সোনেলায় আমি// শেষ পর্ব

বন্যা লিপি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১২:২৩:০২পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৩৮ মন্তব্য

কোনো একদিন হঠাৎ মাথায় এলো, আমি আমার জন্মমাস আর জন্মদিনের তারিখটা জানিনা। বিয়ের দু’বছর  আগের কথা এটা। বাবার মুড বুঝে তাঁর কাছে জানতে চাইলাম। আম্মাও ছিলেন সেখানে। দুজনেই গণণায় বসে গেলেন। ছক কাটা হিসেব কেটে ছিঁড়ে বের করে ফেললেন, তারিখ এবং জন্ম মাস। হিসেব তো একদম পাক্কা সোজা/ সহজ! কোন মাসে বা কোন তারিখে আমি এই সোনেলার ভূমিতে নিজের ভার্চুয়ালি অস্তিত্ব নিয়ে গেড়েছি নিজের শেকড়! হিসেব কষতে ইচ্ছে হলো না আজ আর।

জিসান শা ইকরামের কাছে অনুমতি চেয়েছিলাম তাদের গ্রুপে সোনেলা) লেখা দেবো কিনা? তার উত্তরে তিনি যা বলেছিলেন, আমি যে কিছু আদতে বুঝিনি! তাও বুঝিয়ে বলার সময় সুযোগ পাইনি:  আমি লিখবো আপনার গ্রুপে?  জিসান ইকরাম-ঃ অবশ্যই লিখবে! তোমরা আমার পরিবারের লোক যদি না লেখো তো সোনেলা ব্লগে কারা লিখবে?

আমি বললাম গ্রুপের কথা; সে বলে ব্লগের কথা! ব্লগ? সেটা আবার কি? ওখানে লিখবোই বা কি? ব্লগ -ব্লগার নিয়ে কি সব শুনি চারিদিকে!  ব্লগে কি আমি যেসব লিখি তা লেখা সম্ভব? ৭-৫-১৩-১৪। কতকিছু ভাবি একা একা! দু চারদিন বাদে আমার পথচলা’য় মন্তব্য জিশান শা ইকরামের সোনেলা ফেসবুক গ্রুপে- তুমি যে এত…… লেখো, আমার তো জানাই ছিলোনা! এরপর থেকে মূল ব্লগে লেখা দেবে। একটা আইডি করতে হবে।  আইডি করার অপারগতা পোষ্ট কমেন্টেই জানিয়ে দিয়ে বললাম : ” ও আপনাকেই করে দিতে হবে। আমি বোধহয় পারবো না। ” মনে কিন্তু তখন অন্য কথা চলে! আবার আইডি কিসের? ধারনায় যখন নেই ব্লগ কি? আইডির ধারনা আসবে কি করে? কতগুলো দিন তারপরও কেটে গেছে? আমি গ্রুপেই টুকটাক লেখা দিচ্ছি। সাবিনা ম্যাডামও তাড়া দিচ্ছেন মূল সাইটে লিখতে। আমি উপযুক্ত মন্তব্যের জবাবও দিতে পারছি না। কয়েকদিন পরে জিসান ইকরাম জানালেন-ঃ কাল তুমি আইডি করবে। পরেরদিন তার সহযোগিতায় আইডি করলাম। তিনি  স্টেপ বাই স্টেপ বুঝিয়েও দিলেন লগিন করবো কিভাবে? ইনবক্সের বোঝানো কাজে দিচ্ছে না তেমন করে। বুঝলাম হয়ত মোবাইলের অক্ষমতার কারনে অনেককিছুই করতে পারছি না। নিজের মতো চেষ্টায় হাল ছাড়িনি। একবার না পারিলে দেখো শতবার* ফর্মুলা মেনে চলছি নিরলস ভাবে। সাবিনা ম্যাডামও এরপর একদিন সময় নিয়ে, ধৈর্যের সাথে যেভাবে বোঝালেন, নিজের কাছেই জিদ চেপে বসলো। বারংবার চেষ্টায় সফল হলাম।

যে সময়টাতে প্রবেশ করলাম সোনেলা ভূমিতে! দোর্দণ্ড প্রতাপী ব্লগাররা বিচরন করছেন তখন ব্লগে। ইচ্ছে না থাকলেও, অকৃতজ্ঞতার পরিচয় সোনেলার নেই বলেই মনে করি বিধায় নামগুলো নিচ্ছি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনে।  মন্তব্য দিয়েই ব্লগে আমার প্রবেশ। পরবর্তিতে কথকতা:::: ” নিয়ে হাজির হলাম ব্লগার হিসেবে। লেখা দিয়ে চলে গেছি। কয়েকদিনে আর আসিনি ব্লগে। জানতামই না তখন তেমন করে কিছুই! কয়েকদিন বাদে এসে দেখি মন্তব্য পড়েছে বেশ কয়েকটা। আর সে মন্তব্যের ভাষায় আমি অভিভূত। নীলাঞ্জনা নীলা, মায়াবতী, শুন্য শুন্যালয়, রিতু জাহান, প্রহেলিকা, মেহেদি, এরকম আরো নামক্ষ্যাত বেশ কয়েকজন ডাকসাইটে ব্লগারের উচ্চমাত্রার মন্তব্যে আমার মতো নগন্য লিখিয়ের চক্ষু ছানাবড়া। ফেসবুক  আর ব্লগ এর তফাৎটা বোঝার মতো ভাবনার খোরাক পেয়ে গেলাম। লোভাতুর হয়ে উঠছি দিন দিন লিখতে। এ যেন নিজেকেই নিজের চ্যালেঞ্জ দেয়া, আমি লিখব। কি পরিমান দুঃসাহসিক মনোভাব অথবা বলব নির্বুদ্ধিতার পরিচয়! অনেক পরে বুঝে গেছি। আমি বিভাগ নির্বাচনে ভুল করে যাচ্ছি। সেও সেই সাবিনা ম্যাডামের অ-কবিতা আর ছাইরাছ হেলাল মহারাজের লেখা একান্ত অনুভূতির সামিয়ানার নিচে তাঁদের লেখা দেখে দেখে। বুঝে গেছি এ্যাব্বর তাব্বর লেখকরাই যখন পারছেন না সাহস জোটাতে কবিতা লিখতে! আমি বন্যা লিপি কোন ক্ষেতেওর মূলা?

পাল্টে নিলাম আমিও বিভাগ। আসলেই তো! কবিতা লেখা কি এতই সহজ? যা লিখি তাতো অবশ্যই একান্ত অনুভূতির প্রকাশ! ……  আমি উৎসাহ পাচ্ছি এই ঢের! উৎসাহে বাঁদর বনে যাবার দুঃসাহস দেখানো শুদ্ধ বাংলায় যাকে বলে অর্বাচীনতার পরিচায়ক। এতটাও নই!  শান্ত থির জলের মাঝেও ঢেউ ওঠে অজুহাত পেলে। হলোও তাই। সোনেলার নিকোনো উঠোনে কালবৈশাখী ঝড় উঠলো আচমকা বেহুদা অজুহাতে। মন ভেঙে যায় যায় অবস্থা। কিছু যৌক্তিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি। কাউকে পাওয়া গেলো না উত্তর পাবার মতো। খুব সহজ কিছু ধারাপাত জানি।  কঠিনগুলো নাহয় ছেড়েই দিলাম অপ্রয়োজনীয় ভেবে। যত যাই বলি, আমার অবস্থান অন্য সবার থেকে আলাদা। এই একটা প্রয়োজনীয় উক্তি মাথায় রাখাই যথেষ্ঠ আমার নিজের জন্য।  কিছু সিদ্ধান্ত সময়ের প্রয়োজনে নিজেরও নিতে হয়। লেখা নিয়ে হাজির কয়েকদিনের থমকে থাকা সোনেলার বুকে। ভীষণ বৈরী আবহাওয়ায় শক্ত হাতে হাল ধরা কয়েকজন দক্ষ নাবিকের ভূমিকায় সবচে বেশি দক্ষতা নিয়ে আপ্রান জুঝে গেছেন তৌহিদ ইসলাম, এম ইঞ্জা, মনির হোসেন মমি, সাবিনা ইয়াসমিন এবং আরো কয়েকজন। থেমে যাওয়া ঝড়ের পরে নতুন উদ্যোমে চলতে শুরু করলো আবারো সোনেলার বৈতরণী।  ঝাঁকে ঝাঁকে নক্ষত্র ছুটে আসছে ব্লগে। বাংলা সাহিত্য নিয়ে এক উজ্বল নাম হয়ে প্রতিষ্ঠিত এই সোনেলা ক্ষুধা মিটিয়ে চলেছে ঝাঁকে ঝাঁকে আসা নতুন নতুন লেখকদের।  নিত্য নতুন লেখক আসছেন, দেখছেন, জয় করছেন সোনেলার উর্বর ভূমি। একেকজন লেখকের পোষ্ট মন্তব্যে মন্তব্যে হয়ে উঠছি একে অপরের পরমাত্মা। কেউ কাউকে চিনিনা, জানিনা। চিনি, জানি শব্দ এবং ভাষার পেছনে যে মন মনন ধারন করেন!  সেই লেখক সত্বাকে। মানুষ না দেখেও মানুষ বোঝা সম্ভব তাঁর কলম থেকে বেরোনো শব্দ গাঁথুনির মধ্য দিয়ে। অন্তত আমি কিছুটা বিশ্বাস করি এ বিষয়টা। যেমন, আমার কোনো এক পোষ্ট মন্তব্যে সুরাইয়া পারভীন মন্তব্য করেছিলেন,” আপু আমি যেন আপনারই ছায়া” অর্থাৎ তিনি আমাকে আমার লেখার ভাষায় আমাতে খুঁজে পেলেন তাঁর নিজের ছায়া। অন্য কোনো এক পোষ্টে মন্তব্য করলেন, রোকসানা রুকু, ” কেন যে আগে আসিনি এখানে? তাহলে আরো আগেই এই আপুর লেখা পড়ার সুযোগ পেতাম। নিজস্ব বোধের উন্নতি ঘটাতে হলে এই আপুর লেখা পড়া উচিত”।  এতবড় কম্প্লিমেন্টের যোগ্য নই আমি। মন্তব্যের মাঝেই তিনি ভালবেসে ফেললেন আমার মতো নগন্যকে।  খটমট বিষয় পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষানবিশ  সুপর্ণা ফাল্গুণী  ছোটদি। তিনি তাঁর মন্তব্যে লেখার পোষ্টমর্টেম করে ছাড়েন। অনুপ্রেরনার আরেক নামের অধিকারি তিনি। খুব ছোট্ট করে একেবারে মূল সারমর্মটা লিখে দিয়ে মন্তব্য খতম করে দিয়ে চলে যান কড়া মাস্টারনী আরজু মুক্তা ফু’ম্মা আমার। অল্প খোঁচায় পেট কেটে নাড়ি ভূঁড়ি বের করে দিতে পারলে, এক হাত লম্বা পেট কেটে সিজার করে বাচ্চা ডেলিভারির কি দরকার? আরজু মুক্তার ভাবটাও তেমন।শবনম মোস্তারি(আমার পৌষী ভাবি) অদেখা, অচেনা এই আমাকে জায়গা দিয়েছেন নিজের পছন্দের তালিকায়।এ আমার পরম প্রাপ্তি। সোনেলায় এসে আমার প্রাপ্য প্রাপ্তিতে আমি দিনে দিনে ঋদ্ধ হয়েছি/ হচ্ছি। বলার অপেক্ষা রাখেনা, ভালবাসায় কেবল ভালবাসাই দেয়া যায়, ভালবাসা ফেরতযোগ্য নয়। ভালবাসা খণ্ডন করা যায়না। ককন সাবিনা ম্যাডাম, যিনি কোনো মন্তব্যই করেন না, লেখা না বুঝে। প্রতিটি মন্তব্যে তাঁর শাব্দিক প্রকাশ বুঝিয়ে দেয়ে,  তিনি কতটা পড়ুয়া প্রেমিক। কবে কোন সম্বোধনিক সম্বোধনে আমরা হয়ে উঠেছি একে অন্যের ময়না। ভালবাসা এমনই তো নাকি?

ঊর্বশী,  তিনি খুব কম আসেন যদিও ব্লগে। কম পড়েন, মন্তব্য যখনই করেন,  তিনি তাঁর করা মন্তব্যে বুঝিয়ে দেন তাঁর ভেতরের আলোকিত বোধের আলো। ব্লগে নতুন এসেই দীর্ঘাকারে লিখে শেষ করে ফেলেছেন পর্বতকন্যের ইতিকথা। প্রদীপ চক্রবর্তী। তাঁকে ছুঁয়ে যায় কোনো কোনো লেখা, কিন্তু মন্তব্যের ভাষা তাঁর বেশ খর্ব।  লেখনী তাঁর দুর্দান্ত। নাজমুল হুদা ছোট ভাই। কনিষ্ঠ ব্লগার হলে কি হবে। তাঁর লেখা অতি উচ্চমাত্রার।  একদিন তিনি পৌঁছে যাবেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এমনটাই আশা, শুভ কামনা রইলো। লিটন সরকার, অনন্য অর্ণব, এস জেড বাবু, রেজোয়ানা কবির, জেসমিন যূঁথি, মুক্তা মৃণালিনী,  মনি কাশফিতা,  নতুন পুরাতন সব মিলিয়ে এ উঠোন এক ভালবাসার উঠোন।

ভাগ্যিস ফেসবুক এ্যাকাউন্ট খুলেছিলাম বলে আজ আমার মতো বন্যা লিপির পরিচয় ব্লগার বন্যা লিপি। সোনেলার সোনালি সৈনিক। সবশেষে বলতে চাই, আমার মনের ক্ষুধা,  তৃষ্ণা, এবং মগজ যতদিন সচল থাকবে! সোনেলা ছেড়ে যাবার জায়গা নেই কোথাও আমার।

সোনেলার আমি                                  সোনেলায় আমি//

সোনেলার সমস্ত ব্লগারকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা, ভালবাসা, শুভ কামনা।

নোটঃ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারিনি বলে আন্তরিক দুঃখিত।শেষ পর্ব #

৩৩৮জন ৮১জন
0 Shares

৩৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য