বাংলাদেশের সকল স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার প্রধানের কাছে (হার্ড কপি) খোলা চিঠি পাঠাতে চাই,
আপনার এলাকার স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজের ঠিকানা দিয়ে সহযোগিতা করুন।
স্কুল/মাদ্রাসা/কলেজের নাম……….
ডাকঘর………
থানা…………
জেলা…………
উপরোক্ত মতে ঠিকানা দিয়ে সহযোগিতা করুন প্লিজ। অক্ষর ফা্উন্ডেশন’ নিন্মোক্ত খোলা চিঠি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে চায়।
লেখাটি গতকাল দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
স্কুল মাদ্রাসার নিয়মিত দেয়াল পত্রিকা হতে পারে লেখক তৈরীর সূতিকাগার
#

 

বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল, মাদরাসা, কারিগরিশিক্ষাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের কথাই বলছি। এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত মাসিক দেয়াল পত্রিকা হতে পারে লেখক তৈরীর সূতিকাগার। প্রতি মাসে ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে লেখা আহবান করে বাঁচাইকৃত লেখাগুলো সাজিয়ে দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ করতে হবে। এজন্য ৫ ফিট বাই ৩ ফিটের একটি নির্দিষ্ট দেয়ালকে বর্ডার দিয়ে উপরে পত্রিকার নাম শিরোনাম আকারে লিখে রাখতে হবে। যেমন- সোনাকানিয়া মজিদিয়া মাদরাসায় ‘মাসিক মজিদিয়া’, মির্জাখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য ‘মাসিক মির্জাখীল’ সাতকানিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য ‘মাসিক সাতকানিয়া’, সাতকানিয়া উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের জন্য ‘মাসিক ডলুনদী’ ইত্যাদি। দেয়াল পত্রিকার নাম যার যার পছন্দমতো হতে পারে। প্রতি মাসে সম্ভব না হলে দু’মাস বা তিনমাস পরপর বের করা যেতে পারে। ভাষাদিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয়দিবসসহ জাতীয় দিবসসমূহে দেয়াল পত্রিকা স্কুল কলেজে বাধ্যতামূলক করা জরুরী মনে করি। নবীনদের লেখার মান ভালো করার জন্য দেয়াল পত্রিকার বিকল্প নেই।

১ম বর্ষ ১ম সংখ্যা, ১ম বর্ষ ২য় সংখ্যা, ৩য় সংখ্যা, ৪র্থ সংখ্যা এভাবে চিহ্নিত করে সংখ্যাগুলোর ধারাবাহিকতা সংরক্ষণ করা যেতে পারে। একেক সংখ্যার জন্য একেকজন ছাত্র কিংবা ছাত্রীকে সম্পাদনার দায়িত্ব দিতে হবে। প্রকাশিত লেখা থেকে একটি লেখা বাঁচাই করে অমুক সংখ্যার শ্রেষ্ট লেখক হিসেবে ঘোষণা দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানের বাংলার প্রভাষকসহ সাহিত্যমনা শিক্ষকদেরকে বাধ্যতামূলক সংশ্লিষ্টতা রাখতে হবে। দেয়াল পত্রিকা হবে মূলত সাহিত্য নির্ভর। স্বরচিত কবিতা, ছড়া, গল্প, প্রবন্ধ, জীবনী, কৌতুক, পাঠ্য-পুস্তকের উপর রিভিউ- এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে দেয়াল পত্রিকায়। তাছাড়া প্রতিসংখ্যার জন্য কিছু বিষয় নির্ধারিত থাকবে।

যেমনঃ

১/ স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষকের জীবনী (মৃত/জীবিত/অবসরপ্রাপ্ত/বর্তমান)।

২/ জাতীয় পর্যায়ের সাহিত্যিকদের জীবনী(প্রতি সংখ্যায় একজন করে)।

৩/ সুযোগের অভাবে ঝরে পড়া একজন শিক্ষার্থীর করুণ কাহিনী।

৪/ যেসব সুবিধা পেলে গত বার্ষিক পরীক্ষায় আমি আরো ভালো রেজাল্ট করতাম(একজন বর্তমান স্টুডেন্টের জবানবন্দি)।

৫/ মাঝপথে পড়ালেখা বন্ধ করে কর্মজীবী হয়েছেন এমন একজনের অনূভূতি(স্বাক্ষাতকার)।

৬/ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একজন লেখক/বিজ্ঞানীর জীবনী বা ঘটনা প্রবাহ।

আগে দেয়ালিকা প্রকাশ হতো একটি বা দু’টি আর্ট পেপারে। সব লেখা হাতে লেখে বিভিন্ন ডিজাইনে আকর্ষণীয় করে ষ্ট্যান্ডে দাঁড় করিয়ে রাখা হতো অথবা দেয়ালে লাগিয়ে রাখা হতো। আমার প্রস্তাবিত দেয়াল পত্রিকায় প্রত্যোক নির্বাচিত লেখা আলাদা আলাদা কাগজে হাতে লেখে বা কম্পিউটারে কম্পোজ করে কাটিং করে পরিকল্প মোতাবেক আঠা দিয়ে দেয়ালে লাগাতে হবে। লেখার মাঝখানে কিছু হালকা আলপনা আঁকা যেতে পারে। প্রয়োজনে পত্রিকার দু’টি সংখ্যা থাকবে। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে অন্যটি পাবলিক প্লেসে। পাবলিক প্লেস মানে মসজিদের সামনে বা ক্লাব চত্তর বা দোকানের পাশে। লেখার উপরে শিরোনাম ও নীচে লেখকের নাম, শ্রেণি ও রোল নম্বর থাকবে। প্রতি সংখ্যার প্রত্যেকটি লেখা সংখ্যা উল্লেখপূর্বক আলাদা আলাদা পাঞ্চিং ফাইলে প্রতিষ্ঠানের অফিসে সংরক্ষিত থাকবে। যদি কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান দেয়াল পত্রিকাকে প্রিন্ট আকারে হার্ডকপি প্রকাশ করেন তাহলে ঐ পত্রিকার দুই সেট নির্ধারিত দেয়ালে লাগিয়ে রাখবেন। দেয়াল পত্রিকার জন্য প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলাদা বাজেট থাকবে এবং ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকা সমন্বয়ে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক কমিটি উক্ত দেয়াল পত্রিকা পরিচালনা করবেন। থানা শিক্ষা অফিসার বা জেলা শিক্ষা অফিসার দেয়াল পত্রিকা প্রকাশকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে যে কোন বিষয়ে অগ্রাধিকার দিবেন।

গত ২৩ ও ২৪ মার্চ’১৭ইং সাতকানিয়ার ‘সোনাকানিয়া মজিদিয়া মাদরাসা’র ৬১ তম বার্ষিক সভা ও পুরস্কার বিতরণী অন্ষ্ঠুান অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছাত্রছাত্রীর উদ্দেশ্যে আমাকে কিছু বলার জন্য নাম ঘোষণা করলে আমি আমার বক্তব্যে উপরোক্ত দেয়াল পত্রিকার পরামর্শ পেশ করি। হযরতে গারাংগিয়া বড় হুজুর (রহঃ) ও ছোট হুজুর (রহঃ) এর নেক দোয়ার বরকত হচ্ছে সোনাকানিয়া মজিদিয়া দাখিল মাদরাসা। ছোটকালে দেখেছি জীবিতাবস্থায় বড় হুজুর (রহঃ) ও পরে ছোট হুজুর (রহঃ) প্রতিবছর সভার দিন অত্র মাদরাসায় আসতেন। একসময় আমিও কিছু সেবা দেবার সুযোগ পেয়েছিলাম অত্র মাদরাসায়। মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম হযরত নুরুল হক মজিদি (রহঃ) আমাকে মহিলা সেকশনের সেক্রেটারীর দায়িত্ব দিয়েছিলেন। দীর্ঘ ৫ যুগেরও বেশী সময় ধরে সোনাকানিয়া মজিদিয়া মাদরাসা আশপাশের বিশাল এলাকা জুড়ে জ্ঞান বিতরণের বাতিঘর হিসেবে ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।

বলছিলাম দেয়াল পত্রিকার কথা। এটা আমার আবিস্কৃত কোন নতুন বিষয় নয়। হয়তো শিক্ষামন্ত্রণালয় বা শিক্ষা বোর্ড থেকেও এটার নির্দেশনা আছে। ছোটকালে দেখেছি অনেক প্রতিষ্ঠানে দেয়ালিকা প্রকাশ করতে। কিন্তু বর্তমানে কতক প্রতিষ্ঠানে কিছু কিছু পালন করা হলেও সব প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক চিত্র প্রায় শূন্যের কৌটায়। তাই এটাকে পূন:চাঙ্গা করাই আমার উদ্দেশ্য। বিস্তৃর্ণ বিরানভূমিতে আবারও আবাদ করার প্রস্তাব করছি। সারে-গৌবরে উর্বর করে তাতে বাম্পার ফসল ফলাবার আহবান করছি। অনুষ্ঠানে আমার দেয়া পরামর্শ সোনাকানিয়া মজিদিয়া মাদরাসার সম্মানীত অধ্যক্ষসহ উপস্থিত শিক্ষকমন্ডলী ও মেহমানবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সম্মানীত অধ্যক্ষ ও শিক্ষকমন্ডলী আমার পরামর্শ মোতাবেক উদ্যোগ গ্রহণ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ঐ দেয়াল পত্রিকার ধারণাটি আরো বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহকারে পুরো বাংলাদেশের জন্য আমি দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার মাধ্যমে তুলে ধরেছি। বিগত ৭ই এপ্রিল’১৭ইং তা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। শিক্ষার্থীদের লেখনি শক্তিকে শাণিত করার জন্য, দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ২/৩ মাস পর পর দিনব্যাপী কর্মশালা করতে হবে। প্রয়োজনে ৫/৬টি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কর্মশালা করলে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সংশ্লিষ্টতা বৃদ্ধি পাবে। একেকবার একেক প্রতিষ্ঠানে কর্মশালা হবে। উক্ত কর্মশালায় লেখালেখির নিয়ম কানুনের আদোপান্ত হাতে কলমে শিক্ষা দিতে হবে। বানান, উচ্চারণ এবং আবৃত্তির উপর বিশেষ জোর দিতে হবে। গান রচনা, নাটক, মুভির স্ক্রীপ্ট লেখার উপরও ধারণা দিতে হবে। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের আমজনতার জীবনধারা এসব লেখায় ফুটিয়ে তুলার তাগিদ দিতে হবে। স্থানীয় থেকে, শহর থেকে, পত্রিকার অফিস থেকে অভিজ্ঞ কবি, সাহিত্যিকদের দাওয়াত দিয়ে আনতে হবে কর্মশালায়। ছাপানো অক্ষরে নিজের লেখা দেখলে একজন নবীন লেখক চাঁদ জয়ের আনন্দ অনুভব করে। ৪/৫ বছর আগে আমি অনলাইনে লেখেন এমন ১২১ জনের লেখা নিয়ে একটি বই প্রকাশ করেছিলাম। অনেক প্রিয়জন তাতে সহযোগিতা করেছিলো। ৫১৪ পৃষ্টার উক্ত বইয়ের নাম ছিলো ‘স্বপ্ন দিয়ে বোনা’। সেখানকার অনেক নবীন লেখক পরবর্তীতে এককভাবে বই প্রকাশ করেন। উৎসাহ পেলে আগ্রহ বাড়ে, মান বাড়ে। নিজেদের কাঁচা হাতের লেখাও যদি দেয়াল পত্রিকায় দেখে তাতে ছাত্রছাত্রীরা দ্বিগুন উৎসাহে আরো ভালো লেখার চেষ্টা করবে।

বই পড়লে পাঠকের মন উদার হয়, সহনশীল হয়, জ্ঞান বাড়ে। বই পড়লে মনের সংকির্নতা দুর হয়। তাতে অন্ধ অনুকরন ও গোড়ামিমুক্ত জীবনের সন্ধান পায় পাঠক ও লেখক। শিক্ষার্থীদের মাঝে বই পড়ার প্রবণতা বৃদ্ধি করার জন্য প্রনোদনামূলক বই পড়া প্রতিযোগিতা করতে হবে। প্রতি মাসে নির্দিষ্ট বইয়ের উপর সৃজনশীল প্রশ্ন তৈরী করে কুইজ কুইজ প্রতিযোগিতা করা যেতে পারে। পাঠ্যবই থেকেও এই কার্যক্রম চলতে পারে। লেখালেখির চর্চা করলে প্রচুর বই পড়তে হয়। যারা লেখালেখি করেন তারা অন্যায় দূর্নীতিতে সহজে জড়িয়ে পড়েন না। সুলেখকগণ জাতির জন্য জাগ্রত বিবেক হিসেবে পরিচিত হয়ে আসছে। শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠাগার গড়ার আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে। বন্ধুদের কাছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বই সংগ্রহ করেও সামাজিক পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। অতি আগ্রহীরা ব্যক্তিগত পাঠাগার গড়তে পারেন। পাঠাগার আন্দোলনকে দেশের উন্নয়নের একটি মাপকাঠি ধরলে বাস্তাবায়ন আরো সহজ হবে নিস্বন্দেহে।

আসুন এখন জানি দেয়ালিকার ইতিহাস। দেয়াল পত্রিকা বা দেয়ালিকা (ইংরেজি ভাষায়: Wall magazine) হল বিজ্ঞপ্তি বোর্ডে প্রকাশিত এক ধরণের সাময়িকপত্র; বিশেষত কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেখানে শিক্ষার্থী এবং প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য সদস্যগণ একে অপরের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে নিজেদের প্রবন্ধ, কবিতা, অঙ্কন এবং অন্যান্য রচনা প্রকাশ করতে পারে। কখনো কখনো এই প্রকাশনা কোলাজ আকারে হয়ে থাকে। দেয়ালে হাতের লেখার পত্রিকা প্রকাশিত হয় বলে এটা দেয়াল পত্রিকা বলা হয়ে থাকে যা সংক্ষেপে দেয়ালিকা নামেও পরিচিত। দেয়াল পত্রিকা প্রথম প্রকাশের সঠিক ইতিহাস এখনো নির্দিষ্ট হয়নি। প্রাচীন যুগ থেকে মুদ্রণ যন্ত্র, টাইপরাইটার এবং কম্পিউটার ব্যবহার শুরু হবার পূর্বে বিশ্বের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হাতে লেখার এ নান্দনিক সাহিত্যপত্র বা হাতের লেখা পত্রের ব্যাপক প্রচলন ছিল। বর্তমান সময়েও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে নানা উপলক্ষ্যে দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ করতে দেখা যায়।

দেয়াল পত্রিকার নির্দিষ্ট কোন বিষয় নেই। সাধারণত দেয়াল পত্রিকার মাধ্যমে নবীনদের সাহিত্য বা সৃজনশীল লেখা প্রকাশ করা হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের চারপাশের পরিবেশ, প্রতিবেশ, মনোজগতের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার বহি:প্রকাশ ঘটানোর সুযোগ পায়। শিক্ষার্থীরা এর লেখক বা প্রতিবেদক এবং সম্পাদক ও নকশাকার। কখনো কখনো দেয়াল পত্রিকায় প্রকাশিত হয় নিজেদের গল্প, কবিতা, ছড়া, ইতিহাস, ঐতিহ্য ইত্যাদি নানা প্রসঙ্গ। বাংলাদেশে দেয়াল পত্রিকার ইতিহাস বেশ প্রাচীন। সাধারণত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন উৎসবে এই দেয়াল পত্রিকা প্রকাশের আয়োজন করা হয়ে থাকে। ২০০৮ সালে দেশের মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সহযোগিতায় ঢাকার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে প্রথম জাতীয় দেয়াল পত্রিকা উৎসব ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিবছর এই আয়োজন হয়ে থাকে। ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চলের ৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এক যোগে দেয়াল পত্রিকা প্রকাশের উৎসব আয়োজিত হয়ে আসছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একসময় ‘চন্দ্রবিন্দু’ নামে একটি দেয়ালিকা বের হতো। দেয়ালিকাটি আকারে বড় হওয়ায় এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেয়ালিকা বলতেন অনেকে। ‘চন্দ্রবিন্দু’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় ২০০৫ সালের ১৪ এপ্রিল। ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের ৩১ ফুট লম্বা আর ১২ ফুট দেয়ালের পুরোটাজুড়েই তৈরি হয়েছিলো ‘চন্দ্রবিন্দু’র আবহ। প্রথম সংখ্যায় স্থান পাওয়া ৭০টি ছড়া ও কবিতায় ব্যবহার করা হয় ১৭০টি ‘চন্দ্রবিন্দু’। দ্বিতীয় সংখ্যার প্রকাশনা উৎসব হয় ২০০৬ সালের ১৪ এপ্রিল, বাংলা ১৪১৩ বঙ্গাব্দের ১ লা বৈশাখে। আর তৃতীয় সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে ২০১৩ সালের পয়লা বৈশাখে। প্রথম সংখ্যায় রঙিন রশিতে ‘চন্দ্রবিন্দু’ শিরোনামে দেয়ালের সাদা জমিনের ভেতর কবিতা লাগানো হয়েছিল। আর দ্বিতীয় সংখ্যার আধেয় সাজানো হয়েছিল ককশিট কেটে ‘চন্দ্রবিন্দু’র আদলে। এবারে সংখ্যার চেহারায় একটু বৈচিত্র আনা হয়েছে। এবারের ‘চন্দ্রবিন্দু’কে সাজানো হয়েছে আকাশের ওড়া ঘুড়ির ডানায় ভর করে। ঘুড়ি আদলের রঙিন কাগজে সাজানো হয়েছে এ সংখ্যার ৫৩ টি ছড়া কবিতা। আর এসব ঘুড়ির সূতা রয়েছে দেয়ালিকার সম্পাদক ‘রাখালের’ লাটাইয়ে। দেয়ালিকার এই অংশেই রাখা হয়েছিল সম্পাদকীয়।’’ দেয়াল পত্রিকা ‘চন্দ্রবিন্দু’র বর্তমান অবস্থা অবশ্য আমি জানি না।

এখন ডিজিটাল যুগ, ইন্টারনেটের যুগ। প্রকাশিত দেয়াল পত্রিকাকে ডিএসএলআর ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলে ফেসবুকের নির্দিষ্ট পেজ/আইডিতেও প্রকাশ করা যেতে পারে। প্রকাশিত প্রত্যেকটি লেখাকে দেয়ালিকার রেফারেন্স দিয়ে ফেসবুকেও শেয়ার করা য়ায়। ধীরে ধীরে নবীন লেখকদের লেখার দক্ষতা বৃদ্ধি পেতে থাকবে এবং তখন বিভিন্ন সাহিত্য ম্যাগাজিন, বার্ষিকী, স্মরণিকাতে লেখা পাঠাতে হবে। পত্রিকায় লেখা পাঠাতে হবে। পত্রিকায় লেখা বার বার পাঠাবার পরও প্রকাশিত না হলে হতাশ হলে চলবে না। লেখা পাঠানো অব্যাহত রাখতে হবে। লেখা ছাপানোর উপযুক্ত হলে অবশ্যই লেখা ছাপানো হবে। নবীন লেখক যখন ছাপানো অক্ষরে নিজের লেখা দেখে তখন সে  বিশ্ব জয়ের আনন্দ অনুভব করে। আগ্রহী নবীন লেখক সবাই সপ্তাহের বন্ধের দিন কোথাও একত্রে জড়ো হয়ে সাহিত্য আড্ডা দেয়া যায়। এসব আড্ডা অনেক ফলদায়ক হয়। আড্ডায় প্রবীণ কাউকে পেলে হয় সোনায় সোহাগা।

সূত্র: (১) উইকিপিডিয়া, (২) http://shahittabazar.com

৮৫৬জন ৮৩৯জন
0 Shares

১৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য