সোনেলার দিগন্তে ডানা মেলতে পেরে আমি কতোটা পরিপূর্ণ হয়েছি তা প্রকাশ করতে হলে নিজের সম্পর্কে দু’চারটে কথা না লিখলে নয়__

আমার জন্ম ১৯৮৩ সালে,নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার একটি ছোট্ট গ্রামে। শৈশব কেটেছে ঢাকায়,কৈশোর নিজ গ্রামে।
আমাদের সময়ে প্রাইমারি স্কুলে পাঠ পরিকল্পনার নিয়ম ছিলো কবিতার প্রথম ৮/১০ লাইন মুখস্থ করতে হতো। তাই বেশিরভাগ ছাত্র- ছাত্রী পুরো কবিতা মুখস্থ করতো না। আমার কিন্তু কবিতা পড়তে বেশ লাগতো। মনের আনন্দে পাঠ্য বইয়ের সব কবিতা মুখস্থ করাতাম। পড়তে বসলে প্রথমে বাংলা বইটি নিয়ে বসতাম। অন্যান্য বিষয় পড়তাম সিলেবাস অনুযায়ী পাশ করার তাগিদে। কিন্তু বাংলা বইয়ের প্রতিটি গল্প কবিতা ভালোবেসে পড়তাম।

উচ্চ মাধ্যমিকে এসে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন একটি গল্পের বই পড়লাম অবশ্যই আব্বাকে লুকিয়ে। উল্লেখ্য যে আমি অত্যন্ত রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে। পাঠ্য বইয়ের বাইরে কোন নোভেল পড়ার অনুমতি ছিলোনা।জীবনে প্রথম গল্পের বই পড়ে আমি তখন বইয়ের প্রেমে ডুবে গিয়েছি।এর থেকে ওর থেকে বই সংগ্রহ করে পাঠ্য বইয়ের নিচে লুকিয়ে পড়তাম। মাঝে মাঝে আব্বার হাতে ধরা পড়ে ঝাড়ি খেতাম এমনকি মারও খেয়েছি।

এমনিভাবে এসএসসি পাস করে ঢাকায় ফুফুর বাসায় থেকে কলেজে ভর্তি হলাম। যেহেতু শাসন বারণ নেই, একাডেমিক পড়া ফাঁকি দিয়ে আমি মেতে উঠেছিলাম গল্প, উপন্যাস নিয়ে। ঘাড় গুঁজে পড়তাম_ হুমায়ুন  আহমেদ, সমরেশ মজুমদার, ম্যাক্সিমগোর্কি, লেভতলস্তয়, কালমার্কস, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় প্রভৃতি লেখকদের বই। সব লেখকের নাম ও এখন আর মনে নেই।

স্বাধীনতা উপভোগ ভোঁতা হয়ে গেলো কয়েক মাসের মধ্যে। ফুফুর বাসায় আমার খুব একা লাগতো। ফুফু তার বরের কাছে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে দেশের বাইরে চলে গিয়েছিলেন কয়েক মাসের জন্য। ফাঁকা বাসার আবহে আমার মনটাও ফাঁকা হয়ে গেলো। আমি আমার মাকে খুব মিস করতাম। অতিরিক্ত শাসনের ফলে বাবা-মা’র সাথে আমার দূরত্ব ছিলো অভেদ্য। সেসময় আমার একাকীত্বের সঙ্গী হলো কলম। আমি মাকে লিখতাম প্রতিদিন। কখনো কবিতায়, কখনও ডায়েরির পাতায় আমার একান্ত অনুভূতি। যে কথাগুলো মায়ের সামনাসামনি কখনও বলতে পারতাম না এমনকি আজও পারিনি। এভাবেই লেখার হাতে খড়ি।

পড়াশোনা শেষে বিয়ে হলো আরও বেশি রক্ষণশীল পরিবারে। এটা সম্পূর্ণ আমার অচেনা জগৎ। এ জগতে আমি শুধু একটা ‘চরিত্র’।যখন যে দৃশ্য মঞ্চায়ন করতে হয়েছে করেছি। আমি, আমার বই, কলম ডায়েরি চাপা পড়ে গেছে সংসারের যাঁতাকলে পিষ্ট হতে হতে। এভাবেই কেটেছে চৌদ্দ বছর।ভেতরে ভেতরে ক্ষয়ে  যেতাম পড়তে না পেরে।

গত বছর আমি ফেসবুক একাউন্ট খুলি এবং নিয়ম কানুন কিছু কিছু শিখি। একদিন একটি পেজে জয়েন করে দেখি গল্প,কবিতা, ছড়া যে যা খুশি পোস্ট করছে। প্রথম প্রথম পড়ে মন্তব্য করেছি।তারপর নিজেও দু’চার লাইন লিখতে শুরু করি।

ব্লগার আরজু মুক্তা আপু আমার লেখায় লাইক কমেন্ট করতেন, আমিও আপুর লেখা পড়তাম। একদিন আপু আমাকে একটা লিংক পাঠালেন। আমি লিংকে ডুকতে না পেরে আপুকে বললাম, আপু বললেন ব্যবস্থা করছি। উনি আমাকে জিসান ভাইয়ার আইডি লিংক পাঠালেন আর এড হতে বললেন। জিসান ভাইয়া আমাকে ব্লগিংয়ের খুটিনাটি সব শেখালেন অসম্ভব ধৈর্য্য ধরে। যে আমি ফেসবুক বুঝিনা ভালো ভাবে, সেই আমাকে ব্লগিং শিখিয়ে তবে ছাড়লেন।

সোনেলায় আমি প্রথম পোস্ট করি “নীল অপরাজিতা ” নামে একটি কবিতা।সবাই আমাকে এবং আমার লেখাকে সাদরে গ্রহণ করলেন। আমার তখন আনন্দে আত্মহারা হওয়ার জোগাড়। সত্যি কি আমি লিখতে পারি? বারবার নিজেকে প্রশ্ন করলাম, উত্তর পেলাম সোনেলার উচ্চ মার্গীয় লেখকরা যখন পছন্দ করেছেন তখন আর ভাবনা কিসের! জিসান ভাইয়া ও খুব উৎসাহিত করলেন। ছোট ছোট বার্তা আদান প্রদানের মধ্য দিয়ে আমাকে জিসান ভাইয়া বোনের স্বীকৃতি দিলেন আর বললেন নিয়মিত ব্লগার হয়ে ভাইয়ের মান রাখিস!

বেশ কিছু দিন ধরে এল্বু জয়েন্ট ইনজুরিতে ভুগছি তাই ইচ্ছে থাকা স্বত্তেও ব্লগে নিয়মিত হতে পারছিনা।
ইনশাআল্লাহ লিখতে পারি বা না পারি সোনেলার সোনালী ব্লগারদের সোনাঝরা লেখাগুলি পড়বো এবং সাথে থাকবো। থাকবো নিজের মনের খোরাক যোগানোর তাগিদে।

আমার এ ফ্ল্যাটফর্ম প্রাপ্তির নেপথ্য বন্ধু প্রিয় আরজু মুক্তা আপু। তাঁকে সোনেলার জন্মতিথিতে আমার একান্ত অনুভূতি জানাচ্ছি__আপু আমি কৃতজ্ঞ আপনার কাছে এবং ভালোবাসি আপনাকে পথপ্রদর্শক অগ্রজ হিসেবে।

সোনেলায় নবাগতা হয়ে ও আমার প্রাপ্তি ঝুড়ি ভরা। যে প্রিয় ব্লগারগণ আমার অকবিতা গুলো  পড়ে মন্তব্য করে উৎসাহ যুগিয়েছেন উনাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি নাম না জানা সকল পাঠককে যারা আমার লেখা পড়েন। ধন্যবাদ জানাই সাবিনা আপু, বন্যা আপু ইঞ্জা ভাইয়াকে। উনাদের সাথে ইনবক্সে কথা বলে বুঝেছি উনারা কতো আন্তরিক এবং কতো আপন!

সোনেলার সোনা ঝরা দিন অক্ষয় থাকুক!
সাহিত্যাঙ্গনে সোনেলা চির ভাস্বর হোক!
দিগ দিগন্তে সোনেলা ছড়িয়ে পড়ুক!
সোনেলার জয় হোক!

২৫৩জন ১৪জন
0 Shares

৩৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য