#স্বপ্ন দেখছিলেন ইঞ্জিভাইজান!  আল্লাহ্ মালুম! সেই স্বপ্নের লেঞ্জুর ধইরাইয়া দিলেন  সঞ্চালক জিসান ইকরাম সাহেবে।

ব্লগার লেখকরা সম্মিলিত স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন সবাই, যে যার মতো!

ছোটবেলায় একটা প্রবাদ বাক্য মুখে মুখে শুনে শুনে,  মনে মনে কেবলি’র মতো ভাবতাম-‘ এ কথার মানে কি?’

অনেক অনেক পরে সেকথার মানে বুঝেছি নিজে নিজেই- “হরিলুটের বাতাসা” ঠিক সেই বাতাসার মতোই লুফে নিলাম সবাই প্রস্তাবিত স্বপ্নের প্রস্তাব। সম্মতি এলো সাড়াজাগানো।

ব্যাস্…..

টানা রেল পটরির মতো শুরু হইলো ভয়াবহ স্বপ্নের রেলগাড়ি। ভয়াবহ কেন বললাম? এ পর্যন্ত চারখানা স্বপ্নের কাহিনী বর্ননা পইড়া আমি ভয়ানক আতংকিত। দিনরাত্তিরের ঘুম হারাম। স্বপ্পন দেকমু কুনসোম?

গতরাইতে শিরিন হক যথারিতী  রোজকার মতো  নক করে প্যানা পোটতে শুরু করছে,  তারে কইলাম- ধুর,  তোমার লগে কী প্যাঁচাল পারুম? মহা চিন্তায় ঘুম আসতাছে না, একটা লম্বা ঘুম দরকার, যাতে একটা লম্বা স্বপ্ন দেকবার পারি।’ হ্যায় তো তব্দা খায়! – স্বপ্ন কেউ লম্বা দেখে? কে কইছে দেখেনা?  তৌহিদ ভাই কত্তলম্বা একখান স্বপ্ন দেইখা ফালাইছে তুমি দেখোনাই?  ফিটফাট কত্ত নিখুঁতরকম বর্ননায় কি বিশাল রেললাইনের মতো লঅঅঅঅঅঅম্বা স্বপ্ন! মিতা(শিরিন হক)  কইলো -‘ আচ্ছা তাইলে তুমি ঘুমাও আমি যাই, স্বপ্ন দেখা শুরু করো’।  মিতা বিদায় হতেই চিন্তায় পরে গেলাম কালকে জামাই আসবে,  কি রান্দুম? এদিকে ছোট ছেলেটার জন্মদিন। কিছু একটা তো করতেই হবে। ওদিকে আরেকজন নক দিয়ে ঊর্দু কবিতা ধরাইয়া দিছে,  বাংলানুবাদ করে দেন। মর জ্বালা! আরেকজন একখান গল্প লিখে ইনবক্সে দিছে,  এটা একটু দেখে দাও তো,  কিছু হয়েছে কিনা? গোদের ওপর  বিষফোঁড়া। ধুত্তরিছাই নেটেই থাকুম না।

তৌহিদ ভাইর ঘুম ভাঙলো মশার কামড়ে। স্বপ্নে দেখলেন আমার চিল্লানিতে পানের পিক ছিটছে তার হাতে। আমি ভাবছি এমন বদনাম তো আজতক কেউ দিলোনা, কি ডরানডাইনা না ডরায় সবাই আমার পান খাওয়া নিয়া। যদিও কথা এক্কারে মিথ্যানা পিক না ছিটলেও মাঝে মাঝেই কথার দমকে পানের উচ্ছিষ্টাংশ ছিটে আশপাশ বেশ প্রিন্টেড হয়ে যায়। সে কিন্তু শুধু নিজের ঘরে। বাইরে গেলে আমি কিন্তু খুব পরিপাটি! ভাবছি আর হাসছি। হাতের বাঁকনুইতে হঠাৎ সুঁই ফোটার মতো সুক্ষ যন্ত্রনা অনুভূত হলো। ডান হাতে চুলকাতে গিয়েই টের পেলাম বেঢপ এক মশা আলু ভর্তা হয়ে গেছে আঙুলের পেষণে।

সাবিনার ফোন- তুমি রওয়ানা দিয়েছো বন্যা? – এইতো কিছুক্ষনের মধ্যে রওয়ানা দিচ্ছি। ফোন কেটে দিয়ে জোগাড় হতে শুরু করলাম। আগেই রেডি করে নিলাম দুইটা পুডিং। জানি ইঞ্জা ভাইজান পুডিং খুব পছন্দ করেন।এত এত ব্লগারদের হবে কিনা কে জানে। যদিও দুই ডজন ডিম দিয়ে অনেক যত্ন করে তৈরী করেছি। লজ্জায় পরে যাবো যদি সবাই অন্তত এক টুকরা করে না পায়। আগের রাতে মুরগী দিয়ে তিন কেজি চালের বিরিয়ানি ও রান্না করে রেখেছিলাম। ওগুলোও ভালো করে প্যাকেট করে নিলাম।

সঙ্গে আজ আর পানের বাটা নেবোনা।তৌহিদ ভাইর কিপ্টামী ছাড়াবো।তাঁকেই পান কিনে খাওয়াতে হবে পুরোদিন যেভাবেই হোক।

জানি জিসান সাহেব খাবার দাবারের ব্যাপারে সবই ঠিক করে রেখেছেন। তবুও ইচ্ছে হলো সবাইকে অন্তত নিজের হাতের রান্না করা খাবার খাওয়াতে।  তাই এই চেষ্টা। আমি করলে আবার কম করে করতে পারিনা। রসগজা পিঠাটাও আবার বাদ যাবে কেন? ওটাও নিয়ে নিলাম। আমার শখ বলে কথা?  এতকিছু নিয়ে আমার একাই যেতে হচ্ছে মেট্রোপলিটন হোটেল স্পটে। ওখান থেকে সব ব্লগার একসাথে যেতে হবে ভাড়া করা বাসে সাভার ইঞ্জা ভাইয়ের ফার্ম হাউজে। ইঞ্জা ভাইজান আগেই ফার্মহাউজে উপস্থিত রয়েছেন, সব্বাইকে নিজে স্বাগত জানাবেন বলে।সাথে থেকেছেন ইঞ্জা ভাইজানের সবসময়ের সঙ্গী মনির হোসেন ভাই।এবার সেখানেই সোনেলা মিলনমেলা প্লাস ছোটখাটো পিকনিক আয়োজন করেছেন ব্লগ সঞ্চালক সহ বাকি সিনিয়র সব ব্লগাররা।

নির্ধারিত বাসে উঠে গেলাম সময় নষ্ট না করেই। বাসের ভেতরেই সবার সাথে মোটামুটি পরিচয় পর্ব চলতে লাগলো। কত কত নতুন ব্লগার এসেছেন,  সুরাইয়া নার্গিস, খাদিজাতুল কুবরা, রোকসানা রুকু, উর্বশী,  পর্তুলিকা, মঞ্জুরুল চৌধুরী,  লিটন ভাই, মহী ভাই,  সবার নামও এখানে ধরবে না। এত এত। তৌহিদ ভাইকে দেখছি শবনম ভাবির সাথেই গুটুর গুটুর করে যাচ্ছেন। হোমোসেপিয়ান মানুষ ঘরের মানুষের সাথেই কম্ফোর্টফিল বেশি করেন হয়ত। এখন থাক কথা বা পরিচিতি না হয় জায়গামতো পৌঁছে করবোনে ভেবে আমি আর কথা বললাম না তাঁদের সাথে। সাবিনাকে কী সুন্দর লাগছে আজ, আমার দেয়া গিফটের কানের দুলজোড়া পরে এসেছে আজ চমৎকার এক নীল শাড়ির সাথে। দুই সুরাইয়া আমার দুইদিকে বসেছে। একজনার বড় আপু তো আরেকজনার মিষ্টি আপু এই আমি। আমি ভাবি, শুধু কি রক্ত বা আত্মীয়তার বন্ধনই বড় বন্ধন? তা হলে এরা কেন এত করে ভালবাসতে জানে এত দূরে থেকে আর না দেখেই? এখানে এই ব্লগ পরিবারে সবাই কি পরিমান আত্মীয় হয়ে উঠেছে শুধু মাত্র মন্তব্য আর পাল্টা মন্তব্যের জোড়ে!

শহরের নিত্যকার জ্যামজট পার হতে হতে দুপুর হবার আগে পৌঁছে গেলাম ফার্মহাউজে। বাস থেকে নেমে সবাই বিশাল সবুজ চত্বরে আগে থেকেই ডেকোরেটরে চেয়ার টেবিলের দিকে এগিয়ে গেলাম। এবার ঘটা করে সবার সাথে পরিচয়পর্ব শুরু।

ইঞ্জা ভাইজান সব ব্লগারদের জন্য ফার্মহাউজের নারিকেল গাছ থেকে ডাব পেরে সবাইকে ওয়েলকাম ড্রিংক পরিবেশনের ব্যাবস্থা করে রেখেছেন।  দেখেই যেন পথের ক্লান্তি দূর হয়ে গেলো এক ঝটকায়। এরপর এক এক করে একেকজনার জন্য নাস্তার ব্যাবস্থা নিজে তদারকি করলেন।  এত অমায়িক মানুষ এই সময়ে বড্ড বিরল!

ফার্মহউজের বাংলোটাইপের ঘর দেখার জন্য কেউ কেউ উঠে পড়লাম। সাবিনার সাথে সাথে হেঁটে যাচ্ছি। হঠাৎ দেখি তৌহিদ ভাই পৌষী ভাবিকে নিয়ে আগে আগে যাচ্ছেন। এবার তো আর ছাড়া যাবেনা। দুই সুরাইয়া, সুপর্নাদি, আরজু মুক্তা ফুআম্মা, রেহানা বিথী উকিল আপু, নীরা সাদিয়া, মুক্তা মৃণালিনী দি, সবাইকে ডাক দিলাম। সাবিনার কানে কানে কিছু একটা বলে আগে পাঠিয়ে দিলাম তৌহিদ ভাইয়ের কাছে। আমাদের দল পেছনে ধীরে সুস্থ্যে এগুচ্ছি। বাংলোর ভেতরে ঢুকে দেখি সাবিনা হলরুমে একা দুই কপোতকপোতি বিশ্রাম নিতে কক্ষে ঢুঁকেছেন।

এদিকে জোড়ে সোড়ে আয়োজন শুরু হয়ে গেছে রান্নাবান্নার। হঠাৎ চিৎকার করে শবনম ভাবি রুমের বাইরে বেরিয়ে এলেন। পেছনে তৌহিদ ভাই ভয়ার্ত চোখে আমাদের বলছেন রুমের ভেতরে ভূত! শবনম ফ্রেশ হতে ওয়াশরুমে গিয়েছিলো, বেরিয়ে এসেই চিৎকার জুড়ে দিলো ভূত ভূত বলে। ততক্ষনে আমরা হেসে গড়িয়ে পড়ার অবস্থা! পৌষী ভাবি আমাকেই সামনে পেয়ে জড়িয়ে ধরে থরথর করে কাঁপছেন। বন্যাপু ভূত!  ভাবলাম অনেক হয়েছে।  ভাবিকে ধরে ঝাঁকুনি দিলাম, – দেখুন ভূত না,  আপনার পতিদেব😊 তৌহিদ ভাউ টাস্কি খাইয়া গোল গোল চক্ষু দিয়া এই প্রথমবার আমার দিকে তাকালো। বন্যা আপু কয় কি এসব?

দুই সুরাইয়ারে আগেই কানপরামিশ দিয়া পাডাইছিলাম ওয়াশরুমের ফেসওয়াসের লগে ছেরখানি করে রাখতে। মুখ ধুয়ে বের হবার পরে তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছতে গিয়ে ওনার সারা মুখে কালি লেগে গেছে তার নিজের অজান্তেই। শবনম ভাবি ওয়াশরুমে যাবার পরে মনে পরেছে ব্যাগ থেকে তাঁর বিউটিসোপ নিতে ভুলে গেছেন। ওটা নিতে আসতেই তাহার পতিদেবের চেহারা সামনে।  ব্যাস্….. একচিৎকারে রুমের বাইরে শবনম ভাবি।  কোলাহলে বাকি সব ব্লগাররা দৌড়ে এলেন। খালি মওকা পেয়ে নৃ মাসুদ রানা, নাজমুল হুদা,অনন্য অর্নব হামলে পরলো আমার আনা খাবারদাবারের বক্সের ওপর। মনির হোসেন ভাই আর নিতাই দাদা সময় মতো দেখে ফেলাতে আটকে দিলেন ওদেরকে।

এদিকে এত কান্ড যেখানে হচ্ছে সেখানে জিসান সাহেব আর ছাইরাস হেলাল সাহেব এসেই আমাকে ধমক লাগানো শুরু করলেন, এখনো কি ছোট আছো? এইরকম দুষ্টুমী  কি তোমাকে মানায়? তুমি না শাশুড়ি হয়েছো? চোখ ফেটে কান্না চলে এলো, এত এত ব্লগারের সামনে এরকম করে আমাকে ঝারি দিলো? না হয় একটু দুষ্টুমী করেছিই তো কি হয়েছে? ভাগ্যিস সাবিনা ছিলো!  দেখেন মহারাজ, জিসান সাহেব সব ব্যাপারে এত মেজাজ দেখাবেন নাতো! এখানে পিকনিকে এসেছি রবীন্দ্রনাথের বই পড়তে আসিনাই, বেশি বকা ঝকা করলে আপনাদের কপালেও খারাবি আছে। যানতো, এখানে এখন আমরা আরো আরো মজার পিংপং খেলবো😊😊। সাথে সাথে দুই সুরাইয়া, রেহানা বিথী আপু, আরজু মুক্তা ফুআম্মা, সব একসাথে জোড় গলায় চেঁচিয়ে উঠলো — যান তো আপনারা,  আমরাই সব সামলে নেব। তৌহিদ ভাইও অবশেষে বলেই উঠলেন– বন্যা আপু আপনি পারেন ও বটে! খুব বুঝছি আপনি শোধ নিলেন তাইনা?😊😊, এইবার না হেসে আর পারলাম না।

আচমকা ধাক্কা খেলাম, এই এই ওঠোতো শিগগির!  বৃষ্টিতে বিছানা ভিজে যাচ্ছে, জানলাটা বন্ধ করো! এটা কি হলো?? রাত ভোর হয়ে গেছে কখন! এতক্ষন তাহলে স্বপ্ন দেখছিলাম?

 

স্বপ্ন || ৪ ( ব্লগারদের সম্মিলিত গল্প )

৬০৫জন ১৬জন
0 Shares

১১২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য