স্বপ্ন

রেজওয়ান ২৮ মার্চ ২০২০, শনিবার, ১১:০০:৫৬অপরাহ্ন গল্প ১৬ মন্তব্য

আজ এগারো দিন পর বাসা থেকে বের হলাম। জনমানবহীন রাস্তাঘাট। রাস্তার মাঝে মাঝে পুলিশ, আর্মির টেম্পোরারি চেকপোস্ট। হঠাৎ হঠাৎ একটা করে গাড়ি যায় আর পুলিশ গাড়ি থামিয়ে মাস্ক, সিট বেল্ট, লাইসেন্স চেক করছে। বের হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানার চেষ্টা করছে। কারণ যুক্তিযুক্ত না হলেই জেল জরিমানা করার নিয়ম করে দিয়েছে এই সরকার। গাড়ি নিয়ে বের হলেই বেশি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাই গাড়ি ছাড়াই বের হয়েছি। আসলে বাসায় থাকাতে তেমন একটা হাটাও হয় না। যেখানে দিনে কমপক্ষে ছয়-সাত কিলোমিটার হাটা হতো সেখানে এই লকডাউনের পর গড়ে সাতশো মিটারও হাটা হয় না। ফুটপাত দিয়ে হাটছি, যথারীতি কানে হেডফোন, “তোরে পুতুলের মত করে সাজিয়ে” গানটা বাজছে..। খেয়াল করলাম মা সহ বেশ কিছু বাচ্চা কুকুর রাস্তায় খেলছে। সাথে কিছু চড়ুই, কাক মনের আনন্দে নীল আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে। মনে হচ্ছিলো অনেকদিন পর এই শহয়ে ওরা প্রাণ ভরে নিশ্বাস নিতে পারছে। মানুষের ভয়ে লুকিয়ে থাকা রাস্তার কুকুরগুলো আজ স্বাধীন। আজ কারো কোনো অভিযোগ নেই। নেই কোনো বাধা! আজ বোধহয় ওরা অনুভব করছে এই পৃথিবীটা শুধু মানুষের জন্যই না, রয়েছে সকল প্রাণের সমান অধিকার!!

চেকপোস্টের সামনে আসতেই একজন পুলিশ আমাকে থামালো। বললাম কিছু বাজার-সদাই করতে যাচ্ছি। বাসায় একদম সবজি নেই। কিছু জিজ্ঞাসা না করেই ছেড়ে দিলো..বাহ্ কত্তভাল পুলিশ বলেই আবার হাটা শুরু করলাম। কানে হেডফোন কিন্তু কোনো গান নেই মনে চাচ্ছে প্রকৃতির গর্জন শুনি কিছুক্ষণ। শুনি গাছে বসে থাকা চড়ুইয়ের কিচিরমিচির। ইট পাথরের শহরে এ দৃশ্য দেখা হয় না অনেক বছর। এমন কিচিরমিচির কবে শুনেছি মনে নেই। ইস যদি ওদের কথা বুঝতে পারতাম কতই না মজা হতো। ওদের সাথে কথাও বলতে পারতাম, ওদের আকাঙ্ক্ষা, চাওয়া পাওয়া সম্পর্কে জানতে পারতাম আহা..
মানুষ আমি! কিচিরমিচির শোনা আমার শোভা পায় না। তাড়াতাড়ি করে হাইওয়ার মার্কেটে ঢুকে পরলাম। কেনাকাটা করেই চলে যেতে হবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব!

কিছু সবজি, নুডলস, চিপ্স কিনে ফিরছি। তখনো হেডফোনি কানে “ওই দূর পাহাড়ের ধারে” গানটা বাজছে। আকাশের দিকে তাকাতেই আৎকে উঠলাম। কেন যেন মনে হলো সূর্য রক্তিম চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আশেপাশে পুলিশের গাড়ি গুলোও নেই। হয়তো অন্য গলিতে রাউন্ড দিচ্ছে চেক করছে.. আমার কেমন যেন গা ছমছম করে উঠলো। মনে হলো এ কোন জম্বিল্যান্ডে আমি? সন্ধ্যাটা এত ভয়ংকর লাগছে কেন? শেয়ালের ডাক কোথা থেকে আসছে? আসলেই কি আশেপাশে শেয়াল আছে নাকি এ আমার নিছক কল্পনা? না আমি আর নিতে পারছি না গানের সাউন্ড ফুল করে তাড়াতাড়ি সর্টকাট রাস্তা ধরে হাটতে লাগলাম। মাথার উপর দিয়ে কিছু কাক কা-কা করতে করতে উড়ে গেল। আমি দ্রুত হাটছি, কপালে ঘাম, পথ যেন আর শেষ হয় না। সামনেই ছোট্ট একটা কাঠ বাগান। বেশ কিছুদিন পরিষ্কার করা হয়নি বলে কেমন যেন একটা জঙ্গলের মত হয়ে গেছে বাগানটা। আগে পাতা বাহার, লিলি ফুলের সাড়ি ছিলো আজ সেগুলোর কিছুই দেখলাম না। আমি দ্রুত হাটছি। এমন সময় কানে ফিসফিস শব্দ এলো।

কারা যেন বলছেঃ
-মালটারে ধরতে পারলে ভালা একটা পার্টি দেওয়া যাইতো! বন্ধু-বান্ধবরে ডাক দিয়া কয়েকদিনের মধ্যেই জম্পেশ পার্টি দেওয়ন লাগবো। এমন সুযোগ আর অবস্থা নাও পাইতে পারি!!
-জঙ্গলের ভিতর ছেলেধরা বসে আছে নাকি এই লকডাউনের সময়ে? করোনাকে এরা ভয় পায় না নাকি?
-নাহ্ ভাবতে পারছি না। ভোঁ দৌড় দিতে হবে তা না হলে আর রক্ষা নেই। কিছুদূর গিয়েই থমকে দাঁড়ালাম। আরে আমার কানেতো ফুল ভলিউমে গান বাজছে। ফিসফিস না উচ্চ শব্দের কোনো কিছুই শোনার কথা না। পেছন ফিরে আশেপাশে তাকালাম কিন্তু কাউকেই দেখলাম না।

বাসায় ফিরে বাজারর ব্যাগ রেখে সোজা বাথরুমে চলে গেলাম। গোসল করে ফ্রেস হয়ে বসে আছি কিন্তু মাথার ভেতর থেকে সন্ধ্যায় শোনা কথাগুলো বের হচ্ছে না। ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করছি কারা ছিলো? কে কথা বলছিলো? আমিই বা শুনলাম কিভাবে? এমন সময় বাসার সামনে দিয়ে একটি মা বিড়াল আর দু’টি বিড়ালের বাচ্চা হেটে যেতে দেখে দরজার সামনে গেলাম। আরে ওরাতো মেয়াও মেয়াও করছে না অবিকল মানুষের মত কথা বলছে!! ঠিক মানুষের মত না তবে আমি ওদের কথা বুঝতে পারছি সব বুঝতে পারছি।
-সাদা-সোনালী রংয়ের বাচ্চাটা মা বিড়ালকে জিজ্ঞাসা করছেঃ আচ্ছা মা দু”পায়ে চলা লম্বা লম্বা এই প্রাণী গুলো ইদানীং এত কম দেখা যাচ্ছে কেন?
-মা বিড়াল বলছে আমিও সঠিক জানি নারে। তবে সেইদিন এক খরগোশকে বলতে শুনলাম ওই দু’পায়ে চলা প্রাণীগুলার মধ্যে কি যেন অসুখ হয়েছে। তাই সবাই ভয়ে বাসায় বসে থাকে। আমাকে দেখিয়ে বললো দেখছিস না ওইযে একজন বাসার ভেতর থেকে আমাদের দেখছে। একটা সময় উনি আমাকে অনেক খাবার দিতো, তোরা তখন আমার পেটে। হঠাৎ কি হলো সারাদিন মাইকে বলা হলো রাস্তার কোনো প্রাণীকে খাবার দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। বাসায় অবস্থান করুন। অকারণে বাহিরে বের হবেন না। সেদিন থেকে উনি আর খাবার দেয় না। তোরাও জন্ম নিলি উনি দেখেছে লুকিয়ে লুকিয়ে কিছু মাছের কাটা আর ভাত দিয়ে গিয়েছিল সেদিন!!
-কালো-সাদা বাচ্চাটা জিজ্ঞাসা করলো আচ্ছা মা ওই দু’পায়ে চলা লম্বা লম্বা প্রাণীগুলোর কোনো নাম নেই? ওরাতো আমাদের বিড়াল বলে। আমরা অন্য যে প্রাণীটাকে অনেক ভয় পাই তাদের ওরা বলে কুকুর। প্রত্যেক প্রাণীদের আলাদা আলাদা নাম দেয় ওরা। ওদের কি কোনো নাম নেই মা?
-আছে আছে। ওই সকল প্রাণীদের একসাথে ওরা মানু্ষ বলে। কিন্তু ওদের আলাদা আলাদা নাম-পরিচয় আছে। ওরা ভাবে ওদের অনেক জ্ঞান। অনেক পড়াশোনা করতে হয় জানার জন্য। অনেক গবেষণা করতে হয় নতুন কিছু উদ্ভাবনের জন্য। এজন্য নিজেরাই নিজেদের সকল প্রাণীর সেরা মনে করে। অন্যকোনো প্রাণী কিন্তু এগুলো সমর্থন করে না জানিস? আমরা হাসি ওদের কর্মকাণ্ড দেখে। ওরা যেটুকু সময় এই পৃথিবী সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে, ওই সময়টাতে আমাদের মত প্রাণীরা অনেক কিছু জেনে যায়। তোদের মামারা তো আরো জ্ঞানী। আরেকটু বড় হ তোরা পরিচয় করিয়ে দিবো তোদের মামাদের সাথে। সেদিন গল্প বলেছিলাম মনে আছে?
-দুটো বিড়াল ছানা এক সাথে বলে উঠলো হ্যাঁ মা মনে আছে। দু’ধরনের মামা আছে আমাদের একজনের গায়ে কালো-হলুদ ডোরাকাটা দাগ ও অনেক বড় দেখতে। মানুষ ওদের নাম দিয়েছে বাঘ। আরেকজনের গায়ে কালো ছোপ ছোপ। মানুষরা ওদের বলে চিতাবাঘ। আর আমরা বলি বড় মামা, ছোট্ট মামা হি হি হি!
-আরে কি হচ্ছে আমার সাথে আমি বিড়ালের কথা বুঝতে পারছি কিভাবে? তাহলে কি কাঠবাগানের কাছে শোনা কথাগুলো মানুষের ছিলো না? হা-য় একি হলো আমার বিকেলে মনে হচ্ছিলো যদি আমি প্রাণীদের কথা বুঝতে পারতাম কতই না মজা হতো। আর রাতেই বুঝতে পারছি সব। কিভাবে সম্ভব? এমন সময় স্ত্রী ডিনারের জন্য ডাক দিলো। আমি চুপচাপ ডাইনিং টেবিলে বসে আছি আর ভাবছি কি হচ্ছে এসব। মারিয়া ভাত বেড়ে তরকারি বাটি এগিয়ে দিতে দিতে জিজ্ঞাসা করলো কি হয়েছে তোমার সেই সন্ধ্যা থেকে ঝিম মেরে বসে আছ? আমি শুধু কিছুনা বলে খাওয়া শুরু করলাম। খেতে খেতে ভাবছি এই মুরগীটা জীবিত থাকা অবস্থায় কি কিছু বলেছিলো? আমাকে ধিক্কার দিয়েছিলো? নাকি আকুতি করে হত্যা করতে মানা করেছিলো? তখনতো আমি ওদের কথা বুঝতাম না! কিচ্ছু ভাবতে পারছি না কেমন যেন সব গুলিয়ে যাচ্ছে। তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষে আমি উঠে পরলাম। মারিয়া শুধু ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে রইলো। ও বুঝতে পারছে আমার সব কিছুতে অস্বস্তি লাগছে কিন্তু কেন এমন হচ্ছে সেটা বুঝতে পারছে না। আমিও এখন বলতে চাচ্ছি না। আগে নিজে ব্যাপারটা ভালমতো বুঝে নেই তারপর বলবো। আমি কি কোনো ঘোড়ের মধ্যে আছি কিনা নাকি একটা নিছক কল্পনা আমাকে ঘিরে রেখেছে সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে। আরো কিছু প্রাণীর সংস্পর্শে যেতে হবে। পিপড়া থেকে শুরু করে গাছগাছালির সাথে কথা বলতে হবে। কাউকে এখনি কিছু বলা যাবে না।
আজ তাড়াতাড়িই শুয়ে পরলাম। এখনতো বাহিরে বের হওয়া যাচ্ছেনা করোনার জন্য সারাদেশ লকডাউন। এদিকে আশেপাশে চলাফেরা করা সকল প্রাণীর কথা বুঝতে পারছি!! কিন্তু কেন?

ঘুম আসছে না। ফোনে সময় দেখলাম রাত ৩ঃ১৩ বাজে। উঠে কিচেনে গিয়ে এককাপ কড়া ব্ল্যাক কফি বানালাম। বারান্দায় কিছু গাছ আছে, আছে কিছু মানিপ্ল্যান্ট। মনেমনে ভাবছি কিছু জিজ্ঞাসা করবো কিনা? ওমা! একটা ক্যাক্টাস বলে উঠলো কিচ্ছু জিজ্ঞাসা করতে হবে না। আমি তোমার মনের কথা বুঝতে পারি। আশেপাশের অন্যান্য গাছ মনের কথা বুঝতে পারে না কিন্তু তুমি যদি শব্দ করে কথা বলো তাহলে ওরা বুঝবে ও উত্তর দিবে।
আমি আর এক্সপেরিমেন্টে গেলাম না কফিটা নিয়ে সোফায় বসলাম। খুজতে লাগলাম বাসায় কোনো টিকটিকি আছে কিনা! নাহ্ নেই, তবে কিছু পিপড়া আছে। ওরা কিছু একটা বলছে কিন্তু স্পষ্ট বুঝতে পারছি না। আমি কিছু চিনি এনে ওদের সামনে ফেললাম। একটা পিপড়া ধন্যবাদ দিয়ে আরো কিছু পিপড়াকে ডেকে আনলো। আমি বললাম এই তোদের বাসা কোথায়? কয়েকটা পিপড়া আকুতি করে বললো প্লিজ আমাদের বাসায় কোনো স্প্রে দিও না, এইতো কিচ্ছুক্ষণ আগে আমাদের স্ত্রীরা ডিম পেড়েছে। অনেক কষ্ট হয়, দম বন্ধ হয়ে আসে। গন্ধ সহ্য না করতে পেরে সবাই মরে যাবো। আমরাতো তোমাদের কোনো ক্ষতি করি না তবে কেন আমাদের মেরে ফেলো তোমরা?
উত্তর দিতে পারলাম না, কফি শেষ করে রুমে এসে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। কাল কিছু প্রাণীর কথা শুনতে হবে বাসা থেকে না বের হয়েই। ন্যাশনাল জিওগ্রাফি দেখা যায়।

সকাল হয়েছে, যদিও বন্ধের দিন একটু দেড়ি করে উঠি আমরা কিন্তু আজ বেশ সকালেই ঘুম ভেঙে গিয়েছে উত্তেজনায়। চোখ মেলে দেখলাম হালকা রোদের আলো রুমে আসছে। জানালায় কয়েকটা চড়ুই পাখি বসে। ওরা কি বলছে তা শোনার চেষ্টা করছি।
ওদের মধ্যে কেউ যেন বললো এখনো কোনো খাবার পায়নি। আরেকজন বলে উঠলো তোদের না নতুন বাবু হয়েছে কিভাবে খাওয়াচ্ছিস ওদের? মানুষগুলো তো বাহিরে আসে না খাবারও দেয় না। ইট পাথরের শহরে পোকামাকড় পাওয়া অনেক কষ্ট হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। তার উপর ওরা কি কি যেন ছিটিয়ে দেয় এতে ছোট পোকামাকড় মশা-মাছি মরে যায়। কি যে করি!
আমি শুয়ে শুয়েই বললাম তোমরা কি ঘরে আসবে আমি তাহলে কিছু চাল দিতে পারি তোমাদের। ওরা কিছু না বলে একে অন্যের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। ভাবছে আমি কিভাবে ওদের কথা বুঝলাম বা ওরাই কিভাবে আমার কথা বুঝলো। ওদের একজন বললো যদি বাসার ভেতর আসি তাহিলে আমাদের ধরে জবাই করে খাবে না তো?

শুনেই মনটা খারাপ হয়ে গেলো আসলেইতো সুযোগ পেলে আমরা ওদের ধরে ফ্রাই করি। অনেককেই বলতে শুনেছি চড়ুইয়ের মাংস মানুষের শরীরে শক্তি বাড়ায়।
-অভয় দিয়ে বললাম আমি মাংসাশী হলেও তোমাদের কিছু করবো না। তোমরা আসতে পারো যদি তোমাদের সাথি থাকে ওদেরও আসতে বলো আমি চাল নিয়ে আসছি।
চাল নিয়ে এসে দেখি প্রায় দশ-বারোটা চড়ুই খাবারের জন্য অপেক্ষা করছে। চাল দেওয়ার পর ওরা অভয় নিয়ে খাচ্ছে আমি পাশে বসে আছি। হঠাৎ এক চড়ুই বললোঃ
-তোমাদের বিপদ ডেকে আনা এই ভাইরাস তোমাদেরই সৃষ্টি জানো?
-হ্যাঁ তবে ইচ্ছাকরেতো আর ছড়াইনি। ভুলে ছড়িয়ে গিয়েছে।
-এটা ভুল না, এটা অন্যায়। ভেবে দেখো এই পৃথিবী একসময় বরফে ঢাকা ছিলো। বরফের নিচে থাকা মাটি সেই মাটির নিচে জীবাণু, ব্যাক্টেরিয়া, ভাইরাস থাকতো। তোমাদের গাফলতির কারণে বরফ গলে পানি হয়েছে। সেই ভাইরাস, ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বের হয়ে তোমাদেরই আক্রমণ করছে।
-কথাতো ঠিকই বলেছ কিন্তু কি করার আছে মানুষের? একটু আরাম-আয়েশের জন্যইতো এতকিছু কতা হয় এই পৃথিবীতে।
-আমরা সবাই এই পৃথিবীর বাসিন্দা। এই পৃথিবীতকে সুন্দর রাখার জন্য প্রতিটা প্রাণীর অবদান আছে। এই মাটি সবার কিন্তু তোমরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করে ভাগ করে নিয়েছো এই মাটি। নষ্ট করে দিচ্ছো অন্যান্য প্রাণীদের বাসস্থান! এটাকি অন্যায় না?
-আমি চুপ করে আছি, ওদেরও খাওয়া প্রায় শেষ এর মধ্যে কখনযে মারিয়া ঘুম থেকে উঠে আমার কাজ দেখছে খেয়াল করিনি। চোখে চোখ পরতেই জিজ্ঞাসা করলো পাখিদের খাবার দিচ্ছো আর ওরা খাচ্ছে কিন্তু ভয় পাচ্ছে না রহস্য কি? আবার কথাও বলছো একা একা কাহিনী কি?
-বসা থেকে উঠে খাটের কাছে এলাম। পাখিগুলো খাওয়া শেষে ধন্যবাদ দিয়ে উড়ে গেলো। জানো মারিয়া আমার কিছু পরিবর্তন হয়েছে।
-হ্যাঁ বুঝতে পারছি গতকাল বাজার করে ফিরে কেমন যেন হয়ে গিয়েছ। কি হয়েছে বলতো।
-হুম বলবো! যাও আগে ফ্রেশ হয়ে আসো নাস্তা করতে করতে বলি..
ও বাথরুমে গেলো আর আমি জ্যাম, টোষ্ট করে টিভি রুমের টি-টেবিলে রেখে দুটো সানি সাইডাপ আর কফি করে নিয়ে এসে দেখি মারিয়া ফ্রেস হয়ে সোফায় বসেছে। টিভি ছেড়ে আমিও বসলাম। কফিকাপে চুমুক দিয়ে ঘটনা প্রথম থেকে বলা শুরু করলাম। ও কেমন কেমন করে যেন তাকাচ্ছে। ও মনে মনে ভাবছে আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি কিনা? ওর মনের কথাও বুঝতে পারছি আমি! যদি নেগেটিভ কিছু ভাবে আমার সম্পর্কে তাহলে আমিই অস্বস্তিতে পরে যাবো। হায় একি হচ্ছে আমার সাথে…
-ভয় পেও না আমি পাগল-টাগল হইনি এখনো। তবে আসলেই সব প্রাণীর কথা বুঝতে পারছি। জানো ওরাও অনেক জ্ঞান রাখে পৃথিবীর সম্পর্কে যেগুলো আমরা স্কুল-কলেজে গিয়ে শিখি।
-ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেলটা অন করলাম। পেঙ্গুইনের প্রজনন ও বংশবিস্তার দেখাচ্ছে। ওখানকার কিচিরমিচির বুঝার চেষ্টা করছি কিন্তু সাগরের শব্দে ভাল বুঝা যাচ্ছে না। একটুপর শব্দ পরিষ্কার হলো। শুনতেইন নিজেকে অনে ছোট মনে হলো। কতটা দূর্বল এই মানুষ জাতি। একটা বাবু পৃথিবীতে আনার জন্য কত কিছু করতে হয়। ডেলিভারির সময় হাসপাতাল, ডাক্তার, সিজার সহ কত আয়োজন। ওরা হাসাহাসি করছিলো আমাদের নিয়ে। বলছিলো মাটির উত্তরে এক প্রকার প্রাণী থাকে যারা শুধু নিজেদের কথাই ভাবে। নিজেদের একটু ভাল রাখতে পুরো পৃথিবীটাই ধ্বংস করে দিচ্ছে। কিন্তু আসলেই কি তারা ভাল আছে?
-আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি! বলে কি এই প্রাণীকুল? কতটা অবজ্ঞার সাথে আমাদের দেখে। অথচ আমরাই আমাদের শ্রেষ্ঠ দাবি করি শুধুমাত্র অন্যান্য প্রাণীদের উপর প্রভাব খাটাতে পারি বলে।

আসলেইতো এই পৃথিবী সুন্দর ও সুস্থভাবে টিকিয়ে রাখতে সকল প্রাণীর নিঃস্বার্থ অবদান থাকলেও পৃথিবীটা নষ্টের একক ও একমাত্র প্রাণী এই মানুষ। যে কিনা নিজেদের সুবিধার জন্য প্রাকৃতিক সবকিছুই ব্যাবহার করে। কিন্তু নিজস্বার্থে আঘাত লাগলে সেই ব্যাবহারের সবকিছু ধ্বংস করতে কয়েক সেকেন্ডও সময় নেয় না। এই মনোভাব থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে অতি দ্রুত।

প্রকৃতি আজ তার প্রতিশোধ নিতে ব্যস্ত। এই করোনার কারণে এই পৃথিবীটার অনেক কিছুই স্বাভাবিক হয়েছে। ওজন লেয়ার নর্মাল হচ্ছে। বায়ু, পানিদূষণ কম হচ্ছে। আমাদের উচিৎ এই পৃথিবীটার খেয়াল রাখা। ক্ষমতা বা গর্ব “হত্যার” মধ্যে নেই। গর্ব সেখানেই করা যায় যারা আমাদের জন্য মরতে পারে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে বলতে পারা যায় “আমিতো আছি!”

হ্যাঁ আমি মাংসাশী! নিছক নিজের কল্পনা হয়তো এভাবে ঢালাও করে বলাটাও উচিৎ নয়। তারপরেও বেঁচে থাকার জন্য যতটুকু প্রয়োজন মানুষ হিসেবে ঠিক ততটুকুই আমাদের ব্যবহার করা উচিৎ। অকারণে প্রাণী  হত্যা, নিজ জাতির মধ্যে হিংসা বিদ্বেষ থেকে হয়তো এই মানুষ জাতি একদিন ফিরে আসবে। সবাইকে আপন করে নিবে। নিজেদের শুদ্ধকরে পৃথিবী শ্রেষ্ঠ প্রাণী না হয়ে সম্মানজনক প্রাণী হয়ে উঠবে!! পৃথিবীটাতো আমাদেরি..

অন্যদিকে নতুন করে ধেয়ে আসছে 5-G! টেকনোলজির এত উন্নতি আসলেই প্রয়োজন? এই রেডিয়েশনের কারণে কত জীব অসহায় হয়ে পরছে। কত পাখি অকারণে মারা যাচ্ছে, গাছপালা নষ্ট হচ্ছে! কে জানে এই টেকনোলজি আবার কোন সমস্যার সামনে দাড় করায় আমাদের?

সমাপ্ত

২৪৬জন ২৫জন
46 Shares

১৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ