সেপ্টেম্বর মাস সোনেলা ব্লগের অষ্টমবর্ষে পদার্পনের মাস, সোনেলার জন্মোৎসব পালনের মাস। সাত বছর পেরিয়ে এ মাসের তেইশ তারিখ সোনেলা পদার্পণ করেছে অষ্টমবর্ষে। সোনেলা ব্লগের অষ্টম বর্ষে পদার্পণ এবং ব্লগের জন্মদিন উপলক্ষে সোনেলা পরিবারের সকল সদস্য, আমাদের ব্লগার লেখক, পাঠকদের মাঝে যে অভাবনীয় উৎসাহ উদ্দীপনা দেখেছি, যে সাড়া আপনাদের কাছ থেকে পেয়েছি তা দেখে সত্যিই আমরা অভিভূত এবং সেই সাথে গর্বিত। সোনেলার একজন এডমিন হিসেবে তাই আমার অনুভূতি আপনাদের সবার সাথে শেয়ার করা উচিত বলেই মনে করি।

আমরা দায়িত্ব, কর্তব্য এবং ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ-

সোনেলার জন্মোৎসবে আমাদের ব্লগ মডারেটরগন, চৌকশ এডমিনগন এবং উপদেষ্টামন্ডলীর প্রত্যেকেই নিজেদের যে শ্রম ও সময় দিয়ে এ উৎসবকে সফল করেছেন এজন্য ধন্যবাদ তাদের প্রাপ্য। প্রিয় সহকর্মীবৃন্দ, আপনাদের প্রতি রইলো আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা।

শুরুর কথা-

সোনেলা ব্লগের জন্মমাস উপলক্ষে সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে সোনেলার ফেসবুক গ্রুপে আমি লেখকদের সবাইকে সোনেলাব্লগ নিয়ে নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করে লিখতে অনুরোধ করেছিলাম। আমার সে ডাকে সাড়া দিয়ে আমাদের ব্লগারগণ সোনেলার প্রতি নিজেদের ভালোবাসা ব্যক্ত করে যেসব লেখা দিয়েছেন প্রত্যেকটি লেখাই এক একটি রত্ন, অমূল্য সম্পদ সোনেলার কাছে। সেসব লেখা পড়তে গিয়ে আমরা খুঁজে পেয়েছি সোনেলার প্রতি আপনাদের অগাধ বিশ্বাস এবং আস্থা। যে অকৃত্রিম ভালোবাসা আপনাদের কাছ থেকে পেয়েছি এ বন্ধনকে কোন নাম দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আর আপনারা লেখকগণ হচ্ছেন হীরকখণ্ড যার প্রজ্জ্বলিত আলো কখনওই ম্লান হয়না।

ব্লগারদের ভালোবাসার অনুভূতি-

প্রিয় পাঠক, সোনেলার অষ্টমবর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে ব্লগারদের নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করা লেখাগুলি থেকে আমার ভালোলাগা কিছু চৌম্বক অংশ আপনাদেরকেও শোনাই চলুন-

সোনেলার জন্মোৎসবে নিজের ভালোবাসার অনুভূতি প্রথম জানিয়েছিলেন ব্লগার তৌহিদ। তিনি লিখেছিলেন তিনটি লেখা। তিনি সোনেলার জন্মমাসে পদার্পণ শিরোনামে লিখেছিলেন সোনেলার পাঠক, তাদের মন্তব্য এবং সোনেলার লেখা শেয়ারে নিজের অনুভূতি –

” অন্যান্য বাংলা ব্লগের তুলনায় সোনেলা ব্লগের প্রতিটি লেখায় পাঠক সংখ্যা, মন্তব্য সংখ্যা এবং অনলাইন শেয়ারের অংকটা দেখলে গর্বে বুক ফুলে যায়। আমিও যে এই পরিবারেরই একজন সদস্য। আমাদের নিজেদের সাথে কিংবা অন্যদের সাথে কারও কোনো দ্বন্দ্ব নেই, দম্ভ নেই, ন্যূনতম অহমিকা নেই। সবার শেষ বিন্দুটুকুও সোনালী ভালোবাসা আর মমতার মোড়ানো। সত্যিই অন্যান্য ব্লগের সবার থেকে আমরা সোনেলা পরিবার ভালো আছি, অনেক অনেক ভালো।”

সোনেলার জন্মদিনে আমার অনুভূতি শিরোনামে তিনি লিখেছিলেন নিজের প্রাপ্তির কথা-

” সোনেলার কাছে কিছু চাইবার নেই আমার। কারন সোনেলায় আমার ব্যক্তিগত প্রাপ্তি অনেক বেশী। নিজের যে হৃদপিন্ড নিয়ে সোনেলায় প্রথম এসেছিলাম সেটি এখন প্রাণ ভোমরায় রুপান্তরিত হয়ে লুকিয়ে আছে সেই মহীরুহের একেবারে মধ্যখানে। সোনেলার মায়ায় সোনেলার সুশীতল ছায়ায় দাঁড়িয়ে সোনালার উদ্দেশ্যে আজ একটি কথাই বলতে চাই- হে সোনেলা, মহাকাল সিংহাসনে সমাসীন মহান লেখকদের বিচারক তুমি। আমায় শক্তি দাও, শব্দের কৃপাণকে খাপ হতে উন্মুক্ত করার অনুমতি দাও। আমি লেখার বজ্রবানী ছড়িয়ে দিতে চাই এ মহাবিশ্বে। শিরা-উপশিরায় স্পন্দিত লজ্জাতুর ঐতিহ্যের হৃদস্পন্দনের রুদ্ধকণ্ঠে ভয়ার্ত এ অশৃঙ্খলিত যুগে যেন আমার শব্দেরা নিঃশব্দে প্রচ্ছন্নিত হয় আমার লেখার চিতার ভস্মতলে। আমায় ভুলে যাও সরে যাও ক্ষতি নেই, কথা বলো না বলো ওগো বন্ধু, ছায়া হয়ে তবু পাশে রইবো।”

সোনেলার কেক উৎসবে সোনালিরঙা ঘণ্টিবাদক! শিরোনামে যে রম্যটি তিনি লিখেছেন সেটি ছিলো সোনেলার কেক কাটা অনুষ্ঠানে কল্পিত চিত্র। তবে রম্যে যেসব চরিত্রকে তিনি এনেছেন তারা সবাই কিন্তু সোনেলার জন্মোৎসবে নিজেদের লেখা উপহার দিয়েছিলেন। যারা লেখা দেননি তাদের পক্ষে হয়েও লেখক নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেছিলেন একজন ঘণ্টিবাদক হিসেবে। তিনি বলেছেন-

” তবে ঘণ্টিবাদক লোকটার মন জানে, যারা প্রেমপত্র লেখেননি তারাও সোনেলাকে ভালোবাসে। সবাইতো আর ভালোবাসা লিখে প্রকাশ করেনা। কেউ কেউ মনেমনেও ভালোবাসে, এটা বুঝে নিতে হয়। তাই বলে তারা কেকের ভাগ পাবেনা এই রায় কিছুতেই মেনে নেয়া যায়না।

এখন তারাও হতভম্ব হয়ে পত্রিকা হাতে চেয়ে আছে ঐ রাস্তার দিকে। বলা যায়না কালো চশমার সোনালি রঙা মানুষটি এদিক দিয়েও আসতে পারে। আমাদের পক্ষ নিয়েছে সে, বড্ড ভালো ছিলো লোকটি! “

ব্লগার মনির হোসেন মমি লিখেছিলেন তিনটি লেখা। সোনেলার “জন্ম মাস” এবং আমার কিছু স্মৃতি-আক্ষেপ এবং চাওয়া শিরোনামে তিনি লিখেছিলেন সোনেলার ব্লগারদের সাথে প্রথম দেখা হবার অনুভূতি। তিনি লিখেছেন-

” কাউকে চিনি না জানি না কখনো দেখিনি অথচ আড্ডায় কতটা গভীর বন্ধুত্ব, মমতাবোধ,পারস্পরিক আন্তরিকতা এ এক অন্য রকম মন দুলানো পরিবেশ।সেই দিনই আমার মনে ব্লগার সম্পর্কে একটা স্বচ্ছ ধারণা এসেছে যে ব্লগারাও অন্য আটদশ মানুষের মতই রক্তে মাংসে গড়া সাধারণ মানুষ।তাদের লেখায় উঠে আসে সমাজ অবক্ষয়ের বাস্তব চিত্র,উঠে আসে দেশের বর্তমান ভবিষৎ নিয়ে ভাবনার তাৎপূর্ণময় লেখা,সুন্দরের পূজারী কবি’র কবিতায় উঠে আসে প্রেম বিরহ, প্রকৃতির সৌন্দর্য,দেশ প্রেমের ইতি কথা আবার কখনো কখনো ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ঝড়। জীবনকে জানতে,পৃথিবীকে মানতে মানব জনম ক্ষণস্থায়ী বুঝতে ব্লগের চেয়ে বড় কোন প্লাটফর্ম অন্য আর কোন কিছু আছে বলে আমার জানা নেই। এরপর ২০১৬ সাল এর আড্ডা সহ ব্লগারদের ব্যাক্তিগত বিভিন্ন আড্ডা সোনেলাকে জনপ্রিয় করে তুলে।”

সোনেলার সোনালী অতীত এবং নতুনদের জয়গান শিরোনামে লেখায় তিনি নতুন এবং সিনিয়র ব্লগারদের সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তিনি বলেছেন-

” আমি কেন সোনেলায় এলাম বা এতোটা বছর যাবৎ এখনো কেন সোনেলায় লিখছি, কেন আছি আর কেনো বা থাকব। তার মুল কারন হল দুটো।একটি হল ব্লগে ব্লগ পোষ্টের খুটিনাটি বানান এবং বাক্যের ভুলত্রুটি হত যা ব্লগ কর্তৃপক্ষ আমাকে ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়ে আমার কাঁচা হাতের লেখার মান উন্নয়ণ ঘটানোর আন্তরিকতা ছিলো অমায়িক।

দ্বিতীয় কারন হল- এ ব্লগ মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে, মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে ব্লগ কর্তৃপক্ষ রাজাকার বিরোধী কথা বলার সাহস যোগায়।”

মমি ভাইয়ের শুভ জন্মদিন “তোমার” শিরোনামের লেখাটিতে আমি চমৎকৃত হয়েছি। মমি ভাইয়ের প্রথম সন্তান মুহিনের জন্ম এবং সোনেলা ব্লগের জন্ম একই মাসের একই দিনে। এই বিষয়টি জেনে আমরা পুলকিত হয়েছি সবাই। সোনেলাকে তার লেখনীর জন্মদাত্রী মা হিসেবে মনেপ্রাণে বিশ্বাস ধারণ করে লেখক বলেছেন-

” সাংসারিক জীবনের দীর্ঘ প্রায় বার বছর পর এমনি একটি দিনে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০০৮ সালে ঘর আলো করে এলো আমাদের প্রথম পুত্র সন্তান মঈনুল হোসেন মুহিন। প্রথম সন্তানের পিতা হওয়ার অনুভুতি কেবল সেই পিতাই ভাল ভাবে অনুভব করতে পারেন। সে এক অন্য রকম অনুভুতি।পৃথিবীর অন্য সব সুখ ছাপিয়ে সন্তানের গর্বিত পিতা হওয়ার সুখ অনেক উচুতে তার অবস্থান।”

মমি ভাই আপনার অনুভূতিকে স্যালুট জানাচ্ছি।

ব্লগার শবনম মোস্তারী সোনেলায় আমার পথচলা শিরোনামে সোনেলায় নিজের আগমনের স্মৃতিচারণ করে লিখেছিলেন-

” লেখালেখির জন্য সোনেলা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে এসে লেখকদের লেখার গতি রেলগাড়ির গতির মতো ছুটে চলে দূর্বার গতিতে। সোনেলা ব্লগ তার আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হতে থাকুক যুগ-যুগান্তরে। সোনেলাকে যদি মা বলি তাহলে আমরা সবাই তার সন্তান। প্রিয় সোনেলা, তোমার গুনী সন্তান-সন্ততি আর নাতিপুতিদের নিয়ে এগিয়ে চলো ভালোবাসার অটুট বন্ধনে। তোমার পথ চলা হোক নিষ্কণ্টক এই প্রার্থনাই থাকবে চিরকাল।”

ব্লগার রেহানা বীথি ভালোবাসার উঠোন, সোনেলা শিরোনামে তার ভালোবাসার কথা জানিয়ে লিখেছিলেন-

” ব্লগ সম্পর্কে অজ্ঞ একজন নতুন ব্লগারের অপারগতাকে দ্রুত সমাধানের পথ দেখানো, শুধুমাত্র আপনজনরাই পারে। যেকোনো সমস্যার কথা বলার সাথে সাথে আন্তরিকভাবে পাশে দাঁড়ানো একটা অনেক বড় ব্যাপার। যা পেয়েছি সোনেলা ব্লগে। লেখায় দায়সারা মন্তব্য না করে, সবার সুচিন্তিত মন্তব্য মুগ্ধ করেছে আমাকে। অল্প সময়ে সবার ভালোবাসা পেয়েছি যথেষ্ট। বিনিময়ে আমি দিয়েছি খুব কমই। সে ব্যর্থতার দায় একান্তই আমার। আশাকরি, নিজের ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠে আরও একটু বেশি সময় দিতে পারবো ব্লগে।”

ব্লগার আরজু মুক্তা সোনেলার জন্মমাস শিরোনামে লিখেছেন নিজের অনুভূতি –

“এখানে লিখতে পেরে আমার আত্মবিশ্বাসও বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে! কলম আর খাতা নিলে আমিও লিখতে পারি এখন, ইচ্ছমতো ঘুড়ির ডানায় পাখা মেলে প্রজাপতির মতো সাতরঙা পরাগ মেখে উড়তে পারি অজানায়।

সোনেলা এগিয়ে যাক, তার সাবলীল পথচলা কন্টকমুক্ত হোক! মহাকাশে এর বিজয় নিশান উড়ুক। তোপধ্বনি হোক বারবার। এর উঠোন নতুন নতুন লেখক দিয়ে পরিপূর্ণ থাকুক।”

ব্লগার এম ইঞ্জা সোনেলার আমি – আমার সোনেলা শিরোনামে প্রিয় সোনেলায় তার বিচরণের আদ্যোপান্ত স্মৃতিচারণ করে লিখেছিলেন সোনেলায় তার ভালোবাসার কথা। তিনি বলেছেন –

” প্রিয় সোনেলা, তোমার কাছে যা চেয়েছি তার বেশি কিছুই পেয়েছি, তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছো, করেছো আমায় লেখক, কবি, সাহিত্যিক, সময়ের আলোচক। তুমি ছাড়া আমি কিছুই ছিলামনা, তুমিই আমাকে নিয়ে গেছো বিশ্ব সাহিত্যের কাছাকাছি।

তোমার কাছে আমার ওয়াদা ছিলো যা “কখনো সোনেলাকে ছেড়ে যাবোনা”, যদি যেতেই হয় তাহলে হবে আমার ব্লগিং জীবনের ইতি।”

ব্লগার নাজমুল হুদা শুনতে পাও এখন; সোনেলা শিরোনামে চমৎকার একটি কবিতার সাথে সোনেলায় তার অভিজ্ঞতা এবং সোনেলার প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে লিখেছিলেন –

” আমি সোনেলা নামটিকে একটি নারী চরিত্র মনে করি। কিন্তু আমি সোনেলার পুত্র সন্তান নই, আবার নাতিও নই। সোনেলাকে শুধু আমি আমার একটি বিশেষ নারী চরিত্র মনে করি এবং ভালোবাসি ।

এইজন্য আমার কবিতায় বলি,

”অতঃপর, সেই ২৫ শে মে আমি
কবিতার মতোই কিশোরী তোমার হাত পুষেছি বলে
শুনতে পাও এখন; সোনেলা ভালোবাসি.. ভালোবাসি!”

ব্লগার নিতাই বাবু সোনেলার বুকে আমি একজন অচেনা অতিথি শিরোনামে লিখেছিলেন নিজের একান্ত কিছু অনুভূতি যা আমাকে কিঞ্চিৎ ভাবিয়ে তুলেছিলো বটে তবে অনুপ্রেরণাও পেয়েছি। তিনি লিখেছেন-

” আমি আরও অনলাইনভিত্তিক বাংলা ব্লগে লেখালেখি করেছি। কিন্তু এখানকার মতো এতো আন্তরিকতা কোনও ব্লগে বা কোনও সাইটে দেখিনি। এখানে অন্যান্য ব্লগের তুলনায় আন্তরিকতা অনেক বেশি। সোনেলা প্লাটফর্মের সোনালি মানুষগুলোর আন্তরিকতার কমতি নেই। কমতি নেই ভালোবাসারও। একে অপরের জন্য সবসময় কাছে থাকে। তা বোঝা যায় ব্লগপোস্টের মন্তব্য দেখে। প্রতিটি পোস্টেই পোস্টদাতাকে মন্তব্যের মাঝে উৎসাহ অনুপ্রেরণা দেওয়া হয়। লেখায় ভুলত্রুটি হলেও, সংশোধনের জন্য আহবান জানানো হয়। বানান বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু বাড়তি কোনো সমালোচনা করা হয় না। এটাও একরকম একে অপরের প্রতি আন্তরিকতা, বিশ্বাসযোগ্যতাও বলা চলে।”

জনপ্রিয় ব্লগার ছাইরাছ হেলাল লিখেছিলেন দু’টি লেখা। তিনি সোনেলা সোনেলা শিরোনামের লেখাটিতে সোনেলার প্রতি তার আবেগের কথা বলেছেন-

” বিষের বালি চিনি-না/দেখিনি, তাই দেখা হয়নি মুক্তোমালা। সোনেলাকে রেখেছি হৃদয়ের গভীরতম গভীরে অসংখ্য যোদ্ধা আপন জনের সাথে, সুগোপন হিরণ্ময় সুখের শিকড়ে; সাত-মহলা নম্র-হাততালির তোয়াক্কা না-করেই। মোহন মন্ত্রের বিশাল শোরগোল তুলে নয়, হেমিলনের মিনমিনে বাঁশিতে; বিভ্রান্ত-ভ্রান্তির হইচই-হীন ইস্পাত স্থিরতায়, মিষ্টি মিষ্টি সম্মিলনে, স্মৃতির প্রতিবিম্বিত দীঘির পথ-পরিসরে প্রতিধ্বনিত হয় আলোকের আনন্দ-গুঞ্জন।”

অতঃপর সোনেলা- শিরোনামে লেখায় তিনি ফ্রানৎস কাফকার একটি উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন-

“Such gentle hands and such blood works”

” সিডোরে আপনজনদের সাথে শিলা-পাহাড় হয়ে পথ আগলে দাঁড়িয়েছেন। সহজবোধ্য স্বভাবজ বিনয় বদান্যতা, সুষ্ঠ নিপুণতায় স্বচ্ছ-শালীন নয়ন- নৈপুণ্যে অনন্য-লঘু আবেদনে, সে সবই একান্ত আপনার অনায়াস সাধ্যতা। সোনেলা স্মরণে থাকুন, স্মরণে রাখুন সাবিনা ইয়াসমিন। “

এ লেখাটি তিনি সোনেলার অন্যতম জনপ্রিয় ব্লগার সাবিনা ম্যাডামের দৃঢ়চেতা মানসিকতা, সোনেলার প্রতি তার বিশ্বস্ত মনোভাবকে সম্মান জানিয়ে লিখেছিলেন ব্লগার ছাইরাছ হেলাল। আপনার এই লেখার ভাবার্থের সাথে আমারও সমর্থন রয়েছে হেলাল ভাই।

ব্লগার নাজমুল আহসান সোনেলা প্রান্তরে, ভ্রমরার গুঞ্জরে শিরোনামে লিখেছেন- সোনেলার জন্মসময়ের কিছু কথা। সোনেলায় তার নিজের অবদানের স্মৃতি ব্যক্ত করেছেন এ লেখায়। তিনি বলেছেন-

“প্রতিদিন কত শত পাঠক, লেখক সোনেলার উঠোনে এলেন! তাঁদের পুণ্যস্পর্শে সোনেলা আলোকিত হল। সোনেলা ক্রমশ পরিচ্ছন্ন ব্লগের সমার্থক হয়ে উঠল। মানুষ এখন সোনেলাকে চেনে। এই মান, পরিচয়ের পিছনে যাঁরা অকৃত্রিম শ্রম আর সময় দিয়েছেন, তাঁদেরকে আমি অন্তর থেকে ভালবাসা আর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

আর সোনেলার প্রথম ব্লগার এবং ডেভেলপার হিসেবে আমি তো একটু গর্ব করতেই পারি!”

আমরাও আপনাকে পেয়ে আনন্দিত ব্লগার নাজমুল।

ব্লগার শামীম চৌধুরী ফিরে আসুক দিনটি বার বার শিরোনামে লিখেছেন তার আবেগ অনুভূতির কথা –

“সারাদিন কর্মের ব্যাস্ততায় যখন হাঁপিয়ে উঠি তখন উঠানে এসে ক্লান্তি ঢেলে দিতে পারি। এটাই হচ্ছে সোনেলা পরিবারের প্রাপ্তি ও তৃপ্তি।

এই উঠানে মনের আবেগ, ব্যাথা, সুখের কাহিনী, দুঃখের গল্প সবই মন খুলে বলতে পারি ছন্দ বা কাব্যিকের ভাষায়। কারো কারো পরিচিতি বাড়ে কবি সাহিত্যিক ও গল্পাকার হিসেবে। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথপোকথনে কারো কারো মনের প্রশান্তি বাড়ে। তাতেই সকল সদস্য নিজ নিজ অবস্থানে থেকে নিজ প্রাপ্তি সম্মানটুকু পাচ্ছেন এই সোনেলা উঠানে।

সোনেলার জন্ম না হলে কি হতো..?

সোনেলার জন্ম না হলে আমাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারতাম না। আমাদের আবেগময় ঘটনাগুলি প্রকাশ করতে পারতাম না।”

আপনার সোনেলার প্রতি ভালোবাসা আমাকে মুগ্ধ করেছে ভাই।

ব্লগার শাহরিন দাদার পাগলামির সোনেলা শিরোনামে লিখেছেন-

” দিন দিন দাদার অপরিসীম চেষ্টায় আর মায়ায় সোনেলা বেড়ে উঠেছে। যখন খারাপ লোকের দৃষ্টি পরলো তখনও মনে সাহস ছিল যে দাদার স্বপ্ন কেউ নষ্ট করতে পারবে না। আল্লাহর রহমতে সবই ঠিক আছে থাকবে।

আমার সোনালায় তেমন কোন ভূমিকা নেই।তাই কিছু লেখারও নেই। শুধু চাই দাদার পাগলামিটা যেন সবার দোয়ায় আর চেষ্টায় বহুকাল বেচে থাকে। অনেক অনেক শুভ কামনা সবাইকে।”

এ লেখাটি জনপ্রিয় ব্লগার জিসান ভাইয়ের সোনেলা নিয়ে নিত্যদিন করা নিজের আবেগ-অনুভূতির কথা লিখেছেন শাহরিন আপু।

মোস্তাফিজুর খাঁন সোনালী সোনেলা কবিতায় লিখেছেন-

“সোনেলা তোমার সোনালী আসর,
সোনালী গন্ধে ভরা ।
দেখছি তোমার জলসিঁড়ির ধার,
ফুলে ফুলে ঘেরা।”

শিপু ভাই সোনেলার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি ছোটগল্প নিয়ে এসেছিলেন। ধার শিরোনামে তিনি লিখেছেন-

“সোনেলা ব্লগ…প্রাণের ব্লগ

এই ব্লগ হল আমাদের বুক ভরে নির্মল নিঃশ্বাস নেয়ার একটা জায়গা! ভালোবাসার খেরোখাতা “

হৃদয়ের কথা সোনেলা ব্লগ ও আমি, (শুভ জন্মদিন সোনেলা ব্লগ) শিরোনামে নিজের মতামত ব্যক্ত করে লিখেছেন-

” আমি খুবই অবাক হলাম সোনেলা ব্লগের পোষ্ট দেখে। এত দামী এবং জরুরী একটি লেখা সোনেলা ব্লগে! এর তেমন প্রচারও নেই। কজনই বা জানেন এমন একটি ব্লগ আছে বাংলা ব্লগ জগতে! সেই যে সোনেলায় এলাম, আর গেলাম না। পাঠক হিসেবে নিয়মিত কিছুক্ষনের জন্য আসতামই সোনেলা ব্লগে। পুরাতন লেখার সাথে সাথে নতুন ব্লগারদের লেখাও পড়া আরম্ভ করলাম। সোনেলার সমসাময়িক পোষ্ট গুলো অসাধারন। কয়েকজন কবি আছেন যারা খুব ভালো কবিতা লেখেন। গল্প লেখক কম নয় এখানে। তবে মুভি রিভিউ এবং টেকি পোস্টের অভাব আছে এখানে।”

আপনার মতামত আমরা যথেষ্ট গুরত্বের সাথে নিয়েছি হৃদয়ের কথা।

মারজানা ফেরদৌস রুবা অষ্টম বছরে সোনেলা! শিরোনামে তার লেখায় বলেছেন-

” সোনেলার উঠুনে বসে লেখতে লেখতেই একসময় লেখাটা নেশা হয়ে উঠেছিলো।
আমার বেশিরভাগ লেখাই সমসাময়িক বিষয়বস্তু নিয়ে।

আজ ঢুঁ মেরেই দেখলাম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বেশ একটা হৈ-হুলুস্থুল হয়ে গেলো। ইতোমধ্যে সাত ছাড়িয়ে গেছে।
শুভ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সোনেলা ব্লগ। ব্লগের সবাইকে শুভেচ্ছা।
হ্যাপি ব্লগিং… “

ব্লগার বন্যা লিপি সোনেলার জন্মমাসে অনুরাগ// শিরোনামে সোনেলায় লিখেছেন নিজের অনুভূতির কথা। তিনি বলেছেন-

“এখানে পেয়েছি সব্বাইকে। তাঁদেরকে যারা আদতেই সোনেলার সোনালী সৈনিক!
ঝড় থেমেই যায় একসময় না এক সময়!
রেখে যায় শিক্ষা। তবু জীবন থেমে থাকেনা। থাকেনি, থাকবেনা সোনেলার পথচলা। সোনেলা এমন একটা ব্লগ যেখানে সবাই সবার লেখা যথেষ্ঠ সন্মান এবং মানসম্মত মর্যাদা দেন প্রত্যেক লেখক। এখানে আপন ঘর সবার।”

প্রিয় ব্লগার সাবিনা ইয়াসমিন ‘আমি ও আমার নির্বাক রুদ্ধতা’ (শুভ জন্মদিন সোনেলা) শিরোনামে পাঠকদের জানিয়েছেন সোনেলার প্রতি তার ভালোবাসার কথা। তিনি লিখেছেন-

“সোনেলায় এসেছি, দেখেছি, ভালোবেসেছি। ভালোবাসা পেয়েছি। আসলে বলতে চাই, যতটা দিয়েছি তার চাইতে হাজার গুন বেশি ফেরত পেয়েছি। অনেক কিছু চাইলেও বলা যায়না শব্দ সংকটের কারণে। অপারগতায় থেমেছি বহুবার। শুধু ভালোবাসাটুকু বিস্তৃত হয়ে গেছে দিন বদলের ক্ষণে ক্ষণে।

সোনেলার নিরন্তর জয়যাত্রায় অংশ নিতে পেরে আমি ধন্য।

প্রিয় ব্লগের সফলতা কামনা করি।”

প্রিয় ব্লগার জিসান শা ইকরাম সোনেলার অষ্টম বর্ষপূর্তিতে জন্য চারটি লেখা লিখেছিলেন নিজের অসুস্থতা এবং ব্যস্ততাকে দূরে ঠেলে দিয়ে। তার লেখার মাঝে পাঠক খুঁজে পেয়েছেন সোনেলা ব্লগ সৃষ্টির ইতিকথা, ব্লগ নিয়ে তার চিন্তা, চেতনার অমুল্য সব স্মৃতি।

সোনেলাঃ আনন্দ বেদনার কথা -১ ( আজ আনন্দের কথা ) শিরোনামে তিনি লিখেছেন সোনেলা নামকরণের ইতিহাস। তিনি লিখেছেন-

“যে কোন সৃষ্টিতেই আনন্দ এবং বেদনা থাকে। সন্তান জন্ম দেয়ায় একজন মা যে সীমাহীন কষ্ট সহ্য করেন, এই কষ্টের পরিসমাপ্তি হয় আনন্দের মধ্যে দিয়ে। সন্তান ভূমিষ্ট হবার পরে তার কান্না মাকে কষ্ট ভুলিয়ে দিয়ে আনন্দের এক ভিন্ন আনন্দের জগতে নিয়ে যায়।

নিজেদের লেখার জন্য একটি ব্লগ সৃষ্টি করতেই হবে। এই তাড়নায় প্রথমেই আসে নাম নির্বাচন। অনেক নামের তালিকা করি দিন রাত ভেবে বন্ধু ছাইরাছ হেলালকে নিয়ে। প্রায় এক সপ্তাহ এই নাম নির্বাচনের চেষ্টা চলে। নোট খাতার পাতায় লেখা নামের উপর কাটাকাটি চলতেই থাকে। হঠাৎ যে নামটি লেখাই হয়নি খাতার কাগজে, সে নামটি বলে ফেলেন ছাইরাছ হেলাল- সোনেলা।”

সোনেলাঃ আনন্দ বেদনার কথা -২ ( আনন্দের কথা ) শিরোনামে তিনি লিখেছেন সোনেলা ব্লগ বা সোনেলা ওয়েবসাইট বানানোর ইতিহাস। তিনি বলেছেন-

“সোনেলা ব্লগের নাম চুড়ান্ত হবার পরেই চিন্তা এলো, কার মাধ্যমে এই ব্লগ সাইট তৈরী করাবো? কখনো ভাবিনি যে লেখার জন্য আমরা নিজেরাই একটি ব্লগ বানাবো? একারণেই মাথা আবার চুলকাতে আরম্ভ করি। কি করি কোথায় যাই, কার কাছে পরামর্শ নেই। মাথা চুলকাতে চুলকাতে ছাইরাছ হেলালের মাথার চুল কমে গিয়েছে এমন সম্ভাবনাও তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়া উচিৎ হবে না।

মুক্তোর সাথে কথা বলে দেখা করার আয়োজন করি। সম্ভবত ঢাকার মেট্রো শপিং মলে বসে আমরা প্রথম আলোচনা করি। মুক্তোকে দেখে খুবই অবাক হই, এই ছেলে ব্লগ বানাবে! আমার মনের ভাব প্রকাশ না করে কি কি চাই আমাদের সোনেলায় তা বলি। একটি সাইটে ব্লগিং করার সুবাদে জানতাম ব্লগাররা কেমন সাইট পছন্দ করেন। সে আলোকে মুক্তোকে লিস্ট দিয়ে দেই।”

সোনেলাঃ আনন্দ বেদনার কথা -৩ (আনন্দের কথা ) শিরোনামে তিনি লিখেছেন সোনেলার ব্যানার বানানোর ইতিহাস।

“সোনেলা নামকরণ এবং সোনেলা ব্লগ সাইট তৈরী হয়েছে বলেই যে এটি পরিপূর্ণ সাইট হয়ে সবার মাঝে উপস্থিত হয়েছে এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। এরপর আমাদের সামনে যে কাজটি বাকি ছিলো তা হচ্ছে এর ব্যানার, বা হেডার। ডেভলপার বলে দিয়েছেন যে, ব্যানার এর সাইজ হবে ১২০০x ২১০ পিক্সলের। এই সাইজ আনুযায়ী ব্যানার আমি বানাবো কিভাবে? ব্যানারে লেখা থাকবেই বা কি? কোন অক্ষরে কি রঙ দেবো? অক্ষরের ডিজাইন কেমন হবে? সারাক্ষণ এই নিয়ে চিন্তা। দ্রুত করতে হবে ব্যানার। গ্রাফিক্স জানা কাউকে প্রয়োজন একাজের জন্য।

লিজা দুই দিনেই ষোলটি ব্যানার করে পাঠিয়েছে আমাকে। এই দুই দিন ও রাত দিন এই ব্যানার নিয়েই ছিলো। ভোর রাতে ঘুমাতো দুই ঘন্টা। এরপর উঠেই অফিসে দৌড়।

কি পারিশ্রমিক দেবো এই আমার অত্যন্ত শ্নেহের বোনটিকে? কত টাকায় কিনবো আমি ওর শ্রদ্ধা?”

সোনেলাঃ আনন্দ বেদনার কথা-৪ (আজ বেদনার কথা) শিরোনামে তিনি লিখেছেন তার সন্তান সমতুল্য সোনেলার জনপ্রিয় ব্লগার মেঘ পরীর অকাল মৃত্যুর কথা। সোনেলার জন্মোৎসবে তাঁকে, মেঘ পরীর পিতৃসম ভালোবাসাকে সম্মান জানিয়ে ব্লগার জিসান এই লেখাটি সোনেলাকে উৎসর্গ করেছিলেন মেঘ পরীকে স্মৃতিচারণ করে। সোনেলার পাঠকদের সাথে নিজের কষ্ট ভাগাভাগি করেছিলেন তিনি। তিনি লিখেছেন-

“চৌদ্দ তারিখ সকাল দশটায় ফেইসবুকে এক ছেলে মেসেজ দিলো, আপনি মেঘ পরীর বাবা? আপনার মেয়ে গাড়ী দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছে জানেন আপনি?

আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। উদ্ভ্রান্তের মত হয়ে গেলাম। জানলাম গতকাল তিনটা দশেই দুর্ঘটনা হয়েছে, যখন বিমানে বসে খাবার সময় আমার ঠোঁটে কামড় পরেছিল। গাড়িতে মেঘ পরী আর ওর আম্মু ছিলো। দুজনেই স্পট ডেথ।

আমি আর লিখতে পারছি না এখন। আমার মেয়েটা যেন আল্লাহর কাছে পরীর মতই শান্তিতে থাকে এমন দোয়া করুণ সবাই।
মেয়েটা বেঁচে থাকলে সোনেলা নিয়ে কত আনন্দ করতো এখন।”

সত্যিই আবেগময় হয়ে পড়েছিলাম লেখাটি পড়ে।

সোনেলাঃ আনন্দ বেদনার কথা-৫ ( আনন্দের কথা ) শিরোনামে তিনি লিখছেন সোনেলার আদি হতে যাদের হাতে হাত মিলিয়ে সোনেলা আজকের এ অবস্থানে এসেছে তার কথা। এটি ধারাবাহিক ভাবে পাঠকদের কাছে উন্মুক্ত করছেন তিনি।

তবে এ ধারাবাহিক লেখাটি পড়ে কি যেন এক অজানা শিহরণ মনে দোলা দিয়ে যায়।

ব্লগার মোঃ মজিবর রহমান লিখেছেন দু’টি লেখা। তিনি সোনেলায় আমার পদার্পন শিরোনামে লিখেছেন- শাহবাগে রাজাকার বিরোধী আন্দোলনের সময়কার কথা।

“যাযাবরের ন্যায় নেট দুনিয়ায় ঘুরপাক খাই। একদিন কিভাবে যেন, আমার মনের অজান্তে ঢুকে পড়লাম এখন আমার প্রিয় ব্লগ সোনেলায়।”

সোনেলার সোনালী জন্মদিন শিরোনামে লিখেছেন সোনেলায় তার আগমনের ইতিবৃত্ত।

তিনি কবিতা লিখেছেন-

“দিয়েছ খুলে দ্বার
জন্মদিনে তোমার।
মন খুলে তোমারি আকাশে
বিচরন করেছে জনে জনে।”

ব্লগার প্রদীপ চক্রবর্তী শুভ জন্মতিথি সোনেলা শিরোনামে সোনেলায় তার ভালোবাসার কথা লিখেছেন-

“সাক্ষাৎ খুব অল্প সময়ের,তবু এমনভাবে গেঁথেছে অন্তরে.. যেমন করে সাজানো প্রতিটা শব্দ ‘সোনেলার জলসিঁড়ি দিগন্তের তীরে।

রক্ত ও প্রেমের সম্পর্ক ছাড়া আরও এক সম্পর্ক রয়েছে যেটাকে আত্মার সম্পর্ক বলে।
আর এই সম্পর্ক কখনোই কমে না যা বাড়তে থাকে।”

মাছুম হাবিবী আই লাভ সোনেলা শিরোনামে লিখেছেন সোনেলার শব্দবোমার গল্প, শুনিয়েছেন নিজের ভালোলাগা আর ভালোবাসার কথা। তিনি বলেছেন-

“আমি সোনেলাকে একটি বিশাল বিদ্যার সাগর মনে করি। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার শব্দের নাচ হয়, গান হয়। সোনেলার প্রতিটি অক্ষর যেন একেকটা পারমানবিক বোমা। বাংলাদেশে যদি এক হাজারটা ব্লগ থাকে তাদের দশটা মধ্যে একটি আমার সোনেলা। আমি বিভিন্ন ব্লগের লেখা পড়েছি কিন্তুু সোনেলার মত বিজ্ঞ পাঠক এবং লেখক কোথাও দেখিনি। সোনেলা একটি ব্লগ নয় একটি পরিবার। এখানে প্রত্যেকটা সদস্য খুব ভালো। তাদের মন্তব্যের ধরণ দেখলেই মন ভরে যায়। আমি সত্যি ধন্য এরকম একটি ব্লগের সদস্য হতে পেরে।”

মাছুম আপনার অনুভূতি সত্যিই সোনেলাকে ভালোবাসার এক অনন্য প্রকাশ।

এছাড়াও সোনেলা ব্লগ সঞ্চালক সোনেলা ব্লগের আট বছরে পদার্পনে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা – শিরোনামে সোনেলার অষ্টমবর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে ব্লগারদের লেখাগুলিকে এক পোষ্টে নিয়ে এসে পাঠকদের উন্মুক্ত করে দিয়েছেন যাতে সবাই এখান থেকেই লেখাগুলি পড়তে পারেন। আমার ব্যক্তিগতভাবে এ উদ্যোগটি খুবই উপকারী মনে হয়েছে। ব্লগ সঞ্চালকের ধন্যবাদ প্রাপ্য।

আমাদের ব্যানার ব্যাকুলতা-

আমাদের ব্লগারদের সবচেয়ে আগ্রহের বিষয় ছিলো সোনেলার ব্যানার। এ বছর সোনেলার ব্যানার কেমন হবে, কখন দেখতে পাব? – এসব নিয়ে ব্লগারদের মধ্যে উৎসাহের সীমা ছিলোনা। অবশেষে জিসান ভাই সেই প্রতিক্ষার অবসান ঘটালেন। উন্মুক্ত করলেন সোনেলার জন্মদিন এবং অষ্টমবর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে বানানো অদ্ভুত সুন্দর সেই ব্যানারটি যেটি এখন আমরা সোনেলা ব্লগে দেখতে পাচ্ছি। আমাদের নিজেদের ফেসবুক কাভারফটো এবং সোনেলা গ্রুপ ও পেইজের কাভারফটো বানিয়েছিলাম এই ছবিটি দিয়ে।

সবার নাম এই মুহূর্তে মনে পড়ছেনা, তবে যারা কাভারফটো বানিয়েছিলেন তেনাদের নিয়ে জিসান ভাই শুভেচ্ছা পোষ্ট দিয়েছিলেন ফেসবুকে। আমার চোখে পড়েছে এবং যাদের ওয়ালে সেই ব্যানার দেখেছিলাম তারা হচ্ছেন- শবনম, ইঞ্জাভাই, মমি ভাই, সাবিনা আপু, বন্যা আপু, জিসান ভাই, নিতাই দাদা, রেজওয়ান, প্রদীপ, আরজু আপু, রেহানা আপু সহ অনেকেই। আপনাদের অনেক ধন্যবাদ। নিজের টাইমলাইনে না আসায় অনেকের নাম এই মুহূর্তে মনে করতে পারছিনা।

ব্লগার আরজু মুক্তা নিজের টাইমলাইনে বিখ্যাত লেখক শারলটের একটি উক্তি – ‘I remembered that the real world was wide, and that a varied field of hopes and fears, of sensations and excitements, awaited those who had the courage to go forth into it’s expanse, to seek real knowledge of life amidst it’s perils.’

এটি লিখে সোনেলার সেই ব্যানারের ছবি সহ শেয়ার করেছিলেন।

তবে আশ্চর্য হয়েছি, আমাদের সোনেলার লেখক নন শুধু পাঠক তাদের অনেকেই সোনেলাকে ভালোবেসে নিজেদের ফেসবুক কাভারফটো পরিবর্তন করেছিলেন সেদিন। আপনাদের ভালোবাসাই আমাদের অনুপ্রেরণা প্রিয় পাঠক।

ফেসবুকে সোনেলা গ্রুপে অনেকেই অভিযোগ করেছিলেন তারা ব্যানার পরিবর্তনের বিষয়টি জানতেননা। দুঃখ পেয়েছি এটি জেনে। তবে লেখক এবং পাঠকদের অনেকেই আমাদের ফেসবুক গ্রুপে নিয়মিত না থাকায় আপনারা এই ব্যানার পরিবর্তনের ঘোষনাটি জানতে পারেননি। আপনারা নিয়মিত গ্রুপে থাকবেন আশাকরি।

আমরা চমকপ্রদ হয়েছি, হয়েছি আশ্চর্যান্বিত !! 

সবচেয়ে চমকপ্রদ ছিলো সেপ্টেম্বরের তেইশ তারিখ ঠিক রাত বারোটা এক মিনিটে সোনেলা ব্লগে যারাই লগইন করেছেন কিংবা ব্লগসাইটে এসেছেন তারাই অপুর্ব সূর মূর্ছনায় সুদৃশ্য নজরকাড়া চলমান নীলাভ ফুলের ফুলঝুরি নিজের মোবাইল এবং ল্যাপটপ স্ক্রীনে দেখতে পেয়েছিলেন যা আমাকে, আমাদের ব্লগার পাঠকদের সত্যিই চমকপ্রদ করেছে। এর কৃতিত্ব ডেভেলপার নাজমুল সাহেবের। ধন্যবাদ নাজমুল ভাই।

অবশিষ্ট-

সোনেলার জন্মোৎসব সফলভাবে পালনকরার এই সাফল্যের রুপকার হচ্ছেন আমাদের পাঠকগন। পাঠকদের অভাবনীয় সাড়া না পেলে এত বড় সফলতা অর্জন সম্ভবপর হতোনা। ধন্যবাদ প্রিয় পাঠক, এভাবেই সোনেলার পাশে থাকবেন সবসময়।

পরিশেষে, আমাদের সকল ব্লগার লেখক- পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ীদের আবারও সোনেলার অষ্টমবর্ষে পদার্পণ এবং জন্মোৎসবের শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইলো। সোনেলার ধারাবাহিক এ সাফল্যগাঁথা অব্যাহত থাকুক চিরকাল।

শুভ ব্লগিং।

২২৬জন ৪৭জন
87 Shares

৩১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য