ শেলিকে অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে হসপিটালে নিয়ে যায়! হসপিটালে ডাক্তার প্রেগনেন্সি টেস্টগুলো দেখে হাই তুলতে তুলতে বলেন আরিফ সাহেব চিন্তা করবেন নাহ, আপনার স্ত্রীর কিচ্ছু হবে নাহ! আমরা যথাসম্ভব সিজারের মাধ্যমে বাচ্চাটিকে সুস্থ বের করবো। আপনি অপারেশনের জন্য টাকা রেডি করুন। অনেক টাকার প্রয়োজন অাছে।।

 

অারিফ ডাক্তারের কথামত টাকা রেডি করে হসপিটালে আসে। একাউন্টে টাকা জমা করে আরিফ ডাক্তারের কেবিনে যায়। ডাক্তার আরিফকে দেখে বলে ‘টাকা রেডি করেছেন? আমরা কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনার স্ত্রীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাব। ডাক্তারে কথা উপর অারিফ বলে ‘আমার স্ত্রীর অপারেশনটা যেন একজন মহিলা ডাক্তার করেন! আরেকটা কথা অপারেশনের সময় আমি অপারেশন থিয়েটারে থাকবো। সর্বক্ষণ আমি আমার স্ত্রীর পাশে থাকবো। অারিফের কথা শোনে ডাক্তার একটু মুচকি হেসে বলেন আচ্ছা তাই হবে আপনি এখন অাসুন!

 

শেলিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। শেলি অারিফের হাত ধরে কাঁন্না করছে। আরিফও অনেকটা ভেঙে পড়ছে শেলিকে দেখে! তারপরও শেলির হাত ধরে আরিফ বলে ‘কাঁন্না করোনা প্লীজ! তুমি কাঁন্না করলে আমার কষ্ট হয়। আর আমি সব ব্যবস্তা করে রেখেছি, তোমার কোনো অসুবিধা হবে নাহ। তুমি খুব সহজেই মা হবে ইনশাঅাল্লাহ্!!

 

শেলির সিজার অপারেশন শুরু হয়েছে। অারিফ শেলির হাত ধরে বেডের এক কোণে বসে অাছে। একজন মহিলা ডাক্তার রুমে প্রবেশ করে সিজারের সকল প্রকার জিনিস পত্র রেডি করছেন। একটু পর শেলিকে সিজার করানো হবে। অারিফও প্রভুর নাম জপতে জপতে তাকিয়ে অাছে শেলির দিকে। এদিকে ডাক্তার শেলিকে ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছেন! শেলি প্রায় অচেতন হয়ে শুয়ে অাছে।।

 

হঠাৎ ডাক্তার বলেন আরিফ সাহেব আপনি এখনই দুইব্যাগ ‘এ’পজেটিভ রক্তের ব্যবস্থা করুন! কিছুক্ষণের মধ্যে আপনার স্ত্রীর অনেক ব্লাড লাগবে। আরিফ ডাক্তারের দিকে তাকিয়ে একটু মিষ্টি করে বলে ‘সিস্টার এত উত্তেজিত হবেন নাহ। আমার ‘এ’পজেটিভ রক্ত, অামার স্ত্রীকে সমস্ত রক্ত আমি দেব।

 

আরিফের কথা শোনে ডাক্তার আরিফকে বলে ‘আচ্ছা আপনাদের মাঝে এত মিল কেন? এত ভালোবাসা কেন একে অন্যের প্রতি? আরিফ ডাক্তারের কথা শোনে মুচকি হেসে বলে ‘সিস্টার আজ যে মানুষটা মা হওয়ার জন্য হসপিটালের বেডে শুয়ে অাছে সে আমার স্ত্রী! কিন্তুু জানেন আজ থেকে পাঁচবছর আগে সে অামার প্রেমিকা ছিল। শুধু প্রেমিকা নয় এজন ভালো বন্ধুও বটে! একদিন আমার মোটরসাইকেল এক্সিডেন্ট হয়। ডাক্তার একরাশ হতাশা নিয়ে বলেছিল তাড়াতাড়ি রক্তের ব্যবস্তা করেন তা না হলে রোগিকে বাঁচানো যাবে নাহ! তখন ঠিক সেই মুহূর্তে শেলি ডাক্তারের হাত ধরে কেঁদে কেঁদে বলেছিল ‘স্যার আপনি আমার অারিফকে বাঁচান আমার সমস্ত রক্ত আরিফকে দিয়ে দিন!

 

কিন্তুু আজ সে আমার স্ত্রী, আমি কিন্তুু আমার রক্ত দিচ্ছি নাহ! বরং সেদিনের দেয়া তার রক্তটুকুই আজ তাকে দিচ্ছি! প্লীজ আপনি টেনশন করবেন নাহ আমার শেলিকে বাঁচান যত রক্ত লাগে আমি দেব।

 

অারিফ শেলিকে রক্ত দেয়ার কিছুক্ষণ পরই শুনতে পায় একটি বাচ্চাশিশুর কাঁন্না! আরিফ দৌঁড়ে অপারেশন থিয়েটারে যায়, গিয়ে দেখে শেলির গর্ভে ফুটফুটে এক কন্যা সন্তান হয়েছে। আরিফ ‘সিস্টারের হাত থেকে বাচ্চাটিকে খুলে নিয়ে ‘অাম্মু আমার আম্মু কাঁদে নাহ, আমার জান্নাত কাঁদে নাহ।

 

তার অাধঘন্টা পরই শেলির জ্ঞান ফিরে। অারিফ বাচ্চাটিকে শেলির খুলে দিয়ে একটু বোকা ভাবে বলে’এ্যাই তোমার মেয়ের কাঁন্না থামাও তো! তা না হলে মারবো কিন্তুু! তখনই শেলি অারিফকে চিমটি কেটে বলে গাধা একটা নিজের মেয়ে কাঁন্নাও থামাতে পারে নাহ!!

বিঃদ্র- আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত!মোবাইলের সমস্যার কারণে পর্ব হিসাবে গল্পটি আপলোড করতে পারিনি। তাই আজ অনেক কষ্টে পুরো গল্পটি আপলোড করে দিলাম। সবাইকে ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন

১৩০জন ২জন
49 Shares

১৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য