স্ট্রিট সিংগার

জিসান শা ইকরাম ২২ জুলাই ২০১৯, সোমবার, ০১:২৩:০১পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ১৩ মন্তব্য

স্টিলের ওভার ব্রীজের ঠিক মাঝখানে দাড়িয়ে আনমনে চোখ বুজে গান গাইছে একজন। গলায় পেঁচিয়ে মুখের সামনে মাইক্রোফোন, গলায় ঝুলানো পেটের কাছে এক বাদ্য যন্ত্র, পায় আটকানো হুক এর সাথে যুক্ত স্ট্যান্ডে রাখা  ড্রাম, বাঁশি, ছোট তবলার মত, সব নিয়ে ছয় সাতটি বাদ্য যন্ত্র বাজাচ্ছে সে গানের সাথে সাথে। পাশেই বসে আছে ছোট একটি ছেলে, ছেলেটির সামনে বড় কাঠের একটি গামলা রাখা। বুঝতে অসুবিধা হয়নি গায়ক অন্ধ। পথচারীদের এভাবে গান শুনিয়ে আনন্দ দিয়ে অর্থ উপার্জন করেন।

তার গলার সুরে কি এক টান। অন্তর স্পর্শ করে যাচ্ছে। মালয়েশিয়ান ভাষায় গান গাইছে। গান এর একটি শব্দও বুঝিনা, অথচ সুর যেন আমারই। মন্ত্রমুগ্ধের মত তার গান শুনছিলাম। ত্রিশ মিনিট তো হবেই। চলে যেতে ইচ্ছে করছিল না। এমনই নিবিষ্ট হয়ে গিয়েছিলাম তার সুরের যাদুতে, মনে হচ্ছিল আমিই গাইছি গান।

পথচারীরা কেউ গান শুনে, কেউ না শুনে কাঠের গামলায় দুই, পাঁচ, দশ রিংগিত রাখছে। আমি একটু বেশিই দিলাম।  ছোট ছেলেটি আমার দেয়া  নোটটি দেখে আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলো, আমি হাসি মুখে তার দিকে তাকিয়ে গান শুনছিলাম।

সমস্ত দিনই সে হয়ত গান গায়, মাঝে মাঝে বিরতি দেয়। তার কষ্ট দেখে আমারও কষ্ট হচ্ছিল।  আমার খুব ইচ্ছে হচ্ছিল তার গলা থেকে মাইক্রোফোনটা নিয়ে আমি তার জন্য গান গেয়ে তাকে অর্থ উপার্জনে সাহায্য করি। কিন্তু আমার ইচ্ছে পুরণ করতে পারিনি।

তবে একটি প্রবল ইচ্ছে তখন থেকে ধারণ করে আছি, একবারের জন্য হলেও আমি এদের জন্য এদের হয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে গান গেয়ে অর্থ উপার্জনে সাহায্য করবো। অবশ্যই দেশে নয় প্রবাসে।

এমন স্ট্রিট সিংগার আমি যতটি দেশ ভ্রমন করেছি প্রায় সমস্ত দেশেই দেখেছি। কারো কাছে এরা কোনো অর্থ চান না, কেউ দিলে দিবে, না দিলে না দিবে। আর এক ধরনের স্ট্রিট সিংগার আছেন যারা মনের আনন্দে গান গায়, অর্থ গ্রহন করেন না।

আমাদের দেশেও এমন আছেন। এরা ট্রেন, ফুটপাথ, লঞ্চে দাড়িয়ে গান গেয়ে থাকেন। এদের দু একজনের কণ্ঠ এত সুন্দর যে অবাক হতে হয়।

কয়েকবছর আগে কুয়াকাটা গিয়েছিলাম অত্যন্ত প্রিয় কিছু মানুষদের সাথে। সন্ধ্যার কিছু আগে এমন এক গায়ককে পেলাম। আমন্ত্রন জানালাম আমাদের গান শোনাবার জন্য। তার গানের সুর ঐ সময়ের পরিবেশকে কতটা আচ্ছন্ন করে রেখেছিল, তা আমি প্রকাশ করতে অক্ষম।
এখনো তার গান ভেসে আসে সাগরের হাওয়ায়,

* ছবি গুগল থেকে নেয়া।

১৯০জন ২৯জন
64 Shares

১৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য