স্বপ্ন।। ২১ (ব্লগারদের সম্মিলিত গল্প)

শামীম চৌধুরী ১৪ অক্টোবর ২০২০, বুধবার, ০১:৫৮:৪১পূর্বাহ্ন গল্প ৬৭ মন্তব্য

রাজার নৈশভোজে দালান জাহান ভাই হাতের কব্জি ডুবিয়ে ও পেট ফুঁলিয়ে যে হারে খাচ্ছিলেন তাতে জিসান ভাইজান পৃথিবীতে ফিরতে হবে মনে না করিয়ে দিলে তিনি রাজ-মেহমান খানায় ঘুমানোর সুযোগটাও নিতেন।

আমরা পৃথিবীতে ফিরতে পারায় সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লাম। যতক্ষন রাজার দেশে ছিলাম ততক্ষন মনে হচ্ছিল ওরা লিলিপুট আমরা ববডিগনান। এ যেন গালিভার ট্রাভেলসকেও হার মানায়। যাক সেই লোমর্ষক কাহিনী। জিশান ভাইজানের সুচিন্তিত পরিকল্পনায় আমরা এ যাত্রা রক্ষা পেলাম। সাজেকের গুষ্টি কিলাই।

 

ইঞ্জা ভাই নাস্তার জন্য রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ীর এক হোটেলে আমাদের নিয়ে আসলেন। সবাই নাস্তার জন্য অপেক্ষা করছি। গরম গরম পরোটা,সব্জি ও ডিম ভাজি দিয়ে নাস্তার পর্ব শেষ করলাম। চা পানের ফাঁকে সবাইকে বললাম আগামী ৫দিন আপনাদের সঙ্গে আমার দেখা হবে না। ছাইরাছ হেলাল ভাই কারন জানতে চাইলেন। তার সঙ্গে যোগ দিলেন তৌহিদ ও মমি ভাই। দেখা না হবার কারন ব্যাখ্যা করলাম। বললাম, পদ্মার চরে নতুন পাখি এসেছে তার ছবি তোলার জন্য রাজশাহী যাবো।

 

পাখির ছবি তুলতে যাবো শুনেই জিসান ভাই, ইঞ্জা ভাই, মমি ভাই, তৌহিদ,সাবিনা ইয়াসমিন, সুপায়ন বড়ুয়া, সুপর্ণা ফাল্গুনী, বন্যা ইসলাম, আরজু মুক্তা, সঞ্জয় মালাকার, প্রদীপ চক্রবর্তী,  নাজমুল হুদা, শামীনুল হক হীরা, সুরাইয়া পারভীন, বন্যা লিপি (বফু), উর্বশী , সুরাইয়া নার্গিস, দালান জাহান,  আলমগীর সরকার লিটন, হালিম নজরুল রেহানা বীথি, রোকসানা খন্দকার রুকু, খাদিজাতুল কুবরা, ফয়জল মহী, মাহবুবুর রহমান, ইসিয়াক, কামাল উদ্দিন,কামরুল ইসলাম,মজিবর রহমান, খুরশীদ আলম পপি, তালুকদার, রেজওয়ানা কবির, মুহাম্মদ মাসুদ, ত্রিস্তান শামসুল মাওলা হৃদয়,সাফায়েতুল ইসলাম,তোফাজ্জল হোসেন সহ সবাই এক সুরে গেয়ে উঠলো পাখি ভাই আমাদেরও সঙ্গে নিতে হবে। আমরাও যাবো। আমি সবার আগ্রহ দেখে আপ্লুত হলাম। আমার সঙ্গী হবার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলাম।

 

নাস্তার টেবিলে ইঞ্জা ভাইয়ের “বিকে অটোমোবাইলসে” নুতন জবে যোগদান করায় আরজু মুক্তা আপু ট্রিট দেয়ার বায়না ধরলেন। ইঞ্জা ভাই সবাইকে বললেন, রাজশাহী ভ্র্রমনে নুতন অফিস থেকে আমাদের জন্য গাড়ির ব্যাবস্থা করবেন। আমরা বিনা খরচে রাজশাহী যাবো। সুপর্না ফাল্গুনী দিদিভাই বলে উঠলেন এর চেয়ে বড় ট্রিট আর কি হতে পারে। হালিম নজরুল ভাই বললেন, সিরাজ গঞ্জের ফুড ভিলেজে বিরতির সময় নাস্তার ব্যাবস্থা করবেন। সাবিনা আপু বললেন, ৪/৫ ফ্লাস্ক আদা দিয়ে মসলা রং চায়ের বন্দোবস্ত করবেন। তৌহিদ সকালের নাস্তার ব্যাবস্থা করবে।

বাহ..!! কি চমৎকার ভাগাভাগি। যা কিনা সোনেলা পরিবারেই সম্ভব। সকলের মনোভাবকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আমি ঘোষনা দিলাম যে, সবার ব্যাক্তিগত ছবি তুলে ফ্রেমে বাঁধিয়ে উপহার দিবো। সঙ্গে বোনাস থাকবে সোনেলা পরিবারের গ্রুপ ছবি। সকলেই সমস্বরে বাহবা দিয়ে বললো, স্মৃতিকে বেঁধে রাখার জন্য এর চেয়ে বড় কিছু আর নেই।

 

রেহানা বীথি আপু ও তৌহিদ আমাদের সঙ্গে রওনা না হয়ে ইউ,এস বাংলার সকাল ১১টার বিমানে রাজশাহী চলে গেল। আমরা রাত ৯টার মধ্যে বনশ্রী হাউজিং সোসাইটির ইঞ্জা ভাইয়ের বাসায় চলে আসলাম। জিসান ভাই তার চোখের চশমার পাওয়ার পরিবর্তন করায় আসতে কিছুটা দেরী হবে। ছাইরাছ হেলাল ভাইকে সেলফোনে এমনটাই জানালেন। ইঞ্জা ভাবী সবাইকে মাল্টার জুস দিয়ে আপ্যায়ন করলেন। জিসান ভাইজানের জুসটা গ্লাসে ঢাকা ছিলো। কাউকে কিছু না বলেই ফয়জল মহী ভাই সেই জুস এক চুমুকে পান করে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে বললো জুসটা দারুন হয়েছে।

রাত ১০টায় রাজশাহীর উদ্দেশ্যে আমরা মাইক্রোবাসে যাত্রা শুরু করলাম

চন্দ্রা চৌরাস্তায় আসার পর মমি ভাই গান ধরলেন-

ভালোবাসিয়া গেলাম ফাঁসিয়া

করতে হবে এবার বিয়া

সোনারই চাঁন পিতলা ঘুঘু

যাবে কোথায় পালাইয়া।

সুরাইয়া আপু বললেন,

দাদা কার লগে ফাঁসলেন?

কবে বিয়াডা করবেন?

ছবি টবি দেহান?

মমি ভাই লজ্জায় মুখটা অন্ধকারে আড়াল করলেন। আমি বললাম যহন ফাঁসাফাঁসিই হইছে তহন গানটা চালাইয়া যান। মমি ভাইয়ের মুহে কুনু রাও শব্দ নাই। সবাই মমি ভাইরে লইয়া হাসি-তামশায় ফাইট্টা পড়লো। এমন সময় মহারাজ ছাইরাছ হেলাল ভাই “কন্টক বিনা ভালোবাসা” নিজের লেখা কবিতা আবৃতি শুরু করলেন। অসাধারন কবিতা ও মধুর কন্ঠ সবাইকে অন্য জগতে নিয়ে গেল। তারপর ছড়াকার হালিম নজরুল ভাই “বানর কেন গাছে ঝুলে” ছড়া কাটলেন। রুকু আপু ও কুবরা আপু একান্ত অনুভূতিতে প্রকাশ করলেন তারা কেন সোনেলার উঠোনে আছাড় খেয়ে কোমর ভেঙ্গেছিলেন।

 

রাত তিনটা। হাইওয়ে ফুড ভিলেজে গরম গরম ডাইল পুরী ও সাবিনা আপুর নিজের হাতে বানানো মসলা চা পান করে রওনা হলাম। এমন সময় আদরের ছোট বোন শবনম মুস্তারী আমাকে ফোন দিয়ে বললো রাজশাহীর তালাইমারি মোড়ে প্রবেশ করে যেন তাকে কল দেই। আর সকালের নাস্তায় মিষ্টি থাকবে কিনা? প্রশ্নটা করার মূল উদ্দেশ্য ছিলো ইঞ্জা ভাই, জিসান ভাই

,কামাল ভাই,সুপায়ন বড়ুয়া সহ অনেকের বহুমূত্র রোগ চরমে। আমি বললাম “রাজশাহীর মিষ্টি বাড়ির” মিষ্টি ছাড়া কি নাস্তা হয়? রস কদম ও চমচম যেন থাকে। তার মানে সকালের নাস্তা তৌহিদের শ্বশুড়ালয়ে।

আড্ডা, কবিতা পাঠ ও রাজা যে বোকা ছিল সেসব নিয়েই আমরা গল্পে মেতে ছিলাম। এমন সময় রেহানা বীথি আপু কল দিয়ে বললেন, তিনি দুপুরের খাবারের আয়োজন করবেন।

পোলাও কোরমা খাবো?

নাকি সব্জি ,ভাত ,মাছ ও মুরগীর মাংস?

সুপায়ন বড়ুয়া দাদার দিকে তাকিয়ে বুঝলাম তিনি পোলাও কোরমার প্রতি আসক্ত। ইঞ্জা ভাই, মমি ভাই, সুপর্না ফাল্গুনী দিদি ও বণ্যা লিপির (বফু)‍ লোভটাও কম না। কারন তারা সবাই খাদক। পারলে দুই হাতের কব্জি ডুবিয়ে পোলাও কোরমা খায়। আমি শুধু ব্যাতিক্রম। পাখি ছাড়া কিছুই বুঝি না। সবার কাছে জানতে চাইলাম দুপুরে কি খাবে? সবাই বললো পাখি ভাই যেটা বলবে সেটাই। আমি রেহানা আপুকে সাদা ভাত সব্জি ও মাছের কথা বললাম সঙ্গে খেজুর রসের পায়েশ।

 

ভোর ৬টায় আমরা সোনেলা পরিবার শবনম মুস্তারীর বাবার বাড়িতে পৌছালাম। এই বাড়ির একমাত্র জামাই তৌহিদ আমাদের অভ্যর্থনা দিয়ে অন্দরমহলে নিয়ে গেল। বিশাল রুম। চারিদিকে সোফা ও ডিভাইনে ভরা। দেয়ালে মুস্তারীর হাতের নঁকশায় কারুকার্য করা শো-পিস। সবকিছু মিলিয়ে দৃষ্টিনন্দন একটি বসার ঘর। আমরা যার যার মতন ফ্রেশ হয়ে সোফায় ও ডিভাইনে শরীরটা হেলিয়ে দিলাম। এমন সময় শবনম মুস্তারী লুচি,গাজরের হালুয়া,পরোটা,খাসির মাংস, মুরগী ভূনা,পেঁপের হালুয়া, সব্জি ভাজি, ডিম পোঁচ, নারিকেলের নাড়ু, খেজুরের গুড়ের পায়েশ সহ দশ রকমের রাজশাহীর সেরা মিষ্টি দিয়ে নাস্তার টেবিল সাঁজিয়ে আমাদের সবাইকে ডাইনিংয়ে নিয়ে গেল।

 

আমি লাইফস্টাইল মোডিফায়ার করায় এখানের অনেক খাবারই আমার জন্য বারন ছিল। আমি সবই দেখছি যে, কে, কিভাবে, কতটুকু পরিমান খাচ্ছেন। ছাইরাছ হেলাল ভাই ও দালান জাহান ভাইয়ের মধ্যে অঘোষিত প্রতিযোগিতা শুরু হলো। তাই দেখে সুরাইয়া পারভীন ও বন্যা লিপি বফুও কম না। খেতে খেতে ইঞ্জা ভাই ও আলমগীর সরকার লিটন ভাই জামার সামনে বুকের প্লেট হলুদ রঙে রাঙিয়ে ফেলেছেন। মমি ভাই, ফয়জল মহী, মাহবুবুর রহমান, ইসিয়াক, কামাল উদ্দিন,কামরুল ইসলাম,মজিবর রহমান ভাইদের গালের ভিতর কি যেন পোটলার মতন ফুঁলে আছে। এমনই ফোঁলা যে তারা কেউ মুখ থেকে কথা বের করতে পারছেন না। পরে দেখলাম বহু কষ্টে একেক জনের মুখের ভিতর গুঁজে রাখা ৫টি করে মিষ্টি গলঃধকন করে মুক্ত হলেন। এরপরও তৌহিদ সবার প্লেটে যা পারছে তুলে দিচ্ছে। রেজওয়ানা কবির ও উর্বশী আপুর মনটা খারাপ দেখলাম। বুঝতে কষ্ট হলো না যে তারা দুজনে মিষ্টি পাননি। কারন আগেই কিছু মিষ্টি কামাল ভাই ও ছাইরাছ হেলাল ভাই পলিথিনে করে পকেটে ভরে রেখেছেন। আমরা নাস্তার জন্য শবনমকে ধন্যবাদ দিয়ে তৌহিদ ও শবনমকে সঙ্গে করে পদ্মার টি-বাঁধে রওনা হলাম।

 

সকাল ৯টায় পদ্মার ঘাটে পৌছালাম। আগে থেকেই নৌকার মাঝি অনিক ও নুরুকে বলা ছিল। তারা  ইঞ্জিন চালিত নৌকা নিয়ে আমাদের অপেক্ষায় ছিল। আমরা সবাই নৌকায় উঠবো এমন সময় নদীর ধারে কাঠাল গাছে দুধরাজ পাখি এসে বসলো। সবাইকে ইশারায় পাখিটিকে দেখিয়ে বললাম এটা এশিয়ান প্যারাডাইজ বা দুধরাজ পাখি। এক হাত লম্বা সাদা দুধের আলাতা রঙের লেজ দেখে সবিনা আপু,বন্যা আপু, কুবরা আপু. সুরাইয়া আপু. সুপর্না  ফাল্গুনী দিদিভাই সহ সব আপুরা ক্রাশ খেল। ছাইরাছ হেলাল ভাই আমার হাত থেকে ক্যামেরা ঈগলের মতন ছোঁ মেরে নিলেন। যেই ছবি তুলতে গেলেন অমনি দুধরাজ তার এক হাত লম্বা লেজ ঘুড়ির লেজের মতন পাঁক দিয়ে উড়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে তৌহিদ বলে উঠলো কবিতার মহারাজ কি ছবিরও মহারাজ হতে চায়? রাজে রাজে মিল থাকলেও মহারাজকে দুধরাজ পাত্তাই দিলো না।

সবাই  হা…হা….হা….. করে হেঁসে উঠলো।

আমরা নৌকায় পদ্মায় হাস্নাতের চরে যাবো। সেখানে হাঁস জাতীয় জলজ পাখির মেলা। এরই মধ্যে হরেক রকমের পাখি আমাদের মাথার উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে। এই দৃশ্য দেখে সবাই প্রকৃতির সঙ্গে মিশে গেল। যে যার মতন করে পাখির ছবি তুলতে শুরু করলো। কেউ মোবাইলে কেউ পাওয়ার শট ক্যামেরায়। শুধু মাত্র ইঞ্জা ভাই মাঝে মাঝে আমার ক্যামেরায় দুই একটি ক্লিক করে জানতে চান কেমন হলো? ইঞ্জা ভাইয়ের এই কৌশলের লোভটা মজিবর ভাইও নিতে চায় বলে মনে হলো। কিন্তু সাহস করে তিনি ডি,এস,এল,আর ক্যামেরা হাতে নিলেন না।

কমন কুট, পাতি সরালী, চখাচখি, খোঁপা ডুবুরী, মৌলভী হাঁস, ডোরা-মাথা রাজহাঁস, মরিচা রঙের ভুঁতি হাঁস, পিয়াং হাঁস, কমন সেল্ডাক সহ হরেক প্রজাতি পরিযায়ী হাঁস পাখির দেখা পেলাম। ভুঁতি হাঁস পাখি এতই কাছে চলে আসলো যে, সেটা ধরার জন্য জিসান ভাই যেই হাত বাড়ালো অমনি দেহের ভারসাম্য ধরে রাখতে না পারায় নৌকা থেকে পানিতে পড়ে গেলেন। সঙ্গে সঙ্গে তৌহিদ পানিতে ঝাঁপ দিল। এরই মধ্যে জিসান ভাইয়ের কয়েক কলস পদ্মার টলটলে পানি পান করা হয়েছে। তৌহিদ চোরা বালিতে আটকে গেল। সবাই আতংকিত হয়ে পড়লো। আমি শবনম মুস্তারীর দিকে তাকিয়ে দেখলাম বেচারী পারে তো চোরা বালিতে তৌহিদের সঙ্গী হয়। দুই হাতে বুকে চাপড়াচ্ছে আর চিৎকার করে বলছে আমার বাবুটারে বাঁচাও। নৌকার দুই মাঝি তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতায় তৌহিদকে উদ্ধার করলো। নৌকায় তৌহিদকে শুইয়ে দেয়া হলো। শবনম মুস্তারী মাথার সামনে বসে কানে কানে বললো “বাবু পদ্মার পানি খাইছো”?

 

আমরা হাস্নাতের চরে ছবি তুলে যখন টি-বাঁধের ঘাটে ফিরবো তখন রেহনা আপুর স্বামী আমাদের সকলের প্রিয় দুলাভাই জিসান ভাইকে কল দিয়ে বললেন তিনি ঘাটে অপেক্ষা করছেন। তাঁর বাসায় দুপুরের খাবারের জন্য আমাদের নিয়ে যাবেন। এই ফাঁকে হালিম নজরুল ভাই প্রস্তাব দিলেন গোসলটা পদ্মায় সেরে নিলে কেমন হয়? পুরুষরা সবাই রাজি হয়ে পদ্মায় ঝাঁপাঝাপি শুরু করে দিলে। টলটলে পরিস্কার ও ঠান্ডা পানির ছোঁয়ায় শরীরটা জুড়িয়ে গেল। সব আপুরা পদ্মার পানিতে হাত ও মুখ ধুঁয়ে নিলো। দুপুর ১ঃ৩০ মিনিটে ঘাটে ফিরলাম। দুলাভাই আমাদের জন্য কচি ডাব নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন। আমরা সবাই ডাবের পানি পান করে রেহানা আপুর বাসায় রওনা হলাম।

 

দুপুর দুইটায় রেহানা আপু আমাদের সবাইকে খাবার টেবিলে বসালেন। আমি ও তৌহিদ আপুর বাচ্চাদের জন্য ইগ্লু আইসক্রীম বক্স, কিছু পানীয় ও শুকনো খাবার নিয়েছিলাম। সেগুলি তাদের হাতে তুলে দিলাম। বাচ্চারা খাবার পেয়ে যানপরনাই খুশী হলো। বিশাল ডাইনিং টেবিল জুড়ে খাবার আর খাবার। রেহানা আপু ৪০ রকমের খাবারের আয়োজন করেছেন। যার মধ্যে রাজশাহীর পদ্মার ইলিশ, সুন্দরী মাছ, বড় বড় চিংড়ি, নদীর পাঙ্গাস, বেলে মাছ, আইড় মাছ, নদীর শিং মাছ ও রুই মাছ উল্লেখযোগ্য। সঙ্গ আছে সব্জি,মুগ ডাল দিয়ে মুড়িঘন্ট,বেগুন ভর্তা, সরিসা ইলিশ,গরুর ভুনা,খাসীর রেজালা, মোরগের রোষ্ট, কলাইয়ের রুটি, শুটকি ভর্তা, মাসকলাইয়ের ডাল, বিন্নি চালের ভাত,সাদা পোলাও, আপুর হাতের সেরা গরুর দুধের ক্ষীর,মিষ্টি ও টক দই সহ আরো নানান আইটেম।

 

ইঞ্জা ভাই, ছাইরাছ হেলাল ভাই, হালিম নজরুল ভাই, মমি ভাই, তৌহিদ, মজিবর ভাই, সুপায়ন বড়ুয়া দাদা সহ সবাই যে যার মতন নিচ্ছে আর কব্জি ডুবিয়ে খাচ্ছে। কথা বলার ফুসরৎ নেই। কেউ কথা বলতে চাচ্ছে না। কারন খাবার যদি কম খেতে হয়। দালান জাহান ভাই ও ইঞ্জা ভাইয়ের সাদা ফুল শার্টে‍র হাতল বাসন্তী রঙে রঙিয়ে গেছে।। তা দেখে যে কেউ বুঝবে তরকারীর ঝোল কি ভাবে গড়িয়ে পড়েছে।  হা হা হা….!!

আপুরাও কম না। তারাও যেন কোমরে শাড়ি বেঁধে নেমে পড়লো। বন্যা লিপি(বফু),আরজু মুক্তা,সাবিনা ইয়াসমিন,উর্বশী, কুবরা, শবনম হাতের ঝোল চাঁটছে আর মুরগীর রান টেনে টেনে শেষ করছে। মাঝে মাঝে টক দই দিয়ে খাসির রেজালা সাবাড় করছে। আহারে দেখে মনে হলো কতদিন আপুরা এমন মজাদার খাবার খায় না। শবনম মুস্তারী ফাঁকে ফাঁকে তৌহিদের প্লেটে মাছ মাংস দিয়ে আসছে। তাই দেখে সবাই বলে উঠলো বাবু খাও…!!

 

আমরা সবাই ক্লান্ত ছিলাম। তাই দুপুরের খাবার শেষে যে যার মতন বিশ্রাম নিলাম। আমি একটা ডিভাইনে শরীর ঢেলে দিয়ে শুয়ে পড়লাম। কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম বলতে পারবো না।

হঠাৎ বাসার পাশের মসজিদ থেকে মুয়াজ্জ্বিনের কন্ঠে “আসসালাতু খায়রুম মিনান্নাউম” ধ্বনি কানে ভেসে আসলো। চোখ খুলে দেখতে পেলাম  আমার শোবার ঘরটি তখনও জোনাকীর আলোয়ে আলোকিত। বাঁ দিকে ঘাড় ঘুড়িয়ে দেখি সহধর্মিনী নাক ডেকে ঘুমাচ্ছেন। নিজের হাতে নিজেই চিমটি কাঁটলাম।

অতঃপর নিজেকে সামলে নিয়ে ফজরের নামাজের প্রস্তুতি নিলাম।

স্বপ্ন।। ২০ (ব্লগারদের সম্মিলিত গল্প)

৩৬৮জন ৫জন
0 Shares

৬৭টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ