সৌন্দর্যকে চিরকাল আত্মসাৎ ও নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করবার জন্য মানুষের মনে একটা দূর্বার বাসনা সবসময়ই জাগ্রত থাকে। এই সৌন্দর্যের প্রতি দুর্দমনীয় আকর্ষণ, এই অন্ধ আসক্তিমূলক প্রেম প্রত্যাখ্যান হলে সে প্রেম প্রার্থীকে সবলে করায়ত্ত করতে চায়। প্রেম বিকৃত হয়ে পরিণত হয় ক্রুর প্রতিহিংসায় এবং তা জীবনের এক পীড়াদায়ক অভিসম্পাতরূপে বর্তমান থাকে।

রাহু যেমন চন্দ্র সূর্যকে ধীরে ধীরে গ্রাস করে, এই আত্মকেন্দ্রাভিমুখী ভোগপ্রবৃত্তিও প্রেমাষ্পদকে সবলে আকর্ষণ করে তাকে একেবারে গ্রাস করতে চায়। প্রবল ভোগ-তৃষ্ণা প্রেমকে আচ্ছন্ন করে তার নিজস্ব সত্তাকে নিপীড়ন করে অতি নিষ্ঠুর গর্বের জয়ধ্বজা উড়িয়ে দিয়ে আত্মতৃপ্তি লাভ করতে চায়। আমার কাছে তা প্রেম নয়, এ মানসিক বিকলাঙ্গতা।

যে প্রেম-কুসুম স্বর্গের সৌন্দর্য নিয়ে বিকশিত হচ্ছে তাকে দেহের আধারে সীমাবদ্ধ করা যায় না, সেতো নন্দনের ফুল। ধরার ধূলিতেও সে ফুটতে পারে না, সে ক্ষমতা ইশ্বর দেননি। অন্তরের এই পবিত্র ধন কি দেহের কামনা কেড়ে নিতে পারে?

এই স্বপ্নরাজ্যে, ভোগের আবেষ্টনীর মধ্যে মোহাবিষ্ট অবস্থায় যুগল-প্রেমের উৎসব সেতো মরীচিকা মাত্র। এ প্রেমের স্বার্থকতার জন্য প্রেমকে একটি বৃহত্তর ক্ষেত্রে বাস্তব অবস্থার মধ্যেই আমাদের যাচাই করা প্রয়োজন।

কেবল দেহের ক্ষুধা মিটানোর জন্য, শুধু ক্ষণিকের ভোগ-তৃপ্তির জন্য মানব জীবন সৃষ্টি হয়নি। মানব-হৃদয়ের প্রেম তো ক্ষণিকের মোহ নয়। প্রেম ঈশ্বরের আশীর্বাদ, দেহ স্বর্গের অপার্থিব সৌন্দর্য আলোকে চির-ভাস্বর।

ভরা যৌবনে যখন বিশ্ব রঙীন ও সুন্দর দেখায় এবং হৃদয়াবেগ উদ্দাম হয়ে ওঠে, তখন সৌন্দর্য ভোগের প্রবল আকাঙ্ক্ষা মনে জাগ্রত হয়। নারী তখন পুরুষের চোখে অপরূপ সুন্দর হয়ে উঠে। নারীর মধ্যেই সে তার আকাঙ্খিত সৌন্দর্যের সন্ধান পায় এবং তাকে কেন্দ্র করে হৃদয়ে অনুরাগ ও প্রেমের আবির্ভাব হয়।

কেবল মৃত্যু এসে এই অত্যন্ত প্রত্যক্ষ জীবনটার একটা প্রান্ত যখন এক মুহূর্তের মধ্যে ফাঁক করে দেয় তখন মনের মধ্যে ধাঁধা লেগে যায়! প্রেম অবিনশ্বর, দেহের প্রয়াণ ঘটে আত্মারতো নয়!

“বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদে এলো বান”-  এ ছড়াটি যখন গানের কথায় কানে বেজেছিলো তা ছেলেবেলায় আমার নিকট মোহমন্ত্রের মতো ছিল এবং সেই মোহ এখনো ভুলতে পারিনি। এ যেনো এখনো আমার সেই বাল্যকালের মেঘদুত।

[ছবি- সংগৃহীত]

২২৭জন ৯১জন
29 Shares

১৭টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ