* ব্লগ (Blog) যেখানে একই সাথে লেখা, পড়া, শেখা, শেখানো, অপরের ভিন্ন মতবাদ সম্পর্কে জানা, এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অগুণতি মানুষের সাথে নিজের মনোভাব সহ মতবাদ স্বাধীন ভাবে আদান-প্রদান খুব সহজেই করা যায়।

এছাড়া নিজেদের ভালোলাগা, আনন্দময় মুহুর্ত গুলো একইস্থানে জমা করা, দৈনন্দিন জীবনের খেরো খাতা ( ডায়েরি ) , চোখের সামনে ঘটা পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া, ভ্রমন, রোগ-শোক, শুভদিন-শুভেচ্ছা বিনিময় করার জন্যেও ব্লগ হতে পারে অন্যতম একটি মাধ্যম।

ব্যস্ততম সময়ে খাতা-কলমের নিয়মিত ব্যাবহার আমরা ছেড়ে দেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করেই। কিন্তু তারপরেও লেখা-লেখি থেমে থাকেনা। পত্র-পত্রিকায়, অনলাইনে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায়, কখনো বা ব্যাক্তিগত একটি ডায়েরিতে দিন শেষে কিছু না কিছু লিখেই রাখি। লেখা-লেখি বা পড়ার মাধ্যম হিসেবে অনলাইন মাধ্যম গুলো এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে। যার বেশির ভাগটাই দখল করেছে ব্লগ এবং ফেসবুক।

ফেসবুকটা শুধুই প্রতিদিনের জন্যে। এখানকার লেখা-পড়ার পরিসর সীমিত বলা চলে। নামই যেহেতু ফেসবুক, তাই এর মুল আকর্ষণই হলো ব্যাক্তির ফেস ( মুখ)। ছবি, ভিডিও, স্টাটাস এগুলোই এখানে মুখ্য। লাইক-কমেন্ট-শেয়ার তারপর পোস্টের মর্যাদা কমে যাবে পরবর্তী পোস্ট দেয়ার সাথে সাথেই।

ফেসবুকে আপনি যাই লিখুন তার মুল পাঠক বা পাঠ-প্রতিক্রিয়া কাঙ্খিত মানের পাবেন, এই ধারণা করা ভুল। আপনার পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে থাকা ছবিতে আপনি যে মন্তব্য পাবেন, পোকা ধরা আম খাওয়ার ছবিতেও সেইম কমেন্ট পাবেন। অথবা আপনার বিয়ে বা মায়ের মৃত্যুর পোস্টেও আপনি লাইক পাবেন! কারণ ফেসবুকে আপনার মুল বক্তব্য পড়ার পাঠক অতি নগণ্য। এখানে লাইক-কমেন্ট দিয়ে পাশে থাকাকেই বন্ধুত্ব/ ভক্ত/ পাঠক হিসেবে ধরে নেয়া হয়।

যিনি লেখেন, তিনি চান তার ভাবনার জগৎটা আরো বিস্তৃত হোক। তার লেখাটি পাঠকের কাছে পৌছে যাক। পড়ার পর পাঠকের কাছে তার লেখাটি কতটুকু সমাদৃত হয়েছে বা পাঠকের মনে বিরূপ কোন প্রভাব ফেলেছে কিনা সেটা জানার প্রতিও লেখকের মাঝে একটা আগ্রহ থাকে। আর এই আগ্রহটা শুধু মাত্র ফেসবুকে লিখে কখনোই মিটবেনা।

ফেসবুকের বন্ধুরা লাইক-রিয়েক্ট দিয়ে যাবে। কিন্তু লাইক-রিয়েক্ট পেয়ে আর যাই হোক লেখক তার লেখার মান সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা পেতে সক্ষম হবেন না। এক্ষেত্রে ব্লগ অগ্র ভুমিকা পালন করে।

ব্লগে প্রকাশিত লেখাটি মুহূর্তেই ছড়িয়ে যায় পাঠক থেকে পাঠকে। এখানে পাঠক গন লেখকের নাম/পরিচয় নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দে থাকেনা। পক্ষপাতিত্ব নেই। লাইক-রিয়েক্ট এর পরিসংখ্যা নিয়েও প্রতিযোগিতার অবকাশ নেই। এখানে লেখক নিজে লেখেন, পাঠ করেন, নিজের লেখার বিশ্লেষণ করে দেন বুঝতে না পারা পাঠকের মন্তব্যের জবাবে। এখানে পাঠকও লেখক। পাঠক লেখাটি নিজ আগ্রহে পড়েন, মতামত দিয়ে প্রকাশ করেন তার পাঠ-প্রতিক্রিয়া।

ফেসবুককে যদি দৈনন্দিন খোঁজ-খবরের জগৎ হিসেবে ধরি, বা বাড়ির ঘর-উঠোন বলি, তাহলে ব্লগকে আমরা বলতে পারি লেখক-পাঠকের মিলনস্থান। একটি ফ্লাটে বা বাড়িতে একটি পরিবার থাকে, কিন্তু একটি মিলন স্থানে বা মিলন মেলায় কত পরিবার অংশ নেয় তা গুনে শেষ করা যাবেনা।

* সোনেলা দিগন্তে জলসিঁড়ির ধারে…
সোনেলা ব্লগ স্বাধীন ব্লগারদের বিচরণ করা সমস্ত ব্লগের মাঝে অন্যতম। কারণ এই ব্লগের সুষ্ঠ নীতিমালা, আভ্যন্তরীণ সুবিধা, বিভাগ সমূহ, কারিগরি দিক, আনলিমিটেড পাঠক সংখ্যা, কোন্দলমুক্ত পরিবেশ অন্য যে কনো ব্লগ থেকে উন্নত মানের। এছাড়াও সোনেলার কিছু আলাদা বৈচিত্র্য ব্লগটিকে ভিন্নরূপে নিজেকে প্রকাশিত করেছে। অন্য অনেক ব্লগগুলোতে প্রায় ললক্ষাধিক ব্লগার /পাঠক থাকা সত্বেও মন্তব্যের সংখ্যা ১০/১৫ অতিক্রম করেনা, সেখানে সোনেলা ব্লগের প্রতিটি পোস্টে লেখকগণ গড়ে ২০ টি কমেন্ট পাচ্ছে! বিশ্বের ৪৭ টিরও ( এই মুহুর্তের হিসেবে ) বেশি দেশ থেকে গুগল সার্চ এর মাধ্যমে পাঠক আসে এই ব্লগে। সোনেলা ব্লগের ইউনিক পাঠক বর্তমানে ৯৫৩ জন ( অর্থাৎ এই সংখ্যক পাঠক প্রতিদিন সোনেলা দেখবেনই, এর পরে আছেন অস্থায়ী পাঠক যারা প্রতিমুহূর্তে গুগল সার্চ দিয়ে আসেন এই ব্লগে )  যা যে কোনো ব্লগের চাইতে কয়েকগুণ ছাড়িয়ে। দেশের অন্যান্য ব্লগ যখন ম্রিয়মাণ, তখন সোনেলা ব্লগ তার প্রতিষ্ঠার আট বছরে পদার্পন করেছে। এটি সম্ভব হয়েছে সোনেলার ব্লগার, লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসার কারনেই।

সোনেলা ব্লগের একজন হতে পেরে আমি নিজেকে সম্মানিত মনে করি। কাছের-দূরের যারাই লেখা-লেখি বা ব্লগিং করতে ইচ্ছুক, তাদেরকে সোনেলা ব্লগ পরিবারে স্বাগতম। আসুন, লিখুন, বাংলা ব্লগ সাইট জগতের অন্যতম সোনেলা ব্লগ। এই সুন্দর উঠোনে সবাইকে আমন্ত্রন জানাই।

৬৫৪জন ১জন
151 Shares

৮২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য