সেপ্টেম্বর, সোনেলার জন্মমাস। এ এক অনন্য অনুভূতি। লেখালিখির জন্য আমার এবং সবার প্রিয় এই উঠোনকে নিয়ে নিজের কিছু অনুভূতি পাঠকদের সাথে শেয়ার করার দায়িত্ববোধ থেকেই আজকের এই লেখা। বাংলা অনেক ব্লগসাইট আমি দেখেছি, তবে সত্যি কথা বলতে সোনেলার মত জনপ্রিয় ব্লগসাইট আমার ইদানিংকালে খুব একটা চোখে পড়েনি।

সোনেলায় আমার পথচলা খুব বেশি দিনের নয়। লেখক হিসেবে সোনেলায় আমারও একটি আইডি থাকবে এই বাসনা মনে পুষে রেখেছিলাম বেশ কিছুদিন ধরে। এরইমাঝে একদিন আমাদের প্রিয় ব্লগার সাবিনা আপু সোনেলার ফেসবুক গ্রুপ পেজের একটি পোস্টের মন্তব্যে সোনেলা ব্লগে আইডি খোলার জন্য প্রথম আমাকে বলেন। ব্যস, আমার সেই বাসনা যেন আরও তীব্র হয়ে উঠলো। সেই সময় আমার নিজের পড়াশুনার প্রচন্ড ব্যস্ততা চলছিল। আমি ব্লগার তৌহিদকে বলি ব্লগে আমার নিজের আইডি খুলে দেয়ার জন্য। উনি জিসান দাদার সঙ্গে আলোচনা করে এ বছরের মার্চ মাসের ২৮ তারিখে আমাকে নিয়ে এসেছেন এই সোনেলার উঠোনে। আইডি খুলে দেয়ার শুরুতে পাসওয়ার্ড জটিলতার কারণে বেশ কিছুদিন ব্লগে আসতে পারেনি সেসময়। পরবর্তীতে জিসান ভাই আমার আইডি নিয়ে সেই পাসওয়ার্ড জটিলতা নিজের শত ব্যস্ততার মাঝেও অনেক কষ্ট করে সমাধান করেছেন। এজন্য জিসান ভাইয়ের কাছে সত্যিই কৃতজ্ঞ।

এরপর ব্লগের টুকিটাকি বিষয়গুলি আমি শিখতে শুরু করি। তখন থেকেই শুরু হলো সোনেলায় পথ চলা। আমার পড়াশুনার ব্যস্ততার ফাঁকেফাঁকে প্রথম থেকেই ব্লগের অন্যান্য লেখকদের লেখাগুলি পড়তে থাকি এবং মাঝেমধ্যে মন্তব্য করতে থাকি। লেখকদের লেখাগুলি পড়ি আর অবাক হই, সবাই কত সুন্দর লিখেন! প্রতিটি লেখাই যেন আপন মহিমায় উদ্ভাসিত। সেসময় হঠাৎ করেই সোনেলায় কিছুটা প্রতিকূলতা চলে আসে। সোনেলার অক্ষুণ্ণ সুনামকে চিরতরে মুছে ফেলতে কিছু মানুষ উঠেপড়ে লাগে। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে বিভিন্ন রকম তথ্য পাচ্ছিলাম কিন্তু আমি সেগুলোতে বিশ্বাস করিনি। কারণ এই ব্লগের অনেক মানুষের সঙ্গে ফেসবুকে আগে থেকেই আমার পরিচয়। ফলে তাদের সম্পর্কে আমি কিছুটা হলেও জানি বলেই এসব বিষয়কে পাত্তা দেইনি সেইসময়।

যাইহোক, প্রতিকূলতা থাকবেই। প্রতিকূলতা জয় করেই সামনে এগিয়ে যেতে হয় আর তাই হয়েছে। সোনেলাকে যারা মনেপ্রাণে ভালোবাসেন তাদের সহায়তায় সোনেলা ঠিকই নিজের গতিতে এগিয়ে যেতে থাকে বীরদর্পে। আমি চোখের সামনেই দেখেছি একজন মানুষকে যিনি নাওয়া খাওয়া ভুলে কিভাবে রাতদিন লেগেছিল সোনেলার সকল প্রতিবন্ধকতা ঠেকাতে। তার নাম বলার দরকার আছে কি? তার সাথে এবং পাশে ছিলেন বড়ভাইসম শ্রদ্ধেয় ইঞ্জা দাদা। সত্যিই বলছি, আমার নিজেরই চরম বিরক্তিকর লাগছিলো- জগৎসংসার পরিবার সব ভুলে এদের দু’জনার সেসময়কার সেসব কর্মকাণ্ড দেখে। কিন্তু কিছু বলতামনা কারন আমি জানতাম ইঞ্জা দাদা আর তিনি সঠিক কাজটিই করছিলেন সে সময়। আমার উনি এখনো যেভাবে ব্লগে সময় দেন মনে হচ্ছে জগতে সোনেলা ছাড়া আর কিছু নেই। নিজের সন্তানকেও মানুষ সারাদিনে এতবার কোলে নেয়না যতবার তিনি সোনেলাকে নিয়ে আমার সাথে আলোচনা করেন।

সোনেলা নিজের সুনাম নিয়ে এগিয়ে চলেছে এবং পাঠকদের অন্যতম ভালোবাসার একটি ব্লগে পরিণত হয়েছে। পড়াশুনার ব্যস্ততার কারণেই সোনেলায় হয়তো খুব একটা লেখা হয়না। কিন্তু আমি সবার প্রতিটি লেখাই মনোযোগ দিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ি এবং মন্তব্য করার চেষ্টা করি। নিজের এই ব্যস্ততাটুকু কমলে আশাকরি সোনেলায় নিয়মিত লেখালেখি করতে পারব।

নিজে সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করার কারণে লেখালেখির প্রতি একটা আজন্ম টান অনুভব করি সবসময়। নিজে সময় পেলে টুকটাক লেখালেখি করি কিন্তু সোনেলার লেখকদের লেখাগুলো পড়ে যেন অনেক কিছু শিখছি এবং নিজের লেখাকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারছি। এই ব্লগের সবার আন্তরিকতায় এবং ভালোবাসায় সত্যিই আমি মুগ্ধ।

পরিশেষে একটি কথাই বলবো- লেখালেখির জন্য সোনেলা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে এসে লেখকদের লেখার গতি রেলগাড়ির গতির মতো ছুটে চলে দূর্বার গতিতে। সোনেলা ব্লগ তার আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হতে থাকুক যুগ-যুগান্তরে। সোনেলাকে যদি মা বলি তাহলে আমরা সবাই তার সন্তান। প্রিয় সোনেলা, তোমার গুনী সন্তান-সন্ততি আর নাতিপুতিদের নিয়ে এগিয়ে চলো ভালোবাসার অটুট বন্ধনে। তোমার পথ চলা হোক নিষ্কণ্টক এই প্রার্থনাই থাকবে চিরকাল।

নিত্যনতুন সব লেখকদের সমাগমে ভরে উঠুক সোনেলার উঠোন। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ুক সোনেলা নামের জয়ধ্বনি।

প্রিয় সোনেলা-

” শুভ হোক জন্ম মাস
       তুমি হাজার বর্ষী হও “

৩৭৬জন ১৬০জন
58 Shares

৩৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য