“সোনেলা”-শুভ জন্মদিন তোমার

মনির হোসেন মমি ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার, ০৯:২০:০৯অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৩৪ মন্তব্য

-কীগো কই গেলা?
দূর রান্না ঘর হতেই গিন্নীর কর্কস গলার শব্দ।
-কী হইছে এতো চিল্লাও কেন?
-আরে আমিতো খুজেঁ পাচ্ছি না।
-ভাল করে খুজেঁ দেখ পাবে
-না,কোথাওতো খুজেঁ পাচ্ছি না,তুমি একটু এদিকে আসবে।

গিন্নী একগাল গোস্সা নিয়ে আনমনে বিরবির শব্দ করতে করতে স্বামীর কাছে এল।
-বলো কী হয়েছে?
-আমাকে বলছ?
-দেহতো এহন হেয় কয় কী!তুমিইতো ডাকলে আর এখন বলছো…!!
-আমি তোমাকে ডাকছিলাম বুঝি!
-জ্বি জনাব(হাতে রান্নাঘর হতে আনা বড় একটা চামচ উচিয়ে)
-ও!তাহলে মনে নেই।
আচ্ছা তোমার হয়েছেটা কী বলোত?আজ কয়দিন ধইরাই তুমি কেমন সব উল্টাপাল্টা কাজ করতাছো।গতকাল তুমি আমার একমাত্র ভাইটিরও চিনলানা!ভাইটি কত বছর পর আমার এহানে আইলো আর তুমি কীনা তারে চিনলানা বলে কথাও কইলানা? তোমার নিজের মেয়ের জন্মদিন গেল পরশুদিন-তোমাকে কইছিলাম ছোট একটা কেক আনতে আর তুমি কী আনলে?কতগুলো বইয়ের গাট্টি।তাও তোমার ঐ সব প্রিয় লেখক না ফেকক তাদের বই।আবার সেদিন অফিসে যাবে দুই পায়ে দুই রকমের মুজো পড়েছিলে!!!……।।আর একটা বদ অভ্যাস বহু বছর ধরে আছে-যখন যেখানেই যাও তখনি মোবাইল টিপাটিপি করো।
গিন্নীর এসব বকবকানী যেন তার কানেই ঢুকছেনা।সে আপণ মনে হাতে থাকা তার মোবাইল স্কিন স্ক্রুল করেই যাচ্ছেন আর মাঝে মাঝে হাসছেন আবার কী যেন লিখছেন।এর মধ্যে গিন্নীর চোখ আটকে গেল তার মোবাইল স্কিনে।সে হঠাৎ ফোনটা ধরার চেষ্টা করল।মফিজ তার হাতটা সরিয়ে নিল।
-কী করছ তুমি!!!দেখি দেখি।
বলে এবার মোবাইলটা গিন্নীর নিজ হাতে নিয়ে নিলেন।মোবাইলে চোখ রাখতেই গিন্নীর চোখ ছানা বড় বড় হয়ে গেল।একবার স্বামীর দিকে তাকায় আবার মোবাইল স্কিনের দিকে তাকিয়ে কী যেন পড়তে লাগল।বেচারা মফিজতো ভয়ে নিশ্চুপ হয়ে বউয়ের দিকে এতিমের মত ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছেন আর অপেক্ষা করছেন বউয়ের প্রশ্ন বানের ঝরের তান্ডপের অধ্যায়।কিছু ক্ষণ পর মফিজ এবার লক্ষ্য করছেন বউয়ের মুখের দিকে কী প্রতিক্রিয়া হয়।নাহ্ বউয়ের মুখবয়ে ধীরে ধীরে হাসির ঝলক দেখতে পেয়ে মনে যেন তার পানি এলো।
-তাইতো বলি তোমার এই দিনটা এলেই কেন বছর বছর এতো উল্টাপাল্টা কান্ড ঘটাও!
-কী বলছো তুমি!আমিতো তোমার কথার মাথা মন্ড কিছুই বুঝতে পারছি না!
-এসব কী লিখেছো?তোমার আবার আরেক পরিবার কবে হলগো?সেই পরিবারের প্রিয়তমার নাম দেখছি সোনেলা।আর মেয়েগুলোর নামও দেখছি-ঐ প্রিয়তমার নামের সাথে মিল করে রাখা-একজনের নাম সো’নালী,দ্বিতীয় জনের নাম না’বিলা,তৃতীয়জন এখনো অভূতপূর্ব!জন্মই হয়নি অথচ নাম রেখে দিয়েছো লী’লাবতী!বাহ্ চমৎকার তোমার দ্বিতীয় সংসার।

বউ আরো কিছু অংশ পড়লেন এবং মফিজকে যা বললেন তা শুনেতো রীতিমত সে অবাক।যার ভয়ে মফিজ মোবাইল দেখেন চুপি চুপি সে আজ এতো খুশি!
-তোমার পরিবারে আমিও যাব,নিবে আমায়?
-মানে?
-মানে হল  ২৩ সেপ্টেম্বর  তোমার পরিবারের জন্মদিন।সেই জন্মদিনে নিশ্চয় পার্টি হবে,হবে ভাল মন্দ খাওয়া দাওয়া?কত লোক আসবে তাদের সাথে পরিচিত হতে আমার না খুব ইচ্ছে করছে।এই সাত বছরে তুমি আমাকে বহু ঠকিয়েছ আর ঠকতে চাই না।বলো নিবে কীনা?

এবার কী উত্তর দিবো বলেন প্রিয় পরিবারের প্রিয় ব্লগার ভাই বন্ধুরা ?

উত্তর যাই হোক প্রায় সাত বছর পর বউ জানল এতোদিন চুপি চুপি যে প্রেম করে চলেছি,যার সাথে সে আর কেউ নয় সবার প্রিয় আমাদের এই সোনেলা ব্লগ পরিবারের সাথে।তার জন্মদিনে বউ আমার স্পেশাল উইস জানিয়ে বলল আমাকে নাকি বিশেষ জরিমানা করাবে!এতোটা বছর কেন তাকে জানাইনি এই পরিবার ছাড়াও আমার আরেকটি পরিবার আছে- যার নাম “সোনেলা ব্লগ”

 সোনেলা ব্লগ পরিবারে সবাইকে নয় বছর পদার্পনে শুভেচ্ছা-অভিনন্দন।
ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন।জয়তু সোনেলা।

 

 

২১২জন ৪১জন
0 Shares

৩৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য