#স্বপ্ন  পর্ব ৮

বাইরে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে মুষলধারে। ঘোলাটে আকাশটা কি যে অদ্ভুত সৌন্দর্যে ভরে উঠেছে তা কেবল তারাই বুঝবে যারা আমার মতই বৃষ্টি বিলাসী!

আকাশের কান্নায় নিজেকে ভেজাবো ভাবছিলাম কিন্তু তা মোটেও সম্ভব নয় কেননা, জানালার পাশটা ছেড়ে এই অলস দেহ নিয়ে উঠতে আর ইচ্ছে হচ্ছিল না। চোখ দুটোও ধীরে ধীরে শীতল হয়ে আসছিল। সুপায়ন বড়ুয়া দাদার সোনেলা ব্লগে লিখা স্বপ্নটির কথা বার বার ব্রেইন এ ঘুর ঘুর করছে, আর আমারও ইচ্ছে হচ্ছে চট করে একটু স্বপ্নের দেশে ভ্রমণ করে আসি। কিন্তু হুট করে এবং চট করে কি করে স্বপ্ন দেখতে হয় তা আমার মোটেও জানা নেই তবে একটা বিদ্যা সম্পর্কে জানা রয়েছে যার মাধ্যমে স্বপ্নের তালা খুলে সে দেশে প্রবেশ করা যায়। তাহলে বলা যায় সে বিদ্যাটিই হয়তো স্বপ্ন দেশে প্রবেশের চাবি। বিদ্যাটি হলো —–Astra travel।

Astra travel এর অর্থ হলো ‘আত্মার ভ্রমণ’ এটির মাধ্যমে আত্মাকে নিজ শরীর থেকে পৃথক করে নিয়ে চোখের পলকে পুরো বিশ্বে ভ্রমণ করা যায় খুব সহজেই। এবং বিজ্ঞান  বলছে,  astra travel করে স্বপ্ন জগতে যা কিছু রয়েছে তার কিছু প্রতিফলন বাস্তব জীবনেও ঘটানো সম্ভব।

এসব ভাবনার মধ্য দিয়ে কখন যে আমার সুস্থ মস্তিষ্ক sleeping brain এ convert হয়ে গেছে তা কে জানবে……!  যেহেতু আমি আর আমার ভেতরে নেই। দূর হতে ভাসা ভাসা কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল,

“এই ‘পিচ্চি আপু, তাড়াতাড়ি এসো দেরি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু, আমাদের খুব তাড়া আছে………..!

আমি ড্রেসিংটেবিলের আয়নায় কিছু সময় এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম, কেন যেন আজ নিজের মুখখানি খুব বেশি প্রিয় মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে কত কত বছর ধরে আয়নার সামনে থাকা মানুষটা আমার নিঃসঙ্গ আত্মাকে সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছে, কত কত অবহেলা করেছি একে তবু কোন অভিযোগ নেই, আমার ব্যাথায় নিজের দুচোখ ভাসিয়ে কাঁদে আবার আমার সুখে অট্টহাসিতে আমাকে আনন্দ দিয়ে চলেছে।

আবারও সেই প্রতিধ্বনি……, “এই পিচ্চি আপু…………”

আমি একটা ছাতা মাথায় নিয়ে বেড়িয়ে পরলাম, বাড়ীর বড় দরজা অতিক্রম করতেই চোখে পড়লো এম ইঞ্জা ভাইকে, তিনি হাসি মুখে একটা  টমটমের পাশে দাড়িয়ে রইলেন। তিনি একটু মুচকি হেসে বললেন, “এই বৃষ্টিতে সাদা টিস্যু শাড়ী পরে বের হয়েছো পিচ্চি আপু? সাথে সাদা পেন্সিল সুজ কাঁদার দাগ ভরে যাবে তো…!

নাহ্ ভাইয়া, আজ আমি অভয়া, একদম ওসব নিয়ে  ভাবছিনা, একটু কাঁদা ভরলে কি ক্ষতি আছে তাতে..?

হঠাৎ আমি ইঞ্জা ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বিস্মিত হলাম, কারণ উনার পরিধানেও রয়েছে সাদা প্রিন্সকোট এবং তার মাথায় কোন ছাতা নেই তুমুল বৃষ্টির মাঝে তিনি দাঁড়িয়ে আছে অথচ বৃষ্টির এক ফোঁটা জলও তাকে স্পর্শ করছেনা।

এম ইঞ্জা ভাই : হুমমম, পিচ্চি আপু তুমি  ঠিকই বলেছো, মাঝে মাঝে অভয় হওয়া ভালো এতে সাহস বৃদ্ধি পায়, তবে টাইম এর ব্যাপারে কিন্তু অভয় হওয়া একদম অনুচিত, কারণ আমাদের জন্যে এক ঝাঁক ঈগল অপেক্ষা করছে।

আমি একটু ভ্রু কুৃঁচকে তাকালাম এম ইঞ্জা ভাইয়ের দিকে। তার মুখে  “এক ঝাঁক ঈগল” শব্দটি শুনে। কারা এই “এক ঝাঁক ঈগল?” বোঝার চেষ্টা করছি নিঃশব্দে ।

টমটমের একটি  বন্ধ দরজা খুলে দিয়ে ইঞ্জা ভাই বললেন, “ভেতরের সীটে বসে পরো খুব সাবধান, এই টমটমওয়ালা নিজেও পাগলাটে এবং তার অশ্বগুলোও পাগলা, পাগলের মতো ছুটে চলবে আমাদের নিয়ে এক অন্ধকার রাত্রিতে কিছু সময়ের মধ্যেই।”

আমি টমটমের ভেতরে বসে পরলাম, ইঞ্জা ভাই ভেতর থেকে দরজা লকড করে দিলেন। ১ সেকেন্ডের মধ্যে একটা মেঘের গর্জন শুনতে পেলাম আর একটা ঝাঁকুনির মধ্য দিয়ে চলতে থাকলাম কোন এক অজানার উদ্দেশ্যে। লক্ষ্য  করলাম আমাদের মাথার ওপর একটি ঝুলন্ত  হারিকেন আমাদের আলো বিতরণ করছে, হঠাৎই আমার ডান হাতে একটা আলতো স্পর্শে কেঁপে উঠলাম, ভীতু হৃদয়ে তাকাতেই আবিষ্কার করলাম আমার হাতের পাশে একটা রেড কালার শাড়ী পরে বসে আছেন সাবিনা ইয়াসমিন আপু  আর তার পাশে আর একটা সুন্দরী গ্রীন কালার শাড়ী পরা মেয়ে বসে আপন মনে নিজের হাতের আঙ্গুলে নেইল পলিশ পরছে। মেয়েটিকে আমি চিনতে পারছিনা। কে এই মেয়ে! কেন যেন খুব জানতে ইচ্ছে হচ্ছে  তাকে!

সাবিনা ইয়াসমিন আপু কি যেন মেয়েটিকে ফিসফিসিয়ে বলছে আর সেই ছোট ছোট কথাগুলো টমটমের জানালা দিয়ে বাতাসের সাথে কোথায় যেন  ভেসে যাচ্ছে। শুধু এতটুকু বাক্য শ্রবনে তুলে নিলাম, “এই মুক্তা মৃণালিনী, হাত দুটো মেখে যাবে তো! এবার রাখো…..”

কোন এক গহীন অরন্যে গিয়ে টমটমটি থামলো। টমটম থেকে যখন নামলাম তখন আকাশ হালকা আবির রঙ্গে সুসজ্জিত হচ্ছে, সূর্য্যের কিছুটা আলো বিস্তৃত আকাশে ছড়িয়ে পরছে  চিকচিকে বালিকণার মতো”।

ইকরাম জিসান ভাই ঠোঁটের কোণে মিষ্টি একটা হাসি নিয়ে এগিয়ে এলেন আমাদের দিকে।

ইকরাম জিসান ভাই : সুস্বাগতম মণি কাশফিতা, মুক্তা মৃণালিনী, সাবিনা ইয়াসমিন এবং এম ইঞ্জা ভাই। আমার পক্ষ থেকে অনেক অনেক ভালোবাসা, সামনেই অপেক্ষা করছে তোমাদের জন্য দারুণ সব সারপ্রাইজ, প্লিজ তোমরা সামনে এগিয়ে যাও।

মুক্তা মৃণালিনী :  জিসান ভাই কিছুই তো দেখতে পাচ্ছিনা।

এম ইঞ্জা ভাই :  আপু আমার সাথে চলো, আমি সব দেখিয়ে দিবো।

সাবিনা আপু, মুক্তা মৃণালিনী ও আমি এই তিনজনে চললাম রাজকুমারীর মতো ইঞ্জা ভাইয়ের পেছন পেছনে।

সামনেই একটি বিরাট ভুতুড়ে রাজমহল মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে প্রায় যেন আকাশ ছুঁই ছুঁই। গুনে গুনে প্রায় দশটি সিঁড়ি ভেঙ্গে আমরা বিশাল আকারের লৌহ দরজার ভেতর দিয়ে প্রবেশ করলাম রাজমহলে।  অলরেডি আমার বুকে ধুকধুকানি শুরু হয়ে গেছে গায়ে সূচের মত কাটা বিধে উঠছে। হয়তো একঝাঁক কালো কুশ্রী বাঁদুড় উড়ে এসে আমাদের গাঁয়ে ঝাপিয়ে পরবে আর অমনি আমার এক চিৎকারে বুকের প্রাণ পাখিটা ফুড়ুৎ করে উড়ে যাবে আত্মাদের দেশে।

ভেতরে প্রবেশ করতেই সোনেলা ব্লগের এক ঝাঁক ব্লগারের দেখা মিললো,  সত্যিই দেখে মনে হচ্ছে ‘এক ঝাঁক ঈগল’ কারণ, তারা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আমাদের দিয়ে তাকিয়ে আছে।

তৌহিদ ভাই শবনম ভাবির পাশে গায়ে গা ঘেঁষে কানের কাছে মুখ নিয়ে কি যেন চুপিসারে বলছে আর দুষ্ট হাসিতে মেতে উঠেছে। এই তৌহিদ ভাইটাও না একদম বউ পাগলা টাইপ মানুষ আর শবনম ভাবিও তার এসব কিছুতে বেশ অভ্যস্থ।

অদূরে বসে সুরাইয়া পারভিন আপু  কেন যেন খুব করে শাসিয়ে দিচ্ছেন তার এক মাত্র কন্যা তিতলি’কে। মেয়েটা  ভীষণ চঞ্চল এবং চতুর, ঠিক যেন দেয়ালের টিকটিকিটার মতোই।

মেয়েটার নাম তিতলি না হয়ে টিকটিকি রাখলেও বেশ হতো।

তিতলি নামের টিকটিকিটা তার মাকে রেখে এক দৌড়ে চলে এলো  মুক্তা মৃণালিনীর কাছে,  “আন্টি, আন্টি ও আন্টি একটা কথার উত্তর দেবে আমায়?”

মুক্তা মৃণালিনী : হুম, কেন দেবোনা বলতো! অবশ্যই দেবো।

তিতলি : আচ্ছা আন্টি,  মানুষ নিজের ভাগ্য বদলায় কিভাবে? ভাগ্য কি বদলানো যায়?

মুক্তা মৃণালিনী : মণি শোন! আমার তো সব ব্লগাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করার আছে। এক কাজ কর তুই একটু তিতলিটাকে সময় দে!

এই বলে খুব চালাকির সাথে মুক্তা মৃণালিনী, তিতলিটাকে ফাঁকি দিয়ে চলে গেলেন মনির হোসেন মমি ভাইয়ের কাছে।

তিতলি :  আচ্ছা মণি কাশফিতা আন্টি,  আমি কিভাবে নিজের ভাগ্য বদলাতে পারবো? প্লিজ বলোনা……!

আমি মনে মনে ভাবছি সুরাইয়া আপু এই অদ্ভুতুরে মেয়েটার জ্বালা কিভাবে সহ্য করে তা আল্লাহ ছাড়া কেউই জানেন না।

তিতলি : প্লিজ আন্টি, প্লিজ……

আমি : আচ্ছা তিতলি সোনা, তুমি আমাকে এটা বলতো…. সূর্য কোন দিক থেকে ওঠে?

তিতলি : সূর্য পূর্ব দিকেই ওঠে।

আমি : নাহ, সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে না।

তিতলি : আন্টি আমার স্কুলে টিচার শিখিয়েছেন,  “সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে, এটা চিরন্তন সত্য”

আমি : তিতলি আমি আজ তোমার এই সত্যটাকে মিথ্যা করে দেবো আরও একটি সুন্দর সত্যের সাহায্যে এবং তখন তুমি শিখে যাবে কিভাবে ভাগ্য বদলানো যায়। তিতলি: সত্যি আন্টি…..??

আমি: একদম তাই। তুমি ভাবো একবার, তুমি তিতলি  গোটা পৃথিবীর বুকে দাঁড়িয়ে আছো। তোমার মাথার ওপরে বিস্তৃত আকাশ। আর পৃথিবী সূর্য্যের চারপাশে ঘোরে।

তিতলি : হুমমমমমম, পৃথিবী সূর্য্যের চারপাশে ঘোরে। তারপর……. তারপর কি?

আমি : এবার তুমিই বলো, তাহলে সূর্য্য

পূর্ব দিক থেকে ওঠে এটা কি করে চিরন্তন সত্য হবে? সূর্য্য তো ওঠেই না। সূর্য্য নিজের জায়গাতেই থাকে বরং পৃথিবী তার চারপাশে ঘোরে।

তিতলি : ঠিকই তো আন্টি……..!

আমি : এভাবে তুমি যখন old believe system গুলো চেঞ্জ করবে ঠিক তখনই তোমার thought pattern গুলো চেঞ্জ হতে থাকবে। আর তখনই তোমার কর্ম পদ্ধতিতে একটা পরিবর্তন আসবে।

এভাবেই তোমার ভাগ্য বদলাতে থাকবে। তুমি নিজেকে না বদলাতে পারলে ভাগ্য বদলাবে কি করে?

তিতলি ভীষণ রকমের খুশি হয়ে গেছে এক মুহূর্তেই। সে খুশির হাসি আর ধরে রাখতে পারছে না।

তিতলি : আন্টি আমি মা’কে গিয়ে বলবো সবটা…..?

হুমমম বলবে, সেই সাথে এটাও বলবে, মণি আন্টির জন্যে এক মগ বুলেট কফি চাই! বৃষ্টির পানিতে আন্টির আজ গা ভিজেছে, কফি ছাড়া চলবেই না আর।

তিতলি : ওকে আন্টি তুমি এখানেই থাকবে এই আমি যাবো আর দোয়েল পাখির মত ফুড়ুৎ করে আসবো।

আমি তিতলির বুলেট কফির  অপেক্ষায় ওখানেই একটা পিলারের পাশে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে পুরো মহলটাকে চোখ ঘুরিয়ে দেখছি, কয়েকশ বছরের পুরোনো একটা মহল এটি। বিশাল আকারের এক ঝাঁড়বাতির নিচে একটা  বৃত্ত আকৃতির মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছেন কবি হালিম নজরুল সাহেব। কবি হালিম নজরুল সাহেবের ভাবখানা দেখে মনে হচ্ছে তিনি যেন বিশাল সৌরজগতের নেতা সূর্য্যি মামা, তিনি সকলকে তার নতুন গল্প  ‘ভূতের ছানা’ থেকে কিছুটা গল্প পাঠ করে শোনাবেন বলে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তিনি শুরু করলেন এভাবে – “এক দেশে ছিল বাঁশ বাগানের বাঁশের মত লম্বা আকৃতির বিশাল এক ভূত। ভূতের ছিল ছোট্ট একটি ‘ভূতছানা’। সেই ভুতছানার ছিল না কোন স্কুল, ছিল না কোন পড়াশোনা। কিন্তু ভুতছানা ছিল খুব বুদ্ধিদীপ্ত এবং খরগোশের মত নিরলস একটি শিশু। ভুতছানা সারাক্ষণ বাসায় একা থাকে বলে সে যা কিছু শিখতো সবটা ভুতবাবার কোলে বসে টিভি দেখেই শিখে নিতো। সে টিভি দেখে এই কয়েক মাসে অনেক কিছুই শিখে নিয়েছে এই যেমন ডান্স বাংলা ডান্স জুনিয়র থেকে শিখে নিয়েছে নাচ,  সারেগামাপা থেকে শিখে নিয়েছে গান। এই ভুতছানার লক্ষ্য কিন্তু একটাই নিজের বাবাকে ইমপ্রেস করা। কারণ, ওর বাবা ওর কাছে পুরো পৃথিবী এবং সব থেকে প্রিয়জন।”

কবি হালিম নজরুল সাহেব ক্ষানিকটা থেমে শুরু করলেন, ” তোমরা কি জানো, এই ভুতছানা টিভিতে তার প্রিয় গোপাল ভাড়ের গল্প দেখে আজকাল সেও ফ্লোরে শুয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে– রাজা কৃষ্ণ চন্দ্রের সিংহাসনে তার ভুতবাবা মাথায় মুকুট পরে বসে আছেন আর ভুতছানা গোপালভাড় হয়ে নিজের বুদ্ধি দিয়ে রাজা ভুতবাবাকে ইমপ্রেস করছে।”

কবি হালিম নজরুল সাহেবের গল্প শুনে এবার আমার ঘুম এসে যাচ্ছে, সত্যিই বুলেট কফিটা এবার দারুণ মিস করছি। পিলারের পাশটা ছেড়ে নেশা নেশা চোখে শায়লা বুবুর কোলে মাথা রেখে কখন যেন ঘুমিয়ে পরেছি……

নাকে এবার ঠিকই কফির পোড়া পোড়া একটা গন্ধ এসে লাগছে। কফি খাওয়ার যে তৃষ্ণা সেটা দশগুণ বেড়ে যাচ্ছে।

“এই নাও তোমার জন্যে মগ ভর্তি বুলেট কফি।”

কণ্ঠটা তো তিতলির নয়?

একটা এডাল্ট মেয়ে’র তীক্ষ্ণ কণ্ঠ। কার কণ্ঠ এটা ? কণ্ঠটা এবার সিংহের মত গর্জে উঠে আবার বলছে, “মণি, এই মণি, এই নে কফি, চা পাতা নেই ঘরে। নেসক্যাফের কয়েকটা প্যাকেট পেলাম মসলার সেলফে ঐটা দিয়ে সুরাইয়া পারভিন আপুর টাইম লাইন থেকে বুলেট কফির রেসিপি দেখে কফি বানালাম। খেয়ে দেখতো ভালো হয়েছে কিনা?

আমি ফিল করছি আমি sleeping brain এ রয়েছি এবং কান দিয়ে  সব শুনছি কিন্তু চোখ দুটো খুলতে পারছিনা এখনো।

আবারও সেই এডাল্ট কণ্ঠস্বর বলে উঠলো, “জানালার গ্রীলে মাথা রেখে ঘুমানোর কি দরকার আছে?  বালিশটা টেনে খাটে শুয়ে পর তাহলেই হয়।”

আমি নিজের গায়ের সব শক্তি দিয়ে চোখ দুটো খুললাম  এবং কিছু সময় মেয়েটির দিকে তাকিয়ে রইলাম অদ্ভুতভাবে। একটা সুন্দরী মেয়ে সবুজ রঙ্গা জামা গায়ে ভেজা চুলে দাড়িয়ে আছে তার দুটি হাতে কফির দুটি মগ। ডান হাতে রাখা মগে কিছু সময় পর পর সে চুমুক দিচ্ছে। আমি হাত বাড়িয়ে তার বাম হাতে রাখা মগটি নিলাম।

সে বললো, সারাদিন আজকে পানি ছিলনা রে। এই মাত্র পানি এলো ওয়াশরুমে, গোছল করে ফেললাম তাই , তুই গোছল করলে করে ফেল, আমরা দুই বোন সন্ধ্যায় মার্কেটে যাবো, ভাবছি কিছু নেইল পলিশ কিনবো। এবার আমি আবিষ্কার করলাম এই সিংহী নারী আমার বড় বোন মুক্তা মৃণালিনী……….

স্বপ্ন || ৭ ( ব্লগারদের সম্মিলিত গল্প )

৫৭৯জন ২৩জন
0 Shares

৫৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য