২০১৬

মহান ভাষা আন্দোলনের স্বরণে ২১ ফেব্রুয়ারী বই মেলা চলছে সোহরাওয়ার্দী উদ্দ্যানে।বই মেলা আসছে যাচ্ছেন বই ক্রয় বিক্রয় করছেন কত কত প্রসিদ্ধ লেখক সাহিত্যিক ব্লগার।এমনি একটি সাহিত্য পরিবেশে ব্লগের একটি আড্ডা হলে মন্দ হয় না।অবশ্য সোনেলা ব্লগ কর্তৃপক্ষ প্রায় প্রতি বছর এমন একটি আড্ডার আয়োজন করে আসছেন সে জন্য আমরা ব্লগাররা কৃতজ্ঞ।
কৃতজ্ঞা জানাই ব্লগের আরেক রত্ন শুন্যশুন্যালয় যিনি দেশে এসেই আমাদের সোনেলা পরিবারকে এক করে একটি মিলন মেলার আয়োজন করেছিলেন।
ব্লগে এক সময়কার সোনালী মানুষগুলো যারা কেউ কেউ এখনো সোনেলায় লিখেন কেউ কেউ আবার সোনেলাকে ভালবেসে সোনেলার পাতায় পাতায় চোখ বুলান।আরো দেখুন সোনেলা ব্লগারদের গদ্য পদ্য।

গত ২২ ফেব্রুয়ারী শিল্প কলা একাডেমী চত্বর ও বই মেলা চত্বরে হয়ে গেল প্রতিক্ষীত সোনেলা আলোঁয় আলোকিঁত তারাদের মিলন মেলা।সোনেলায় আমার পথ চলা সম্ভবত ২০১৩ সালের শেষের দিকে।তখন বাংলাদেশে অনলাইন জগতে অসংখ্য ব্লগের ছড়াছড়ি।প্রায় প্রতিটি ব্লগেই আমার আইডি ছিল।কম বেশ লিখেছিও কিন্তু প্রায় প্রতিটি ব্লগেই মন্তব্যগুলো ছিলো অপ্রীতিকর নোংরা কথা বার্তা যার কারনে লেখা লেখি প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম হঠাৎ স্বপ্ন দূত এর ন্যায় খুজেঁ পেলাম সোনেলা ব্লগ।নাম দেখেই কাইত হইয়া গেলাম।অসম্ভব ভাল লাগল এ নামটি।নামের মায়ায় পড়ে আইডি খুললাম।অতপর সোনালী মানুষদের মায়ায় বসতি পাকাপুক্ত করলাম।সোনেলা সম্পর্কিত প্রিয় আনিছ ভাইয়ের একটি যুগান্তকারী পোষ্ট।
২০১৯ এ সোনেলা ব্লগের মিলন মেলা…
 
-হ্যালো
অপর পাশে ফোন রিসিভে সাউন্ড শুনতে পেলাম।সদ্য নাক ডাকার ঘুম ভাঙ্গার গোঙানীযুক্ত শব্দ।
-হু…
-কিরে কথা কসনা কে?এখনো ঘুমাস!
-ক’টা বাজে?
-প্রায় দশটা।তোরে না কইলাম একটু সকাল সকাল বের হব যাতে মিলন মেলার আগে কিছুক্ষণ বই মেলায় ঘুরাঘুরি করতে পারি।
-এইতো উঠছি….!!!
-জলদি কর।
বন্ধু মোস্তফার সাথে ফোন রেখে নিজের প্রস্তুতি নিচ্ছি।আরেক কলিগ সবুজকে সকাল নয়টার আগেই ফোন দিয়ে রেখেছি যাতে দ্রুথ সে রেডি হয়।এ
দিকে নীতাই দাদার সাথে আগের রাতেই কথা হয়,কথা হয় মেহেদী মাহমুদ,মিথুন মিথুর সাথে।
গত বারের মতন এবারো মিলন মেলায় অংশগ্রহনে প্রবল ইচ্ছে ছিল তার কিন্তু বিধি বাম!জগতে সব মানুষের সব ইচ্ছেই পূরণ হয় না,কিছু ইচ্ছে চোখের সামনে ভাসে-ধরা যায় না ছোয়াঁ যায় না শুধু নীরবে বুকের ভেতরে ইচ্ছেগুলো এ পাশ ওপাশ করে।নীতাই দাদাকে রেখেই আমরা চলে এলাম গুলিস্থান বিজয় নগর হয়ে পুরানা পল্টন এলাকায়।এখান হতে যোগ হন প্রিয় মজিবর ভাই।

বরিশাল হতে মাত্র আসা ব্লগের শ্রদ্ধা ভাজন জিসান-হেলাল ভাইয়ের ফোন পেয়ে আমরা এক সাথে মিলিত হলাম।অতপর সবুজ ছায়া রেষ্টুরেন্ট এ অপেক্ষার এক পর্যায়ে আসেন ব্লগের আরেক প্রিয় মুখ বড় ভাই এম ইঞ্জা,এরই মধ্যে চলে এলেন আমাদের আরেক প্রিয় মানুষ গোলাম সারোয়ার নাসির সাহেব।জিসান ভাইয়ের সাথে ফোনে কথা চলছে আরো কে কে যেন আসবেন এখানে।বলাবাহুল্য আমাদের মিলন মেলার মুল পর্ব কিন্তু ছিলো শিল্পকলা একাডেমীর কফি হাউস চত্বরে।এরই মধ্যে ঘড়ির কাটা বেজে বেলা দুটো পার হয়ে গেল।হেলাল ভাই প্রিয় নাসির সাহেবের চোখে যেন ক্ষুধার্ত ভাব দেখতে পেলেন,অবশ্য সে সময় কম বেশ আমাদের পেটেও ছিল ক্ষুধার আগুন।রসিকতার ছলে চলে আসে খাবারের অনুমতি।

খাওয়া দাওয়ার ফাকে ফাকে চলে বিভিন্ন বিষয়ে বিচ্ছিন্ন আলাপ আলোচনা কে কেমন আছেন ইত্যাদি।খাওয়া দাওয়া শেষে আবারো অপেক্ষা।কে বা
কারা যেন আসছেন।সোনেলা ব্লগকে আমরা বলা যায় রাফ খাতা হিসাবে সব সময় পেয়ে থাকি,স্বাভাবিক ভাবে সোনেলার প্রতি যার বা যাদের কথা আমি বলতে চাচ্ছি তার বা তাদের চেয়ে মায়া দরদ সব কিছুই একটু কমই হবে আমাদের কারন জন্মদাতার সু-নজর পরিশ্রম না থাকলে যেমম সন্তানের ভবিষৎ অন্ধকার এ ক্ষেত্রে ঠিক তাই।আমরা সোনেলা ব্লগ পরিবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি ব্লগের কারিগরি ইঞ্জিঃ নাজমুল হাসান ও তার নব্য সহধর্মীনির প্রতি।অবশেষ তারা এলেন।অতপর লাঞ্জ শেষে চলে গেলাম শিল্পকালা একাডেমীতে যেখানে আমাদের মিলন মেলার মুল পর্ব অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল।

 শিল্পকলা একাডেমীতে আমাদের পূর্বেই হাটি হাটি পা পা করে চলে গেলেন আমাদের এ ব্লগের বর্তমান সবচেয়ে জনপ্রিয় ভাইজু এম ইঞ্জা ভাইয়া।তিনি একাই চেয়ারে আসন গ্রহণ করে আছেন।এর মধ্যে আমরা সেখানে গিয়ে যার যার আসন নিয়ে বসে পড়লাম।এর মধ্যে চলে এলেন ব্লগের আরেক প্রিয় মুখ  সকলের পিচ্চি বোন,বন্দুকওয়ালী মেহেরী তাজঁ।যথারীতি তিনি তার আসন গ্রহণ করলেন বৃহৎ বৃক্ষের ছাঁয়াতলে জিসান ভাইয়ার পাশে।

শুরু হয় কত কথা।আলোচনা যখন শুরু হয় ঠিক তখনি বৃক্ষের ডালে আমাদের মতই হয়ত বা আড্ডাবাজ পাখির বিষ্ঠা নীচে পড়ল ঠিক যেন তাজঁ ও জিসান ভাইয়ার বরাবর!হঠাৎ তারা চমকে উঠে নিজেদের মাথা চুল কাপড় চোপর সব পরীক্ষা করে মনকে শান্তনা দিলেন,..নাহ্! বাচা গেল।অল্পের জন্য রক্ষা কারো বিষ্ঠায় কারো সাজঁ সজ্জায় ব্যাঘাত ঘটেনি।বলা যায় পাখিও বুঝে সোনেলায় সোনালী মানুষের মন,ওরাও চায় এ প্রানবন্ত আড্ডায় যোগ দিতে।এ দিকে ইঞ্জা ভাই চিন্তিত তাইতো তিনি বার বার উপর দিক তাকিয়ে পাখিদের গতিবেগ দেখে নিচ্ছেন যাতে উটকো ঝামেলায় তিনি না পড়েন।না আর সমস্যা হয়নি ওরাও বুঝে গেছে এ প্রান্তবন্ত আড্ডায় ঝামেলা করলে তাজেঁর বন্দুকের গুলি খেয়ে মরতে হবে।

আড্ডাটা তেমন ভাবে জমছে না।আরো বেশ কয়েকজন সোনালী মুখদের আমন্ত্রণ করা হয়ে ছিলো…রুনা আপু,সাবিনা আপু,গালিবা ইয়াসমিন,রিতু আপু,রুবা আপু,শিপু ভাইয়া,দাদু ভাই,তৌহিদ,মাহমুদ আল মেহেদী ভাইয়া,মিথুন মিঠু,নীতেশ,তীর্থক হাসান রুবেল,নীরা সাদিয়া সহ আরো অনেকে।এছাড়াও আড্ডাটি লাইভ করার ইচ্ছে ছিলো যারা দেশ ছেড়ে প্রবাসে সোনেলাকে ভালবেসে আকড়েঁ ধরে আছেন..
নীলাঞ্জনা নীলা-বেশ কিছু দিন হলো তার সব চেয়ে প্রিয় মানুষ জন্মদাতা বাপি সবাইকে কাদিয়েঁ পরপারে চলে গেলেন।আমরা সোনেলা পরিবার তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।পাশা পাশি দিদির জন্য দোয়া করব তিনি যেন এ শোককে শক্তিতে পরিনত করে আমাদের মাঝে আবারো দ্রুত ফিরে আসতে পারেন।এ ছাড়ারো আছেন রিমি রোম্মান আমেরিকা প্রবাসী এই গুণি বোনটির লেখাগুলো অসাধারণ।আরো আছেন বহু গুণের গুণান্নীত সোনেলা ব্লগের প্রিয় মানুষ শুন্যশুন্যায়,কলকাতার অরুনি মায়া, রেজওয়ান সহ আরো অনেকে।

আলোচনার ফাকে ফাকে জিসান ভাইয়া দূর দিগন্তে তাকিয়ে বারংবার কাকে যেন খোজঁছেন।আবার ফোনেও কথা বলছেন।
-কাকে খোজঁছেন?
দূরে তাকিয়ে খোজাঁখুজি অবস্থায় উত্তর দিলেন।
-রুনা আসার কথা ছিলো,সে এসেছেও নাকি এখানে কিন্তু দেখছি নাতো!কোথায় হতে ফোনে কথা বলছে তাই ভাবছি।
এবার আমরা সবাই তাকালাম শিল্পকলা কফি চত্বর হতে দূর দিগন্ত মাঠের দিকে।না কোথাও দেখছি না।হঠাৎ মজিবর ভাই বলে উঠলেন…ঐতো !!
কি তীক্ষ্ণ চোখরে বাবা!রুনা আপু মাঠের এতো দুরে পায়চারী করছিল যে আমরা অন্য কেউ তা দেখতে পেলাম না অথচ মজিবর ভাই দেখে ফেললেন।অতপর ফোন ও হাতের ইশাঁরায় রুনা আপু বুঝতে পেরে নিদিষ্ট আসনে এসে বসলেন।

আলোচনায় উঠে আসে ব্লগের অতীত বর্তমান অবস্থা এবং ব্লগারদের মনে এক ভ্রান্ত ধারণা সম্পর্কিত কিছু মতবাদ।ব্লগ একটি লেখা বা নীতিমালা মেনে মতবাদ প্রকাশ করার বট বৃক্ষ।এখানে কত ব্লগার বা লেখক আসবে কত লেখক চলেও যাবে তাতে ব্লগের কিছু যায় আসে না আবার ব্যাক্তিগত সমস্যার রেস ধরে ব্লগকে দায়ী করে কেউ ব্লগকে ত্যাগ করবে তাতেও ব্লগের কিছু আসে যায় না তবে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে বলব যে,সুনিদিষ্ট প্রমান ছাড়া ব্লগ সংশ্লিষ্ট কোন আয়োজন বা ব্লগ হতে বিমুখ হওয়া এটা ঠিক নয়।ব্লগটি সবার।এখানে কে কি বলল কে কি ভাবল তাতে আমরা মনে করি যার যার রুচিবোধ তাই বলে এ রকম কারন দেখিয়ে ব্লগে আর লেখা লিখবো না পেইজও থাকবো না,এমন কি সংশ্লিষ্ট ফেবু বন্ধুকে ব্লক করবো তাও কিন্তু ঠিক নয়। সোনেলা ব্লগ কর্তৃপক্ষ চায় সকলের সম্মেলিত একটি স্বচ্ছ সুন্দর পারষ্পরিক সন্মান বোধ সম্পৃক্ত একটি প্লাটফ্রম।

এরপর নাজমুল হাসান ও তার সহধর্মীনি পূর্বেই ঘোষনা দিয়েছিলেন তারা আজ আমাদের একটি সারপ্রাইজ দিবে।অবশেষে সারপ্রাইজ ঘোষনা করলেন।সারপ্রাইজ ঘোষনার পূর্বে তার সহধর্মীনির মুখে আসে সোনেলার প্রতি তাদের ভালবাসার একটি ঘটনা।….রিসেনলি ও’ যখন ল্যাপটপ নিয়ে বসে বসে কাজ করে আর আমি যদি রান্না ঘরে থাকি…ওকে তখন বলতে খারাপ লাগে ..ওগো ঐ লবনটা এনে দাওনা…তৈলটা একটু দিতে পারবে ইত্যাদি কথাগুলো বলবো ভাবি আবার ভাবি যদি ওর’মনযোগে ব্যাঘাত ঘটে!।আবার উকি মেরে দেখি আসলে সে কি করছে….বাহ্ কি সুন্দর করে ফের সোনেলাকে সাজাঁচ্ছে,মাঝে মাঝে আমি যদিও ডাক্তার তবুও ওর মেধায় মেধা খাটাই।সুতরাং সন্মানীত ব্লগারা বুঝতেই পারছেন তাদের দেয়া সারপ্রাইজটা কি।একদম ফ্রি শুধু সোনেলাকে ভালবেসে শুরু হতে আজো সোনেলাকে শ্রম মেধা দিয়ে যাচ্ছেন নাজমুল হাসান।সে জন্য ওদের নতুন জীবন ও সোনেলার সাথে আজীবন থাকার আশা ব্যাক্ত করে জোরছে একটা হাততালি হয়ে যাক।শুভ কামনা রইল আপনাদের প্রতি।



এর মধ্যে আমাদের আরেক ব্লগার গালিবা ইয়াসমিন আসেন।ব্লগ কর্তৃপক্ষ আমাদের আস্বাস দিয়েছেন ব্লগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী বেশ ঘটা করেই আয়োজন করবেন আগামী সেপ্টেম্বর মাসে এবং এর মধ্যে হয়ে যাওয়া চিঠি প্রতিযোগিতার পুরষ্কার প্রদান সহ ব্লগে আরো বেশ কিছু নতুন প্রতিযোগিতার আয়োজন করবেন।এ রকম আরো কিছুক্ষণ আড্ডার শেষে সন্ধ্যার আগেই আমরা চলে এলাম একুশে বইমেলা ২০১৯ এর সোহরাওয়ার্দী চত্বরে।ব্লগ কর্তৃপক্ষ ব্লগার রিমি রোম্মানের লেখা প্রকাশিত “অনুভুতির আকাশে তারার মেলা” বইটি যা তিনি সোনেলাকে উৎসর্গ করেছেন তার একটি করে বই উপস্থিত সকলকে উপহার দিলেন।এ ছাড়াও ব্লগার রিতু আপুর বড় ছেলে মেমনের গল্পগ্রহ্ন বইটিও সবাইকে একটি করে উপহার দিলেন।আমরা কৃতজ্ঞ সোনেলা ব্লগ কর্তৃপক্ষের প্রতি…এমন আয়োজন যেন বার বার হয়।

আরো কিছু ছবি:

সাহিত্যিক দীপু মাহমুদ এর সাথে






সবাইকে ধন্যবাদ

২০৫জন ১৭১জন
46 Shares

১৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য