স্বপ্ন।। ২০ (ব্লগারদের সম্মিলিত গল্প)

দালান জাহান ১১ অক্টোবর ২০২০, রবিবার, ১২:৫৫:৪৩পূর্বাহ্ন গল্প ২৩ মন্তব্য

অনেক দিন যাবত খাসির নলি খাওয়ার ইচ্ছে ছিলো ইঞ্জা ভাইয়ের। সে জন্যই রাঙামাটিতে আয়োজন হলো এই ভূরিভোজের। সোনেলা পরিবারের পক্ষ থেকে এই এই নলি খাওয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেন , সোনেলা পরিবারের প্রিয় মুখ ইকরাম জিসান শামসুল ভাই। আয়োজনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছেন , তৌহিদুল ইসলাম ভাই ও ছাইরাছ হেলাল ভাই।

এছাড়াও আরও অনেকর নাম এই আয়োজনের সাথে যুক্ত হতে পারে, যেমন সাবিনা ইয়াসমিন, সুপায়ন বড়ুয়া, সুপর্ণা ফাল্গুনী, বন্যা ইসলাম আরজু মু,, সঞ্জয় মালাকার মনিরুল ইসলাম মমি, নাজমুল হুদা, শামীনুল হক হীরা সুরাইয়া পারভীন, বন্যা লিপি, উর্বশী , আলমগীর সরকার লিটন, হালিম নজরুল রেহানা বীথি, রোকসানা খন্দকার রুকু, খাদিজাতুল কুবরা, ফয়জল মহী, এস এ জগ,, ইসিয়াক, শামীম চৌধুরী, কামাল উদ্দিন প্রদীপ চক্রবর্তী, কামরুল ইসলাম, মজিবর রহমান, খুরশীদ আলম পপি, তালুকদার, রেজওয়ানা কবির, মুহাম্মদ মাসুদ, ত্রিস্তান শামসুল মাওলা হৃদয়।

নলি খাওয়ার গন্ধ পেয়ে আমিও রওনা হলাম রাঙামাটির উদ্দেশ্য। আমাদের নির্দিষ্ট স্থান হলো রাঙামাটির কদমতলী, সেখানে পাহাড়ের উপরে আলো ঝলমলে এক পরিবেশে আয়োজন চলছে নলি খাওয়া উৎসবের।

বলা হয়েছে যে যারা বেশি খাসির নলি খেতে পারবেন তাদেরকে সোনেলার পক্ষ থেকে বিজয়ী খাদক হিসেবে পাঠানো হবে সাজেক বেলীতে। যথাসময়ে আমরা কদমতলীতে উপস্থিত হলাম। প্রথমেই দেখা হলো নারায়নগঞ্জের সেই সাদা মাটা দাদার সাথে। তার জ্ঞান চক্ষু দেখে আমি আরও আবিষ্ট হলাম।

যদিও ঢাকায় এখনও শীত সেভাবে পড়েনি শরৎ ও হেমন্তের মাঝখানে দাঁড়িয়ে একটা চাঁদ দুটো ঋতুকে আলো দিয়ে যায়। ঠিক যেমন বিয়ের আগে একটি মেয়ে দুটো প্রেমিককে তার ভালোবাসা দিয়ে যায়। তেমনি একটা আলো আমাদের হৃদয় ছিদ্র করে আমাদের ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে আনন্দের অনন্ত সমাহারে।

আমরা সবাই প্যান্ডেলের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম , একজন ওয়েটার এসে বললেন , খাসির নলি রেডি আছে স্যার আপনারা এখন শুরু করতে পারেন। সাজেক বেলী যাওয়ার কথা শোনে অনেকেই উৎফুল্ল ছিলো তার মধ্যে আমিও একজন। হালিম নজরুল চোখ মেরে বললেন , শুরু করেন আমি ইঞ্জা ভাইকে সাথে নিয়ে ঢুকলাম।

কিন্তু যাওয়ার পর  যা দেখলাম তার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। সাবিনা ইয়াসমিন আপু না-কি অলরেডি পঞ্চাশটা শেষ করেছেন , তাকে প্রাণপণে সহায়তা করছেন ছাইরাছ হেলাল ভাই। নলি খাওয়ায় ইতিমধ্যে আরও যারা এগিয়ে আছেন তারা হলেন , শামীনুল হক হীরা, সুরাইয়া পারভীন, বন্যা লিপি এবং উর্বশী আপু।

ফয়জল মহী ভাই একটু রাগ করেই আমাকে  বললেন, আপনাদের দিয়ে কিছুই হবে না মেয়েদের কাছে এভাবে হেরে গেলেন। ইঞ্জা ভাই আশার আলো দেখিয়ে বললেন, ভয়ের কিছু নেই  সোনেলা পরিবারের সবাই সাজেক বেলী যাবে।

ইঞ্জা ভাইয়ের কথা শোনে মনটা প্রফুল্ল হলো যাক তাহলে সাজেক বেলী যেতে পারব। রাত বারোটায় নলি খাওয়া উৎসব শেষ হলো। জিসান ভাই ঘোষণা করলেন, ভোর চারটায় সাজেকের উদ্দেশ্য আমাদের গাড়ি ছাড়বে সবাই প্রস্তুত থাকবেন, একথা শোনে একটা প্রতিবাদের ঝড় উঠলো তারা বললেন এটা অবিচার হচ্ছে আমরা ফাস্ট হয়েছি আমরা যাবো। তৌহিদ ভাই তখন সবাইকে শান্ত করে বললেন, ঠিক আছে আপুরা তোমরা ফাস্ট হয়েছো তোমাদের সাথে আমরা যাবো।

ভোর চারটায় গাড়ি ছাড়লো কুয়াশার পাহাড় পারি দিয়ে আমরা একসময় সাজেক বেলীতে পৌঁছালাম। মেঘ আর বৃষ্টির খেলা দেখতে দেখতে কখনযে সন্ধ্যা হয়ে গেলো সেকথা কারও মনে নেই।

সাজেক বেলীর পাশে ছোট্ট একটা ঘর তা থেকে ছিটকে আসছে রূপার মতো রূপালি আলো। আমি জিসান ভাই , ইঞ্জা ভাই ও ছাইরাছ হেলাল ভাই একসাথে দাঁড়িয়ে  ছবি তুলছিলাম,  হঠাৎ দেখতে পেলাম সাবিনা আপু বন্যা আপু  সুপর্ণা আপু ও সঞ্জয় মালাকার দাদা একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছে ঘরটার দিকে কোথা থেকে দৌড়ে এসে সুপায়ন বড়ুয়া দাদা যোগ দিয়ে বললেন, চলো এখানে সবচেয়ে ভালো ছবি হবে।

ইঞ্জা ভাই বিষয়টিকে ভালোভাবে নিলেন না, তিনি বললেন এটা তো আগে দেখিনি ওখানে যাওয়া ঠিক হবে না। কিন্তু কার কথা কে শোনে তারা ওটাতে উঠে ছবি তোলা শুরু করলো। সাবিনা আপু ডেকে বলছেন , আসেন ইঞ্জা ভাই  জায়গাটা খুব সুন্দর নতুন সংযোজন হয়েছে মনে হয়। আমারও এগিয়ে গেলাম। ঘরটাতে যখন পা রাখলাম সাথে সাথে ঘরটা নীল আলোয় ভরে উঠলো।

তারপর আর কিছু মনে নেই শুধু একটা কথা শেষবার কানে এসেছিলো সম্ভবত জিসান ভাইয়ের গলা,  আমরা ভুল করে ভিনগ্রহের বাসিন্দাদের উইএফওতে চড়ে বসেছি।

চোখ খোলার পর এক ধরনের ঠাণ্ডা আলো এসে আমাদের শরীরে শিহরণ তুললো। আমাদেরকে এক রাজার দরবারে হাজির করা হলো। সেখানে হাঁটুর সমান উঁচু সৈন্যরা আমাদের ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন৷ তাদের হাতে তীর বল্লম পাথর সহ নানাবিধ অজানা অস্ত্র।

রাজামশায় এক হাতের চেয়ে একটু লম্বা হতে পারেন যদি তার পায়ে হিল জুতা বসানো হয়। সিংহাসনে বসে রাজামশাই বললেন, তোমরা হলে পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান মানুষ জাতি। তোমরা কী আমাদের এখানে থাকবে না-কি নিজের দেশে যাবে? আমরা বললাম আমরা আমাদের পৃথিবীতে যাবো আমাদের পাঠিয়ে দিন রাজা মশাই।

রাজামশাই তখন মুচকি হেসে বললেন, তাহলে তোমাদেরকে একটা কাজ করে দিতে হবে। জিসান ভাই বললেন কী কাজ? রাজামশাই তখন বললেন , আমাদের দেশের পাশে আরেকটি দেশ আছে , যাদের সাথে আমরা যুদ্ধ করে পারি না কারণ তাদের কাছে আছে এক ধরনের যাদুর পুতুল আর আছে একজন নোয়াখালীর মানুষ।

যে পুতুলের মাথা অর্ধেক ভাঙা এবং পুতুলটি নোয়াখালীর দোকানে ভালো পুতুলের মধ্যে সাজানো থাকে। যে পুতুলকে মন্ত্র পড়ে ছেড়ে দিলে। তারা আমাদের #স্বপ্নর মধ্যে এসে হত্যা করে।

তোমরা যদি যুদ্ধ করে অথবা যেকোনোভাবে এই পুতুল আমাদের এনে দিতে পারো। তবে তোমাদের জন্য থাকবে আমাদের শাহীখানা এবং মুক্তি। ইঞ্জা ভাই বললেন, আমরা প্রস্তুত রাজামশাই। রাজা মশাই বললেন খুব ভালো ! খুব ভালো !

পরদিন সকালে সে দেশে নিয়ে আমাদের ছেড়ে দেওয়া হলো। আমি সাবিনা আপু ইঞ্জা ভাই এবং জিসান ভাই একদিকে রওনা হলাম বাকিরা অন্যদিকে পুতুলের দোকানের খুঁজে রওনা দিলাম। হঠাৎ একটা পুতুলের দোকান দেখে জিসান ভাই থেমে গেলেন।

একটা ঘাসফড়িংয়ের মতো মানুষ আমাদের ডেকে বলছেন কী লাগবে ? ইঞ্জা ভাই বললেন , পুতুল লাগবে। তখন তিনি পুতুল দেখাতে লাগলেন  এবং বিনিময় মুদ্রা হিসেবে স্বর্ণ চাইলেন। কিন্তু সাবিনা আপু বললেন , না আমরা আরেকটু সস্তার মধ্যে কিনবো।

তখন তিনি অর্ধেক মাথা ভাঙা পুতুলটি এনে দিলেন। সাবিনা আপু কানের দুল খুলে দিলেন। আমরা পুতুল নিয়ে চলে এলাম রাজার দরবারে।

এখন রাজ দরবারের উপর দিয়ে উড়ছে  ঐ দেশের যুদ্ধ যান যেসব যান থেকে শোনা যাচ্ছে একটি পরিস্কার কণ্ঠ নিশ্চয়ই এখানে বাঙালি এসেছিলো কারণ বাঙালি ছাড়া কেউ সস্তায় ভালো জিনিস চায় না।

রাজামশাই তার কথা রাখলেন , আমাদের জন্য  আয়োজন করলেন , স্বর্গীয় বকের সাদা মাংস যার স্বাদ একবার জিভে নিলে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লেগে থাকে। এতো স্বাদের মাংস পেয়ে আমি তো খাচ্ছি আর খাচ্ছি। জিসান ভাই বললেন , খাওয়াটা দ্রুত শেষ করেন দালান ভাই পৃথিবীতে ফিরতে হবে আমাদের !

আবার সেই যান সেই চন্দ্র ঝুল গড়িয়ে পড়ছে গায়ে। সঞ্জয় দাদা গাইছেন

আমার সোনার বাংলা
আমি তোমায় ভালোবাসি।

এ-ই মাত্র বউয়ের গলা শুনতে পেলা,, তিনি বলছেন আজকাল ঘুমের মধ্যেও গান গাও তাহলে।

স্বপ্ন।।১৯ (ব্লগারদের সম্মিলিত গল্প)

১৩৫জন ১৩২জন
0 Shares

২৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য