সোনেলা আলোর উকিঁ…..

মনির হোসেন মমি ২৭ অক্টোবর ২০১৩, রবিবার, ০৯:৩৪:০৮অপরাহ্ন বিবিধ ৯ মন্তব্য

হরতাল!হরতাল!!হরতাল!!!সারা বাংলায় হরতাল থুক্কু সারা বাংলায় নয় সারা বাংলাদেশে।বাংলায় আর বাংলাদেশের এই দু শব্দের পার্থক্য আছে কেবল তথাকথিত রাজনিতীবিদদের মাঝে আমার মত আমজনতার কাছে লাউ আর কদুর মত।কেয়ার টেকার সরকার পূর্ণজীবিত করতেই দেশ আজ মহা সংকটে।আতংকে আছেন আমজনতা।ফুর্তিতে আছেন তথাকথিত রাজনিতীবিদরা।ফুর্তিতে আছেন রাজনিতীবিদরা বললাম এই জন্য যে রাজনৈতিক কর্মসূচী বাস্তবায়নে তারা কাজে ব্যাস্ত কেউ আছেন মিছিল নিয়ে,কেউ আছেন মিছিলে লোক ভাড়া করতে,দুপয়সা কামাইও হবে,কেউ আছেন হরতালে সরঞ্জামাদি জোগার করতে, কেউ আছেন বিরানী রান্নায় ব্যাস্ত এ সব কর্মতৎপতায় মেজাজ ফুরফুরে আর দু পয়সা পকেটে আসা তাই মনে ফুর্তি থাকবেই।বর্তমানে রাজনিতীবিদরা আমজনতার মৌলিক অধিকার আদায়ের একমাত্র জোড়ালো কর্মসূচী হরতালকে আলুর ভর্তা বানিয়ে ফেলেছেন।এখন যে কেউ যে কোন ইস্যুতে হরতাল ডাকে।যদি শুধু শান্তিময় হরতাল হত তবে কথা ছিলা না ।এখনকার হরতাল মানে হিংস্র থাবা।গাড়ী-বাড়ী না পোড়ালে যেন হরতাল মনে হয়না।বঙ্গবন্ধু,শ্রদ্ধেয় মাওলানা ভাষানী,বাংলার বাঘ ফজলুল হক মহান নেতাদের আন্দোলনের কার্যকলাপ আর আজকের নেতাদের কার্যকলাপের মধ্যে দিন রাত পার্থক্য।এখন হরতালে লাশের সংখ্যা ভারী না হলে যেন হরতাল সফল হয়না।অথচ যাদের জন্য এই আন্দোলন তাদেরকেই মৃত্যুর কুলে যেতে হয়।তবুও ভালো যদি আন্দোলনে ইস্যুটা হয় যৌক্তিক।আজ ২৭/১০/১৩ হতে টানা তিন দিন হরতাল।বিরোধীদলের হরতাল অথচ এই বিরোধীদলই ‘৯০এ দাবীর বিপক্ষে ছিল ।আর যারা আজ এই দাবীর বিপক্ষে তারাই তখন পক্ষে ছিল।মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় এসে সাংসদ সংখ্যাগরিষ্টতার জোরে অত্যান্ত কৌশলে সংবিধান থেকে জাতীয় নির্বাচনে কেয়ার টেকার সরকার ব্যাবস্হা বাতিল করে সংসদ রানিং রেখে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা অক্ষত রেখে

জাতীয় নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতা হস্হান্তরের সংবিধান পরিবর্তন করেন। সংবিধান বেচারী আর কি করবে যখন যে ক্ষমতায় এসেছেন তখন সেই সংবিধান নাপিতের মত কেটে নিজ স্বার্থে সাইজ করেছেন।নতুবা অন্য কোন রাষ্ট্র জয় নয়,নয় কোন সার্বভৌমত্ত্ব রক্ষা,নয় কোন জাতীয় ইস্যু কেবল রাজনিতীবিদরা কি ভাবে আবার ক্ষমতায় আসবে সেই পদ্ধতির জন্য আজ মহা ব্যাস্ত দেশের দুই বড় রাজনৈতিক দল।এখন প্রশ্ন আসে তবে কেনো সংবিধান পরিবর্তন করল ক্ষমতাসীন দল?শ্রদ্ধেয় ফখরুদ্দিন সাহেবের (গত বারের কেয়ার টেকার সরকারের প্রধান উপদেষ্টা)কথা সবারই মনে থাকার কথা।কারন সে ভাল মন্দ যাই করুক সে আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে রাজনৈতিকবিদদের কু-কামের কথা।রাজনিতীর আড়ালে দূ্র্ণিতীর কথা।অধিকাংশ নেতার নামেই ছিল দুর্নিতীর মামলা সে গুলো এখন কোথায়?তাহলে কি রাজনিতী করলে সাত খুন মাফ?প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের রাজনিতী দেখুন কতটা পরিস্কার।সামান্য ভূল করলেই কিংবা অপ্রত্যাশিত কোন ঘটনা ঘটলে ডাকসাইডের মন্ত্রীকেও পদত্যাগ করতে হয় অথবা স্বেচ্ছায় নিজেই পদত্যাগ করেন আর আমাদের রাজনিতীবিদেরা খুন করলেও বুক ফুলিয়ে জাতীয় পতাকা বাহিত গাড়ীতে নিশ্চিন্তে বসে থাকেন তাহলে আমরা জাতীয় নির্বাচনে কোন ভরসায় ক্ষমতাসীন দলের আন্ডারে নির্বাচন করব?যেখানে আমজনতাকে উপেক্ষা করে দলের স্বার্থে ব্যাক্তি স্বার্থে আইন তৈরী হয়, হয় সংবিধান কাটা ছিড়া সেখানে আরো সময় লাগবে উন্নত বিশ্বের সাথে তুলনা দিতে।বেশ কয়েক মাস যাবৎ চলছে কেয়ার টেকার আন্দোলন ।বিরোধীদল হিসাবে বি এন পি আমি বলব এবার তেমন কোন আন্দোলনই করেনি যা আন্দোলন হয়েছে এক যুদ্ধাপরাধীর ইস্যুতে জামাত এবং তেতুল তত্ত্ব নিয়ে হেফাযত ইসলামই করেছে।বি এন পি এখানে নীরব যদিও শরিক দল হিসাবে জামাতকে মাঝে মাঝে সাপোর্ট দিয়েছে।যেটা উচিত হয়নি।

আমি বরাবর একটি কথাই বলি জাতীয় ক্ষেত্রে দুইটি বড় দলের ঐক্যের কোন বিকল্প নেই।আবার বিরোধীদলকে দমিয়ে গণতান্ত্রীক কোন রাষ্ট্রে একক দল থাকতে পারেনা সেটা হয়ে যায় স্বৈরাচারী।বর্তমান সরকারের সকল কাজের মধ্যে যুদ্ধাপরাধীর বিচার একটি প্রসংশনীয় এবং বাঙ্গালী জাতির দায় মুক্তির আন্দোলন।সে ক্ষেত্রে একা আওয়ামিলীগের পক্ষে সন্ভব নয় সাথে যে ভাবে হউক কিছু একটা ত্যাগ করে হলেও বি,এন,পিকেও নিতে হবে নতুবা আমার ধারনা এ যুদ্ধের এখানেই সমাপ্তি ঘটবে।হতে পারে হিতের বিপরীত।

দুই নেত্রীর ফোনে সংলাপের যে আভাস পেলাম তাতে মনে আশা জাগিল কিন্তু হরতাল কর্মসূচীর আগেই যদি সরকার কিংবা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী  এরকম সহনশীল মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসত হয়তো হরতালে এতগুলো লাশ দেখতে হতনা,হতনা জালাও পোড়াও ধ্বংসের খেলা।কারন ইস্যুবিহীন কোন আন্দোলনই জনতা সাপোর্ট দেবেনা।এবং স্পষ্ট হবে এরা কারা।তারপরেও আমরা আশাবাদী দুনেত্রীর সংলাপ হবে এবং সংলাপটা হবে অর্থবহ পরবর্তী নির্বাচনের পদ্ধতির একটি স্হায়ী সমাধান।এবং সাথে থাকতে হবে যুদ্ধাপরাধী বিচারে দুই নেত্রী কিংবা সকল ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নিশ্চয়তার স্বাক্ষর।

 

 

 

 

২২১জন ২২১জন
0 Shares

৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য